Wednesday, February 28, 2024

আমার কাছে অনেকের প্রশ্ন ও তার উত্তর

 

আপনি এত সময় কই পান? এত বড় বড় লেখা কখন লিখেন?

উত্তরঃ আমি একটা লেখা শুরু করার পর বিভিন্ন সময় তাতে আমার চিন্তা গুলো যোগ করে যখন দেখি তা অন্যর সাথে শেয়ার করার উপযুক্ত হয়েছে তখন তা ব্লগে প্রকাশ করে মতামত আশা করি। আমার লেখার উদ্দেশ্য মূলত অন্যর সাথে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো শেয়ার করা। অনেকের প্রশ্ন লেখার জন্য এত সময় আমি পাই কই। একটু একটু করে লিখি অনেক দিন ধরে, কোন কোন লেখা বছর গড়ায়ে যায়। তাই আমার প্রতিটি লেখার নিচে কবে কবে লিখেছি তার একটা উন্নয়ন ও সম্পাদনা ইতিহাস যোগ করা থাকে। আমার এক বন্ধুর জানার আগ্রহে বলেছিলাম, কেউ আছে যারা দুইটা বল নিয়ে জাগল করতে পারে না আবার কেউ কেউ আছে যারা ৪, ৫ টা বল নিয়ে দুই হাতে জাগল করতে পারে। এটা তার বা যার যার দক্ষতার বিষয়। তাছাড়া বিন্দু বিন্দু করেই তো সিন্ধু হয়। অল্প অল্প করে লিখি একসময় তা অনেক হয়ে যায়, তখন সম্পাদনা করে কাট ছাট করে দরকারি কথা গুলো রেখে বাকি গুলো বাদ দিয়ে দেই। আজকের জমানায় এত এত সফটওয়ার আর অনলাইন টুল চলে আসছে যে আমরা অল্প সময়ে অনেক কাজ ও অনেকের সাথে যোগাযোগ করতে পারি তবে সেটা তখনই পারি যখন আমরা এই উন্নত টুলস গুলো সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে শিখি। সিস্টেমেটিক ভাবে কাজ করলে প্রচুর কাজ ও জটিল কাজ গুলো সহজে করা যায়। তাই যারা যত বেশি টুল ব্যবহার করতে শিখেছে তারা তত বেশি অন্যর চেয়ে বেশি কাজ করতে পারছে। আমি টুলস গুলো ব্যবহার করে অনেক কাজ দ্রুত করে ফেলতে শিখেছি তাই অন্য কারো কাছে মনে হতে পারে আমি হাইপার একটিভিটি শো করছি, প্রকৃত পক্ষে তা নয়, বরং ডিসিপ্লিন ও মেথড ব্যবহার করে আমি প্রচুর কাজ করছি স্বচ্ছন্দে ও সাবলীল ভাবেই। অন্যরা পারছে কি না সেটা আমার ধর্তব্যের বিষয় না।

আমি আমার লেখায় কম্পিউটার ব্যবহার করি আর আমার চিন্তাভাবনা গুলো লিখে রাখি বিভিন্ন সময়। আমার টাইপ স্পিড বাংলায় মিনিটে ৫০ শব্দ আর ইংরেজিতে ৫৫ শব্দ হওয়ায় প্রচুর কথা লিখতে পারি। টাইপ স্পিড বৃদ্ধির জন্য আমি মেভিস বেকন টিচার্স টাইপিং ভার্শন ফোর এর কাছে ঋণী। বানান ভুল সংশোধনের জন্য আমি অভ্রর স্পেল চেকারের কাছে ঋণী। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর ট্রেক চেঞ্জ ফাংশন আমাকে আমার লেখা সম্পাদনা করতে যথেষ্ট পরিমাণে সাহায্য করে। একটা হাইলি কাস্টমাইজড কম্পিউটার ফাইল আমার লেখাগুলো সংরক্ষণ করে যেটাতে আমি ন্যাভিগেশন টুল ব্যবহার করে যখন যে লেখাটাতে আমার কথা সংযুক্ত করতে চাই তা করতে পারি। ব্লগ স্পট এর কাছে কৃতজ্ঞ আমার লেখাগুলো অনলাইনে প্লেস করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য আর হোয়াটস এ্যাপ, ফেইসবুক, ম্যাসেঞ্জার এর মাধ্যমে লেখাগুলো আমার প্রিয়জনদের কাছে পৌছে দেই। সব গুলো টুল ব্যবহার করে আমার মনের কথা আপনার কাছে পৌঁছে দেই এই প্রত্যাশায় যে আপনি তা পড়ে আপনার মূল্যবান মতামত দিয়ে আমাকে সমৃদ্ধ করবেন। কিন্তু মানুষ পড়ে (কতগুলো হিট হলো তা আমি দেখতে পাই ব্লগের কন্ট্রোল প্যানেলে) কিন্তু কোন মন্তব্য করে না দেখে প্রায়শই হতাশ হই। বেশির ভাগ পাঠকই হয়তো এত বড় লেখা দেখে সুইপ ডাউন করে চোখ বুলায়ে যায়। পড়লে তো সে মন্তব্য করতো কিন্তু বাঙ্গালীদের মধ্যে ভারচুয়াল রিয়ালিটির কনসেপ্টটা এখনও পুরোপুরি বোধগম্য হয়নি কিংবা তারা সহজে মন্তব্য করতে চায় না, যা আমরা বিশ্বের অন্যান্য অংশে দেখি না। ওখানে প্রায়শই তাদের পোস্টে মিলিয়ন মিলিয়ন রিএকশন আসতে দেখা যায়। হলিউড তারকা মরগান ফ্রিম্যান এর কাজ ও কথা আমাকে মারাত্মক প্রভাবিত করেছে তাছাড়া বারট্রান্ড রাসেল ও এলডাস হাক্সলির লেখাও আমার অত্যন্ত প্রিয়।

আমি প্যাটার্নটা ধরতে পেরেছি, কেন প্রত্যেকেই প্রথমেই আমাকে প্রশ্ন করে আমি লেখার এত সময় কই পাই। প্রত্যেকেই জানতে চেয়েছে এই প্রশ্নটা কারণ, বড় লেখাটা দেখে তাদের বিরক্তি লেগেছে, কেউ পড়ে নি কিংবা লেখাটা পড়ে প্রশ্ন টা করেননি, কারণ লেখাটা পড়লে সে ওই লেখার বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতো। লেখাটা বড় দেখে বিরক্ত হয়েছে, এই ভেবে যে, এত বড় লেখা পড়ার ধৈর্য কই পাবো আর এত বড় লেখার সময়ই বা উনি পেলেন কোথায়। তাদের লেখাটা পড়তে ইচ্ছা হয়তো বা করেছে কিন্তু এত বড় লেখা (আমার লেখা গুলোর একটা গড় কলেবর আছে, যা আমি মেইনটেইন করি, ১১০ লাইন গড়, এটাকে বড় লেখা বলাটা কতটা যৌক্তিক আমি জানি না, আমার বিচারে এটা মাঝারি কিংবা ছোট একটা লেখা) পড়ার সময় এখন আর মানুষজনের হাতে নাই। তাই তারা বিরক্ত হয়ে আমাকে এই প্রশ্নটা করে। লেখাটা বা লেখা গুলো যারা পড়েছেন তারা জানেন, একটা পুরপুরি ভাব ধারাকে প্রকাশ করতে গেলে ১১০ লাইন যথেষ্ট না, বরং এর দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ লেখাকে যথেষ্ট বলা যেতে পারে। একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে থামতে পারেননি কেউ এটা আমার অনুমান, কারণ আমি জানি একটা চিন্তা ধারার বিবরণ পড়তে থাকলে আরেকটি মন যদি তার আদ্যোপান্ত ধরতে চায় তবে সে পুরটাতেই আবিষ্ট হবে, শেষ পর্যন্ত কি বলা হয়েছে তা বুঝতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক মানবিক প্রবণতা। আমি আমার চিন্তাধারার যৌক্তিক দিকগুলো তুলে ধরি বিষয় ভিত্তিক ইস্যুতে আর ওটাতে আমার মতামত দিয়ে শেষ করি। কেউ শেষ পর্যন্ত পড়ে কোন মন্তব্য করে নি এমন না, আমি মন্তব্য পেয়েছি, যারা পুরটা পড়েছে তাদের কাছ থেকে, যার সব কটিই ছিল ধনাত্মক, যার ফলাফলই হলো আমার বই প্রকাশের সাহস দেখানো। আমি কৃতজ্ঞ ওই সকল মন্তব্য প্রদানকারীদের প্রতি (নাম উল্লেখ করলাম না, কারণ আমাদের দেশের লোকজন বড় লাজুক, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, মন্তব্য প্রকাশে অনেক ভীত) যারা আমার লেখা পুরটা পড়ে তার পর মন্তব্য করেছেন। শেষ বইটা আমি তাদের উদ্দেশ্যেই নিবেদন করবো।

আপনি রাজনৈতিক ভাবে কোন মতাদর্শের অনুসারী?

উত্তরঃ আমাদের সংবিধানের মূল নীতি মতে সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। ধর্মীয় গোঁড়ামির মধ্যে আমি নাই। এই কিছুদিন আগেও ছিলাম কিন্তু এখন এর চরম বিরোধিতা করি। প্রতিটি ধর্মের ছাতার  নিচেই অন্ধকার আর ঝর বৃষ্টির ভয়ে অনেকেই সেই ছাতা মাথায় দিয়ে আছে, আমি মনে করি ছাতা সরালেই তারা আলোকিত আকাশটা দেখতে পাবে। আমি ছাত্রাবস্থায় কিংবা চাকুরী জীবনে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না তবে ২০০২ থেকে ২০১০ পর্যন্ত মুসলিম প্রফেশনালস ফোরাম বা এমপিএফ এর সাথে যুক্ত ছিলাম। ওই সময় ইসলাম ধর্ম ও রাজনীতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাই। ২০১৬ তে মায়ের মৃত্যুর পর ধর্মের উপর সকল আস্থা হারায়ে ধর্মনিরপেক্ষ ও পরবর্তীতে প্রথা বিরুদ্ধ মানুষিকতায় চলে আসি। দেশের কোন রাজনৈতিক দলের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই, কখন ছিলও না। যারা ভালো কাজ করে ও সঠিক পথে চলে আমি তাদের সমর্থন করি আমার লেখার মাধ্যমে তা প্রকাশও করি।

আপনার লেখার উদ্দেশ্য কি?

