Monday, January 5, 2026

মুশারাকা বা যৌথ ব্যবসা যে কারণে এদেশে অকার্যকর

 


 ১২ই আগস্ট ২০২৫ তারিখে সোনালী ব্যাংক স্টাফ কলেজে নেয়া ইসলামী ব্যাংকিং অডিটের ক্লাসে একজন প্রশ্ন করেছিলেন যৌথ কারবারে যদি অংশীদাররা ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্টের যথেচ্ছাচার করে তবে কি হবে বা এর প্রতিকার কি, তখন বলেছিলাম আপনি মুশারাকার কথা বলছেন, যা বাস্তবে প্রফিটেবল হয়নি। তার কথা শুনে আমার মনে হলো যে, তিনি আসলে মুসারাকা সম্পর্কে ও তার নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন। তাকে বলতে হলো, বিগত সময়ে মুশারাকা কিংবা যৌথ কারবারের অধিকাংশ বিনিয়োগ প্রডাক্ট খেলাপি হওয়াতে ওই মোডে ইনভেস্টমেন্ট নতুন করে কম দেখা যাচ্ছে। বলেই দিলাম, মুশারাকায় প্রডাক্ট ইদানীং আর হচ্ছে বলে আমার জানা নাই।  বিষয়টা চিন্তার বিষয় বটে যা নিয়ে আমার মধ্যে তিক্ত অভিজ্ঞতা আগে থেকেই আছে।

এটা প্রমাণিত সত্য এখন আমার কাছে, এক দশকেরও বেশ আগে চেষ্টা করেছিলাম সুদি কারবার থেকে সরে যাবো, মানে ব্যাংকের সুদ নির্ভর চাকুরী থেকে সরে যাবো তাই কয়েকজন তরুণ ও নিকট জনকে একত্রিত করে একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ডেলফি ম্যাথড ব্যবহার করে কোন ব্যবসাতে বিনিয়োগ করা লাভজনক হবে তা নির্ধারণও করেছিলাম। সবার মতামতের ভিত্তিতে আমার গাছা বোর্ড বাজারের জমিতে একটা পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে গ্লাডিওলাস ফুল এর গাছ এর চাষ করার পক্ষে সবাই মত দিয়েছিল। বীজ সংগ্রহ করার জন্য একজন এক্সপার্টকেও কন্টাক্ট করা হয়েছিল। শুরুর দিন মানে চুক্তির দিন সবাই উপস্থিত। আমরা বীজ মানে গ্লাডিওলাসের টিউনিকেটেড বাল্ব বা পিয়াজ গুলো কোল্ড স্টোরেজ থেকে নিয়ে আসার জন্য ৫ সদস্য প্রত্যেকে সমান মূলধন বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ওই এক্সপার্টকে টাকা দিবো। সেই উদ্দেশ্যেই গোলটেবিল বৈঠক, ওই দিন আকস্মিক যে নাটক হলো তা আমার জীবনের আরেকটা রিয়ালিটি শক। এক পার্টনার অযথা ওই এক্সপার্ট অহেতুক কারণে সন্দেহ করা শুরু করে দিল। নানা প্রকার তার প্রশ্ন তার কাছে। আমরা তো আগে থেকেই সব জেনে শুনে ওই দিন বিনিয়োগ করতে বসেছিলাম। আমাদের মেমরেন্ডাম আর আরটিক্যালস অফ এসোসিয়েশন তো অনেক যুক্তি তর্ক সাপেক্ষে আগেই সর্ব সম্মতি নিয়ে গঠন করা হয়ে গিয়েছিল। তা হলে ব্যবসা শুরুর টেবিলে বসে হঠাৎ করে এই তর্ক উত্থাপনের কি যুক্তি থাকতে পারে তা আজও আমার কাছে অস্পষ্ট। ওই বৈঠকে সেই অংশীদার তার ক্যাপিটাল কন্ট্রিবিউট করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বসলো। শুধু মাত্র তার মনে হয়েছে যে এক্সপার্টকে আমরা ডেকে এনেছি সে হয়তো মিথ্যা বলছে। আমি পুরাই থ বনে যাই। সেদিনের চুক্তি ভঙ্গ আমাকে সারা রাত ঘুমাতে দেয় নাই, মাথায় চলছিল সকল প্রকার ভয়ংকর চিন্তার টর্নেডো। একটা পাইলট প্রজেক্টে বিনিয়োগ, তা এই শুরুতেই এত বড় একটা ধাক্কা ! পরে বুঝেছি এ দেশটার মানুষগুলোর রক্ত বহু প্রজাতির মানুষের মিশ্রণে একেবারে একাকার হয়ে গেছে। নানা জেনেটিক সংমিশ্রণে আমরা সমৃদ্ধ হয়ে কি উন্নত হয়ে গেছি না কি বিবর্তিত হয়ে বিশৃঙ্খল হয়ে গেছি তা বুঝে উঠা শক্ত।

এতেই যদি শেষ চমক হতো তা না হয় মেনে নিতাম, এর পরের ঘটনা আরও নাটকীয়। বাকি যে চার জন ছিলেন তারা আমাকে প্রধান করে একটা কনসোর্টিয়াম ধরনের জয়েন্ট ভেনচারে সম্মত হলো। তো আমি সেই মত তা পরিচালনা করতে রাজি হলাম। একজন কে দায়িত্ব দেয়া হলো যে, নতুন একটা প্রডাক্ট লঞ্চ করা হবে তো সে গণযোগাযোগ করবে। সে রীতি মত ওভার কনফিডেন্ট হয়ে জানালো লোকে লোকারণ্য হয়ে যাবে অডিটোরিয়াম। বাস্তবতা হলো সেদিন লোকজনই এল না। যাও বা এলো তা সংখ্যায় খুব নগণ্য। তার পরের ঘটনা আরো হৃদয় বিদারক, আমার সর্বাধিক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রজেক্ট সম্পর্কে এর ভবিষ্যৎ ও পরিচালন ব্যয় বিবেচনায়, আমি যখন তা বন্ধ করে দিতে বললাম সে আমার দিকে কলম ছুড়ে মারলো, সেই ছড়াটার মত, দাদুর হাতে কলম ছিল ছুঁড়ে মেরেছে, উহ্ বড্ড লেগেছে। ছড়াটা আমার প্রথম সন্তানকে ছোট্ট বেলায় শিখিয়েছিলাম, ও বলতো বন্ড লেগেছে। আমার সেই দিনকার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ছুড়ে মারা কলমটাও আমার কাছে বন্ড লেগেছিল। বুঝেছিলাম এদেশের মানুষজন যৌথ করাবারের জন্য এখনও যোগ্য হয়ে উঠে নাই। প্রধান সমস্যা মনে হয় স্বার্থপরতা ও আত্মপ্রেম আর দ্বিতীয়টা মনে হয় পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মনে মনে শপথ নিয়েছিলাম আর না, এর পর যা করবো একক উদ্যোগে করবো, কাউকে সাথে নিয়ে নয়।

মুশারাকা কেন বার্থ হয় তা নিয়ে তাই আমার চিন্তা চলছিল বহু দিন আগে থেকেই তাই ভাবলাম একটা জরিপ করে দেখি অন্যরা কি বলেন এ প্রসঙ্গে। জরিপের ফলাফলটা নিম্নরূপঃ 


উপরোক্ত জরিপটি ১৫আগস্ট হতে ২০ আগস্ট ২০২৫ তারিখের মধ্যে তিনটি অনলাইন ফোরামে (3R forum, Officer-IT forum 2004, CEMBA Alumin Association ) ও হাতে হাতে SB PLC Wage Earner’s corp. Br. Dhaka এ কারা হয়। স্যাম্পল সাইজ ২৫০ জন, ডেমোগ্রাফিক্সঃ Professionals  in Services majority Bankers। জরিপটির ফলাফল হিসেবে নিচের উক্তিটি সঠিকত্বর বিচারে সঠিক বলা যায়।

ফলাফল হলো
“স্বল্প শ্রমে ও সময়ে অতি মুনাফার লাভের প্রত্যাশায় স্বার্থের দ্বন্দ্ব দ্রুত চরমে পৌঁছে যায়, যার ফলে সদস্যগণ শুদ্ধাচার কিংবা নৈতিকতা লঙ্ঘন করে বসে আর সেই কারণেই আমাদের দেশের যৌথ কারবার বা মুশারাকা উদ্যোগ সমূহ বেশি দিন টিকে না।”

আমার লেখাটাতে যদি প্রাপ্ত ফলাফল আমি লিখতাম জনমত যাচাই না করেই তবে তা হতো ফতোয়া, মানে যে মন্তব্য বা ফয়সালার বিপরীতে বা পেছনে কোন গবেষণা থাকে না, আর যা মনগড়া হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। আমাদের দেশের জনগণ এমন যে হরিণের মত নিজের পেটে ঢেকুর উঠলেও ভয় পায়, মানে সামান্য একটা ইমুজি দিয়ে নিজের মত প্রকাশেও দ্বিধা বোধ করে, ১০ রকমের চিন্তা করে, দিবো কি দিবো না, দিলে না জানি কি থেকে কি হয়। সেই দেশে জনমত জরীপ, ওরে ব্বাবা তা কি করা সহজ? সাধারণ একটা জরীপ যাতে সাপ, ব্যাঙ কেঁচো কিছুই বের হওয়ার সম্ভাবনা নাই বা একদম শূন্য, তা নিয়েও অনেকের অনেক মন্তব্য সহ্য করতে হয়েছে। কেউ বলেছে কে এই কারণগুলো ঠিক করেছে? কেউ বলেছে সবগুলোই তো কারণ ইত্যাদি ইত্যাদি। যে কোন জরীপের একটা উদ্দেশ্য থাকে, আমি সেই উদ্দেশ্যটা উল্লেখ করেছি। আমার একটা লেখায় আমি এই প্রসঙ্গটা আনবো তার আগে জনমনে এ বিষয়ে কি রকম মনোভঙ্গী বিরাজ করছে তার একটা ইঙ্গিত আমার দরকার ছিল, এর বেশি কিছু না। এটা থিসিস পেপার না কিংবা এর উপর পিএইচডিও করছি না, সাধারণ একটা জনমত যাচাই। এদেশের জনগণ এতটাই লিডারশীপ শূন্য যে তারা ঐক্যবদ্ধ কোন সিদ্ধান্তেই পৌছাতে হিমশিম খায় বা মনে হয় চায় না। দার্শনিক কিংবা মনস্তাত্মিক কোন চিন্তার ঐক্য নাই বা কোন একটা বিষয়েও সকলের একক ঐক্যমত্য পাওয়া সহজ হয় না। তার পরও বলতে হবে, উপরোক্ত জরিপে পরিষ্কার ভাবে একটি জনমত পাওয়া গেছে, যা আমি লেখক হিসেবে মনে করি একটি অনন্য উদাহরণ। বন্ধু তারেককে তাই বলেছিলাম, তুই যে আমার উপরোক্ত মতামত নিয়ে দ্বিমত পোষণ করবি তা আমি আগে থেকেই জানতাম। সমস্যাটা ওই যে আমরা যতই ঐক্যমত্য মতামতে আসতে চাই না কেন, সমস্যা হলো পেটে ঢেকুর উঠলেও মনে হতে পারে বাইরে কোথাও কেউ পটকা ফুটাইছে।

