Thursday, February 8, 2024

শরিফ সারেং পরিবারের গল্প-৫ পরিবার নিয়ে ইকবাল ভাই এর বক্তব্য ও মিমি আর রওনকের উত্তর

 

ইকবাল ভাইঃ আমাদের পারিবারিক প্লাটফর্মটি শুরু করা হয়েছিল কিছু ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে। আমাদের বাবা-চাচারা পূর্বে যা করেছে তা পরিত্যাগ করে নতুন উদ্যম নিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য ভালো কিছু উদাহরণ রেখে যাওয়ার কথা ছিল। গ্রুপে কিছু নীতিমালা থাকার কথা যেন, কাওকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করা হয় বা রাজনৈতিক আলোচনা গ্রুপে যেন না আসে।

ইদানীং লক্ষ্য করছি কেউ না কেউ ব্যক্তিগত বা পারিবারিক অতীত নিয়ে কথাবার্তা লেখা শুরু করেছে তা খুবই দুঃখজনক।

কয়েকদিন আগে মিমি সারেং বাড়ি গল্পে যা বলেছে তা খুবই ভালো লেগেছে। ওর লেখা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনেক কথা জানতে ও শিখতে পারবে। অপরদিকে রওনকের লেখাটা থেকে পরবর্তী প্রজন্মকে কি শিখবে? কোন কিছু যাচাই-বাছাই না করে এমন বানোয়াট গল্প দিয়ে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে কি শিখাতে চাইছি?

আমাদের মৌছা গ্রামে আমাদের পরিবারের সুনাম অনেক। আমার দাদার নাম রজব আলী কেরানী। দাদার আট ছেলে এক মেয়ে। তাদের নাম যথাক্রমে ১) আবদুল বারেক (বারী), ২)আব্দুল জলিল, ৩) খলিল, ৪)আব্দুর রহিম, ৫) শহিদুল ইসলাম, ৬) আব্দুল আলীম, ৭) মিজানুর রহমান, ৮) রুহুল আমীন। খলিল চাচা মারা যান সবার প্রথম। আমার দাদা একজন কেরানী ছিলেন বিধায় তার আয় ছিল কম, কিন্তু সংসার ছিল বড়। আমার বাবা সবার বড় তাই দাদার সংসারের কিছুটা ভাড় আমার বাবার উপর ন্যাস্ত হয়। আমার বাবা ইন্ট্রান্স পাশের পর কলকাতা চলে যান আয় রোজগারের জন্য। ১৯৬৫ সালে কলকাতায় হিন্দু মুসলমান রায়ট হয়। তখন অনেক মুসলমানদের বাংলাদেশ ফিরে আসেন। আমার বাবাও ফিরে আসেন। কলিকাতা থাকা অবস্থায় অটোমোবাইল সম্পর্কে ভাল জ্ঞান অর্জন করেন। ঢাকার সর্বপ্রথম আধুনিক গাড়ির ওয়ার্কশপ দেন বর্তমান সচিবালয়ের সাথে। সেন্ট্রাল মটর ওয়ার্কস। কিছুদিন ওখানে কাজ করার পর গ্রীনরোড ওমর মোটর ওয়ার্কসপ প্রতিষ্ঠা করেন। তখন পূর্ব পাকিস্তানে আমার বাবার ওয়ার্কশপেই লিফট সিস্টেম কার ওয়াশ ছিল। পাশেই আমাদের বাসা ছিল। আমাদের সাথেই দাদা দাদী আর সব চাচারা থাকতেন।

প্রথমত, আমার বাবা গ্রামের লোকদের খুব ভালোবাসতেন। তাদের সুখ দুঃখে সব সময় পাশে থাকতেন। গ্রামের কারো বিপদে সবার আগে বাবা এগিয়ে যেতেন। এটা আমার চাচাদের অনেকের পছন্দ হতো না। এ নিয়ে বাবার সাথে মতবিরোধের জের ধরেই চাচারা শাশহজাহানপুরে বাসা ভাড়া করে আলাদা হয়ে যান। জলিল কাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডে, রহিম কাকা সুগার মিলে আর শহিদ কাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি নেন। বাকি চাচারা তখনও ছাত্র। আলীম কাকা বুয়েটে, মিজান কাকা ডাক্তারী আর রুহুল কাকা জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করেন।