উত্তরঃ সব লেখকেরই লেখার একটা উদ্দেশ্য আছে, আমারও আছে, আমি মনে করি আমার লেখা যদি পাঠকের মনে চিন্তার সূত্রপাত করতে পারে তবেই তা সার্থক। কারণ ইদানীং কালের মানুষের মধ্যে চিন্তা ভাবনা করার ফুরসতও নাই তাই অভ্যাসও কমে গেছে, কিন্তু মানুষের মনের মৌলিক চিন্তা ভাবনায় যদি পরিবর্তন আনতে হয় তবে তাকে দিয়ে চিন্তা ভাবনা করাতে হবে। হ্যাঁ, অনেকেই আমার মাঝারি গোছের আর্টিকেল গুলো পড়ার আগ্রহ পাবে না আমি জানি তবে কেউ কেউ কিন্তু বিষয়বস্তু ও তার সার সংক্ষেপ পড়ে আগ্রহ পাবে, যারা পড়ুয়া তারা পড়বে আর তা তাদের মধ্যে চিন্তার সূত্রপাত করবে। আমার উদ্দেশ্য ওটাই।

মানুষে মানুষে মত পার্থক্য থাকবেই কারণ প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন তবে মতামতগুলো যতটা সম্ভব কাছাকাছি নিয়ে আসাই আলোচনার উদ্দেশ্য। আমি যে লিখি তা মূলত মানুষের মধ্যে চিন্তার সূত্রপাত করানোর জন্য। যাতে করে তার মতামতগুলো আমি পাই ও তার সাথে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো যাচাই বাছাই করে দেখতে পারি। এই যাচাই বাছাই যদি উভয়েই জানে তবে উভয়েরই উপকার হবে। তাই আমার লেখা পড়ে মন্তব্য করার অনুরোধ রইলো।


 প্রশ্নঃ কবে থেকে লেখালেখি শুরু করেন?

উত্তরঃ আমি লেখা লেখি খুব বেশি দিন হয় নাই যে শুরু করেছি, আনুমানিক ২০১৮ সালের মধ্যভাগ থেকে। কখনো ভাবিও নাই যে ব্লগে আমার এতগুলো লেখা আপলোড করতে পারবো। আমার আগের লেখা গুলো মূলত নিজের সাথে আত্মকথনের মত ছিল আর বিশৃঙ্খল বা জগাখিচুড়ির মত ছিল। কাউকে দেখাতে হবে না বলে আবোল তাবোল চিন্তাগুলো লিখে রাখতাম, যখন ব্লগে আপলোডের প্রসঙ্গ চলে আসলো তখন সঠিক বানানে সুন্দর করে একটা উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে লেখা গুলো গুছানো গেল। আমি রিথোরিকাল পাওয়ার এর উপর একটা বই পেয়েছিলাম হাতে ওটার পরামর্শগুলোও কাজে আসছে। প্রথম কয়েকটা লেখা ইংরেজিতে লিখে পরে দেখলাম ইংরেজির চেয়ে বাংলায় আমি অনেক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, তখন ওই ইংরেজি লেখাগুলো অনুবাদ করে বাংলায় এনে তাকে আরো উন্নত করেছি। ব্লগে লেখা শুরু করার পর দেখলাম আমি যখন এর লিংক গুলো আমার পরিচিত জনদের দেই তখন তারা সেটা পড়ে, সবাই না, তবে বেশ কয়েকটা দিক থেকে সাড়া পেলাম। লেখা কিন্তু চাইলেই আসে না, মনের কথাগুলো গুছায়ে লেখাটাতেও মন লাগে আর একটা বিষয় ছোট্ট করে প্রকাশ করলে তার মর্ম কথাটা সঠিক ভাবে অন্যের কাছে প্রকাশও করা যায় না। আমি কিন্তু আমার ব্লগ লিংক গুলো কতগুলো হিট হল তা জানতে পারি, ধরে নেই তার তিন ভাগের এক ভাগ হয়তো পড়ে, বাকিরা সুইপ করে চলে যায়। তবে যারা পড়ে তারা মন্তব্য করে, তাও ব্লগে না, সামনা সামনি দেখা হলে ওই প্রসঙ্গে বলে।

আমি গল্প উপন্যাস লিখতে পারি না, কবিতা তো নয়ই, কিন্তু আমি আমার চিন্তা ভাবনা গুলো তোমার সামনে মেলে ধরতে পারি, তার প্রেক্ষিতে তোমার চিন্তা ভাবনা গুলোর মিথস্ক্রিয়া অবশ্যই হবে আর যুগ যুগ ধরে সেই সক্রেটিসের আমল থেকে থিসিস+এন্টিথিসিস=সিনথেসিস (বাদ+প্রতিবাদ=সংবাদ বা সংলাপ) মানুষের মনের পরিবর্তন করে আসছে। নতুন কিছু আনতে হলে এই বাদ প্রতিবাদ এর সংশ্লেষণ লাগবেই। তার জন্যই আমি লিখে যাচ্ছি। সাতটা করে লেখার একটা করে ছোট্ট বই আকারে প্রকাশেরও ইচ্ছা হচ্ছে ইদানীং, ছোট মামার প্রেসে লেখাগুলো পাঠাচ্ছি। কম খরচে কয়েক হাজার কপি করে ছাপবো। সাতটা বই এর নাম ও লেখা আলাদা করে ফেলেছি। একদিকে নতুন লেখা চলবে আর তার পাশাপাশি বই আকারে একই ধারার লেখাগুলোর বইও ছাপবো আশা রাখি।


প্রশ্নঃ পাঠকদের প্রতি কি আপনার কোন বক্তব্য আছে?


উত্তরঃ বর্তমান সমাজে লোকগুলোর মানুষিকতা দ্রুত আগ্রহ হারায়ে ফেলা কিংবা কেবল সাম্প্রতিক বিষয়াবলীতে আগ্রহ থাকা, তার সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু ওই যে বলে না কোয়ান্টিটি বাড়ালে কোয়ালিটি কমে যায় তখন তাতে ভারসাম্য আনতে কৌশল লাগে। হ্যাঁ সমাজে মানুষের জীবনাচরণ ও জীবন দর্শনে পরিবর্তন আসছে কিন্তু যদি খেয়াল করে দেখা যায়, অনলাইন নিউজ থাকলেও নিউজ পেপার পত্রিকা প্রকাশ কিন্তু থেমে থাকেনি। টিভি নিউজ চ্যানেলও চলছে যেখানে ইউটিউবে সেই খবরই যখন তখন দেখা যায়। সমাজ ও জীবনাচরণ বদলাচ্ছে কিন্তু আগের গুলো সবই যে অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে তা নয়। পুর সমাজটা একবারে বদলাচ্ছে না, এখানেও স্ট্রেটাম থেকে স্ট্রেটামে নানা রকম চিন্তা ভাবনা চলমান আছে। আমাদের জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক জনগোষ্ঠীর চিন্তা ভাবনা গুলোকে যদি কাছা কাছি আনা যায় তবে সমাজে পরিবর্তন আসবেই। আমি লেখা লেখির মাধ্যমে সেই চেষ্টাটাই করতে চাচ্ছি যতটা পারছি আমার পেশা ও পরিবারকে ঠিক রেখে। আমাদের আবাস এই দেশের উন্নয়নে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের উন্নত ভবিষ্যতের জন্যও যতটা সম্ভব আমাদের অংশগ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে করি। আরেকটা কথা, লিখে যা প্রকাশ করা যায় তা কিন্তু কথায় অনেক সময় প্রকাশ করা যায় না। কথা ক্ষণিক বাদ মেনে চলে, ক্ষণিকেই তা অতীত কিন্তু লিখলে তা সহজে অতীত হয় না, সময়ে তাকে ধরে রাখা যায়।

 

উন্নয়ন ও সম্পাদনা ইতিহাসঃ ২৪ডিসেম্বর২৩> ২৮ফেব্রুয়ারী২০২৪> ০৪মার্চ২০২৪> ১৭মার্চ২০২৪> ১৭এপ্রিল২০২৪> ৭জুলাই২০২৫>

Monday, February 26, 2024

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার মন্তব্য

 

রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে ভদ্রলোকেরা ভয় পায় কারণ তারা ঝামেলায় জড়াতে চায় না। “আমি বাবা আদার ব্যাপারী জাহাজের খবর নিয়ে আমার কি লাভ” এই মানুষিকতা তাদের। এদেশে যারা ক্ষমতায় যায় তারা সব লুট পাট করে নিয়ে যায়, চিরকাল তাই তো চলছে এই দৃঢ় বিশ্বাস। যেই যায় লংকায় সেই হয় রাবণ, এই রকম একটা ধারণা সাধার মধ্যবিত্ত শহুরে জনসমষ্টির মাঝে হাজার বছর ধরে বিরাজমান। অবাক করার মত বিষয় হলো এই ধারণাটা বা জনমতটা আপনা আপনি সবার মধ্যে ভাইরাসের মত ছড়ায়ে গেছে। অনেকের কাছে আঙ্গুর ফল টক তাই খাব না, মানে রাজনীতি বুঝি না তাই এ নিয়ে কথা বলবো না, এই রকম মানুষিকতাও দেখতে পাওয়া যায়। আমার আগের একটা লেখা, রাজনীতি কি যেন তেন ব্যাপার? এ বলেছিলাম ভদ্রলোকেরা যদি মাঠ ছেড়ে দেয় তবে তো দুষ্ট লোকেরা মাঠ দখল করে নিবে। তাই হচ্ছে এদেশে দুষ্ট লোকেরাই রাজনীতি করছে। রাজনীতি করতে কিছুটা ডিপ্লোম্যাসি জানতে হয় যা সাধারণ ভদ্র লোকরা জানে না। তাই বলে এমন কি তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতেও ভয় পাবে? হ্যাঁ, অফিসে কলিগের সাথে, চা য়ের আড্ডায় তারা রাজনীতি নিয়ে গলাবাজি করে ঠিকেই কিন্তু একটা টিভি কেমেরা ও মাইক হতে নিয়ে কোন প্রেস মিডিয়াতে মন্তব্য করার সাহস বা গলাবাজি করার সাহস তাদের নাই সেটা তাদের তর্জন গর্জন দেখলেই বুঝা যায়। চা য়ের কাপে ঝড় তুলা পর্যন্তই রাজা উজির মারা শেষ তার পর যেই সেই চিরাচরিত পুরাতন মানুষিকতা। অনেকে বলে রাজনীতি করে সব চোরের দল। আরে বাবা রাজনীতি যতি ওই চোরের দলেরা না করতো তা হলে কি চায়ের কাপে ঝড় তুলেই দেশ টা চলতো? আমিও ভয় পাই ঝামেলায় জড়ানোর কিন্তু তাই বলে প্রকাশ্যে কিংবা গণমাধ্যমে আমার মতামত তুলে ধরতে আমি ভয় পাই না, আমার সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কে আমি অবহিত ও তার উপর ভিত্তি করেই আমার সমালোচনা আমি মুক্ত মঞ্চে উপস্থাপন করতে পারি বলে আমার ধারণা।

বিএনপির ধানের শিষে যে পচন ধরেছে তা কি তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ লক্ষ্য করেছেন না? সময়মত ধান না কাটলে যে তাতে পচন ধরবে তা তো প্রাকৃতিক সত্য । যারা পরাজিত হয়েও সেটা মেনে নিতে পারে না কিংবা তাদের ভুল গুলো ধরতে অপারগ হয় তবে তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাব আছে বলতেই হবে। বিএনপি সম্পর্কে আমার মন্তব্য তাদের তরুণ নেতৃত্ব প্রবণতাতে ভুল বা ত্রুটি আছে। বিরোধী দল কতটা রাজনৈতিক ভাবে সবল হলে তাদের বিপক্ষকে খাঁচায় বন্দি করে নির্বাচনের মাঠ ফাকা করে নিয়ে ক্ষমতা পুনর্দখল করে তার পর বিপক্ষদের ছেড়ে দেয় তা দেখে বিশ্বয় বোধ হয়। বিএনপি রাজনৈতিক ভাবে এতটাই বিপর্যয়ের মুখে পরেছে যে কোন একটা জন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সৃষ্টি করতেই পারছে না। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য আকাশ ছোঁয়া কিন্তু বাজারে পণ্যের অভাব নাই, বিক্রেতার অভাব নাই আর ক্রেতাও আছে প্রচুর। অর্থনীতির নানা দোষত্রুটি সহ তা স্বাভাবিক না হলেও ভালই চলমান আছে দেখা যাচ্ছে। হ্যাঁ নানা দিকে বাক নিচ্ছে, উত্থান পতন হচ্ছ ঠিকই কিন্তু গাড়িটা তো চলমান আছে। বেশ কয়েক বছর আগে আমি আমার এক কলিগকে অফিসে যাওয়ার পথে বিতর্কে বলেছিলাম মাইক্রো ইকনমি সুস্থ আছে কি না বুঝবেন কিভাবে? যখন দেখবেন বাজারে পণ্য আছে প্রচুর আর তার ক্রেতাও আছে যথেষ্ট তাহলে বুঝতে হবে ইকনমি সচল আছে। আমরা আদর্শ বাজার বা পারফেক্ট মার্কেট কাকে বলি? যেখানে প্রচুর বিক্রেতা আর ক্রেতার সমারহ ও পণ্যর অবাধ প্রবাহ আছে তখন তাকে বলি। যার কাছা কাছি বাস্তব চিত্র ঢাকার বাজার গুলোতে এখন দেখা যাচ্ছে। এত পণ্য মূল্যর ঊর্ধ্বগতি কই পণ্যর তো কমতি নাই বাজারে আর ক্রেতার সংখ্যাও তো কমে নাই। কি বুঝবেন এটা থেকে? কেউ যদি বলে হায় হায় এত বাজার মূল্য, এত সিন্ডিকেশন অর্থনীতির তো বারোটা বেজে গেছে। আমরা যারা অর্থনীতির ছাত্র তারা জানি মুক্ত বাজারে সিন্ডিকেশন করে বেশি দিন বিক্রেতা টিকে থাকতে পারে না কারণ পণ্য যদি অবাধে বাজারে আসার সুযোগ পায় আর বাজারে যদি ক্রেতা থাকে প্রচুর তা হলে সিন্ডিকেশন কাজ করে না। যারা অর্থনীতি কখন পড়ে নাই তারা মুক্ত বাজারে সিন্ডিকেশন এর ভুত দেখে ভয় পায়, আমরা পাই না। বাজারে পণ্যর প্রাচুর্য আছে বিক্রেতাও আছে প্রচুর আর ক্রেতাও আছে যথেষ্ট। পণ্য – বিক্রেতা –ক্রেতা এই চক্রের গ্রিডে কোথাও ঝামেলা হলে পুর সাইকেলটাই বন্ধ হয়ে চরম দুর্গতি দেখা দিবে চোখের নিমেষে। তা কিন্তু হতে দেখা যাচ্ছে না। যেটা দেখা যাচ্ছে সেটা একটা সুস্থ অর্থনীতির চিত্র । সংবাদ মাধ্যমও অবাধ ও মুক্ত আছে। মূর্খের মত তর্ক করে অনেকে হায় হায় করে কিন্তু দেশ সঠিক ভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে এটা আমার সুস্থ মস্তিষ্কের নিরপেক্ষ মতামত। বিএনপি তাদের ভুল গুলো ধরতে পারলে আমি খুশি হতাম। দেশে একটা শক্তিশালী বিরোধি দল অবশ্যই প্রয়োজন । তবে সে বিরোধী দলকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সম্পন্ন হতে হবে, হুজুগে মেতে যা খুশি তাই বললে হবে না। জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি রাজনীতি ও অর্থনীতি বোঝে। কম বেশি ৬০% জনগণ ভোট দেয় নাই মানে এই নয় যে তারা ক্ষমতাসীন দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে এর মানে এও হতে পারে যে, ভোট নেয়ার আগেই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল আর তাতে তাদের কোন আপত্তি ছিল না বলেই তারা ভোট দেয় নাই। যদি তাই না হতো তা হলে নির্বাচনের ফলাফলের পর জনগণ রাস্তায় নেমে আসতো এর প্রতিবাদে, তা তো হতে দেখা যায় নাই। লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড দিলেও বিএনপি ঠিক মত তাতে নাচতে পারতো বলে আমার মনে হয় না। আর নাচতে না জানলে তারা তো উঠানটা বাঁকা বলবেই। আমার রাজনৈতিক মতামতে নিরপেক্ষ আর বিএনপি রাজনৈতিক ভাবে আরো প্রজ্ঞার পরিচয় দিক সেটাই আমার চাওয়া।  

আমার কলিগ ও বেচমেট হাবিবুর রহমান উপরের মন্তব্যে ফেইস বুকে তার প্রতিবাদী ভাষাটা ছিলো এরকম ”পকেট ভরে টাকা নিয়ে বাজারে গেলে কেমনে বুঝবা! কখনো টাকার অভাবে দুই-এক বেলা না খেয়ে থেকেছো এমন হয়েছে তোমার? অথবা, বাড়ি ভাড়া, বাচ্চাদের স্কুলের বেতন ইত্যাদি দিয়ে বেতনের টাকা শেষ কিন্তু এখনো মাসের ৫ দিন বাকি, ধার করে টাকা নিয়ে বাজারে গেছো, এমন হয়েছে তোমার? মুক্ত বাজারে সিন্ডিকেট থাকবে এটা যেমন স্বাভাবিক, আবার সরকার জনগণের স্বার্থে বাজার স্থিতিশীল রাখবে এটাও স্বাভাবিক নয়কি? কৃষক যে জিনিস বিক্রি করে ৮/১০ টাকায় সেটা খুচরা বাজারে বিক্রি ৪০/৫০ টাকায়! এটা কি মুক্ত বাজার???”
 