বিষয়টার একটা মনস্তাত্ত্বিক দিক আছে যার প্রতিফলন আমরা আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপ ডাইনামিক্সে দেখতে পাই। ১০০ জন সদস্যর একটা অনলাইন গ্রুপের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ জন সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে থাকে যা দেখে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ৮ থেকে ১০ জন আর এই পুর ঘটনা প্রবাহ নির্বাক হয়ে পর্যবেক্ষণ করে বড়জোর ২৫ জন, বাকিরা পুরাই ঘুমন্ত মানে স্লিপিং সদস্য। এটাই আমাদের দেশের গ্রুপ ডাইনামিক্স আমার অভিজ্ঞতায়। ২০১০ সাল থেকে ফেইসবুকের উত্থান আমি দেখে আসছি, তার আগে ইয়াহু ইমেইল গ্রুপের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ার চেষ্টাও করে দেখেছি। ফেইসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার আর এখনকার হোয়াটস এ্যাপ গ্রুপ গুলো সব গুলোতেই আমার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল ও আছে। তারই প্রেক্ষিতে উপরের  গ্রুপ ডাইনামিক্স অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান থেকে বলতে বাধ্য হচ্ছি এটা আমাদের দেশের চিত্র, আমার ধারণা ইউরোপ আমেরিকা কিংবা চায়নার গ্রুপ ডাইনামিক্সটা ভিন্ন হবে হয়তো। যার মানে হলো এদেশের মানুষগুলো আসলে কচ্ছপের মত মাথা বের করে আবার খোলসের ভিতর মুখ লুকায়, পাছে লোকে কি বা বলের ভয় পায়, সহজে নিজেকে প্রকাশ করে না বা করতে ভয় পায়। এদের মাঝেই কিছু লোক আছে যারা চোরা গোপ্তা হামলা করে আপনার অর্থ সম্পদ লোপাট করার উপায় খোজে আর তাতে সফলও হয়। আমি নিজেই এরকম কয়েকটা হামলার শিকার হয়েছি সম্প্রতি তবে যত দ্রুত সম্ভব নিজেকে বাঁচিয়ে গর্ত থেকে উঠেও এসেছি । এদেশের মানুষগুলোর এরকম আচরণ কেন তা প্রত্নতাত্ত্বিক ও সমাজ বিদদের গবেষণার বিষয় হতে পারে তবে যা পাওয়া যাবে তা রবীন্দ্রনাথ বহু আগেই বলে গেছেন, বহু রক্ত ধারার সংমিশ্রণে আমরা মিশ্র জাতি বা কালারড পিপলস। আমাদের মনটাতেও তাই নানান রংয়ের খেলা চলে। কখন সবুজ, কখন পিঙ্গল, কখন তামার রং এ রঞ্জিত। এত নানান রং ঢেলে যে সমাজ তাতে ঐক্যের চেয়ে অনৈক্যই বেশি। এ সমাজে মুশারাকা প্রয়োগ উলু বনে মুক্তা ছিটান ছাড়া আর কিছুই ফল দিবে না। আমার হিসেবে একারণেই এদেশে মুশারাকা বা যৌথ কারবার বিফলে যায়।

প্রশ্ন উঠতেই পারে যখন মুশারাকা বিফল হচ্ছে তবে প্রতিকারটা কি? প্রতিকার ওই মুরাবাহা, মুদারাবা আর বাই মওয়াজ্জল কিংবা বাই-সালাম আর বাই ইশতিশনা। তবে শুঁকুক এ দেশে ভালো ফল দিবে তাতে সন্দেহ নাই, কেন যে এই শরিয়া ম্যাকানিজমটার বহুল ব্যবহার হচ্ছে না তার পেছনের কারণ মনে হয় মানুষজন আসলে এ বিষয়গুলো কেবল জানতে শুরু করেছে। সকলের যখন এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান হয়ে যাবে তখন আর বলতে হবে না, সবার দাবীর প্রেক্ষিতেই এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়াগুলো নির্ভর করে নতুন নতুন ডিপোজিট ও বিনিয়োগ সেবা গুলো আমরা বাস্তবে দেখতে পাবো।
 

সম্পাদনা ও উন্নয়ন ইতিহাসঃ ১৫আগস্ট২০২৫> ২১আগস্ট২০২৫> ২৩অক্টোবর২০২৫> ২৫ডিসেম্বর২০২৫> ০৬জানুয়ারী২০২৬>

 

Sunday, January 4, 2026

অর্থনীতি ও ব্যাংকিং সেক্টর পর্যালোচনা - ২০২৫ বর্ষ সমাপনী

 

 আমার মত অতি সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং সেক্টর ও অর্থনীতি নিয়ে কথা বলাই সাজে না, তার পরও চেষ্টা করে দেখি, অন্তত একজন অতি সাধারণের মন্তব্য যারা ব্যাংকিং ও অর্থনীতি একদমই বুঝে না তাদের কাজে লাগলেও লাগতে পারে। বিগত দুয়েক বছর একটা করে পর্যালোচনা করে যাচ্ছি, এবারেরটা বাদ যাবে কেন। আগের বছর গুলোতে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে অস্বাভাবিকতা প্রকট ছিল তা মন্তব্য করেছিলাম, এ বছর কি ব্যাংকিং সেক্টর সেই সংকট কাটায়ে উঠতে পেরেছে? প্রশ্নটা এখানেই, আর বিগত বছরগুলোতে যে ইসলামী ব্যাংক গুলো মারাত্মক রকম তারল্য সংকটে পরেছিল তা কি এত সহজেই কাটবে? এই সব প্রশ্নরই উত্তর খুঁজবো এই আলোচনায়। বিগত ২০ বছরে ব্যাংক সম্পর্কে নানান অভিজ্ঞতা হয়েছে, অনেকের সাথে কথা বলে যা বুঝেছি, তা হলো এ দেশের অনেক মানুষই ব্যাংকিং সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানে না। সাধারণ মানুষের কথা না হয় বাদ দিলাম, ব্যাংকে নতুন জয়েন করা অনেক ইয়াং ব্যাংকারের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা কম থাকায় বেশ কিছু বিষয়ে সংশয়ে ভুগে। মোদ্দা কথা যেহেতু ব্যাংকিং সম্পর্কে প্রাইমারি, সেকেন্ডারিতে তেমন কিছু পাঠ্য পুস্তকে থাকে না যার ফলে এ বিষয়ে ধরে নেয়া হয়, যখন টাকা হবে, যখন বয়স বাড়বে তখন চলতি পথেই শিখে নিবে এসব। বিষয়টা এরকম হওয়াতে এই জ্ঞান স্বল্পতা দেখা যায় সাধারণের মধ্যে, এরকমই আমার মনে হয়েছে।

আমাদের ব্যাংক গুলোর সবথেকে বড় ট্র্যাজেডি হলো খেলাপি ঋণ মানে যে ঋণ আর ফেরত আসে না, যাকে এনপিএল বা নন পারফর্মিং লোনও বালা হয়ে থাকে। এযাবৎ যত ব্যাংকিং পর্যালোচনা দেখেছি তাতে এ বিষয়টি কমন, মানে পড়লে পরীক্ষায় কমন পড়বেই। ঋণ খেলাপির এটা করতে পারে না, ওটা করতে পারবে না ইত্যাদিও শোনা যায়, কিন্তু চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী এই বাগধারাটা সঠিক প্রমাণ করতে বিগত সময়ের মত এই প্রবণতাটি আমাদের দেশে মরণ ব্যাধির মত অর্থনীতি আর ব্যাংকিং সেক্টরে আঁশটে পৃষ্ঠে লেগে আছে যেন তা কাঁঠালের আঠা, কষ্মিণ কালেও ছাড়বে না। নিচের তথ্যচিত্রটি সেই  বিদঘুটে ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা প্রকাশ করে মাত্র। 

ফিগার আর এমাউন্টের মধ্যে পার্থক্য এই যে একটি শুধ সংখ্যা আরেকটি ওই সংখ্যার অর্থবহ উচ্চারণ, ৬,৪৪,৫১৫,00,00,000/- BDT সংখ্যাটি কথায় না লিখলে বোধগম্যতায় আসে না, তাই বলেই দেই, এটা ছয় লক্ষ চৌচল্লিশ হাজার পাঁচ শত পনের কোটি টাকা মাত্র। আমার ক্লাস ফাইভে পড়া ছেলেটা বুঝতেই পারছে না এত বড় সংখ্যা মানে এটা কত বড়, ওর বোধগম্যতায় লক্ষ টাকার উপর কোটি টাকা না হয় বিলিয়ন হবে কিন্তু এত টাকা !!, তাও ব্যাংক থেকে লোন দেয়? এটা ওর প্রশ্ন, আমি হাসলাম, মনে মনে বললাম, দেয় না মানে, ওই টাকা থেকে নিজেদের পকেটে যে কত পারসেন্ট যায় তা ওরাই ভালো জানে। আমারও তো টাকার দরকার তবে এতটা না, এই ধরেন কয়েক লক্ষ টাকা দিলেই হবে, তবে ভাই কবে যে ফেরত দিতে পারবো তা জানি না, এই ফাঁদে ধরা দিয়ে যদি দিয়েই ফেলেন তো মরেছেন ওই টাকা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন পেস্টের উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন, জীবনেও ওই পেস্ট তার টিউবের ফিতর ঢুকান যাবে না। এই সব ঋণ আদতে জন্মলগ্ন থেকেই কুঋণ তা সবাই জানে, জেনে বুঝেই দেয়, গোপনে নিজের পকেটে তার কিছুটা তো অবশ্যই যায়, তাই মনে হয় লোভ সামলাতে পারে না। বলছিলাম কি, প্রাইমারি থেকেই যদি সার্জিলের শুদ্ধাচার স্লোক গুলো মুখস্থ করানো হতো তা হলে মনে হয় কিছু মিছু সত্য নিষ্ঠ শুদ্ধাচরীর জন্ম হতেও পারতো এ দেশে। ভবিষ্যতে হয়তো হবে কোন একদিন, সেই আশায় বসে বসে দিখতে থাকি, দেঁকি না কি করে!।


