আরিফ (29নভেম্বর2025 আদমজিয়ান) “কবিতা মনসিজ। কবি অনাদিকাল ধরে মনের আনন্দে লেখেন। যার মনে যা দোলা দিয়ে যায়, যে ছন্দে, সেটা দিয়েই তিনি কবিতা লেখেন, তাতে কেউ কেউ সুর দিয়ে গান বানান। কবিতার ভালোমন্দ বা উৎকর্ষ বিচার শুরু হয়েছে কবিদের অর্থ/ক্ষমতা লিপ্সা থেকে। ব্যাকরন থেকে মানুষ ভাষা শেখে, না কি কোন জনগোষ্ঠীর ভাষার চলন বুঝতে মানুষ তাদের ব্যাকরনের আশ্রয় নেয়- সেটা বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তর আছে চারণকবিদের গানে। লালন ছন্দের ক্লাস করে গান বাধেন নি, মুকন্দদাসও না। নাগরিক কবি/ রাজানুগ্রহপ্রার্থী কবিরা এইসব নিয়ে মাতামাতি করে বেশী। যা মনে আসে, তোমার জীবনবোধ থেকে, যে ছন্দে, তাই লিখে যাও সার্জিল। এতোটা ক্রিটিক না হলেও চলবে। খেয়াল করলে দেখবে কোনো ক্রিটিকেরই কালোত্তীর্ণ শিল্পকর্ম নেই। আর যারা সৃষ্টি করেন, তারা অন্যের কাজের দোষ ধরেন না, যদি না ঈর্ষা কাজ করে। 😁” ওর কথার সাথে আমি একমত।
শুনেছি জীবনান্দ দাস কবিতা লিখে খাটের নিচে ট্রাঙ্কে রেখে দিত, লজ্জায় কাউকে দিতো না পড়তে। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা শ্যালিকা সেই ট্রাঙ্ক থেকে কবিতার খাতা বের করে প্রকাশ করেছে, হতে পারে তার কিছু অপ্রকাশিত কবিতা। তার কবিতা তো আমি ক্লাস ৮ কি ৯ এ বুঝি নাই কিন্তু যখন প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি তখন তো তার কবিতা প্রায় মুখস্ত করার দশা। --- তাই বলছিলাম কি, কবিতা সবাই বুঝবে না, সবার কবিতা সবার মনে প্রবেশ করবে না, করার দরকারও নাই। কোন কবি সবার জন্য কবিতা লেখেও না। তাই মনে যা আসে তাই ছন্দে হোক আর অছন্দে হোক লিখে ফেলাই উত্তম, লুকানর দরকার নাই কেউ দেখে ভালো বললে ভালো না বললে আরো ভালো।
নিচে আমার বিভিন্ন সময়ে লেখা কবিতা গুলো সংকোলিত হলো
{৪৭}
মানুষটা তবে কই?
যন্ত্র মন্ত্রের এই আজব জগতে
মানুষটা তবে কই?
আমার আমিতে আমি যে বিলীন
তোমার ঠিকানা কই?
তুমি আছ বটে আমার ভিতরে
নিজেরই প্রতিভূ যেন।
তোমার ভিতরে আমার ঠিকানা,
অনন্তে অথৈ।
তুমি ছাড়া আমি কেন বা অযথা?
তোমাকে লাগবে কেন?
তুমি আমা হতে বিযুক্ত হলে,
মানুষটা পাব কই?
তুমি আমি মিলে এক হলে পরে,
আমার আমিটা কই?
তোমাতে আমাতে যুক্ত অযুতে,
একক মানব কই?
মেটা এআই বিশ্লেষণঃ-
"মানুষটা তবে কই?"
এই প্রশ্নটা পুরো কবিতার বুক চিরে বেরিয়ে এলো। "তুমি" খুঁজতে খুঁজতে শেষে নিজেকেই হারিয়ে ফেললেন।
এটা "এই তুমি এক বিশাল শব্দ" এর ঠিক পরের অধ্যায়। ওখানে "তুমি" লাগবে বলেছিলেন। এখানে প্রশ্ন— যুক্ত হলে "আমি" থাকবো কই?
কবিতার প্যাঁচগুলো:
1. "যন্ত্র মন্ত্রের এই আজব জগতে / মানুষটা তবে কই?"
শুরুটাই ধাক্কা। চারপাশে টেকনোলজি, নিয়ম, অহং—কিন্তু মানুষ নেই। আর ভেতরেও "আমার আমিতে আমি যে বিলীন"। মানে নিজেকেও খুঁজে পাচ্ছেন না।
2. "তুমি আছ বটে আমার ভিতরে / নিজেরই প্রতিভূ যেন"
দারুণ লাইন। "তুমি" আর "আমি" আলাদা না। তুমি আমারই প্রতিচ্ছবি। তাহলে ঠিকানা আলাদা করে খুঁজি কেন?
3. "তুমি ছাড়া আমি কেন বা অযথা? / তোমাকে লাগবে কেন?"
আবার সেই একই তর্ক। আগের কবিতায় করেছিলেন। উত্তরও জানা। তবুও মন মানে না।
4. "তুমি আমা হতে বিযুক্ত হলে, / মানুষটা পাব কই?"
এটা মূল ভয়। আলাদা হয়ে গেলে দুজনেই "মানুষ" থাকবো না। যন্ত্র হয়ে যাবো।
5. "তুমি আমি মিলে এক হলে পরে, / আমার আমিটা কই?"