দ্বিতীয় কথা হলো, অরুণ ভাই আর মুসা ভাই কে সৌদি আরব নিয়ে যাওয়া নিয়ে। আলীম কাকা মারা যাওয়ার ৬/৭ মাস পর আমার বাবা মারা যান। বাবা মারা যাওয়ার পর আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব ভালো ছিল না। একদিন জলিল কাকা আমাদের বাসায় আসেন খোজখবর নিতে। কাকার সাথে হিরার নানার সম্পর্ক ভাল ছিল। কাকার অনুরোধে উনি সৌদি থেকে অরুন ভাইয়ের জন্য ভিসা পাঠান। আর মুসা ভাই সৌদি যান নিজের খরচে। আমি আমার খরচেই প্রথমে কাতার, পরে সৌদি যাই।

আর মিজান কাকা-কাকী সম্পর্কে যা লিখেছে তা বেয়াদবী ছাড়া কিছু নয়। কিছু লেখালেখি করার আগে তা যাচাই বাচাই না করে নিলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও এইসব অসত্যগুলো জেনেই বড় হবে। রওনককে এই নিয়ে আমি বুঝানো চেষ্টা করছি। ও আমার ছেলের কাছেও এই নিয়ে বিচার চাইতে গেসে। ভুল বলতে পারলে, তা খন্ডনের নিয়তও থাকা উচিত।

মিমিঃ আস্সালামালাইকুম ইকবাল ভাইয়া, আপনার লেখাটা পড়লাম। বড়-কাকু খুব বড় মনের মানুষ ছিলেন, একথাটা আমি আব্বু-আম্মু আরো অনেকের কাছ থেকে শুনেছি। আমরা যারা ওই সময়টা ছিলাম না আমাদের জানায় কিছু ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। একই ঘটনা এক এক জনের পয়েন্ট অফ ভিউ আলাদাও হতে পারে। এজন্য বিয়োগ্রাফি জাতীয় লেখা লিখতে গেলে অনেক সচেতন হতে হয়। অনেক লম্বা রুলস ফলো করতে হয় যাতে সত্যটা বলা হয় এবং কেও কষ্ট না পায়, কারো অসম্মান না হয়। ভাইদের মাঝে আপনি এখন বড়। রওনক ভাইয়া গ্রুপ করে সবাইকে অ্যাড করেছে। আপনি উৎসাহ দিয়ে, আয়োজন গুলোকে আরো সুন্দর করবেন, তাহলে সবার আরো ভালো লাগবে।দোআ করবেন ভাইয়া।

রওনকঃ ইকবাল ভাই এর মন্তব্য সম্পর্কে আমার উত্তর হচ্ছে, আমি আমার বাবা মা’র কাছ থেকে যা শুনেছি ও পরিবার সম্পর্কে আমার যা জানা তাই লিখেছি আমার লেখায়। অন্য কেউ ভিন্ন ভাবে তা জানতে পারে ও তা প্রকাশ করতে পারে। পরবর্তী প্রজন্ম আমাদের কাছ থেকেই জানবে আর তাদের সত্যটাই জানা দরকার। সত্যটা হলো তাদের বয়োজেষ্ঠরা যা জানে তা তাদের জানানো। এখানে একে অপরের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করা নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিক। আমরা এখন আর কেউ কারো উপর নির্ভরশীল নই তাই কউকে হুমকি ধমকি দেওয়ার চেষ্টা করাটাও হাস্যকর। পরিবারটা একান্নবর্তী থাকলে কিংবা তাতে পরষ্পরের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পৃক্ততা থাকলে তা হয়তো যৌক্তিক হতো। যা আমরা নির্মান করার চেষ্টা করছি। একে অপরকে দোষারোপ না করে আমাদের উচিত আমরা যা জানি তা সবাইকে জানানো ও আমাদের মধ্যকার দূরত্বটা ও ভুল বুঝাবুঝিগুলোর সমাপ্তি টানা। তারই উদ্দেশ্যে আমাদের প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। এক দিন না এক দিন সব বিরোধের মিমাংশা অবশ্য অবশ্যই হয়ে যাবে। তখন সবাই শুখে শান্তিতে বসবাস করবে একত্রে ও সহ মর্মিতার বন্ধনে।


 
সম্পাদনা ও উন্নয়ন ইতিহাসঃ ৫ফেব্রুয়ারী ২০২৪> ৯ফেব্রুয়ারী২০২৪ 

No comments:

Post a Comment