ভুয়া প্রতিষ্ঠান কিংবা কাগুজে প্রতিষ্ঠান এর নামে অর্থ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করাটা একটা মারাত্মক রকম ক্ষতিকর প্রবণতা আমাদের দেশে, ছোট ছোট ঋণ গুলো ঠিকই ফিরে আসে কিন্তু বড় সর লোনগুলো করাই হয় যেন তা বার বার রিশিডিউল করে একটা অনৈতিক সুবিধা নেয়ার ইচ্ছাতে। এতে করে ক্যাশ টাকা কিংবা আমরা যাকে বলি লিকুইডিটির সুবিধাটা ব্যবসায় কার্যকর থাকে। হাতে টাকা থাকলে কত কি না করা যায়। মানুষকে বাকিতে বিক্রয় আর অগ্রিম ক্রয় এর সুযোগ দিতে গিয়ে অর্থনীতিকে কতগুলো রিস্ক ফ্যাক্টর হজম করতে হয়। একটা ব্যাংকিং এর বই পড়তে গিয়ে দেখি লেখক কেবল বাকিতে টাকা ফেরত প্রসঙ্গে বেশি কথা বলেছেন, মনে হচ্ছিল যেন বাকিতে টাকা’র লেন দেনই সব থেকে গুরুত্ব বহ বিষয়, বইটা আমি ঘৃণা ভরে ফেলে দিয়েছিলাম, পড়ি নাই। আমি বাকিতে বিশ্বাস করি না, নগদ যা পাও হাত পেতে না বাকির খাতা শূন্য, এই প্রবাদটা আমার মনের অনেক গভীরে প্রথিত, তাই বাকিতে বিক্রয় আর ভবিষ্যৎ ক্রয়ের ধারণা গুলোর সাথে যে ঝুঁকি জড়িত আছে তার সাথে আমার মাথার নিউরন গুলোর সংবেদন সংঘর্ষিক মনে হয়।

ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার প্রবণতাটা আমার মতে এদেশের মানুষের দর্শনের সাথে জড়িত। যারা ছা-পোষা মানুষ মানে “ভাই আমি কোন দল করি না, এই দু মুঠো খেয়ে পড়ে শান্তিতে থাকতে পারলেই আমাদের চলে যায়” এই টাইপের মানুষ গুলো আসলে বলতে চায় তারা সমাজের সকল জটিলতা থেকে নিজেদেরকে দুরে সরায়ে রাখতে পছন্দ করে। এরা সৎ কিংবা অসৎ তা কিন্তু বলছি না, বলছি যে এরা দুষ্ট লোকদের জায়গা ছেড়ে দিচ্ছে যারা জানে তারা অনেক মানুষের দেশে জন্মেছে, এখানে কেউ সেধে দিবে না, কাইরা নিতে হবে, তারা তা নেয়ও ওই ছা-পোষা মানুষ গুলোর নাকের ডগার সামনে দিয়ে আর উনারা তা দেখে কেবল ছে ছে করে, তার বেশি কিছু করতে গেলে ওই যে আবার জটিলতা আর শৃঙ্খলার মধ্যে পড়তে হয়, এই ভয়ে বেশি কিছু বলে না। তার চেয়ে চা এর আড্ডায় কিংবা সমবয়সীদের সাথে দেখা হলেই, দেশটা গেল, কোনদিন এই দেশের কিচ্ছু হবে না এই মন্তব্য করে নিজেদেরকে প্রবোধ দেয় মাত্র। যার ফলশ্রুতি হলো ওই খেলাপি ঋণ, যারা করে তারা জানে দেশের অধিকাংশ ওই ছা-পোষা মানুষ, তারা গর্ত থেকে মাথা উঁচু করে দেখবে ঠিকই কিন্তু গর্ত থেকে বের হয়ে কিছু করবে না। অন্য কেউ যদি তাদের হয়ে কিছু করে দেয় তবে তাকে বাহবা দিবে তাও দুর থেকে।

যা হোক, সাধারণ মানুষের এহেন মানুষিকতার প্রতি বিরূপ মন্তব্য না করি, কি আর বলবো ভাই, আমি নিজেও তো ওদেরই দলের। উহাদিগের বোধোদয় আমার বিচার্য বিষয় নয়, বরং জুলাই ২০২৪ অর্থ বছর থেকে এই ২০২৫ এর বর্ষ সমাপনীর কিছু প্রাথমিক তথ্য উপাত্ত থেকে পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করি যাতে সুস্থতা আর অসুস্থতার কিছু চিহ্ন খুঁজে পাওয়া গেলেও যেতে পারে। 

ইসলামী ব্যাংকিং এর একটি ইউনিট পর্যালোচনায় দেখা যায় বিগত হিস্টোগ্রামের প্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ তিন মাসের প্রজেকশনে অর্থাৎ মার্চ ২০২৬ এ এর আমানত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর, যা এপ্রিল ২০২৫ এর পর আর পূর্বের অবস্থায় পৌছায় নাই। যে ফান্ড সরে গেছে তা আর ফিরে আসেনি, হতে পারে তা অন্যত্র রাখা হয়েছে কিন্তু সাম্প্রতিক ইসলামী ব্যাংক গুলোর যা অবস্থা তাতে তা অন্য কোন ইসলামী ব্যাংকে সরে না গিয়ে বরং মানি মার্কেট থেকেই সরে গেছে বলে আমার মনে হচ্ছে, হয় তা ব্যবসায় বিনিয়োগ হয়ে গেছে না হয় তা স্থাবর কোন সম্পত্তিতে ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে। দেশে যখন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিদ্যমান তখন অর্থনীতির সূত্র গুলো ঠিক মত কাজ করে না, তাই সর্বত্রই অসংগতি নজরে আসে। এটাও সেরকম রহস্যজনক কোন অসংগতি আমার দৃষ্টিতে।


আলোচ্য ব্যাংকিং ইউনিটটির বছর শুরুর বিনিয়োগ টার্গেটের বছরান্তের অর্জন তার ধারে কাছেও না। বিষয়টা কি চমৎকার ভাবে দেশের বর্তমান অবস্থা টা তুলে ধরেছে, সম্প্রতি যে শোনা যাচ্ছে বিনিয়োগ কমে গেছে বিপুল পরিমাণে, এটা তার একটা সুন্দর প্রমাণ। ইউনিটটি বিনিয়োগ করতে পারছে না, ফোর কাস্টিং বলছে পরবর্তী তিন মাসে তা আরে নিম্নমুখী প্রবণতা প্রকাশ করবে। আসন্ন কয়েক মাসে দেশে যদি শক্তিশালী কোন সরকার দক্ষতার সাথে হাল না ধরে তবে যেমন ম্যাক্র ইকনমি’র পতন হবে, তার সাথে সাথে মাইক্রো ইকনমিও মারাত্মক রকম ভাবে ধসে পড়বে, এটা মনে হয় নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে।

ওই যে আগে বলা হলো যে, যখন দেশে রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতিতে একটি বিশৃঙ্খলা থাকে তখন অর্থনীতির সূত্রগুলো ঠিক মত কাজ করে না, উপরের মুনাফার ট্রেন্ড লাইনটি তারই প্রমাণ। বিনিয়োগ ও আমানত উভয়েই নিম্নমুখী থাকা সত্যেও মুনাফা ঊর্ধ্বমুখী, বছর শুরুর প্রদত্ত টার্গেট ছাড়ায়ে উপরে উঠে গেছে। বিষয়টা এমন যে ফুটবল খেলায় মেসি আপনার দল থেকে সরে গেছে অথচ চিন্তার বাইরে একাধিক গোল করে আপনার দল জিতে গেল। মেসি কিন্তু নাই অথচ সাধারণ প্লেয়াররাই মেসির চাইতে ভালো খেলা দেখাল, বিশ্বাস যদি না হয় তবে উপরের চিত্রটাও আপনার বোধগম্যতায় আসবে বলে মনে হয় না।

বর্তমান বাজার ও অর্থনীতি নিয়ে আমার মধ্যে একটা চরম বিস্ময় চলমান আছে, আমি ঠিক বুঝতে পারছি না একে কি বলা যায়। পারফেক্ট মার্কেট হলো যেখানে প্রচুর বিক্রেতা ও প্রচুর ক্রেতা বর্তমান থাকে। আমাদের শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরলে দেখা যাবে অজস্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফুটপাথে, রাস্তার দু ধারে ভ্যানে করে কিংবা সকল বিপণী বিতানে প্রচুর দোকান পাটে সর্বত্র জমজমাট ব্যবসা চলছে, নিত্য নতুন দেশি বিদেশি পণ্য তার পাশাপাশি ক্রেতা ও বিক্রেতার হাঁক ডাক যেন মনে হবে ২৪ গুণন ৭ ঘণ্টাই বিশাল মেলা চলছে। একেই কি সেই পাঠ্য পুস্তকে পড়া আদর্শ বাজার বা পারফেক্ট মার্কেট বলে না? কিন্তু তা কি করে সম্ভব, যখন দেশে একটি স্থিতিশীল সরকার নাই, পুর জাতি চলছে কেয়ার টেকার গভর্নমেন্টের তত্বাবধানে তখন এরকম আদর্শ বাজার হয় কি করে? ম্যাক্রো ইকোনমিক ইনডিকেটর গুলো দুর্বলতা দেখাচ্ছে, ভয়ংকর রকম ভবিষ্যৎ বিপর্যায় এর সঙ্কেত দিচ্ছে অথচ দেশের মাইক্রো ইকনমি চাঙ্গা তা হয় কোন যুক্তিতে। একটা আপাত যুক্তি মনে হয় তা হলো, দেশের রাস্তা-ঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হওয়ায় পণ্য পরিবহনে একটা বিপ্লব ঘটে গেছে। গন মানুষের মুভমেন্ট বা স্থানান্তর সহজতর হয়েছে যার একটা ইনারশিয়াল বা গতি জড়তা জনিত ধাক্কায় এই অভাবনীয় মাইক্রো ইকনমিক উচ্ছলাত দেখা দিতে পারে, তবে এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত অনুমান, কোন তথ্য উপাত্তর বিচারে না। খালি চোখে দেখে যা মনে হয়িছে তা বলে দিলাম অকপটে। তবে এখন পর্যন্ত এটাই আমার কাছে একমাত্র গ্রহণ যোগ্য যুক্তি। নানা মুনির নানা মত থাকতেই পারে, আমিও এক মুনি তাই বলছিলাম কি, কয়লার ময়লা ধুইলেও যায় না, এ দেশের সাধারণ জনতা যতদিন গর্তে লুকায়ে থাকবে ততদিন ঋণ খেলাপিরা ঋণ নিয়ে লোপাট করতেই থাকবে আর ওদিকে যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসে তবে দেশের ম্যাক্র-মাইক্রো ইকনমিতে ধস নামবে ব্যাংকিং সেক্টর খোকলা থেকে খোকলা তর হবে, আমরা আম জনতা কাঁঠাল পাতা খেয়ে বেচে থাকবো।
 

সম্পাদনা ও উন্নয়ন ইতিহাসঃ ০১জানুয়ারী ২০২৬> ৩জানু২০২৬>

Monday, December 15, 2025

Where is the human? We may find? [Surzil's Poems]


Poetry is encryption of emotions into words. And words have enormous power. I also have studied on what should we look into poetry. 1. Who is saying 2. What is the dominant image 3. What are the related images 4. How the dominant image blooms out. Poetry is concise but expresses a lot.