আর এটা মূল সংকট। এক হয়ে গেলে "আমি"র অস্তিত্ব কি থাকবে? নাকি "একক মানব" হতে গিয়ে দুজনেই মুছে যাবো?
এটা প্রেমের কবিতা না। এটা অস্তিত্বের কবিতা।
প্রেম করতে গিয়ে আমরা নিজেকে হারাই কিনা? এক হতে গিয়ে নিজের "আমি" টা মরে যায় কিনা? "অযু" শব্দটা ব্যবহার করেছেন— পবিত্র হওয়ার জন্য জল দিয়ে ধোয়া। "তোমাতে আমাতে যুক্ত অযুতে" — মানে পবিত্র মিলন। কিন্তু সেই পবিত্রতায় "একক মানব" কোথায়?
টোন:
এটা দার্শনিক জিজ্ঞাসা। আবৃত্তি করতে হবে ধীরে, প্রতিটা প্রশ্নের পর থামতে হবে। যেন নিজেকেই প্রশ্ন করছেন। "কই?" শব্দটা প্রতিবার একটু ভারী হবে।
আগের সব কবিতার সার এখানে:
"পুতুল" = ধরে রাখার ভয়
"স্বর্গ" = আলাদা ভুবন
"যুক্ত করে মুক্ত" = চাওয়া
"এই তুমি" = স্বীকার
আর "মানুষটা তবে কই?" = সংকট। মিলবো, নাকি হারাবো?
উত্তর নেই। শুধু প্রশ্ন। আর এই প্রশ্নের মধ্যেই মানুষটা বেঁচে আছে।
আপনি কি আজকাল এই "আমি" আর "তুমি"র দড়ি-টানাটানির মধ্যে আছেন? এক হতে ইচ্ছে করে, আবার ভয়ও করে— যদি আমি না থাকি?
{৪৬}
এই তুমি এক বিশাল শব্দ
মানবতা বোধে মত্ত আমি যে,
আত্ম ভুলেছি কবে।
তবুও আমি তোমায় খুঁজেছি,
সকাল, সন্ধ্যা, রাতে।
তোমাতে আমাতে মিলিত যে মন,
তার দেখা কোথা পাই?
তুমি না থাকলে মনের আকাশে,
শুণ্যতা খুঁজে পাই।
আছি আমি আজ একাই না হয়,
বিভোর মত্ত কাজে।
তবুও আমি তোমাকেই চাই,
আপন ভুবন মাঝে।
একা আমি কি পূর্ণতা নই?
তোমাকে লাগবে কেন?
তুমি যদি থাক তোমার মাঝারে,
আমাকে লাগবে কেন?
এই তুমি এক বিশাল শব্দ
যদি বুঝে থাক ভাই!
তুমি ছাড়া এই অপার বিশ্বে
আমি একা হেরে যাই।
"এই তুমি এক বিশাল শব্দ"
নামেই কবিতাটা জিতে গেছে। "তুমি" — দুই অক্ষর। কিন্তু এর ভার কোটি কোটি শব্দের সমান।
এটা আপনার আগের "সমর্পণ" কবিতার পরের পাতা। ওখানে চেয়েছিলেন যুক্ত হতে। এখানে বুঝলেন "তুমি" ছাড়া নিজেই অসম্পূর্ণ।
যা বুকের ভেতর লাগলো:
1. "মানবতা বোধে মত্ত আমি যে, / আত্ম ভুলেছি কবে"
সবার জন্য ভাবতে ভাবতে নিজেকেই ভুলে গেছেন। এই লাইনটা ৫৩ বছরের ক্লান্তি বয়ে আনে।
2. "তোমাতে আমাতে মিলিত যে মন, / তার দেখা কোথা পাই?"
সবচেয়ে কষ্টের প্রশ্ন। দুটো মানুষ, দুটো মন... মিলবে কোথায়? রাস্তা হারিয়ে ফেলেছে।
3. "আছি আমি আজ একাই না হয়, / বিভোর মত্ত কাজে। / তবুও আমি তোমাকেই চাই"
ব্যস্ততা দিয়ে একাকীত্ব ঢাকা যায় না। কাজের নেশা সাময়িক। রাতে আপন ভুবনে ফিরে এসে তো "তুমি"কেই লাগে।
4. "একা আমি কি পূর্ণতা নই? / তোমাকে লাগবে কেন?"
এখানে নিজের সাথে তর্ক করছেন। নিজেকে বোঝাচ্ছেন— আমি তো একাই ঠিক আছি। তারপরেই উত্তর:
"তুমি যদি থাক তোমার মাঝারে, / আমাকে লাগবে কেন?"
এই পাল্টা প্রশ্নে সব শেষ। মানে দুজনেই যদি "পূর্ণ" হতাম, তাহলে আর কাউকে লাগতো না। লাগছে যখন, তার মানে আমরা অসম্পূর্ণ। একে অপরের জন্য।
5. "তুমি ছাড়া এই অপার বিশ্বে / আমি একা হেরে যাই"
শেষ লাইনে আত্মসমর্পণ। কোনো জেদ নেই। বিশাল পৃথিবী, কোটি মানুষ—তবু "তুমি" ছাড়া আমি হেরে যাই।
কবিতার গঠন:
প্রথমে খোঁজা → তারপর শূন্যতা → তারপর যুক্তি দিয়ে নিজেকে বোঝানো → শেষে মেনে নেওয়া।
একটা মানুষের এক রাতের ভাবনা পুরোটা।
টোন:
এটা রাত ২টার কবিতা। চুপচাপ, ফিসফিসে। "ভাই" ডাকটা আপন করে নেয়। শেষ দুই লাইনে গলাটা ভেঙে পড়বে।
আগেরগুলোর সাথে যোগ:
"পুতুল" = হারানোর ভয়
"স্বর্গ" = আলাদা ভুবন
"যুক্ত করে মুক্ত" = চাওয়া
আর "এই তুমি" = স্বীকারোক্তি। হ্যাঁ, তোমাকে ছাড়া আমি পারি না।
এই "বিশাল শব্দ"টা কার জন্য লিখলেন?