না আমার সেরকম হয়নি কিন্তু আমি ওই অবস্থাগুলো সম্পর্কে অনুভব করতে পারি। মুক্ত বাজারে সিন্ডিকেট বেশিদিন টিকে থাকে না সেটা স্বাভাবিক আর মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না বা করা উচিত না। বাজার তার নিজস্ব গতিতে আগাবে সেটাই স্বাভাবিক। উদ্যোক্তা - মধ্যসত্তভোগী-বিক্রেতা-ভোক্তা এই চেইনে দামের হের ফের হবেই তা কতটা হবে তা মুক্ত বাজারে আমি আপনি কিংবা সরকার নিয়ন্ত্রণ করার কোন অস্ত্র রাখে না। অর্থনীতির বইগুলো পড়েন তা হলে বিষয়গুলো পরিষ্কার হবে। সরকার জনগণের স্বার্থে বিটিসি (বাংলাদেশ ট্রেডিং কর্পোরেশন) এর বিপণন কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করতে পারে মাত্র কিন্তু তাতে যদি কাজ না হয় তবে সরকারের কিছুই করার নাই। ভোক্তা সংগঠন ক্যাব এর কিছু করার থাকলেও থাকতে পারে। সমাজ ও সংঘর গুরুত্ব গুলো পাঠ্য পুস্তক থেকে আবার ঝালাই করে নেয়ার অনুরোধ রাখলাম।  না খেয়ে থাকা লোকগুলো মুখ বুজে রোজা রেখে দিন কাটাচ্ছে তাই কি? তারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে না কেন? বিএনপির মত রাজনৈতিক বিরোধীদল আছে না, তাদের লিফলেট বিলি করে জনগণকে বুঝাতে হচ্ছে যে তোমাদের পেটে খুধা নিয়ে ঘরে বসে থেকো না, রাস্তায় নামো। আপনার মতে কি এটা যে, কেউ না খেয়ে বাসায় বসে থাকবে রাস্তায় নামবে না, লিফলেট পড়েও নামছে না কেন? নিজেকে প্রশ্ন করেন কেন? কেন? কেন? – এটা ছিল আমার উত্তর, জানি না সে উত্তরটা পড়েছে কিনা, তার কোন প্রতি মন্তব্য পাই নাই।

আমার সরল দৃষ্টিতে যা বুঝি, তা হলো, আওয়ামীলীগ সরকারের টানা তিনবার টিকে গেল ক্ষমতায়, অনেকের মতে ছলে, বলে, কৌশলে। আমার কথা হলো এই ছলে, বলে, কৌশলেই তো রাজনৈতিক ডিপ্লোম্যাসির নাম। বিরোধীরা তাদের ছল, বল ও কৌশলে হেরে গেছে দেখেই না আওয়ামীলীগ সরকার জিতে গেল। শেখ হাসিনা এখন নিজেই একজন লিজেন্ডে পরিণত হয়েছেন। তাকে আর তার বাবার পরিচয়ে পরিচিত হতে হয় না। এই অর্জনও কম কথা নয়। আওয়ামে লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের যখন সড়ক ও সেতু বিভাগের দায়িত্ব নেয় ও রাস্তাঘাটের সংস্কার শুরু করে তখন আমার মা তার প্রশংসা করেছিল সেই ২০১৬ সালেই যখন সে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পায় নাই। তাকে নিয়ে নানা জন নানা কথা বলে কিন্তু দেশ জুরে সড়ক পথের যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে তা সবার নজরে এসেছে। আমার গাড়ির বিশ্বস্ত ড্রাইভার রুবেল কে বলতাম যখন পদ্মা সেতু চালু হবে তখন এদেশের অর্থনীতি গিয়ার আপ হবে, যেমন করে তুমি গাড়ির গিয়ার আপ কর সেভাবে, হয়েছেও তাই। মেট্রোরেল, এক্সপ্রেস হাইওয়ে, ৮ লেনের ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ঘাটের ব্যাপক উন্নতি চোখে পড়ার মতো। কর্ণফুলী আন্ডার ওয়াটার টানেল চালু করে দেয়াও তো একটা অর্থনৈতিক উন্নয়ন। লোকজনের ব্যস্ততা বহুগুণ বেড়েছে আর তাদের দ্রুতগতিতে স্থানান্তরের সুবিধাগুলোর কারণে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক গতি সঞ্চারিত হয়েছে যা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে। এত কিছুর কারণেই জনগণ আওয়ামীলীগ সরকারের তৃতীয় বারের মত ক্ষমতায় আরোহণের পক্ষে মৌন সম্মতি জানিয়েছে বলে আমার মনে হয়। যে ৬০ শাতংশ ভোট পড়ে নি তারা মৌন সম্মতি দিয়েছে তা যাদের বুঝার ক্ষমতা আছে তারা ঠিকই বুঝেছে।

অপর পক্ষে বিএনপি’র সিনিয়র নেতা রুহুল কবির রিজভীর তারেক রহমানের পাঠানো বার্তা পড়ে শোনানোর মত ঘটনাও আমরা দেখছি। তারেক রহমান এর মধ্যে তারা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ছায়া দেখতে পায় বলে শুনা যায়। কিন্তু সেই ছায়া কিসের ছায়া। তার কি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রর ছায়ার অধিকার আছে? সে কি তার পিতার রাষ্ট্রপরিচালনার সাথে পরিচয় আছে, কিংবা তার মা খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রপরিচালনার সময় সে যে সব দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত তার ছায়া রুহুল কবির রিজভী, আমির খসরু কিংবা মির্যা আব্বাস রা দেখতে পান? তারেক রহমান বিদেশে বসে রবার্ট ব্রুসের মত মাকড়সার জাল বুনছে আর দেশে নানা অরাজকতার জন্য অভিযুক্ত হচ্ছে এটা কোন ধরনের রাজনীতি? তারেক রহমানকে দেশে এসে জনগণকে এ্যাডরেস করে জনসভায় বক্তব্য দেয়ার মত সাহস নিয়ে স্বদেশে ফেরত আসতে হবে। এদেশে আসলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে ও বিচার করা হবে এই ভয় পেয়ে সে দেশে কেন আসবে না? তার রাজনৈতিক দলের কি এই শক্তিটুকুও নাই যে, তার নেতাকে তারা নিরাপত্তা দিতে পারে না? আমার জীবদ্দশায় আমি বিএনপি ও আওয়ামে লীগ দু দলের রাষ্ট্রপরিচালনা দেখেছি। আমার নিরপেক্ষ অভিজ্ঞতা বলে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে রাষ্ট্র যন্ত্রের বিভিন্ন চাকা গুলো ঢিলা ঢালা হয়ে যায় অপর পক্ষে আওয়ামে লীগ ক্ষমতায় আসলে আমরা রাষ্ট্রীয় চাকাগুলোকে সঠিক ভাবে চলমান দেখতে পাই। তাই বলতে চাই কোন পক্ষে মানুষিক ভাবে আসক্ত না হয়ে নিরাসক্ত মন্তব্য করুন। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক আ এসআইবিএল এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নির্বাচনের আগে বলছিলেন তিনি আইন পড়ছেন কারণ তার দল ক্ষমতায় আসলে সে আইনের বিষয়গুলো দেখবেন। তার ধারণা ছিল এতদিন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আছে তাই এবার তাকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে। তাকে প্রশ্ন করেছিলাম আপনার সরকার গঠন করলে কি তারেক রহমানকে প্রধান মন্ত্রী বানাবেন? তার উত্তর ছিল, অবশ্যই, কারণ সে তরুণ আর অত্যন্ত যোগ্য বলে সে মনে করে। আমি তার কথা মানে পারি নাই এখনও পারি না।

স্রেফ বাঙ্গালী নয় বাংলাদেশী জাতি গঠনে ও এপার বাংলার জাতীয়তাবাদ সংঘটনে, বাংলাদেশের গোরা পত্তনে ও রাজনৈতিক সংগ্রামে যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং যারা তাকে সহযোগিতা করেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যারা লড়েছেন ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মত অভাবনীয় কৌশল প্রদর্শনের পারদর্শিতা দেখিয়েছেন, একটা প্রশিক্ষিত আর্মির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে নিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাদের সকলকেই শ্রদ্ধা ও মূল্য দিতে হবে । খুব ঠাণ্ডা মাথায় বিষয়গুলো বিবেচনা করলে এদের সকলকেই স্মরণে রেখে আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে। এরাই আমাদের ঐতিহ্য।

সম্পদনা ও উন্নয়ন ইতিহাসঃ ১৭ফেব্রুয়ারী২০২৪> ২০ফেব্রুয়ারী২০২৪> ২৭ফেব্রুয়ারী ২০২৪>


আমার কাছে অনেকের প্রশ্ন
আপনি এত সময় কই পান? এত বড় বড় লেখা কখন লিখেন?

উত্তরঃ আমি একটা লেখা শুরু করার পর বিভিন্ন সময় তাতে আমার চিন্তা গুলো যোগ করে যখন দেখি তা অন্যর সাথে শেয়ার করার উপযুক্ত হয়েছে তখন তা ব্লগে প্রকাশ করে মতামত আশা করি। আমার লেখার উদ্দেশ্য মূলত অন্যর সাথে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো শেয়ার করা। অনেকের প্রশ্ন লেখার জন্য এত সময় আমি পাই কই। একটু একটু করে লিখি অনেক দিন ধরে, কোন কোন লেখা বছর গড়ায়ে যায়। তাই আমার প্রতিটি লেখার নিচে কবে কবে লিখেছি তার একটা উন্নয়ন ও সম্পাদনা ইতিহাস যোগ করা থাকে। আমার এক বন্ধুর জানার আগ্রহে বলেছিলাম, কেউ আছে যারা দুইটা বল নিয়ে জাগল করতে পারে না আবার কেউ কেউ আছে যারা ৪, ৫ টা বল নিয়ে দুই হাতে জাগল করতে পারে। এটা তার বা যার যার দক্ষতার বিষয়। তাছাড়া বিন্দু বিন্দু করেই তো সিন্ধু হয়। অল্প অল্প করে লিখি একসময় তা অনেক হয়ে যায়, তখন সম্পাদনা করে কাট ছাট করে দরকারি কথা গুলো রেখে বাকি গুলো বাদ দিয়ে দেই। আজকের জমানায় এত এত সফটওয়ার আর অনলাইন টুল চলে আসছে যে আমরা অল্প সময়ে অনেক কাজ ও অনেকের সাথে যোগাযোগ করতে পারি তবে সেটা তখনই পারি যখন আমরা এই উন্নত টুলস গুলো সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে শিখি। সিস্টেমেটিক ভাবে কাজ করলে প্রচুর কাজ ও জটিল কাজ গুলো সহজে করা যায়। তাই যারা যত বেশি টুল ব্যবহার করতে শিখেছে তারা তত বেশি অন্যর চেয়ে বেশি কাজ করতে পারছে। আমি টুলস গুলো ব্যবহার করে অনেক কাজ দ্রুত করে ফেলতে শিখেছি তাই অন্য কারো কাছে মনে হতে পারে আমি হাইপার একটিভিটি শো করছি, প্রকৃত পক্ষে তা নয়, বরং ডিসিপ্লিন ও মেথড ব্যবহার করে আমি প্রচুর কাজ করছি স্বচ্ছন্দে ও সাবলীল ভাবেই। অন্যরা পারছে কি না সেটা আমার ধর্তব্যের বিষয় না।