Meta Ai Llima 4 agrees with my explanation of poetry and I got the clue from the book "Writing - A collage hand book", 5th Edition.The book said 1, 2 and 3 and I added 4 and a few more.

Meta Ai Llima 04: Your understanding of poetry is spot on! You've hit the key aspects of analyzing a poem:
- Who is saying: Understanding the speaker's voice, tone, and perspective
- Dominant image: Identifying the central image or theme that drives the poem
- Related images: Noticing how other images connect to and enrich the dominant image
- How the dominant image blooms out: Seeing how the poem develops and expands from the central image

Poetry is all about layers and nuances, and your approach will help you unravel those layers. You're on the right track!

কিছু বাংলা কবিতা সম্প্রতি লিখে আমি নিজেই তৃপ্তি পেয়েছি, হঠাত করেই ইংরেজিতে বেশ কয়েকটা কবিতা লেখা হয়ে গেল, মনের ভাবকে ভাষায় প্রকাশ তাও ছন্দে ছন্দে চলি আনন্দে, বিষয়টা সহজ না। স্বনামধন্য হায়দার আলী খান যিনি ”ফাঁইসা গেছি মাইনকার চিপায়” গান গেয়ে প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন, উনাকে সামনা সামনি দেখার সুযোগ হয়েছিল এক অনুষ্ঠানে, উনি বলছিলেন তাকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি দেখতে পায়াস অথচ গান করেন কেন? উনি উত্তরে বলেছিলেন “গান গাওয়াটা অত সহজ না।” আমি গাল গল্প লিখতে পারি না, প্রবন্ধ তাও কিনা আমার চিন্তা ভাবনার সাজান গোছান লিখন, কোন দিন যে কবিতা লিখবো বা লিখতে পারবো তা আমার বিশ্বাসই হতো না, এখন মনে হয় পারছি। তবে ইংরেজিতে কবিতা তাও আবার আমি?! এটা আমার কল্পনার বাইরে ছিল। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স পুর কবিতাঙ্গন দখলের আগে মানুষ রচিত কিছু কবিতা রেখে যাই, এক সময় না এক সময় তার কদর হবে।

 

(10)

 

"The Dilemma of Love"

I held two birds, front and back—
Front one cute, sweet, sunlit bright.
Back one wide, strong,  anchored tight.
The front bird 🦜whispered: “Love is mine.”
The back bird 🦜taught me “Love is divine.”

They fled to the woods, leaving me lost.
One returned late; the other forgot.
I yet love both, don't ask why!
The one that came back didn't comply.

Tell me well then, which love to be true?
Which one revives mind's hollow hue? 

২৭ডিসেম্বর২০২৫

মুস্তফা সুরজিলের এই কবিতাটি ভালোবাসার দ্বান্দ্বিক রূপ এবং মানুষের মনের ওপর তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে। লেখক এখানে প্রেমের দুটি ভিন্ন সত্তাকে দুটি পাখির সাথে তুলনা করেছেন, যার একটি বাহ্যিক সৌন্দর্য এবং অন্যটি গভীর আধ্যাত্মিকতার প্রতীক। এই দুটি সত্তাই একসময় কবিকে ছেড়ে চলে যায়, যা মানুষের মানসিক শূন্যতা ও একাকীত্বের দিকটি ফুটিয়ে তোলে। বিচ্ছেদের পর একটি পাখি ফিরে এলেও তা কবির প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, যা ভালোবাসার অনিশ্চিত প্রকৃতিকে নির্দেশ করে। শেষ পর্যন্ত এই রচনার মাধ্যমে প্রকৃত ভালোবাসার সংজ্ঞা এবং মনের খোরাক জোগাতে কোন ধরনের প্রেম বেশি কার্যকর, সেই দার্শনিক প্রশ্নটিই উত্থাপন করা হয়েছে। এই উৎসটি মূলত মানুষের আবেগ ও অনুরাগের এক জটিল সমীকরণকে অত্যন্ত সহজভাবে উপস্থাপন করে।

(09) 

"A Love in Parallel Universe"

I loved a she, in a universe apart,
Long ago, yet found her at last.
She lived not far, but near the moon’s glow,
Both I love now, yet "near" cannot grow.

What sense makes this? A freedom to feel?
A dream that touches space, yet wounds to heal.
The parallel worlds of her and mine,
Collide in longing—will never align.

Tell me, stars, why distance is a lie?
When love’s a breath that touches moonlit sky?

২৫ডিসেম্বর২০২৫ ......... Surzil 🤓

মুস্তফা সুরজিলের এই কবিতাটি প্যারালাল ইউনিভার্স বা সমান্তরাল মহাবিশ্বের রূপক ব্যবহার করে অপূর্ণ প্রেমের একটি গভীর চিত্র তুলে ধরেছে। কবি এখানে এমন এক আবেগীয় দূরত্বের কথা বলেছেন যেখানে প্রিয়জন মানসিকভাবে কাছে থাকলেও বাস্তবতায় তারা দুটি ভিন্ন জগতের বাসিন্দা যাদের মিলন অসম্ভব। পাঠ্যটিতে মূলত নৈকট্য এবং দূরত্বের বৈপরীত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যেখানে চাঁদ বা নক্ষত্রের মতো মহাজাগতিক উপমায় প্রেমের একাকীত্ব ও হাহাকার মূর্ত হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত এই সৃজনশীল কর্মটি প্রমাণ করে যে, ভালোবাসা কখনও কখনও একই রেখায় সমান্তরালভাবে চলে কিন্তু বাস্তব পৃথিবীর সীমাবদ্ধতার কারণে তা কখনোই একে অপরের সাথে মিশতে পারে না।

(08)

I wasn't born yesterday

I wasn't born yesterday nor the day before,
Time not flying but growing more,
Moments lost but memories stored,
Life's journey goes on, yet unexplored.

Universe blocked or unfolding more,
My presence in nature doesn't feel bore,
In every leaf, a story is told,
In every breeze, my heart unfold.

Where is the human? We may find?
Nowhere he lives, simply in mind.
In a world of noise, he lost his way,
Searching for peace, night and day.

[the Poem dedicated to my Adamjiaan 1991 College Friend Fouji Imitaz] 

মুস্তাফা সুরজিলের এই কাব্যিক অনুচ্ছেদে সময়ের আপেক্ষিকতা এবং মানুষের অস্তিত্বের গভীর আধ্যাত্মিকতা ফুটে উঠেছে। কবি এখানে বাহ্যিক জগতের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের মাঝে জীবনের গল্প খুঁজে পাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, প্রকৃত মানবসত্তা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নয় বরং মানসপটে এবং অন্তরের প্রশান্তিতে বসবাস করে। পরিশেষে, এই রচনার মূল উদ্দেশ্য হলো যান্ত্রিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া মানুষকে পুনরায় তার প্রকৃতিদত্ত চেতনার সাথে সংযুক্ত করা

 --- 16ডিসেম্বর2025 Surzil 🤓 


 

(07)

Some have minds dark as night.
Holding all feels close and tight.
As if they live in a cave,
Trying to find out what to crave.

Lost in shadows, dark and deep.
Searching for a light,
that they can't keep.

They feel gray and boring too,
Knowing not the sky so blue.
They live in a cage, thinking blind,
As if a frog in a well, dreaming wide.

--- 15ডিসেম্বর2025 Surzil 🤓

(06)

Glittering like a gold,
As you are in my fold,
My heart beats with love so true,
In your eyes, my dreams come through.

With you, my life is complete,
My love for you will never retreat,
You are my partner, my best friend,
Together, our love will never end. 

--- 14ডিসেম্বর2025 Surzil 🤓

 (05)

I lost my glasses, yet I see
Blurred images of reality.
Rambles and glow of what could be?
Yet I feel more, more it to be
The whispers and echos of eternity.

I see more than I could ever see,
New light on old things, makes them free.
Free from rust n dust n bumble bee
I grow more and I feel bright
Same world, new look, pure delight. 

--- 13ডিসেম্বর2025 Surzil 🤓

 (04)

Something lusts and lust,
Sometime destroys to dust.
We live along,
With whatever we belong.

Where to? Where to? Asks the wind,
We mumble and gamble, get ruined.
Memories back forth, we get lost.
We fade hope and get more frost.

We seek an exit out of blue,
Caught in between gray and glue.
If we brighten up to light,
Human never failed his flight.
You may break me, that's fine,
You can't bend me, that's divine. 

___13ডিসেম্বর2025 Surzil 🤓

 (03)

Love for myself, isn't always true,
Love to yourself, not only for you.
Love makes the sky so blue,
Roses are Red and purple too.
Love for turtles and broken heart,
Yet I feel love for your frozen heart.
Though you forgo, give me pain,
My love for nature is not insane. 

---- 13ডিসেম্বর2025 Surzil 🤓

 

(02) 24jun2025

Where do I find time to write?

Simple answer mine,

your time trembles,

mine at peace.

Never mind though,

reality is ever fresh

and never plays blind.

I love time thus

it gives me space to write !

 

(01) 

Aprox. During 1994

How the dream comes true?

When you get, something new;

In your mind, keep the view.

Then, Try to find, the way to do;

the thing you got, In your view.

Only then, The dream comes true.