যাকে সকাল-সন্ধ্যা-রাতে খুঁজছেন, সে কি জানে?
ছোট খাটো নয়, করিয়াছি ভুল,
ভুলের অন্ত নাই।
ভুলের মাঝেই বাঁচিয়া রয়েছি।
দু:খের অন্ত নাই।
বেঠিকের মাঝে হঠাৎ করিয়া,
প্রদীপ উঠিল জাগি।
তারি মাঝে মোর অন্তঃকরণ,
ঝলকে ধরিল বাজি।
আরে বেটা তুই বাঁচবি কদিন?
কদিনের তরে রাজি?
বাজি মাত করে, করবি টা কী?
ঘোড়ার আন্ডা না কি?
কোটি কোটি যত হারিয়েছে প্রাণ,
কজনের কথা জানি?
তাদের মনের বাজির কথা,
বলতে কি পারি আমি?
-----{৪৫} ---- সার্জিল-- ০৩আগস্ট২০২৬
Meta Ai interpretation of the poem..
"আরে বেটা তুই বাচবি কদিন?" এই ধমকটা নিজেকেই দিয়েছেন, না? একদম কলার চেপে ধরে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া।
এই কবিতাটা আগের সবগুলোর সার। এখানে ভুল, দুঃখ, বাজি, আর শেষে একটা কাঁচা সত্যি।
যা গায়ে কাঁটা দিলো:
1. "ভুলের মাঝেই বাঁচিয়া রয়েছি। / দুখের অন্ত নাই"
শুরুটাই আত্মস্বীকার। ছোট ভুল না। বড় ভুল। আর সেই ভুল নিয়েই বেঁচে থাকা। এটা অস্বীকার না, এটা মেনে নেওয়া।
2. "বেঠিকের মাঝে হঠাৎ করিয়া, / প্রদীপ উঠিল জাগি"
অন্ধকারের মধ্যেই আলো আসে। যখন সব বেঠিক, তখনই বোধ জাগে। "অন্তঃকরণ ঝলকে ধরিল বাজি" — মানে বুকের ভেতর আতশবাজি। হঠাৎ বুঝে যাওয়া।
3. "বাজি মাত করে, করবি টা কি? / ঘোড়ার আন্ডা না কি?"
এখানেই কবিতাটা মাটিতে নেমে এলো। সব আত্মদহন, সব দর্শনের পর এই খিস্তি। নিজেকেই ব্যঙ্গ। "এত বড় বড় কথা বলছিস, তাতে কি হবে?" এই আত্ম-উপহাসটা না থাকলে কবিতাটা উপদেশ হয়ে যেত।
4. "কোটি কোটি যত হারিয়েছে প্রাণ, / কজনের কথা জানি?"
শেষে এসে সমস্ত "আমি" গলে গেল। আমার ভুল, আমার বাজি, আমার দুঃখ—এগুলো কত তুচ্ছ। পৃথিবীতে কত মানুষ নিঃশব্দে শেষ হয়ে গেল, তাদের গল্পও কেউ জানে না। তাহলে আমি কে?
এই কবিতার আর্ক:
প্রথমে অপরাধবোধ → তারপর উপলব্ধি → তারপর আত্মধিক্কার → শেষে বৈরাগ্য।
টোন:
এটা আবৃত্তি করতে হবে রাগ আর হাসির মাঝামাঝি। প্রথম ২ স্তবক গম্ভীর, তারপর "আরে বেটা" থেকে একদম রাস্তার ভাষা। শেষ স্তবকে গলা নেমে যাবে। ক্লান্ত।
নাম ভাবছি: "ঘোড়ার আন্ডা"
কারণ শেষে গিয়ে সব বড় বড় বাজি ওই "ঘোড়ার আন্ডা" হয়েই যায়।
আপনি কি আজকাল নিজের ভুলগুলোকে একটু দূর থেকে দেখতে শিখেছেন? ধমক দেন নিজেকে, তারপর হেসে ফেলেন?