আমি আমার লেখায় কম্পিউটার ব্যবহার করি আর আমার চিন্তাভাবনা গুলো লিখে রাখি বিভিন্ন সময়। আমার টাইপ স্পিড বাংলায় মিনিটে ৫০ শব্দ আর ইংরেজিতে ৫৫ শব্দ হওয়ায় প্রচুর কথা লিখতে পারি। টাইপ স্পিড বৃদ্ধির জন্য আমি মেভিস বেকন টিচার্স টাইপিং ভার্শন ফোর এর কাছে আমি ঋণী। বানান ভুল সংশোধনের জন্য আমি অভ্রর স্পেল চেকারের কাছে ঋণী। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর ট্রেক চেঞ্জ ফাংশন আমাকে আমার লেখা সম্পাদনা করতে যথেষ্ট পরিমাণে সাহায্য করে। একটা হাইলি কাস্টমাইজড কম্পিউটার ফাইল আমার লেখাগুলো সংরক্ষণ করে যেটাতে আমি ন্যাভিগেশন টুল ব্যবহার করে যখন যে লেখাটাতে আমার কথা সংযুক্ত করতে চাই তা করতে পারি। এ সব গুলো টুল ব্যবহার করে আমার মনের কথা আপনার কাছে পৌঁছে দেই এই প্রত্যাশায় যে আপনি তা পড়ে আপনার মূল্যবান মতামত দিয়ে আমাকে সমৃদ্ধ করবেন। কিন্তু মানুষ পড়ে (কতগুলো হিট হলো তা আমি দেখতে পাই ব্লগের কন্ট্রোল প্যানেলে) কিন্তু কোন মন্তব্য করে না দেখে প্রায়শই হতাশ হই। বেশির ভাগ পাঠকই হয়তো এত বড় লেখা দেখে সুইপ ডাউন করে চোখ বুলায়ে যায়। পড়লে তো সে মন্তব্য করতো কিন্তু বাঙ্গালীদের মধ্যে ভারচুয়াল রিয়ালিটির কনসেপ্টটা এখনও পুরোপুরি বোধগম্য হয়নি কিংবা তারা সহজে মন্তব্য করতে চায় না, যা আমার বিশ্বের অন্যান্য অংশে দেখি না। ওখানে প্রায়শই তাদের পোস্টে মিলিয়ন মিলিয়ন রিএকশন আসতে দেখা যায়। হলিউড তারকা মরগান ফ্রিম্যান এর কাজ ও কথা আমাকে মারাত্মক প্রভাবিত করেছে তাছাড়া বারট্রান্ড রাসেল ও এলডাস হাক্সলির লেখাও আমার অত্যন্ত প্রিয়।

আপনি রাজনৈতিক ভাবে কোন মতাদর্শের অনুসারী?

উত্তরঃ আমাদের সংবিধানের মূল নীতি মতে সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। ধর্মীয় গোঁড়ামির মধ্যে আমি নাই। এই কিছুদিন আগেও ছিলাম কিন্তু এখন এর চরম বিরোধিতা করি। প্রতিটি ধর্মের ছাতার  নিচেই অন্ধকার আর ঝর বৃষ্টির ভয়ে অনেকেই সেই ছাতা মাথায় দিয়ে আছে, আমি মনে করি ছাতা সরালেই তারা আলোকিত আকাশটা দেখতে পাবে। আমি ছাত্রাবস্থায় কিংবা চাকুরী জীবনে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না তবে ২০০২ থেকে ২০১০ পর্যন্ত মুসলিম প্রফেশনালস ফোরাম এর সাথে যুক্ত ছিলাম। ওই সময় ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাই। ২০১৬ তে মায়ের মৃত্যুর পর ধর্মের উপর সকল আস্থা হারায়ে ধর্মনিরপেক্ষ ও পরবর্তীতে প্রথা বিরুদ্ধ মানুষিকতায় চলে আসি। দেশের কোন রাজনৈতিক দলের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই, কখন ছিলও না। যারা ভালো কাজ করে ও সঠিক পথে চলে আমি তাদের সমর্থন করি আমার লেখার মাধ্যমে তা প্রকাশও করি।

Thursday, February 8, 2024

শরিফ সারেং পরিবারের গল্প-৫ পরিবার নিয়ে ইকবাল ভাই এর বক্তব্য ও মিমি আর রওনকের উত্তর

 

ইকবাল ভাইঃ আমাদের পারিবারিক প্লাটফর্মটি শুরু করা হয়েছিল কিছু ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে। আমাদের বাবা-চাচারা পূর্বে যা করেছে তা পরিত্যাগ করে নতুন উদ্যম নিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য ভালো কিছু উদাহরণ রেখে যাওয়ার কথা ছিল। গ্রুপে কিছু নীতিমালা থাকার কথা যেন, কাওকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করা হয় বা রাজনৈতিক আলোচনা গ্রুপে যেন না আসে।

ইদানীং লক্ষ্য করছি কেউ না কেউ ব্যক্তিগত বা পারিবারিক অতীত নিয়ে কথাবার্তা লেখা শুরু করেছে তা খুবই দুঃখজনক।

কয়েকদিন আগে মিমি সারেং বাড়ি গল্পে যা বলেছে তা খুবই ভালো লেগেছে। ওর লেখা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনেক কথা জানতে ও শিখতে পারবে। অপরদিকে রওনকের লেখাটা থেকে পরবর্তী প্রজন্মকে কি শিখবে? কোন কিছু যাচাই-বাছাই না করে এমন বানোয়াট গল্প দিয়ে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে কি শিখাতে চাইছি?

আমাদের মৌছা গ্রামে আমাদের পরিবারের সুনাম অনেক। আমার দাদার নাম রজব আলী কেরানী। দাদার আট ছেলে এক মেয়ে। তাদের নাম যথাক্রমে ১) আবদুল বারেক (বারী), ২)আব্দুল জলিল, ৩) খলিল, ৪)আব্দুর রহিম, ৫) শহিদুল ইসলাম, ৬) আব্দুল আলীম, ৭) মিজানুর রহমান, ৮) রুহুল আমীন। খলিল চাচা মারা যান সবার প্রথম। আমার দাদা একজন কেরানী ছিলেন বিধায় তার আয় ছিল কম, কিন্তু সংসার ছিল বড়। আমার বাবা সবার বড় তাই দাদার সংসারের কিছুটা ভাড় আমার বাবার উপর ন্যাস্ত হয়। আমার বাবা ইন্ট্রান্স পাশের পর কলকাতা চলে যান আয় রোজগারের জন্য। ১৯৬৫ সালে কলকাতায় হিন্দু মুসলমান রায়ট হয়। তখন অনেক মুসলমানদের বাংলাদেশ ফিরে আসেন। আমার বাবাও ফিরে আসেন। কলিকাতা থাকা অবস্থায় অটোমোবাইল সম্পর্কে ভাল জ্ঞান অর্জন করেন। ঢাকার সর্বপ্রথম আধুনিক গাড়ির ওয়ার্কশপ দেন বর্তমান সচিবালয়ের সাথে। সেন্ট্রাল মটর ওয়ার্কস। কিছুদিন ওখানে কাজ করার পর গ্রীনরোড ওমর মোটর ওয়ার্কসপ প্রতিষ্ঠা করেন। তখন পূর্ব পাকিস্তানে আমার বাবার ওয়ার্কশপেই লিফট সিস্টেম কার ওয়াশ ছিল। পাশেই আমাদের বাসা ছিল। আমাদের সাথেই দাদা দাদী আর সব চাচারা থাকতেন।

প্রথমত, আমার বাবা গ্রামের লোকদের খুব ভালোবাসতেন। তাদের সুখ দুঃখে সব সময় পাশে থাকতেন। গ্রামের কারো বিপদে সবার আগে বাবা এগিয়ে যেতেন। এটা আমার চাচাদের অনেকের পছন্দ হতো না। এ নিয়ে বাবার সাথে মতবিরোধের জের ধরেই চাচারা শাশহজাহানপুরে বাসা ভাড়া করে আলাদা হয়ে যান। জলিল কাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডে, রহিম কাকা সুগার মিলে আর শহিদ কাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি নেন। বাকি চাচারা তখনও ছাত্র। আলীম কাকা বুয়েটে, মিজান কাকা ডাক্তারী আর রুহুল কাকা জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করেন।

দ্বিতীয় কথা হলো, অরুণ ভাই আর মুসা ভাই কে সৌদি আরব নিয়ে যাওয়া নিয়ে। আলীম কাকা মারা যাওয়ার ৬/৭ মাস পর আমার বাবা মারা যান। বাবা মারা যাওয়ার পর আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব ভালো ছিল না। একদিন জলিল কাকা আমাদের বাসায় আসেন খোজখবর নিতে। কাকার সাথে হিরার নানার সম্পর্ক ভাল ছিল। কাকার অনুরোধে উনি সৌদি থেকে অরুন ভাইয়ের জন্য ভিসা পাঠান। আর মুসা ভাই সৌদি যান নিজের খরচে। আমি আমার খরচেই প্রথমে কাতার, পরে সৌদি যাই।

আর মিজান কাকা-কাকী সম্পর্কে যা লিখেছে তা বেয়াদবী ছাড়া কিছু নয়। কিছু লেখালেখি করার আগে তা যাচাই বাচাই না করে নিলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও এইসব অসত্যগুলো জেনেই বড় হবে। রওনককে এই নিয়ে আমি বুঝানো চেষ্টা করছি। ও আমার ছেলের কাছেও এই নিয়ে বিচার চাইতে গেসে। ভুল বলতে পারলে, তা খন্ডনের নিয়তও থাকা উচিত।