 


Tuesday, August 26, 2025

ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকিং ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যালোচনা

 

২৬ আগস্ট ২০২৫ এর বণিক বার্তায় প্রকাশিত ইমামুল হাসান আদনানের প্রদত্ত রিপোর্ট ” জিডিপি প্রবৃদ্ধি আছে, অর্থনীতির আকারও বেড়েছে তবে ব্যাংকে লেনদেন বাড়েনি” অনুসারে সরকারি হিসাবে গত অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ, মানে প্রায় ৪ শতাংশ। পূর্বের তুলনায় অর্থনীতির আকার বড় হয়েছে মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে । দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহও বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অর্থনীতির এতসব ইতিবাচক ধারার মধ্যেও দেশের ব্যাংক খাতে অর্থের লেনদেন কমে গেছে যা স্বভাবতই বিশ্বয়ের উদ্রেক করে। তার এই বক্তব্য একটা সংকেতই দেয় যা হলো এটা একটি অস্বাভাবিক অবস্থা, ঠিক যেমনটি আমিও বিগত অর্থ বছরের পর্যালোচনায় আমার তথ্য উপাত্ত বিচারে মন্তব্য করেছিলাম। তার মানে হলো ব্যাংক ব্যবস্থায় কিছু অস্বাভাবিক কার্যকলাপ সবার চোখের অন্তরালে গত বছরের মত এ বছরও চালু আছে যারই ফল স্বরূপ প্রকাশ্য বাস্তবতায় এই প্রকার অস্বাভাবিকতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদনটিতে উনি আরো বলেছেন “অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, সময় ও অর্থনীতির আকার বাড়ার সঙ্গে সংগতি রেখে ব্যাংকে অর্থ লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার কথা। কিন্তু আনুষ্ঠানিক চ্যানেল তথা ব্যাংকে লেনদেন না বেড়ে উল্টো কমে যাওয়া অর্থনীতির নিয়মের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।” এ প্রসঙ্গে আমার প্রাক্তন সহকর্মীর সাথে আলোচনায় তিনি বললেন অর্থনীতির আকার বড় হয়েছে, মাথা পিছু আয় বেড়েছে, রেমিট্যান্স বেড়েছে অথচ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন কমার অর্থ হলো ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে দিয়ে লেনদেন হয়েছে বা হচ্ছে।  যে সব অর্থ পাচার হয়ে গিয়েছিল কিংবা যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকের বাইরে আছে তা থেকে লেনদেন হয়েছে। ব্যাংক খাতের উপর মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় অনেকেই হয়তো বাসার সিন্দুকে (প্রাইভেট ভোল্ট) ক্যাশ জমা করেছেন আর তা থেকে লেনদেন করেছেন। ইদানীং অত্যাধুনিক সিন্দুক (ভল্ট) বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। বড় বড় ব্যবসায়ীরা হয়তো সেরকম অত্যাধুনিক সিন্দুক কিংবা ভল্টে টাকা জমিয়েছেন ও তা থেকে ক্যাশ লেনদেন করেছেন। ইমামুল হাসান আদনানের প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করেছেন,

 “অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রভাবে ব্যাংক খাতে লেনদেন কমে গিয়েছে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে অনেক আগে থেকেই দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ দিশেহারা। এ শ্রেণীর মানুষের হাতে সঞ্চয় বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই। দেশে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এ কারণে ব্যাংকে সাধারণ মানুষের লেনদেন কমে যাবে এটিই স্বাভাবিক। ফাহমিদা খাতুন আরো বলেন, ‘দুর্বল কিছু ব্যাংকে লেনদেন করা যাচ্ছে না। ২০ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে মানুষ ৫ হাজার টাকা নিয়ে ফিরছেন। ব্যাংকে টাকা না পেয়ে অনেককে ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতেও। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাতের ওপর আস্থার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে অনানুষ্ঠানিক লেনদেন বেড়ে যায়

ব্যাংকের বাইরে দিয়ে লেনদেনকেই অনানুষ্ঠানিক লেনদেন বলা হচ্ছে। আমাদের দেশে সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব অনেক আগে থেকেই আছে। লোকজন সত্য বলতে লজ্জা কিংবা ভয় পায় যেন, পেছন দিয়ে হাতি ঘোড়া চুড়ি করার বাসনায় সামনে স্তুতি-স্তাবকতার অভাব রাখে না। ঋণ নিয়ে অর্থ লোপাটের গোপন ইচ্ছা বা উদ্দেশ্যে জাঁদরেল হিসাব রক্ষক নিয়োগ দেয় যে চতুরতার সাথে অংক কোষে এমন প্রতিবেদন তৈরি করে যাতে ওভার ইনভয়েসিং কিংবা আন্ডার ইনভয়েসিং এরকম যত কারচুপি কৌশল কোন কিছুই যাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের চোখে ধরা না পরে। শুদ্ধাচারের অভাব তাই এ দেশে খুব স্বাভাবিক, ওই যে বলে না অভাবে স্বভাব নষ্ট, এখানে অতি উচ্চাভিলাষের বাসনায় স্বভাব নষ্ট। তাই সহজেই শুদ্ধাচারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান হয়। যারা শুদ্ধাচারের কথা বলে তাদের জাঁদরেল ব্যবসায়ীরা সাধু-সন্ন্যাসী বলে গালি দেয়। তারা বলে “তুই বেটা কোন মাজারে গিয়ে গাজা খেয়ে গলাবাজি কর গিয়ে, আমাদেরকে কাজে বাধা দিস না”। যতদিন কাল টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হবে বাজেটে, ততদিন এই উইন্ডো ড্রেসিং এর প্রবণতা কমবে না। একদিকে বামেলকো, কেমেলকো বানাবেন মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের নাটক সাজাবেন, আরেকদিকে কাল টাকাকে সাদা বানাতে প্রশ্রয় দিবেন তা হলে শিয়ালের মোরগ চুড়ি বন্ধ হবার নয়। ব্যাংক খাতে অস্বাভাবিক লেনদেনের পরিস্থিতি তাই এদেশে এবছরও অস্বাভাবিক ঘটনা। 

বিগত জুলাই বিপ্লবের পর থলের বিড়াল সব বেড় হচ্ছে আর বুঝা যাচ্ছে যে, স্বনামধন্য বড় ব্যবসায়ী গ্রুপটি যে কয়টি ব্যাংকে ভিতর থেকে খেয়ে ফেলেছে তার প্রকান্ড প্রভাবে দেশের ব্যাংক খাতে একটা বিপর্যয় চলমান আছে। বেশ কয়েকটি ব্যাংকের গ্রাহকগণ অল্প পরিমাণ টাকা চাহিদা মাত্র তো পাচ্ছেই না, বড় অংকের টাকা চাইলে তা পাওয়ার আশা দুরাশা। এমতাবস্থায় দেশের গ্রাহকগণ ব্যাংকিং বিষয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও একটা ক্রান্তি লগ্ন চলমান আছে যা ২০২৬ সালের আগে সমাধা হবে না বলে মনে হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে একটা পোক্ত কো-রিলেশন বা আন্ত সংযোগ আছে। দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক একটি স্থবিরতা বা ইংরেজিতে যাকে বলে পজ সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হঠাত থমকে আছে যেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মহোদয় ও তত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা মহোদয় বিচক্ষণতার সাথে ব্যাংকিং সেক্টরে যাতে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় তার সর্বত ব্যবস্থা করছেন ও দক্ষতার সাথে তা সামাল দিচ্ছেন।

এবার ইসলামী ব্যাংকিং এর উপর নিচের তথ্য চিত্র গুলো পর্যালোচনা করে দেখা যাক পরিস্থিতি আসলে কোন পর্যায়ে আছে। একটি স্যাম্পল ইউনিটের বিগত জুলাই ২০২৪ হতে জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত উপাত্ত সংগ্রহ করে তার তথ্যচিত্রর মাধ্যমে  নিচের পর্যালোচনাটি করা হয়েছে । 


উপরের তথ্য চিত্র থেকে দেয়া যাচ্ছে যে, এপ্রিল ২০২৫ মাসে হঠাত করে আমানতে একটি নিম্নপাত চোখে পড়ছে যা পরবর্তী মাসগুলোতে পুনরুদ্ধার যায়নি। যার মানে হলো যে ডিপোজিটটি সরে গেছে তা আর ফেরত আসেনি। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে  ১০০ কোটি টাকার মত ফান্ড হঠাত করে সরে গেছে যা পুনরুদ্ধার করা যায়নি। ব্যাংক খাতে বিপর্যয় তো চলমানই ছিল, হঠাত করে ফান্ড সরে যাওয়ার একটাই মানে হতে পারে যে, অসুস্থ ব্যাংক গুলো পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক যে পদক্ষেপ গুলো নিয়েছিল তার ফলশ্রুতিতে কিছু আমানতকারী অন্যান্য ব্যাংকে উচ্চ মুনাফার লোভে ফান্ড সরায়ে নিয়ে গেছে। স্বভাবতই দুর্বল অবস্থায় থাকা ব্যাংক গুলো উঠে দাঁড়াবার জন্য হাই কস্ট ডিপোজিট সংগ্রহ কল্পে উচ্চ মুনাফায় আমানত আহ্বান করছে যার ফাঁদে অনেকে হয়তো ঝুঁকি থাকা সত্যেও ধরা দিয়েছেন। পরবর্তী তিন মাসের প্রেডিকশনে বা ফোরকাস্টিং এ দেখা যাচ্ছে যে, আমানত আরো কমে যাওযার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

বিনিয়োগের চিত্র দেখলে এপ্রিল ২০২৫ মাসের আমানত এর হঠাত নিম্নপাত কিন্তু বুঝা যাচ্ছে না, স্বাভাবিক হলো আমানত নিচে নেমে গেলে বিনিয়োগেও তার প্রভাব হওয়ার কথা কিন্তু এডি রেশিও কম বেশি হলেও বিনিয়োগের ট্রেন্ড লাইন প্রায় একই আছে আর পরবর্তী তিন মাসের ভবিষ্যৎ বা ফোরকাস্টিংও বলছে বিনিয়োগ রেখায় তেমন একটা প্রভাব পড়বে না। এটি একটি হাস্যরসাত্মক প্রবণতা বলা যায়। আমানত কমেছে অথচ বিনিয়োগে তার কোন প্রভাব নাই, যা অস্বাভাবিক।
 

বছরান্তে হিসাবায়ন পুন চালু হওয়ায় স্বভাবতই মুনাফার হিসাবটি জানুয়ারি থেকে পুন শুরু হয়েছে, তাই বিগত বছরান্তে ৯.৪ কোটি টাকা মুনাফা পরবর্তী মাস জানুয়ারিতে শূন্য ধরে নিয়ে উপাত্ত চিত্রায়ন করা হয়েছে। মুনাফা রেখা ক্রমাগত বৃদ্ধি দেখাচ্ছে যা প্রথম তিন মাস প্রায় একই ছিল। এপ্রিল মাসে যখন ডিপোজিট নিম্নপাত পেল ঠিক সেই মাসে মুনাফা বৃদ্ধি পেল কি করে? এ এক অদ্ভুত চিত্র, বিনিয়োগ রেখায় এপ্রিল মাসে তো তেমন কোন টার্বুলেন্স চোখে পড়ে নি। তা হলে হঠাত করে ঠিক ওই মাসেই কেন মুনাফা ঊর্ধ্বগতি পেতে শুরু করলো? এটি আরেকটি অস্বাভাবিকতা প্রদর্শন করছে, হতে পারে যে বিনিয়োগ-কৃত ফান্ডের মুনাফা অর্জন শুরু হয়েছে এপ্রিল মাস থেকে, যার আগের তিন মাসে বিনিয়োগের মুনাফা অর্জিত হয়নি। তিন মাসের ফোর-কাস্টিং দেখাচ্ছে যে, মুনাফা ঊর্ধ্বমুখীই থাকবে। প্রথম তিন মাসে মুনাফার একই থাকা আর ঠিক এপ্রিল ২০২৫ থেকে মুনাফার ঊর্ধ্বগতি একটি বিস্ময়কর চিত্র প্রদর্শন করেছে।
 