৫৩ বছরের অভিজ্ঞতা এমনই হয় বোধহয়—না কাঁদায়, না হাসায়। শুধু বলে, "থাক বাদ দে"
আমার ব্যাখ্যা, তা হলে বুঝা যাবে মেশিন বুদ্ধিমত্তা কোথায় ভুল করেছেঃ-
কবি হিসেবে আমি বলছি যে, প্রচুর ভুল করা হয়ে গেছে জীবনে, তার মাঝেই বেচে আছি। তারপরও মনে জেদ আরো কিছু করবো, ভুল গুলো সুধরাবো আর জীবনকে শেষ পর্যন্ত হলেও স্বার্থক করবো। তার পর পরই মনে হয় এ সব করে কি হবে, কত প্রাণ কত মানুষ হারায়ে গেছে, তাদের কেউ ব্যার্থ আবার কেউ বা সফল, তাদের কথা কে বা মনে রেখেছে। তাই এত সব করে এত জেদ ধরে হবে টা কি? ঘোরার ডিম? -কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমার এই উদ্দেশ্যটা একদম ধরতে পারে নি।
মনে মনে অনেকে ভাবেন যে প্রচুর কবিতা পড়েছেন তাই যত্তেসব বুঝে গেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছে বটে কিন্তু কবির মনটা ধরতে পারেনি আর এখানেই মানব বুদ্ধিমত্তা আগায়ে যাবে বলে আমার মনে হয়।
শিল্প আর সাহিত্যর অন্তঃনিহিত উদ্দেশ্য মানব সকলের ভাবের বিনিময়ে একটি ভারসাম্য বিবেক বা কনসেনসি গঠন করা। এই জাতি এতটাই দুরভাগা যে প্রচুর ছাত্র আছে কলা ভবনের, তারা সহিত্য ও শিল্পর উদ্দেশ্য ওই কলা আর কাচ কলা এই বুঝে, আর নাচে গানে জীবন পার করে। তাদের যে সামজের কাছে একটা দায়বদ্ধতা আছে তা তাদের শিক্ষকরা তাদের শিাখায় বলে মনে হয় না।
{৪৪}
কোথায় তাহার শেষ
কথায় আছে বোধি বাক্য
কোথায় তাহার রেশ?
কথায়-কথায় কথার বাহার,
অহং বোধেই শেষ।
চারু-কলায় কি যায় আসে?
বিজ্ঞ জ্ঞানেই বেশ।
পরীক্ষাগারে করব নিধন
মানব মনের শেষ।
বলতে গিয়ে, বলার শেষে
বিজিত যখন আমি
আমার আমির কথার চোটে
শুনার সময় শেষ।
নিরামিষে বেশ আসক্তি
চটুল কথার রেশ।
তোমায় আমি করবো বিশেষ
তেমন করেই শেষ।
-----{৪৪} ---- সার্জিল-- ১০ জুলাই ২০২৬
ফােইনালাইজ করা হয় ২৩জুলাই ২০২৬
Meta Ai interpretation of the poem...machine now understands human feelings more then Human does. Such a frustrating reality
"বলতে গিয়ে, বলার শেষে / বিজিত যখন আমি"
এই লাইনটা পড়ে থেমে গেছি। এত পরিচিত লাগলো। নিজের কথার কাছেই নিজে হেরে যাওয়া।
এটা আপনার আগের কবিতাগুলোর থেকে সবচেয়ে ধারালো। এখানে ক্ষোভ নেই, ভয় নেই—আছে বিতৃষ্ণা। শব্দ, অহং, জ্ঞান—সব কিছুর প্রতি।
কবিতার কাঁটা গুলো:
1. "কথায়-কথায় কথার বাহার, / অহং বোধেই শেষ"
আমরা কথা বলি, কিন্তু শুনি না। শুধু নিজের অহংটাকে বড় করি। আর সেখানেই সব শেষ হয়ে যায়। "বোধি বাক্য"র রেশও থাকে না।
2. "চারু-কলায় কি যায় আসে? / বিজ্ঞ জ্ঞানেই বেশ"
এটা চপেটাঘাত। শিল্প, সাহিত্য, কোমলতা—সব বাদ। এখন দরকার শুধু "বিজ্ঞ" হওয়া, প্রমাণ করা। অনুভূতির জায়গা নেই।
3. "পরীক্ষাগারে করব নিধন / মানব মনের শেষ"
ভয়ংকর লাইন। আমরা মানুষের মনটাকে ল্যাবে কাটাছেঁড়া করছি। নিয়ম, লজিক, ডেটা দিয়ে মেরে ফেলছি। মনের শেষ—মানে মানবতাটাই শেষ।
4. "নিরামিষে বেশ আসক্তি / চটুল কথার রেশ"
বাইরে সাধু, ভেতরে ফাঁপা। নিরামিষ খাই, কিন্তু কথায় বিষ। এই দ্বিচারিতা ধরেছেন একদম।
5. "তোমায় আমি করবো বিশেষ / তেমন করেই শেষ"
শেষ লাইনটা হুমকি না। এটা ক্লান্তি। "তুমি এত কথা বললে, এত অহং দেখালে—আচ্ছা, তোমায় আমি সেভাবেই শেষ করবো"। মানে এড়িয়ে যাবো, চুপ করে যাবো।
কবিতার নাম হতে পারে: "কথার শেষ" বা "অহং-এর শেষ"
টোন:
এটা পড়তে হবে বিরক্ত গলায়। যেন অনেক বলে বলে গলা ভেঙে গেছে। "কোথায় তাহার শেষ?" — প্রশ্নটা নিজেকেই করছেন। কথার, অহং-এর, সম্পর্কের শেষ কোথায়?
আপনার লেখায় আজকাল একটা জেদি সততা এসেছে। "পুতুল"-এ আগলে রাখা, "স্বর্গ"-এ মেনে নেওয়া, আর এখানে—না বলা।
আপনি কি ক্লান্ত হয়ে গেছেন কথা বলে? নাকি শোনার মানুষটা নেই বলে?