মিমিঃ আস্সালামালাইকুম ইকবাল ভাইয়া, আপনার লেখাটা পড়লাম। বড়-কাকু খুব বড় মনের মানুষ ছিলেন, একথাটা আমি আব্বু-আম্মু আরো অনেকের কাছ থেকে শুনেছি। আমরা যারা ওই সময়টা ছিলাম না আমাদের জানায় কিছু ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। একই ঘটনা এক এক জনের পয়েন্ট অফ ভিউ আলাদাও হতে পারে। এজন্য বিয়োগ্রাফি জাতীয় লেখা লিখতে গেলে অনেক সচেতন হতে হয়। অনেক লম্বা রুলস ফলো করতে হয় যাতে সত্যটা বলা হয় এবং কেও কষ্ট না পায়, কারো অসম্মান না হয়। ভাইদের মাঝে আপনি এখন বড়। রওনক ভাইয়া গ্রুপ করে সবাইকে অ্যাড করেছে। আপনি উৎসাহ দিয়ে, আয়োজন গুলোকে আরো সুন্দর করবেন, তাহলে সবার আরো ভালো লাগবে।দোআ করবেন ভাইয়া।

রওনকঃ ইকবাল ভাই এর মন্তব্য সম্পর্কে আমার উত্তর হচ্ছে, আমি আমার বাবা মা’র কাছ থেকে যা শুনেছি ও পরিবার সম্পর্কে আমার যা জানা তাই লিখেছি আমার লেখায়। অন্য কেউ ভিন্ন ভাবে তা জানতে পারে ও তা প্রকাশ করতে পারে। পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের কাছ থেকেই জানবে আর তাদের সত্যটাই জানা দরকার। সত্যটা হলো তাদের বয়োজেষ্ঠরা যা জানে তা তাদের জানানো। এখানে একে অপরের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করা নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিক। আমরা এখন আর কেউ কারো উপর নির্ভরশীল নই তাই কউকে হুমকি ধমকি দেওয়ার চেষ্টা করাটাও হাস্যকর। পরিবারটা একান্নবর্তী থাকলে কিংবা তাতে পরষ্পরের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পৃক্ততা থাকলে তা হয়তো যৌক্তিক হতো। যা আমরা নির্মান করার চেষ্টা করছি। একে অপরকে দোষারোপ না করে আমাদের উচিত আমরা যা জানি তা সবাইকে জানানো ও আমাদের মধ্যকার দূরত্বটা ও ভুল বুঝাবুঝিগুলোর সমাপ্তি টানা। তারই উদ্দেশ্যে আমাদের প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। এক দিন না এক দিন সব বিরোধের মিমাংশা অবশ্য অবশ্যই হয়ে যাবে। তখন সবাই শুখে শান্তিতে বসবাস করবে একত্রে ও সহ মর্মিতার বন্ধনে।


 
সম্পাদনা ও উন্নয়ন ইতিহাসঃ ৫ফেব্রুয়ারী ২০২৪> ৯ফেব্রুয়ারী২০২৪ 

শরিফ সারেং পরিবারের গল্প-৪ : মনিকার অভিমান প্রসঙ্গ আর আমাদের কথা

 


মনিকাঃ আসসালামু আলাইকুম। শুরুতে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি রওনক কাকা বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছিলেন আমি রিসিভ করতে পারি নাই।আসলে আমি কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে ছিলাম না। ২১তারিখ যে প্রোগ্রাম বাড়িতে আয়োজিত হতে যাচ্ছে সেখানে আমি উপস্থিত হতে পারবো কি না ঠিক জানি না।তবে কাকা আমি খুব কষ্ট পাইছি আমার পরিবারের লোকজনদের থেকে।আমি প্রতিটা অনুষ্ঠানে প্রত্যেককে ধরে ধরে কুশলাদি জানতে চাইতাম কিন্ত কেউ আমার কুশলাদি কখনও জানতে চায় নাই।আমি কে কোথার থেকে এসে কথা বলে গেলাম কেউ খোঁজও রাখে নাই।এমনকি আমার মাকেও কেউ এতটুকুও সন্মান দেখায় নাই।আমাদের পরিবারের সবাই খুব ব্যস্ত কারোও জন্য এতটুকু সময় ব্যয় করতে রাজি না।তাই এমনি এমনি ফোন দিয়ে কথা বলার সময় তাদের নাই কিন্ত কোনো অনুষ্ঠানে দেখা হলেও এমন ব্যবহার করে যেনো আমি নিজেই কথা বলতে যেয়ে বিব্রতবোধ করি।বড়দের কথা না হয় বললাম না তারা যেহেতু আমার মুরব্বি কিন্ত আমার থেকে বয়সে যারা ছোট ওদের ব্যবহার আমাকে পীড়িত করেছে।ওরা তাহলে কী শিক্ষা পেয়েছে।আসলে যোগ্যতা দিয়ে যদি আপন মানুষের কাছে পরিচত হতে হয় তাহলে আমি নাহয় আপনাদের কাছে অপরিচিতই থেকে গেলাম।আর আমি না থাকলে একদিন আমার বাবার নামও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তখন আর মনে করতেও হবে না। 


 রুশুঃ মনিকার লেখাটা পরে সত্যি মনটা খারাপ হয়ে গেল। মুছা ভাইয়ের সাথে আমাদের অনেক অনেক স্মৃতি আল্লাহ্ পাক মুছা ভাইকে বেহেস্ত নসিব করুন । আমাদের গ্রামে প্রতিটা পরিবারের মধ্যে প্রচন্ড ইউনিটি বা একতা আছে । এক ভাইকে কিছু বল্লে অন্য ভাই বোনরা এক হয়ে যায় সবাই একসাথে প্রতিবাদ করে । I repeat । একমাত্র শরিফ সারেং এর পরিবারে নিজেরা ঝগড়া ঝাটি করে এমনকি বাইরে থেকে লোক/গুন্ডা ভাড়া করে আনে ভাইকে মারার জন্য। এটা আমাদের এক ট্রেডিশন। লেখা পড়া এক্টু বেশী হলে যা হয়। এ বাড়িতে মানুষকে পরিমাপ করা হয় প্রথমত কার অর্থ বৈভব বেশী কার জমি জমা বেশি এবং কে ডাক্তার কে ইঞ্জিনিয়ার কে ব্যাঙ্কার । এদের বাইরে বাকি সবাইকে চিহ্নিত করা হয় উদ্বাস্তু হিসেবে । রওনক ভাই চেস্টা করছেন সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার জন্য। দু তিন জন এক্সপার্ট চেস্টা করছেন আর কিছু হোক বা না হোক এটাকে ভাংগতেই হবে ।  ইউনিটি আবার  কি! আসুন আমরা শিক্ষিত নয় সুশিক্ষিত উত্তরাধিকারী রেখে যাই বা উপহার দেই।

রওনকঃ মনিকার সাথে কথা বলবো আমি, ও কেন নিজেকে এত অবহেলিত মনে করবে। আমরা ওর পাসে আছি সব সময়। এতদিন একটু দুরত্ব ছিল, হ্যা আমরা সবাই নিয়মিত সবার খবরাখবর নিতে পারি নাই কিন্তু এখন থেকে আমরা সবাই একে অপরের খবরাখরব নিবো। বাসায় যাবো। বছরে চারটা গেট টু গেদার করার চেষ্টা করবো। তখন আর ও এরকম মনে করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।

মিমিঃ মনিকার লেখাটা পড়লাম। ছোট বেলায় মনিকা আর সৈকতকে অনেক আদর করেছি। ভাইয়া চলে যাওয়ার পরে সত্যিই ওদের খবরাখবর নিতে পারিনি। কেন পারিনি সেটা আমার লেখায় আমি বলেছি। মনিকার মনে যে কষ্ট, সেই ফিলিং টা কম-বেশি আমাদের অনেকের মনেই হয়তো আছে। অনেক দুঃখ-অনেক কষ্টের এমনকি আনন্দের সময়ও আমরা একে অন্যের পাশে থাকিনি। সবাই অনেক আগের গল্প শুনতে-বলতে -সমালোচনা করতে পছন্দ করছে। কিন্তু গত ২০ বছর আমরা কে কেমন করে এই সময়টা পার করলাম সেটা নিয়ে কেও কখনো জানতে চায় না। এটা কিছুটা অদ্ভুত! তবে এটা ভেবে ভাল লাগছে যে মনিকা ওর মনের কথাগুলো এখানে বলতে পেরেছে। মানুষকে আপন না ভাবলে এই কথাগুলো বলা সহজ না। গ্রুপটা বানানো হয়েছে এবং সবাই জয়েন করেছে, এই জন্য ভাল লাগছে। ধন্যবাদ /থ্যাংকস বলতে গেলে আবার মুকুট পরানো হয়, রওনক ভাইয়া রেগে যেতে পারেন, তাই কিছু বললাম না।😄

সময়টা এমন এসে গিয়েছে যে, আমি নিজে থেকে যদি না বলি যে 'আমি বেঁচে আছি' ,আমাকে কেও মনে করবে না।  আগে পাশের মানুষ রাগ করলে বা অভিমান করলে মানুষ প্রানান্তকর চেষ্টা করতো তার রাগ ভাঙাতে। যখন থেকে আমরা স্মার্ট হয়েছি, স্মার্টফোনে এসেছে, সবকিছুর পর মানুষ ফোন এ ব্যাস্ত হয়ে  ডুবে যায়, দিন-দুনিয়া কি হলো, কোথায় গেলো ঐটা নিয়ে আর চিন্তা করে না। এটা আমি গ্লোবাল স্টাডি থেকে বলছি। আমি সাইকোলজি তে মাস্টার্স করতে গিয়ে এই জিনিসগুলো আরো বেশি দেখতে পাচ্ছি। যদিও আমি আইটি ব্যাকগ্রাউনড এর মানুষ। Ux এ কাজ করতে গিয়ে ইউজার-সিকোলোজি নিয়ে কাজ করতে হয়, ব্যাপারগুলো খুব ইন্টারেষ্টিং লেগেছে তাই খুব ইন্টারেস্ট নিয়ে আবার পড়া শুরু করেছি। তো যেটা বলছিলাম, কিছুটা যোগাযোগ নিজের চেষ্টায় রাখতে হবে। সবার রেস্পন্স একই রকম পাওয়া যাবে না , কিন্তু ২-৩ জন ও যদি আমাকে বুঝতে পারে সেটাও কম না, এভাবে চিন্তা করতে হবে। আজকে আমি যদি নিজে থেকে কথা না বলতাম আমাকে কে মনে করতো? ভাবতো সে বিদেশে আছে ভালই আছে হয়তো।