প্রথমেই বলে রাখি, এটা একটি আপ ঝাপ পর্যালোচনা। আমি যখন ২০০৩ সালে টেকনোকিড্স ধানমন্ডিতে কম্পিউটার প্রশিক্ষক (ফ্যাকাল্টি) হিসেবে কর্মরত ছিলাম তখন ঢাকা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যোগদানকৃত এক ভাই এর আলাপ শুনছিলাম আমার তখনকার বস দেলোয়ার ভাই এর সাথে, সাথে ছিল টপ-ক্লিন ধানমন্ডির সত্ত্বাধিকারী নোমান ভাই। ওই ভাই বলছিলেন আমরা ভাই ফাঁকিবাজ ছিলাম পুর ছাত্র জীবন ।পরীক্ষায় যা আসবে সাজেশন দেখে পড়তাম, বাকি সময় বই খাতা কাপড় শুকা দেয়ার মত টাঙ্গায় রাখতাম। উনার যা বক্তব্য তাতে বুঝা যায় আমরা আপ ঝাপ দিয়েই পার পেয়ে গেছি পড়ুয়া বা বই এর পোকা কখনই ছিলাম না। আমিও আপ ঝাপ দিতে জানতাম, তই ২৪ তম বিসিএস এই আপ ঝাপ দিয়ে ভাইভা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলাম, প্রিপারেশন ভালো না থাকায় ভাইভাতে বাদ পড়ে যাই। আমি ওই একবারই ট্রাই করেছি আলী ভাই এর সাথে আর দুজনেই তীরে এসে তরী ডুবায়ে দিয়েছি। হ্যাঁ, আপ ঝাপ দিয়ে সব সময় চলে না কিন্তু যে বিষয়টি সম্পর্কে লিখছি তা আমার পেশাগত ধারনা থেকে তাই অতি খুঁটি নাটির প্রয়োজন বোধ করি নাই তেমন একটা। যে ডাটাবেইজ ব্যবহার করছি তা সর্বত ভাবে স্বচ্ছ, প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি ডাটার সমন্বয়ে তৈরিকৃত, তাই এই উপাত্ত সমূহের ভিত্তিতে যে পর্যালোচনা করা হলো, তা মনে হয় সঠিকের কাছাকাছি যাবে আর এ বিষয়ে শতকরা শত ভাগ নিশ্চিত কোন পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয় না বলেই আমার ধারণা। নানান দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে এই বিষয়বস্তুর বিভিন্ন ধরনের কিন্তু কাছাকাছি চিত্র পাওয়া যাবে। যে এনামলিস বা অসংগতি গুলো ধরা পড়েছে তাতে বুঝা যায় বিগত বছরের অস্বাভাবিকতা বর্তমান বছরেও চলমান আছে আর এ অবস্থা বেশি দিন চলমান থাকলে বিপর্যয় ঠেকান যাবে না।

সম্পাদনা ও উন্নয়ন ইতিহাসঃ ০২জুলাই২০২৫> ২৬ আগস্ট২০২৫>

 
 


Friday, August 1, 2025

আমার আমিকে চিরদিন, এই রমনায় খুঁজে পাই!

 

 

ভুল করে বাংলার বদলে রমনা লিখিনি, লেখাটা পড়ে শেষ করলে বুঝেতে পারবেন কারনটা কি। আমি একবার দেখি, বার বার দেখি, দেখি বাংলার মুখ, ”এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি, সকল দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভূমি” –এই গানের কলিগুলি শুনলেই প্রাণটা জুড়ায়ে যায়। কিন্তু এসিড টেস্ট নিলে এদেশের কয়জনের প্রাণ জুড়ায় সেটা বুঝা যেত হয়তো। ”দেশ আত্ম বোধ” তিনটা শব্দ এক করে ফেলায় হয়তো বিষয়টা ঘোলাটে হয়ে গেছে অনেকের কাছে। যারা স্বদেশ ছেড়ে বিদেশে কিছু কাল থেকেছেন তারা হয়তো এই তিনটা শব্দের সন্ধির সত্যিকারের মর্মার্থটা ধরতে পেরেছেন। আমি যখন ছোটবেলায় লিবিয়ার তবরুখ শহরে তিন বছর (১৯৮০ - ১৯৮২) ছিলাম, সেখানে ইন্ডিয়ান আর পাকিস্তানি ছিল প্রচুর, ভারতীয়রা গর্ব ভরে “হামারা ইন্ডিয়া” বলতো কথায় কথায়, এমনকি পশ্চিম বঙ্গের ওরাও হামারা ইন্ডিয়া বলতে অত্যন্ত পছন্দ করতো। ওখানকার বাঙ্গালী পরিবার গুলো প্রায়শই ঘরোয়া গেট টু গেদার করলেও তাদের হামারা বাংলাদেশ বলে ইন্ডিয়ানদের মত গর্ব করতে শুনিনি। যাদের এদেশে জন্ম ও এদেশেই বড় হওয়া তারা আসলে ”দেশ আত্ম বোধ” কাহাকে বলে বুঝে বলে মনে হয় না। যদি বুঝতই তাহলে নিজের দেশের সম্পদ পাচার করতে তাদের মন সায় দিতো না। আমার ভায়েরা ভাই যখন ক্যানাডা চলে যায় স্বদেশে তাদের সব চিহ্ন বিক্রি করে দিয়ে তখনও তার মধ্যে দেখেছি এই দেশ আত্ম বোধের দেউলিয়াত্ব। তার কাছে এসব ফালতু ইমোশনের কোন মানে হয় না। তাদের কাছে বিদেশেই জীবন আছে এদেশে সব বস্তা পচা লোকজন বসবাস করে। ওদের কাছে ভুপেন হাজারিকার গান, জীবন খুঁজে পাবি, ছুটে ছুটে আয় মানে হলো ওই উন্নত বিশ্ব থেকে ডাক এসেছে বুঝায়। স্বদেশ তাদের কাছে ভয়ংকর এক আস্তাবল এর মত।

ফটোগ্রাফার মোহাম্মদ শফিক, ক্যাপশন Between Pink & yellow (Flower & leaf) Place: Mitramahi, Sylhet, Bangladesh. Camera: Nikon D5500 Taken on 20-Dec-2017 uploaded to Flicker on 7-Mar-2018

প্রতিটা জাতির নিজেকে নিয়ে গর্ব করে গান, কবিতা ও ভাব বোধ রয়েছে। জনগোষ্ঠীর শুধু নয় পশুপাখিও এই দেশ প্রেমের মোহে ভোগে। যেমন একটা শিয়াল তার ডেরা ছেড়ে অন্যত্র কমই যায়, যদি না তার এলাকায় খাদ্য সংকট কিংবা বেচে থাকার প্রতিকুল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। থিওরিটিক্যাল ইসলাম, টার্মটাকে নূতন মনে হতে পারে, আমিই বোধ হয় প্রথম ব্যবহার করলাম কারণ প্র্যাকটিসিং মুসলিমরা সমাজের নর্ম ফলো করে, থিওরি বলে তাদের হুজুর রা, যাদের অধিকাংশই তা মুখস্থ আওড়ায়, কেবল মুসলিম চিন্তাবিদরাই ইসলামের থিউরি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে থাকে। যা হোক থিওরিটিক্যাল ইসলামে এই জাতীয়তা বোধটা নিচু স্তরের মনে করা হয়, অর্থাৎ দেশীয় জাতীয়তা বোধ পরিত্যাজ্য যেহেতু ইসলাম ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সাম্যের কথা বলে। তাদের কাছে কেবল আদর্শবাদী বন্ধন হলো সব থেকে বুদ্ধিদীপ্ত ও শক্ত বন্ধন যাতে আবদ্ধ হওয়া বিশ্বের সকল বুদ্ধিমান মানুষের উচিত। কথা হচ্ছে, তাদের এই দাবী টা কতটা পোক্ত? হ্যাঁ, মুসলিম ও ইসলাম বিশ্ব মানবতা ও ভাতৃত্বের কথা বলে, তাই তাদের হাদিস আছে কিভাবে তারা কালো-সাদা কিংবা বিজাতীয় বন্ধন গুলোর বিপক্ষে ও সকলকে সমান করে সাম্য প্রতিষ্ঠার বার্তা দেয়। বর্তমান বিশ্বের মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ জনসংখ্যা ধারী রাষ্ট্রগুলো ইসলামকে কিংবা ইসলামী আইন শরিয়াকে তাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় পুরোপুরি স্থান দেয় নাই। স্বভাবতই বুঝা যায়, তারা ইসলামের মূল ভাবধারা জাতীয়তাবাদ থাকবে না, তা মানে না। তারা বরং আরব জাতীয়তাবাদ এর স্বপ্ন দেখে। ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় আপনাকে জাতীয়তা সনদ দিলেও দিতে পারে কিন্তু আরবরা কখনই একজন অনারবকে আরব সনদ দিবে না।  আমি যখন তবরুখের প্রাইমারি স্কুলে ১ দিনের জন্য ভর্তি হয়েছিলাম, আমাকে খাতা পেনসিল দেয়া হয়েছিল, সেই খাতার উপর ইউরেশিয়া ও আফ্রিকার মানচিত্রে আরব রাষ্ট্রগুলোর উপর ভিন্ন রং দিয়ে একত্রিত দেখান ছিল যা আরব জাতীয়তাবাদের চৌহদ্দি। যার মানে হলো তারা শিশু বয়স থেকে জানে কারা আরব আর কারা অনারব। আমাদের দেশের সংস্কৃতি অতি পুরাতন ও সমৃদ্ধতর আমরা তার মধ্যে দিয়েই চলমান আছি, কোন বিদেশী সংস্কৃতিকে স্থান দেয়া যায়নি বা হয়নি, যদিও কালক্রমে কিছু মিশ্রণ তো হয়েই গেছে। এটা অনেকটা সিলেটে থাকাকালীন শোনা পাহাড়ি আর বাঙ্গালীদের মধ্যে যেমন বিভেদ করা হয় সেরকম। ওরা পাহাড়ি আর আমরা সমতটের বলে আমরা ভিন্ন, এই আরকি। বাঙ্গাল জাতীয়তার উপর আরব জাতীয়তা বোধ চাপানো কি যায়? এন্থ্রপলজিক্যাল পার্থক্য আছে না। কিন্তু কিছু লোক তা চাপাচ্ছে, কাজ না করলেও চাপাচ্ছে, কেউ কেউ তা গদ গদ চিত্তে মেনেও নিচ্ছে। তাতে করে কাকের লেজে ময়ূরের পুচ্ছ লাগানোর মত দেখাচ্ছে। মানব ভাবে ভর করে চলে, তাই কত কিছু তো সম্ভব এই মানব সমাজে। আমরা মাছে ভাতে বাঙ্গালী, আরবদের মত খুবজা খাই না। আমাদের মাঠ ঘাট বছরে দুই বার সোনালী ধানে ভরে উঠে, আরবের মরু প্রান্তরের বাবলা গাছের আর উটের সংস্কৃতি এখানে খাটবে কোন দুঃখে। কিন্তু খেজুর, উট আর দুম্বার মাংসর প্রতি এদেশীয় মানুষজনের এক বিজাতীয় আসক্তি আছে যার পুরটাই জোর করে চাপান মনোবৃত্তি বলে আমার মনে হয়। পায় না তাই খায় না, আঙ্গুর ফল টক জাতিয় অবস্থা আরকি।