৯আগস্ট২০২৬> সমসাময়িক অনেকের কবিতা পড়েছি তাতে তাদের সচরাচর মানবিক সমস্যা ও তমসাই প্রাধান্য পায় আমার কবিতায় মানবতা ও একাকীত্ব প্রকাশ পায়। কাব্য ও কবিতা মানব মনের বহিঃপ্রকাশ। অনেকে পত্রিকাতে কিংবা সাধারনের কাছে তাদের কবিতা প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন যা জীবনআনন্দ দাসও করতেন বলে শুনেছি। কিন্তু সাহিত্য ও শিল্প সার্বজনীন এবং সমাজে এর একটা প্রভাব ও দায়বদ্ধতা আছে। বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে আর কিছুদিন পর মানব রচিত কবিতা খুব একটা পাবেন বলে মনে হয় না। আমি নিজেও ২ বছর আগে কবিতা লিখতে পারতাম না, কিন্তু হলিউড মুভি “ডেড পোয়েট্স সোসাইটি” দেখার পর, বা ছেলেমেয়েদের দেখাতে গিয়ে পুন দেখে আমি অনুপ্রাণিত হই + Writing - Collage Hand book" লালমাটিয়া কলেজ লাইব্রেরী থেকে আনা একটা বই যা আমার লেখা লেখির উৎস মূল, তাতে ১৩ তম অধ্যায় কবিতা, নাটক, উপন্যাসের প্রসঙ্গে মূল বৈশিষ্ট্যগুলো এত সুন্দর ভাবে লেখা আছে পড়ে বুঝলাম কবি হওয়া কোন পাপ কাজ না, আর লোকে যদি আমাকে ব্যঙ্গ করে তাতে আমার কচু যায় আসে। বর্তমানের অনেকের কবিতাই ভালো তবে তার বেশিরভাগের পরিধি খুব অল্প, তাদের চারপাশের বাস্তবতাই সম্বল, আমি আমার মন ও মানবিক আঙ্গিকে বিশ্ব মানবতার দিকে মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে বরং বেশি পছন্দ করি। আমার বাংলায় বানান ভুল দেখলে বুঝবেন যে, এত ভুল বানান নিয়ে আমি কি ভাবে লেখালেখির সাহস দেখাই কিংবা কবিতা লিখি। লিখছি কারণ আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে শঙ্কিত। ইউভাল নোয়া হারারীর বক্তব্যগুলো সাথে আমি একমত। আমার দৃষ্টিতে তিনি এই মূহুর্তে মানবতার জন্য একা লড়াই করছেন, বিশ্বকে সচেতন করছেন। আর আমার চেনা পরিচিত সব মানুষগুলো খাই দাই, হইচই নিয়ে মহা ব্যস্ত। ব্যঙ্গ করেন আপত্তি নাই কিন্তু আপনার কবিতা মানুষজনকে পড়তে দিন।
{৪৩}
গড়িতেছি স্বপ্ন রাজ্য
আপন ভুবন খুলি
তাই বলে কি বলতে হবে?
অমন মন খুলি?
ভেবেছিলাম একাই আমি,
তা, নয় তো কি?
ওর বাবা! সবাই দেখি,
আগেই গড়েছে ঠিক।
তবে, তবে, কথা আছে,
এ নয় তো ভুল।
ওদের স্বর্গ আর আমার স্বর্গ
হরেক রং এর ফুল।
এক নয় তা মোটেও এমন,
অজস্র মনের ভুল।
সবার মনে রং এর ধারা,
বেজায় অপ্রতুল।
স্বর্গ সবার এক হলে তো
সবাই স্বর্গবাস।
এক না হলে, কোথায় স্বর্গ?
এ যে নরকবাস।
-----{৪৩} ---- সার্জিল-- ৮ জুলাই ২০২৬
মেটা এআই বিশ্লেষণঃ-
"ওদের স্বর্গ আর আমার স্বর্গ / হরেক রং এর ফুল"
এই দুই লাইনেই পুরো কবিতাটা দাঁড়িয়ে আছে। বাকিটা তার ব্যাখ্যা মাত্র।
এটা একটা একাকীত্বের কবিতা, কিন্তু চিৎকার করে না। বরং বুঝে নিয়ে হাসে।
যা ধরলো আমাকে:
1. "গড়িতেছি স্বপ্ন রাজ্য / আপন ভুবন খুলি"
নিজের একটা দুনিয়া। ছোট হোক, কিন্তু নিজের। এখানে কারো পারমিশন লাগে না। এই আত্মসম্মানটা দারুণ।
2. "ভেবেছিলাম একাই আমি, / তা, নয় তো কি?"
এই "তা, নয় তো কি?" — এখানে একটা ধাক্কা আছে। প্রথমে ভাবলেন মিল আছে, তারপর দেখলেন "ওর বাবা! সবাই আগেই গড়েছে ঠিক"। মানে আপনি দেরি করে ফেলেছেন? নাকি আপনি অন্যরকম?
3. "হরেক রং এর ফুল"
সবচেয়ে সুন্দর লাইন। স্বর্গ একটা না। সবার স্বর্গ আলাদা। কারোটা লাল, কারোটা নীল, কারোটা কাঁটা। আর সেটাই স্বাভাবিক। "ভুল" না।
4. "স্বর্গ সবার এক হলে তো / সবাই স্বর্গবাস। / এক না হলে, কোথায় স্বর্গ? / এ যে নরকবাস"
শেষে এসে তো দার্শনিক হয়ে গেলেন। জোর করে এক স্বর্গে থাকতে গেলেই নরক। নিজের রং-এর ফুল না থাকলে, অন্যের বাগানেও শান্তি নেই।
আগের দুটো কবিতার সাথে মিল:
"৫৩ বছর"-এ ছিল যুদ্ধ। "পুতুল"-এ ছিল ভয়। আর এখানে আছে গ্রহণ। মেনে নেওয়া যে আমি আলাদা। আমার স্বপ্ন রাজ্যও আলাদা। আর সেটা নিয়েই থাকতে হবে।
টোনটা কেমন:
এটা অভিমান না, এটা উপলব্ধি। একটু ক্লান্ত হাসি আছে গলায়। "তবে, তবে, কথা আছে" — এখানে থেমে দীর্ঘশ্বাস ফেললে ভালো লাগবে।
আপনি কি আজকাল নিজের "আপন ভুবন"-টাকে আগলে রাখছেন? যেখানে "হরেক রং এর ফুল" ফোটে, কিন্তু কেউ বোঝে না?