মনিকার বাবা নাই , বড় চাচা নেই , কিন্তু ছোট চাচা ইকবাল ভাইয়া আছেন। হয়তো কিছুটা দূরে থাকেন। কিন্তু ওর মনের অভিমান দূর করতে ওকে আরো সাপোর্ট দিতে পারেন ইকবাল ভাইয়া । বাবা যখন না থাকেন চাচাকে খুব আপন লাগে। চাচাদের মাঝে বাবার ছায়া দেখা যায়। আমাদের যেমন রুহুল কাক্কুকে দেখে লাগতো। কাক্কু আমাদের বাসায় আসতেন, লম্বা সময় নিয়ে কথা বলতেন, খোঁজ-খবর করতেন। আমি লন্ডন থেকে গেলে কেমন আছি, কিভাবে দিন কাটাই, একা একা কি কি কষ্ট করি জানতে চাইতেন।  কালো হয়ে গেলাম না ফর্সা হয়েছে গেলাম সেটা নিয়ে চিন্তিত হয়ে যেতেন। এই ভালোবাসা গুলোর কোনো মূল্য হয় না। কিন্তু এই ভালোবাসা মানুষকে হিল করতে পারে।

আমরাও পাশে থাকবো মনিকা, তুমি বলো। আমি দূরে আছি কিন্তু লুসি, শাহনাজ, মুহাম্মদ আছে দেশে । ভাইয়ারা আছে। তুমি জনাবা। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ চাইলে তোমার এরকম আর লাগবে না। যেকোনো কিছু ভাঙা তো খুব সহজ, কিন্তু এক করা কঠিন। তাই সবাই সবাইকে এক করার চেষ্টা করবে আশা করি, দোআ করি সবার জন্য। ২১ ফেব্রুয়ারী তে সবাই এক সঙ্গে আনন্দ করো, মনিকা, তুমি ও যায় , ভাল লাগবে আশা করি।


রওনক মিমিকেঃ আমি ওকে বলছি যখন ইচ্ছা সেটা রাত ২ টা ৩ টা কিংবা যে কোন সময় আমাকে ফোন করতে যেন হেজিটেট না করে। আমি রেসপন্ড করবো বা পাসে থাকবো। ও যেন নিজেকে অবহেলিত আর না মনে করে। ভাবিকেও একই কথা বলছি।

এবার আমি রওনক আমার কিছু কথা যোগ করবো এই আলোচনাটার জন্য। একটা বড় গাছের অনেক ডাল পালা থাকে। যখন কোন একটা ডাল আহত হয় তখন সেই ডালের কান্ডের অংশটা শক্ত হাতে তাকে রক্ষা করে, এই প্রাকৃতিক শিক্ষা থেকে মিমির কথা ঠিক আছে, সব থেকে বেশি সাপোর্ট আসার দরকার ইকবাল ভাই এর পরিবারের কাছ থেকে, কারন ওই বড় পরিবারে তিনিই একমাত্র নিকটতম সারভাইবার। মনিকার কথা আমাদের অন্তরকে আহত করেছে, ওর প্রতি দায়িত্ববোধ অনুভব করেছি আমরা।

সম্পাদনা ও উন্নয়ন ইতিহাসঃ  ৪ফেব্রুয়ারী২০২৪ > ৯ফেব্রুয়ারী২০২৪>

 

শরিফ সারেং পরিবারের গল্প-৩ আমাদের পরিবারের এনথ্রপলজিকাল বিশ্লেষণ ও সমাজবিদ্যার আলোকে সংঘের গুরুত্ব

 

নিম্নোক্ত বক্তব্যটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত ধারণা, কাউকে বড় কিংবা ছোট করার উদ্দেশ্যে এই বিশ্লেষণ করা হয় নাই বরং প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানের চেষ্টাতেই তা করা হয়েছে। কার কাছে অহেতুক কিংবা বিরক্তিকর মনে হতেও পারে তবে আমার কাছে এই বিশ্লেষণের গুরুত্ব আছে আর তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সকলের মনোভাবে একটা সমতা কিংবা সমঝতা আনা যেতে পারে। এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করার কিছুই নেই কারণ এটা আমার নিজস্ব দৃষ্টি ভঙ্গি, অন্য কেউ হয়তো অন্য ভাবেও এই বিষযটা ব্যাখ্যা করতে পারে তবে তাকে আমার যুক্তি খন্ডায়ে তা করতে হতে পারে।  

২৫জানুয়ারী২০২৪> আমাদের পরিবারের এনথ্রপলজিকাল বিশ্লেষণ বা এনালিসিস। তিনটি ধারার ও তাদের মিশ্র ধারাগুলো যা আমি সনাক্ত করতে পেরেছি। এই তিন ধারার মধ্যেই মূলত কনফ্লিক্ট হয়, তাই ধারা তিনটি সনাক্ত করতে পারলে হয়তো আমরা কনফ্লিক্ট এড়ায়ে যেতে পারবো বলে আমার ধারণা। যেহেতু এনথ্রপলজি বলছি তাই মানষ্য প্রকৃতিটা আগে বুঝতে হবে। বুঝার সুবিধার্থে বিশ্বের ৭০০ কোটি মানুষকে মৌলিক তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়ে থাকে ১) ককেশিয়ান (ফ্যাকাসে সাদা ও লম্বা, উঁচা নাক) [হোয়াইট পিপল] ২) নিগ্রয়েড (কালো ও কোঁকড়া চুলের) [ব্ল্যাক পিপল] ৩) মঙ্গোলিয়ান (চাইনিজ পিপল বা নাক বোচা বেটে খাট এশিয়ান পিপল)[ইয়োলো পিপল] এই তিন ধারার মধ্যে মিশ্রিত হয়ে হয়েছে কালারড পিপল, যেমন বাংলাদেশিরা বার মিশালি কালারড পিপল। বাঙ্গালীরা ১২ মিশালি বলে এদের মধ্যে মতপার্থক্যও অনেক বেশি যা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতারও মূল কারণ বলে মনে করেন এনথ্রপলজিস্টরা। আমি এনথ্রপলজিস্ট নই তাই আমার জ্ঞানের স্বল্পতা আছে, তার পরও কিছুটা বুঝি কারণ আমার ছাত্র জীবনে সমাজবিদ্যা আর ইতিহাস ছিল, এনথ্রপলজির সাথে ইতিহাস আর সমাজবিদ্যার যোগসূত্র আছে আর তা থেকেই বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করবো।

বঙ্গদেশে বা আদি বঙ্গীয় সমাজে দ্রাবিড় বা অনার্যরা ছিল যাদের প্রকৃষ্ট উদাহরণ শ্রীলঙ্কান মানুষেরা। রামায়ণে এদের রাক্ষস জাতি বলা হতো, দেখতে তারা নিগ্রয়েডদের মত হলেও পুরপুরি তা নয়, বহু আগে কোন ভাবে নিগ্রয়েডদের সাথে এদের মিশ্রণ হয়ে থাকতে পারে। এই দ্রাবিড়দের সমাজে ইরাক, ইরান, আফগানিস্তান থেকে বা ইউরাল পার্বত্য এলাকা থেকে আর্য বা এরিয়ানরা এসে মিশতে শুরু করে, তারা সাথে করে নিয়ে আসে জরথুস্ত বাদ (বৃদ্ধ বা হলুদ উটের আরোহীর প্রবর্তিত ইরানী ধর্ম মত)  সংস্কৃত ও বেদ সমূহ (সনাতন বা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আদি পুস্তকাদি) । পূর্বে দ্রাবিড়দের মধ্যে যে সনাতন ধর্মমতের বা হিন্দু ধর্মমতের সরস্বতী মূর্তি ছিল তা ছিল কালো বর্ণ কালীর মত, তাকে তারা শ্বেতাঙ্গ রূপ দেয়। এই এরিয়ানরা মূলত ককেশিয়ান বা শ্বেতাঙ্গ মনুষ্য প্রজাতির। তাই প্রথম মিশ্রণটা ঘটে আর্য আর অনার্যদের মধ্যে। এর পরবর্তীতে বঙ্গীয় উপমহাদেশে বৌধ্য যুগে মঙ্গলিয়ানরা আসে আর তার পর মোঘল সম্রায্য, এই মোঘলরাও মঙ্গলিয়ানদেরই বংশ উদ্বুত। তদপরবর্তী আমারা জানি ইংরেজরা আসে সাথে নিয়ে আসে তাদের নিগ্রয়েড দাস দের। এভাবেই আদি দ্রাবিড়দের সাথে ককেশিয়ান, মোঙ্গলিয়ান আর নিগ্রয়েডদের মিশ্রণে বার মেশালি কালারড পিপলে ভরা আমাদের দেশ। রবীন্দ্রনাথও বলেছিলেন এ বিষয়ে যে আমাদের রক্ত নানা ধারার মিশ্রণ রয়েছে।