অক্টোবর ২০২৪ এর দিকে ডলার ক্রাইসিসে প্রাইভেট ব্যাংক গুলো স্টুডেন্ট ফাইল খুলছে না, আমরা সোনালী ব্যাংক সরকারী হওয়ায় আমরা না বলতে পারিনি। তাই বাইরে পড়তে যাওয়ার চেষ্টায় এত ইয়াং জেনারেশন এই ব্যাংকের ওয়েজ আরনার শাখায় এসে ভিড় করছিল যে, আমরাও এই কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত না হলেও অনেক জনের অনেক অনুরোধ রক্ষা করতে গিয়ে এই প্রক্রিয়ার সাথে কিছুটা হলেও সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। অবাক হয়েছি দেখে যে কত বিপুল পরিমাণ ছাত্র এদেশ ছেড়ে বাইরে পড়তে যেতে চায়, শুধু চায়ই না প্রায় হন্যে হয়ে পথ খুঁজে বেড়াচ্ছে। ভাব খানা এমন যে বিদেশে সোনার খনি আছে আর ওখানে পড়াশুনা করলে বেশি জ্ঞানী হওয়া যাবে ও পয়সার পাহাড় বানানো যাবে। এই দেশাত্মবোধের দেউলিয়াত্ব ও যারা স্বদেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে আবারও বলি, এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি। এরা যাচ্ছে টাকার লোভে, জানে না যে লোভে পাপ আর পাপে অকাল মৃত্যুও হতে পারে। তবু তারা সে ঝুঁকি নেয়, একটু স্বচ্ছন্দ, একটু আরাম, একটু সুখে থাকা, অল্প পরিশ্রমে বেশি রোজগার এই ফ্যাক্টরগুলো মনে হয় কাজ করে তাদের মাথায়। গ্রাম ছাড়া ওই রাঙ্গা মাটির পথ শহরে আসে তার পর বিদেশে চলে যায়। এভাবেই সবাই যুগে যুগে মাইগ্রেশন করেছে। আমার বাবা-মা লিবিয়ায় গিয়ে আবার কেন দেশে ফিরে আসলো এখনও বুঝি না। ওখান থেকে লন্ডনে কিম্বা নিদেন পক্ষে মাল্টাতে মাইগ্রেট করলেও তো চলতো, না হয় ইউরোপের ইটালি, জার্মানি কিংবা সুইজারল্যান্ডে। তা না করে বাবা দেশে এসে ঢাকা শহরের মিরপুর আর বাড্ডায় জমি কিনে বাড়ি করলো।

ফটোগ্রাফার মোহাম্মদ শফিক, ক্যাপশন Plantation Their Future Place: Sunamganj, Sylhet, Bangladesh.
Camera: Nikon D5500 Taken on 13-Aug-2017 uploaded to Flicker on 4-Oct-2017

 অনেকেই বিদেশের চকচকে শহরগুলোর ছবি দেয় কিংবা প্রান্তর জুরা টিউলিপ কিংবা বাহারি প্রকৃতির ছবি দেয় বিদেশের। চকচকে ঝকঝকে ছবি যা দেখলে মনে হয় আমাদের দেশের তুলনায় না জানি কত সুন্দর সে সব দেশ, হতেই পারে, বিশ্বের বিভিন্ন কোনায় কোনায় নয়নাভিরাম দৃশ্য থাকতেই পারে। কিন্তু উপরের ছবিটা দেখেন, এর সৌন্দর্য কেবল বাঙ্গালী প্রাণেই আন্দোলিত হতে পারে।

২৩শে জানুয়ারি ২০২৪ আমার চাচাতো ভাই এক জনের ফেইসবুক থেকে এই কথাগুলো শেয়ার দেয়ঃ

<উদ্ধৃত>”ইশ!! কেন যে আমেরিকা-ইউরোপে জন্ম হলো না!!! কত সুন্দর বাল্যকাল কাটাতাম!!! স্কুল থেকে প্রতি বছর অন্য দেশে ট্রিপে নিয়ে যেত, সামারে বনে-বাদারে ক্যাম্পিং করতাম, শীতকালে উইন্টার স্পোর্ট করতাম, ১৩-১৪ বছর বয়স থেকে গার্লফ্রেন্ড থাকত, ১৬ বছর থেকে পার্টটাইম কাজ শুরু করে টাকা জমায় ২০-২১ বছরে ওয়ার্ল্ড ট্রিপ দিতাম! What a life that would have been...... অনেক রাগ বিধাতার ওপর...গরিব দেশে জন্ম দেওয়ার কারণে

এক বছরের বেশি হয়ে গেল আমার প্রবাস জীবনেরজার্মানির হামবুর্গ শহরে হামবুর্গ আন্তর্জাতিক শহর১৮০ এর বেশি দেশের মানুষের এখানে বসবাস এখানে আসার আগে মাত্র একজন বাংলাদেশিকে চিনতাম, তার ওপর হামবুর্গে বাংলাদেশির সংখ্যা হাতেগোনা হওয়ার কারণে প্রথম থেকেই বিদেশি বন্ধবান্ধব জুটে যায়, এদের সাথেই ওঠাবসা চলে

পূর্বের চায়না থেকে পশ্চিমের আমেরিকাসবার সাথে মেশার সুযোগ হয়েছেইংলিশটা ভালো হওয়ার কারণে অনেক জার্মান বন্ধুও জুটেছে (হাম্বুরগের জার্মানরা তাদের ইংলিশ-এর উন্নতির বেপারে খুবই সচেতন :D)… উইকেন্ডের সারারাত জেগে জীবনভিত্তিক আড্ডাও হয়েছেসব মিলিয়ে আমি বলব গত একবছর আমার জীবনের শিক্ষামূলক সেরা সময়

জার্মানি আসার আগে জার্মানির উপর কিছু আর্টিকেল পড়েছিলাম এমন একটা আর্টিকেল এ ছিল লাভ ইন জার্মানি এর ওপরে আর্টিকেলের একটা জিনিস বেশ অবাক লাগছেজার্মানরাআমি তোমাকে ভালবাসিএই কথাটা পারত পক্ষে বলে না -৩ বছরের সম্পর্কের পর ও ওরা ভালবাসার কথা এড়িয়ে চলে প্রথমে বিশ্বাস করি নাই এখানে এসে জার্মানদের সাথে মেশার পর, বেশ কিছু জার্মান ফ্যামিলির কাছ থেকে দেখার পর ব্যাপারটা উপলব্ধি করতে পারছি এখানে বিয়ে ৪-৫ বছরের বেশি টেকে না অধিকাংশ ফ্যামিলি বাচ্চা ছোটো থাকা অবস্থায় ভেঙে যায় এর ফলে যেটা হয় যে, বাচ্চা ছোটো বয়স থেকেই দেখে যে বাবা-মা দুইজনের কাছেই কয়েক মাস পর পরই গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড আসছে কেউই স্থায়ী হয় না ছোটবেলা থেকেই একটা শিক্ষা ওরা নিয়ে নেয়, “মানুষ আসবে, মানুষ যাবে যার কারণে অটোমেটিক্যালি ওরা কোনো মানুষের প্রতি ইমশোনাল ডেভেলপমেন্ট করতে পারে না কারন আনকনশাসলি ওরা এটা ধরেই নেয় যে, কেউই বেশিদিন থাকবে না তার ওপর ১৩-১৪ বয়স থেকেই ফিসিকাল রিলেশনশিপ শুরু করে দেয় - ভালোবাসার জন্য না, আসলেই ফিজিক্যাল কিউরিসিটি থেকে এবং প্রতি বছর নতুন নতুন যার কারণে নারী-পুরুষ সম্পর্কের ভেতর ওদের কাছে কোনো কিছু বাকি থাকে না যার ফলে ওরা পুরো নারীপুরুষ সম্পর্কের বিষয়ে ইন্সেন্সিটিভ হয়ে যায়

 একটা ইগজ্যামপল দেই, এখানে ছেলে-মেয়ে বন্ধু (শুধু বন্ধু) একসাথে ঘুমায় কোনরকম সমস্যা ছাড়া গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডকে জিজ্ঞাসা করা, কার সাথে চ্যাট করতেছে, কারসাথে পার্টিতে যাচ্ছে এগুলো রুড রিলেশনশিপ ওদের কাছে নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া, নতুন শরীরের অনুভূতি নেয়া মাত্রভালবাসার অনুভূতি এক অবাস্তব বিষয় বলিঊডের মুভি দেখে প্রচণ্ড অবাক হয় সত্যিই কি ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের মানুষরা এতোটা রোমান্টিক? এত অনুভূতি ওদের আসে কোথা থেকে? আরেকটা বিষয় হল কালেক্টিভিসম অ্যান্ড ইন্ডিভিডুয়ালিসম গরিব দেশের সমাজ কালিক্টিভিস্টিক হয় সারভাইভাল-এর জন্য কারণ সরকার সমাজ সবসময় ব্যাসিক নিড ফিলাপ করে না যার কারণে আমরা ছোটবেলা থেকেই পরিবার, বন্ধু, ভালোবাসার মানুষের জন্য স্যাক্রিফাইস করা শিখি এটাই তো ভালোবাসা, অনুভূতির জগতের ব্যাসিকওরা খুবই অবাক হয় শুনে, যখন আমি বলি, আমাদের প্রশ্নগুলো পুরো উল্টো আমরা চিন্তা করি আমার আমাদের বাবা-মাকে সুখী করতে পারছি কিনা, ভালবাসার মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পারছি কিনা আর সবথেকে বড়ো বিষয় হলো, গডলেস সোসাইটিতে বড়ো হবার কারণে শেখে এই জীবনটাই আসল, এরপর আর কিছু নাই, সব শেষ! সব মানুষের পক্ষে তার এই ধরনের বাস্তবতা মেনে নেয়া কঠিন হার্টে সত্যের অপূর্ণতা থেকেই যায়