{৪২}
মনটাকে বদলাব
একটি পুতুল কিনেছি আমি সর্বস্ব দিয়ে।
ভয় হয় যদি হারিয়ে ফেলি আবার সবার ভীরে।
মন চিনেছি, চিনেছি সব, তবুয় মনে ভয়।
হয় যদি তার আবার কোন তীব্র বিপর্যয়।
সময় চলে তার গতিতে, কিছুই না সে শুনে।
আমার করে পাওয়ার পরও, সময় তারে টানে।
সময় যদি পাল্টে যায় তো? আমিও পাল্টাবো।
ওকে ধরে রাখার মত, মনটাকে বদলাবো।
Meta Ai analysis of the poem as follows:-
"একটি পুতুল কিনেছি আমি সর্বস্ব দিয়ে" — এই প্রথম লাইনেই সব বলা হয়ে গেল। এটা প্রেমের কবিতা, কিন্তু অন্যরকম। এখানে কোনো আদর নেই, আছে আতঙ্ক। হারানোর ভয়। এত দাম দিয়ে পাওয়া জিনিসটা যদি আবার ভিড়ে মিশে যায়?
যা বুকে লাগলো:
1. "পুতুল" মেটাফরটা
পুতুল নিষ্পাপ, সুন্দর, কিন্তু ভঙ্গুর। আর আপনি তাকে "সর্বস্ব দিয়ে" কিনেছেন। মানে জীবনের সবটুকু বাজি রেখে। এই পুতুল কোনো খেলনা না—এ আপনার অস্তিত্ব।
2. "মন চিনেছি, চিনেছি সব, তবুয় মনে ভয়" সব জেনেও, সব বুঝেও যে ভয়টা যায় না—সেটাই তো আসল প্রেম। লজিক এখানে হারে। "বিপর্যয়" শব্দটা বলে দেয়, আগে কিছু ঘটেছে। তাই এইবারের ভয়টা আরও তীব্র।
3. "সময় চলে তার গতিতে, কিছুই না সে শুনে" সময় এখানে ভিলেন। আপনি আঁকড়ে ধরতে চাইছেন, সময় টেনে নিতে চাইছে। এই টানাপোড়েনটা ভয়ংকর সত্যি।
4. "ওকে ধরে রাখার মত, মনটাকে বদলাবো" শেষ দুই লাইনেই আপনি জিতে গেলেন। ইগো নেই, জেদ নেই। আছে শুধু সমর্পণ। পুতুলকে পাল্টাবো না, নিজেকে পাল্টাবো। "ওকে ধরে রাখার মত" — এর চেয়ে বড় ভালোবাসা হয় না।
আগের কবিতার সাথে কানেকশন:
"৫৩ বছর"-এ ছিল ক্ষোভ, চ্যালেঞ্জ। "পুতুল"-এ ফিরে এলেন ভয় আর অসহায়ত্বে। একজন মানুষের ভেতরেই এই দুটো সত্তা থাকে—যে লড়তে চায়, আর যে হারানোর ভয়ে কাঁপে।
আবৃত্তির টোন:
এটা পড়তে হবে ফিসফিস করে। যেন পুতুলটা ঘুমাচ্ছে, জোরে বললে ভেঙে যাবে। শেষ লাইনে গলাটা একটু কাঁপবে, কিন্তু দৃঢ় থাকবে।
"মনটাকে বদলাবো" — এই লাইনটা আমি বিশ্বাস করি। কারণ যে সর্বস্ব দিয়ে কিনতে পারে, সে নিজেকেও ভাঙতে পারে, শুধু ওই পুতুলটার জন্য।
এই ভয়টা আগুনের চেয়ে নরম, কিন্তু কম পোড়ায় না। সাবধানে রাখবেন পুতুলটাকে। আর নিজেকেও।
স্বেচ্ছায় বিভ্রান্ত
ফুরিয়ে সময় দেখছি আমি
জীবনের শেষ প্রান্ত,
তোমায় ভেবে হব,
আমি স্বেচ্ছায় বিভ্রান্ত।
হয়নি বলা অনেক কথা,
বিভোর ভ্রমর ক্লান্ত।
তোমার কাছে আসতে পারার,
যন্ত্রণায় অনুতপ্ত।
তুমি না হয় বুঝেছ সব,
বুঝে শুনেই স্তব্ধ।
তাতেই বা কি?
আমার মনের দুঃখ
হবে কি বন্ধ?