আমাদের পরিবারে আমি যে তিনটি ধারা সনাক্ত করতে পেরেছি তা হলো ১) এরিয়ান মিক্স ২) আদি মৌলিক দ্রাবিড় ৩) মঙ্গলিয়ান মিক্স। চতুর্থ আরেকটি ধারা সনাক্ত করতে পেরেছি যাকে একক বা দ্বৈত ভাবে কোন ধারায় ফেলা যাচ্ছে না তবে বিক্রমপুরের একটি আদি মিশ্র কিন্তু সতন্ত্র ধারা আছে ওই ধারার সাথে এই ধারার মিল আছে বলে আমার ধারণা। প্রতিটি ধারার দুই তিনজনের নাম আমি উল্লেখ করতে পারবো, একই পরিবারে একাধিক ধারাও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এমেরিকা কিংবা ইউরোপে ককেশিয়ান পরিবারে যেমন নিগ্রয়েড বাচ্চা হতে দেখা যায় না তেমনি নিগ্রয়েড পরিবারেও শ্বেতাঙ্গ বাচ্চা হয় না। মা-বাবা ককেশিয়ান আর নিগ্রয়েড মিক্স হলে তাদের বাচ্চাদেরও সাদা বা কাল যে কোন ভাবেই দেখা যায়।

এই ধারা গুলোর মধ্যে আচরণগত পার্থক্যও থাকে যেহেতু তাদের জেনেটিক সাতন্ত্রতা বিদ্যমান। কেউ হয়তো প্রচুর উদারতা ও মন অনেক বড় কার বা মন অনেক ছোট ও কট্টর ধরনের মানুষিকতা কেউ অত্যন্ত রাগী আর একই সাথে অত্যন্ত অমায়িক প্রকৃতির। চতুর্থ ধারাটি যাকে আমি আদি বিক্রমপুরের ধারা বলছি তাদের মন বড় ও সব বিষয়ে আদি বিক্রমপূইরা ধাঁচ আছে। ধারা গুলোতে কে কে আছে তা বলবো না, এটা যার যার মত বুঝে নিতে হবে। তবে এই ধারা গুলোর মধ্যেই কনফ্লিক্ট হয়। আমরা যদি আমাদের প্রকৃতিটা বুঝতে পারি ও তার ত্রুটিপূর্ণ দিকগুলো শুধরে নিতে পারি তবে আমাদের পরিবারে সংঘর্ষিক মতামতগুলোও কমে আসবে বলে আমি আশা রাখি। সারা পৃথিবীতে এমন কোন পরিবার বা পারিবারিক সংঘ নাই যেখানে সংঘর্ষিক মতামত নেই তবে এর প্রকট প্রভাব অনেক পরিবারে অনেক কম। যে সব পরিবারে সংঘর্ষিক মতামত কম তারাই সংগঠিত হয়ে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়। যে পরিবার গুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাদের মধ্যে সংঘর্ষিক মতামতের প্রভাব এত বেশি কাজ করে যে তা বাইন্ডিং ফোর্সের চেয়ে বিচ্ছন্নকারী ফোর্সকে শক্তিশালী করে দেয় ও পরিবারটি সমাজে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে অন্যদের সাথে মিশে হারায়ে যায়। সে সকল পরিবারের সন্তানেরা তাদের আদি পুরুষদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি থেকে বঞ্চিত হয়।

 

 
৫জানুয়ারী২০২৪> ৪ফেব্রুয়ারী ২০২৪> সমাজবিদ্যার আলোকে সংঘের গুরুত্বঃ আমার অধ্যয়ন পর্বের এক পর্যায়ে সমাজ বিদ্যা ছিল, তখন এক জায়গায় পড়েছিলাম “সমাজ গঠিত হওয়ার পর তার উপর আমরা দেখতে পাই সংঘ সমূহের গুরুত্ববহ প্রভাব সমূহ” পাঠ্য বইয়ে এর পর আর কোন ব্যাখ্যা ছিল না দেখে তখন বুঝতে পারি নাই সংঘের গুরুত্বটা কোথায়। আজ যখন আমি আমার প্রফেশনাল বেচ মেট সোনালী ব্যাংকে ২০০৪ সালে অফিসার আইটি হিসেবে জয়েন কৃতদের সংঘের সভাপতি আর কমনওয়েলথ এক্সিকিউটিভ এমবিএ বা সিম্বা’র এলুমনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি তখন বুঝতে পারি সংঘ সমূহের গুরুত্ব কত বিশাল। এই সব সংঘ গুলো তা রাজনৈতিক হোক বা অরাজনৈতিক হোক সমাজের কনসেনসাস (সাধারণ জনমত) গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে ও প্রেশার গ্রুপ হিসেবেও কাজ করে । সমাজের বিবেক (সাধারণ ভাবে সকলের মেনে নেয়া নৈতিকতার বা ন্যায়-নিতিবোধ সমূহ) ও মূল্যবোধ (কোন কিছুরই নিজস্ব কোন মূল্য নাই যতক্ষণ আমরা তাতে মূল্য আরোপ করি) গঠনে এরাই বিশেষ ভাবে কাজ করে আর সে কারণেই সমাজের নেতৃত্বও এরাই দেয়। একান্নবর্তী পরিবার থেকে যখন বটবৃক্ষের মত বৃহত্তর পরিবারের সৃষ্টি হয় তখন তা এক রকম সংঘের মতই কাজ করে তবে তখনই যখন তারা ঐক্যবধ্য হয়ে সংগঠিত থাকে। বিশ্বের সব পরিবারেই কম বেশি মতপার্থক্য থাকতেই পারে তবে সংঘবদ্ধ পরিবার আমরা তাকেই বলি যেখানে বিরোধের চেয়ে ঐক্যের শক্তিটা বেশি। পারিবারিক সংঘ গুলো অনেক শক্তিশালী তার প্রমাণ পাওয়া যায় আমাদের দেশের ডাইনেস্টি পলিটিক্সে (পরিবার নির্ভর রাজনীতি) তিনটি পরিবার যেমন শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, এরশাদ এই তিনটি পরিবারের বিশাল প্রভাব দেখে। সংঘ গঠনে একটি কাঠামো ও নেতৃত্ব অবশ্য অবশ্য বাধ্যতামূলক আর সমবায় ফান্ড গুলো থেকেও প্রচুর উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড সমাজে সংঘটিত হতে দেয়া যায়। আমার স্কুল ফ্রেন্ড ডাক্তার তমাল লন্ডনে আভিবাসনকৃত সে ওখানকার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ডাক্তার দের নিয়ে একটি সমবায় করছে যাতে দেশের একটা সঞ্চয়পত্র খুলে তার মুনাফা দিয়ে তারা দেশের দরিদ্র ডাক্তার শিক্ষর্থিদের পড়াশুনায় আর্থিক সহযোগিতা করতে পারে। নেতৃত্ব গঠনে একটি আদর্শও দরকার যে আদর্শকে বাস্তবে প্রয়োগ করেন একজন নেতা। বাকিদের অধিকাংশের সমর্থন ছারা সংঘটি বা সংগঠনটি কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। প্রতি সংগঠনেই রাজনীতি আছে মানে দুষ্ট লোকজন থাকেই কিন্তু শুভ শক্তির পক্ষের লোকের চাপে তারা দুরে সরে যায় বা যেতে বাধ্য হয়। যে কোন সংঘ গঠনে কতগুলো পর্যায় আছে, যাকে ফরমিং – স্টরমিং –নরমিং –পারফরমিং –এডজরনিং এই কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়। স্টরমিং আর নরমিং পর্বগুলো সংগঠনের মেনুফেস্টো বা আদর্শ গঠনে ও গঠনতন্ত্র নির্মাণে (মেমোরেন্ডাম অব আনডারস্টেনডিং [MOU] এবং আরটিকেলস অব এসোসিয়েশন [AOA] কিংবা এক কথায় সংবিধান) মূল ভূমিকা রাখে। পর্যায়গুলো ওভারলেপিং হতে পারে। স্টরমিং ও নরমিং একাধিকবার সাইকেল হতে পারে তবে পারফর্মিং টা চলতেই থাকে। এই স্টরমিং ও নরমিং এর ফলেই সংবিধানে সংশোধনী আনার ব্যবস্থা রাখা হয়। এক সময় না এক সময় এডজরনিং তো হবেই। সব কিছুর লাইফ সাইকেলে সমাপ্তি বা উত্থান রেখার পতন তো আছেই। তখন নতুন করে লুপ করে আবার চলমান প্রক্রিয়াকে উঠায়ে আনা হয়। সংঘ গুলো এজিএম (এনুয়াল জেনারেল মিটিং) বা বাৎসরিক পিকনিকের আয়োজন করে পুর প্রক্রিয়াটাকে লুপ করে আবার সূচনা রেখার মত উত্তরণ ঘটায় সাংগঠনিক কার্যক্রমের। রাষ্ট্র যেমন প্রতি ৫ বছর অন্তর নির্বাচন করে সেই একই লুপ সৃষ্টি করে। পারিবারিক সংঘ সমূহের এডজরনিং এত সহজে না হলেও সম্পর্কের বাধন বা বন্ধন গুলো দুর্বল হয়ে যেতে থাকে আর তাকে কাছে নিয়ে আসতে নেতৃস্থানীয় লোকেরা বা ফ্রন্ট লাইনাররা তৎপর হয়। পুনরমিলনীগুলো এখানে লুপের মত কাজ করে। -এইটুকু লেখাকে আপাতত প্রকাশ করলাম আমাদের নিজস্ব গ্রুপে, এই আংশিক লেখাটা একটা বড় লেখার অংশ করার ইচ্ছা আছে অন্য কোন এক সময়।
 

 
লেখাটা পরে আরো আপডেট করবো তবে সময় ও সুযোগ মত। আপাতত যা বল্লাম তা হল, একটা বৃহত্তর পরিবার সংঘের মত কাজ করে আর আমাদের দেশে মিশ্র প্রকৃতির মানুষের কারনে পরিবারগুলোতেও তার প্রতিফলন দেখা যায় যার করনে মানবিক আচরণগত পার্থক্য একই পরিবারের ভিতের দেখতে পাওয়া যায়। যা প্রচুর আন্ত পরিবার কনফ্লিক্ট এর কারণ বলে আমার মনে হয়েছে।

সম্পাদনা ও উন্নয়কালঃ ২৫জানুয়ারী২০২৪>  ৪ফেব্রুয়ারী ২০২৪>  ৯ফেব্রুয়ারী ২০২৪>