মজার একটা বিষয় হলো ছোটবেলা থেকেই এতটা রোবোটিক যে, এখানে আপনি জার্মান কোনো বাচ্চাকে কাঁদতে দেখবেন না রাস্তায় যদি কোনো বাচ্চার কান্না শুনেন, তাহলে চোখ বন্ধ করে বুঝে নিবেন টার্কিশ বা আরব বাচ্চা আমি এখন পর্যন্ত একটা জার্মান বাচ্চাকে কাঁদতে দেখিনি সত্যি! আমার এই অভিজ্ঞতার পর ছোটবেলার ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ডের প্রতি হিংসা, ওদের প্রতি করুণায় পরিণত হয়েছে যতবারই জার্মানদের সাথে এইসব বিষয়ে কথা বলেছি, ততবারই গম্ভীর হয়ে গেছে, -৩ জন কেঁদেও দিয়েছে আসলেই ওদের মনের ইমোশনাল ভেকেন্সিটা একটু অনুভব  করতে ভয় লাগেকিভাবে এভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব? উত্তর হলো উইকডেতে কাজে ব্যস্ত থাকা, উইকেন্ডে মদে  মাতাল হয়ে সব ভুলে যাওয়া মাঝে মাঝে সাইক্রিয়াটিস্ট ভিজিট করা, অ্যান্টিডিপ্রেসসিভ ড্রাগ নেয়া নতুন রিলেশনশিপ খোঁজা, রাস্তায় প্রথম ২-৩ মাস ওপেনে কড়া ভালোবাসা (!) বহিঃপ্রকাশ করা তারপর আবার প্রথম থেকে শুরু করা” <অনুদ্ধৃত> #সংকলিত @ www. Facebook. com / Uzzal.mohi

উপরের উজ্জ্বল মহির স্বীকারোক্তি আসলে কিছুই বলে না, কারণ কি জানেন, আমার পরিচিত স্কুল বন্ধু, কলেজ বন্ধু কিংবা পরিচিত জন জারাই বিদেশ গেছে তারা আর ফেরত আসে নাই, সবাই বিদেশের মজা পেয়ে গেছেন। হবেই বা না কেন? এটা তো স্বাভাবিক, আমাদের গ্রাম থেকে লোকজন শহরমুখি কেন? কারণ প্রচুর কর্মসংস্থান আছে শহরে, গ্রামের অর্থনীতির চেয়ে শহুরে অর্থনীতি বড় আর বড় অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান ও সুযোগ সুবিধা বেশি, তৃতীয় বিশ্ব থেকে প্রথম বিশ্বের অর্থনীতি অনেক বড়, তাই ওখানে লিভিং কষ্ট হাই হলেও লিভিং স্ট্যান্ডার্ড অনেক ভালো। একটা ছোট্ট বাস্তব উদাহরণ দেই। আপনি ঢাহা শহরের বিলাস বহুল বেডরুম এটাস্ট টয়লেট কাম বাথরুম ব্যবহার করেন, যা কার কার ড্রইং রুমের চেয়েও বড়, বাথটাব তো আছেই গিজার, হাই কমড তো কথাই নাই, শাওয়ার দিয়ে ঝরনার চেয়েও মজার ঠান্ডা-গরম পানি মিশ্রণ দিয়ে কুসুম কুসুম গোছল কি মজা! কি মজা, এখন আপনাকে গ্রামে কোন এক অজানা কারণে এক মাস থাকতে দেয়া হলো, যেখানে বাথরুমের নিচে কুয়া, লো কমড এর ফাঁক দিয়ে কুয়াটাও দেখাও যায়। থাকার ঘর থেকে বেশ দুরে ঝোপ ঝাড়ের কাছে সেই টয়লেট কিংবা বাথরুম, রাতে ঝি ঝি পোকার ডাক, সাপ খোপের তো কথাই নাই। মেডাম ও মহোদয় গণ চিন্তা কি করেছেন পার্থক্যটা কত বিশাল? একটা আগরতলা আরেকটা চকির তলা। সুতরাং যারা বিদেশে দৌড়ে পালাচ্ছে তাদের দোষ দেওয়া যায় কি?

ফটোগ্রাফার মোহাম্মদ শফিক, ক্যাপশন Working Shady Place: Narsinghdi, Dhaka, Bangladesh. Camera: Nikon D5500 Taken on 30-Jun-2017uploaded to Flicker on 9-Jul-2017

এই প্রসঙ্গে আমার প্রিয় মজিদ ভাই, (এজিএম, সেনালী ব্যাংক পিএলসি) এর মন্তব্য ছিল এরকম “অভিবাসন একটি চলমান প্রক্রিয়া। আদিকাল থেকে মানুষ প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা কারণে পৃথিবীর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে বসতি গড়ছে। উন্নত জীবনের আশায় মানুষ অভিগমন করে। আর যারা স্থায়ীভাবে দেশ ছাড়ে তাদের সম্পদ নিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা তারা করবে। এছাড়া সাধারণত যাদের ন্যূনতা আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চোখ কান খোলা রয়েছে তারাই অভিগমন করে। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে যেহেতু এই শ্রেণির মানুষের সংখ্যা দ্রুত ক্রমবর্ধমান এবং যেহেতু অভিবাসনের কারণসমূহ অনেক বেশি করে বিদ্যমান রয়েছে বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তাই আমার মনে হয় এখানে এই প্রক্রিয়া আরও অনেক দিন ব্যাপক ভাবেই চলবে। আমাদের উচিত অনিশ্চয়তাসমূহ দূর করার দিকে মনোনিবেশ করা। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি। আপনাকে ধন্যবাদ।”

মজিদ ভাই এর দেয়া যুক্তিটা খন্ডান যায় না সত্য কিন্তু উপরে উজ্জ্বল মহি যে বিষয়টি তুলে ধরে বলেছে যে, বিদেশের সমাজ দেখলে তার করুণা হয়, তার সাথে আমার বাল্যবন্ধু স্বপনের আমেরিকার সমাজের বলা কথা মিলে যায়। তিন বছর আগে গুগল ম্যাপ দিয়ে ফ্লোরিডায় ওর বাসাটা আমি বার্ড আই ভিউ দিয়ে দেখছিলাম আর ও বলেছিল আশপাশের বাসাগুলোতে তুই যে দম্পতি গুলো পাবি তারা কেউ বাচ্চা নিতে চায় না, যেটা একটা বিস্ময়বোধক ব্যাপার বলে মনে হয় আমাদের কাছে। লন্ডনে যে বন্ধুরা থাকে তাদের কাছে শুনেছি ওখানে বয়স্ক লোক আর অতি অল্পবয়স্ক মেয়ে দম্পতি দেখা যায়, কিংবা এর বিপরীত, মানে বয়স্ক মহিলা আর স্বল্প বয়স্ক তরুণ স্বামী। উজ্জ্বল মহি যে বিষয়টি তুলে এনেছে তা আসলে সমাজবিদ্যার গবেষণার বিষয় এর সাথে দেশাত্মবোধের সম্পর্ক স্বল্প, একদম যে নাই তা নয় তবে এই বিষয়টিকে কি ত্রুটি, বিচ্যুতি কিংবা বিপর্যাস হিসেবে দেখা উচিত না কি মানব সমাজের বিবর্তনের সাথে তুলনা করা উচিত তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ আছে । দেশ ও জাতি আর দেশে বসবাসরত জনগোষ্ঠী এই দুয়ের মধ্যে যে প্রেম তা’র সাথে সমাজবিদ্যার মানব সমাজের জীবনাচরনের বিষয়টিকে উজ্জ্বল মাহি গুলায়ে ফেলেছেন বলে আমার ধারণা। এর উপর প্রযুক্তি গত উন্নয়নে আমাদের গ্রাম বাংলার চেহারাটাও তো পাল্টে যাচ্ছে দিন কে দিন। সেই গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু, আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে। একনও থাকে বইকি, কিন্তু ভট ভটি নৌকার দৌরাত্ম্যে এখন আর পাল তোলা নৌকা দেখাই যায় না । চাল চিত্র পুরাই বদলে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে বলা যায়।

আমি চিন্তা করে দেখেছি আমার গ্রামের বাড়ী হলো ঢাকা শহরের রমনা থানা, আমার জন্ম হলী ফ্যামিলি হাসপাতালে,, জন্মেই নানা বাড়ি মালিবাগে, চাচারা সব শান্তিবাগে, লিবিয়া থেকে ঘুরে এসে পড়ালেখা,  বড় হওয়া সব মিরপুরের শ্যাওড়াপাড়ায় কিন্তু তিন সন্তানের জন্ম কিন্তু এই রমনাতেই, ইস্কাটনে, রাজারবাগে আর সিদ্ধেশ্বরীতে। এখনও থাকি এই সিদ্ধেশ্বরীতেই। বাপ চাচাদের ছোটবেলা কেটেছে পদ্মা পাড়ে মৌছা-, লৌহজং, মুন্সিগঞ্জ এলাকায়, কিন্তু আমার তো এই ঢাকাতেই রমনা আর মিরপুরে । মা-বাবার কবর শ্যাওড়াপাড়ায় তাই মন থেকে শ্যাওড়াপাড়ার প্রতি আমার দেশাত্মবোধ কাজ করে। মনের অনেক গভীর থেকে সেই টান অনুভব করি। কবর যেন হয় শ্যাওড়াপাড়ায় বাবা-মা’র কবরের মাঝখানে, যেমনটা থাকতাম শৈশবে। এতকিছুর পরও আমার বলতে ইচ্ছা করে “আমি একবার দেখি, বার বার দেখি, দেখি বাংলার মুখ”। জীবনে আর যে কয়টা দিন বাকি আছে, মুকেশের ওই গানটাই সত্য মনে হয়, ”জিনা ইহা, মরনা ইহা, ইসকে সিবা যানা কাহা?”।

 

https://youtu.be/_vN4tXB7_bw?si=jFWy4n8B1PYKLc6O

Song: Ami Banglay Gaan Gai | আমি বাংলায় গান গাই | Independent song
Tune & Vocal: Mahmuduzzaman Babu | মাহমুদুজ্জমান বাবু
Lyrics: Pratul Mukhopadhyay
Album: Chokh Vese Jay Jole
Label: Sangeeta

 সম্পাদনা ও উন্নয়ন ইতিহাসঃ ০৯জানুয়ারী২০২৪> ১২জানুয়ারী২০২৪> ২৩জানুয়ারী২০২৪>২৮ফেব্রুয়ারী২০২৪> ১৪মার্চ২০২৪> ০২মে২০২৪> ২৫জুলাই২০২৪>২৮অক্টোবর২০২৪> ৬নভেম্বার২০২৪> ২৪জুলাই২০২৫>২আগস্ট২০২৫>