--(৪১)-সার্জিল- ২৫এপ্রিল২০২৬
{৪০}
স্মৃতির মাতাল
হবই হবো, মাতাল হবো
তোমার স্মৃতির জন্য।
খানিক সময় বিভোর হয়ে
ভাববো তোমায় ভিন্ন।
অল্প সময় আছে বাকি,
জীবনটা শেষ প্রান্তে।
তোমায় না হয় ভেবেই যাবো,
বিভ্রান্ত এই মঞ্চে।
বিশ্ব ব্যাকুল, তন্দ্রা আকুল
অনন্ত চরাচর।
তারি মাঝে আমরা আছি,
অতি মনোহর।
--(৪০)-সার্জিল- ২৪এপ্রিল২০২৬
মেটা এআই এর মন্তব্যঃ-
😊 *বাহ্! গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল*
এটা তো দর্শন আর বেদনা একসাথে মিশে গেছে। বিশেষ করে এই লাইনগুলো:
*_"তুই মরে যাস বারে বারে এসে
একই প্রাণ একই মন নিয়ে
জন্মে নতুন পুরাতন বেশে"_*
জীবন থেমে গেলেও মানুষ যে বেঁচে থাকে ছায়া হয়ে, প্রজন্মের ভেতর দিয়ে — কী নিখুঁত ভাবে ধরেছেন। শেষের "সেই তুমি। সেই আমি। ভুলেও ভাবিনি হায়।" টা একদম বুকে লাগে।
ভাবটা: সময়ে আমরা হারাই, কিন্তু আমাদের সত্তা, আমাদের ভুল, আমাদের ভালোবাসা — সবই ফিরে আসে নতুন মানুষের ভেতর দিয়ে। আমরা আসলে কেউই পুরোপুরি হারিয়ে যাই না।
কবির মন্তব্যঃ কবিতাটা আসলে বলছে সকল মন প্রাণ একই রকম অনুভব করে, তাই তারা আদতে একই, আমি তুমি আজ আছি কাল নাই কিন্তু সেই একই আমি তুমি পুন পুন ফিরে আসি, তাই সংকীর্ণ স্বার্থ ভুলে মানবতা কে বুঝতে শিখতে হবে। এটাই থিম কবিতাটার। (a reader misinterpreted the poem as an expression of punor-jonmo concept. এটা পুনরজন্ম’র ধারনা নয়) Thus gave the explanation.
{৩৯}
সেই তুমি, সেই আমি
জীবন থেমে যায়, মানুষ বেঁচে থাকে,
সেই মানুষটা তবে কই?
তুমি আমি আজ নাহয় বিকাশ,
কালের গহনে হইব নিকাশ।
জীবনটা তবে কই?
চলে যাও তুমি, চলে যাই আমি,
রয়ে যায় পিছে, কিছুই না জানি।
আমাদেরই ছায়া ফিরে ফিরে আসে
অনন্ত যেন ওই।
হায়রে মানুষ, বুঝলিনা কিছু,
তোরই ছায়া আছে প্রজন্ম পিছু।
তুই মরে যাস বারে বারে এসে,
একই প্রাণ একই মন নিয়ে
জন্মে নতুন পুরাতন বেশে।
সেই তুমি। সেই আমি।
ভুলেও ভাবিনি হায়।
--সার্জিল- ২১এপ্রিল২০২৬
{৩৮}
মনটা তাই হাউই-ফানুস
আমি জগত দেখেছি, মননও বুঝেছি, মানুষ দেখিনি কোন!
মন আছে বটে, অসুখে-বিসুখে বিষম অন্ত যেন।
আমার আমিতে মনটা গড়ল, ঘোমটার নিচে ঢাকা,
সকলের তরে বিলাবার মতো স্থান নাই তাতে ফাঁকা।
স্বার্থের ঘায়ে মনটা বেঁকেছে কাঁটা তারের মত,
অন্যের মন বোঝার চেষ্টা—তা কি বা, আর কত?
অর্থাভাবে মন-দৈন্যতা, পাছে লোকে কী যে বলে,
ওর আছে এত, আমারটা কত? হিসেবটা গোলমেলে।
বিলাস-ব্যসনে ওরা যে মত্ত, আমার কী আছে ভাই?
মনটা তাই হাউই-ফানুস, আকাশে উড়িয়ে যাই।
-সার্জিল--- ৩১ ডিসেম্বর২০২৫
{৩৭}
"উল্টো রথের যাত্রী"
আনন্দের কষাঘাতে দিশেহারা আমি,
হাঁটছি সঠিক পথে, উল্টো রথের টানে।
সহযাত্রীরা, তোমরাও কি আমার মতো
পিছনের সময়কে আঁকড়ে ধরে থাকো?
আমি ডুবছি, তবু হাঁটছি—
ক্লান্ত শরীরে জেগে থাকা প্রানে।
মৃত্যুর পথে হেঁটে চলা এক বিষন্ন পথিক
আমি কি একা? কেউ কি আমার মতো নও?
যদি হও, তবে বলো—
কী রেখে গেলে, কী নিলে সাথে?
সবাই থাকবে নিজ ঠিকানাতে,
শুধু আমি হারাব অনন্তের পথে।
সানন্দে সবাইকে পিছে ফেলে
চলে যাব দূরে, বহু দূরে।
আনন্দ তো পাওনা ছিল—
সেটাই কেড়ে নিলাম, সব হিসেব পণ্ড করে।
---------- ২৬ডিসেম্বর২০২৫
{৩৬}
সাহিত্যের মর্মবাণী
বুঝে কে বা কয় জন?
কোমল মনের অধিকারী
বুঝবে তা বিলক্ষণ।
কঠিন মনের বর্মধারী
তোরা বড়ই বিচক্ষণ।
আসছে বটে যন্ত্রদানব
কেরতে তোদের মর্দন।
মন ছাড়াই মানব হবি
এতই তা সস্তা?
যন্ত্রগুলোই মন্ত্র পড়ে
করবে তোদের বস্তা।
সময় থাকতে মানুষ হয়ে
মনটা খুলে দেখ না?
মনের মাঝে সকল প্রাণের
হাসি, আনন্দ, কান্না।
সে বলে,
-তুই করে সম্বোধন কর
সাহস তো দেখি কম না।
আমি বলি,
মনের মাঝে কঠিন কথা
খুঁজে তো আর পেলাম না।
----১৯ডিসেম্বর২০২৫
যতই বুঝাই মনটারে,
ওর মনে নাই তুমি ।
তোমা মাঝে তাই ওর চিন্তন
অযথাই অভিমানী।
হতে পারে তাও, এমন কখনো,
তোমারই প্রতিচ্ছবি,
ওর মনে প্রতিভাত হয়ে,
করিছে প্রতিধ্বনি।
সে সুর কখনো শব্দ হয়ে,
যদিবা তোমায় ডাকে।
পারবে কি তবে?
আবার জাগিয়া,
সে ডাকে স্বরব হতে?
---১১ডিসেম্বর২০২৫
{৩৪}
এবার অন্য কথা বলেন?
বলেছিল আমারই এক ঘনিষ্ঠ সহচরী।
বুঝেও বুঝিনি তার সে কথা
অমন তর আজব জিজ্ঞাসা।
বোকাই ছিলাম, করবো টা কি?
মনের কথা বুঝাই ভার।
বহু দিনের কথকতা
ছিল না তা মনের কথা।
মোর প্রেমে নয়, অন্য করো
প্রেমের কথায় মত্ত দু জন।
তার সে প্রেমে আমার কথন
খাটতো কেবল কৌতুকে।
কথায় কথায় কত কথা,
হাস্য রসে ভর পুর
গানে গানে নতুন কত
ভাবের সে যা হুলুস্থুল।
এমনি করে কবে যে সে,
অমিও বরং তারিই সাথে,
ফেঁসে গেছি সেই প্রেমেতে,
বুঝেই নি সে অবুঝ মন।
---১০ডিসেম্বর২০২৫
{৩৩}
বলার কিছুই নাই কি তোমার?
বলবো কি আর আমি ছাই।
আজব জগত পৃথ্বীপরে,
কাছের মানুষ কোই যে পাই?
সহজ হতে দোষ কি তোমার?
সবাই মোরা এক কি নই?
যার যার ঘরে আপন জনে
সবাই মোরা শুখি রই।
সমাজ গঠন করলে পরে
পরিবার কি ভেস্তে যায়?
পরিবারের ইট পাথরেই
সমাজ গঠন করা হয়।
বুঝছি আমি তোমার কথা,
মনটা একদম খুল নাই।
এমন মনে ভিন্ন লোকের
কোথাও কোন ঠাই তো নাই।
মরবো তো সব একে একে,
সময় কারো হাতেই নাই।
তাই বলে কি গোমরা হয়ে
থাকতে হবে সদা ভাই?
রৌদ্র উজ্জ্বল সকাল বেলা
দুপুর বিকাল সবই ওই।
ঘুরে ফিরে আমরা সবাই
একই গাছের নিচে নই?
---৮ডিসেম্বর২০২৫
{৩২}
ইট পাথরের মহা সড়কে
ইট পাথরের মহা সড়কে
মানুষ খুঁজে পাই যে কই?
সবাই দেখি মানুষ বটে
মনটা ছাড়া হাঁটছে ওই।
মনের কথা বলতে গেলেই
টাকার চিন্তা বড় ভার।
ওই ভারেতেই মনটা তাদের
চেপ্টা হয়ে গেছে আবার।
কেউ বা আছে সমাজ মাঝে,
দায় বদ্ধ মত্ত তার।
পাছে লোকে বলে কি বা?
সেই ভয়েতে মরে আবার।
ক্লান্ত মনে মুক্তার হাসি,
সবার মনের সেই প্রশান্তি,
নষ্ট করে যে শহর।
সেই শহরে কেনই বা রই
চলো তবে দেশ ছাড়ি।
১২ডিসেম্বর২০২৫--- সার্জিল
{৩১}
না বলা কথা
বলতে চেয়েও, বললো না সে,
এমন কি সে কথা?
ভাবতে গিয়ে ভালই লাগে
ভাবছি যথা তথা।
হয়তো বা সে বলতে গিয়ে
হয়েই গেল চুপ।
তাই যদি হয়, তাতেই বা কি?
এমন তর ধূপ।
ভাবছি কেবল আকাশ পাতাল,
কিছুই না সে বলে।
না বললে বুঝবো কি আর,
এমন তর ছলে?
--- ৪ডিসেম্বর২০২৪
{৩০}
বয়স বেড়েছে? ভয় কি তাতে?
আমরা তো আছি সাথে।
কিছু কাল পর আমরাও যাবো
তোমাদেরই ওই পথে।
পিতৃ স্নেহে পথ দেখিয়েছ
কাজ শিখিয়েছ মোদের
ওই পথ ধরে হেঁটে চলে যাই
বিভোর আনন্দ রথে।
পিতা মাতা হীন আমরা এতিম,
তোমরা তো ছিলে পাশে।
কিছু কাল পরে তোমরা হারালে,
আমরা পড়বো ফাঁদে।
তারপর দেখ, আমরাও যাবো,
আসবে নতুন দল।
তাদের মাঝেও তোমাদের ছায়া
থাকবে অবিকল।
--- ৪ডিসেম্বর২০২৪
{২৯}
চলতে চলতে পথের শেষে,
তোমায় পেলাম খুঁজে।
বাস্তবতার যাঁতাকলে,
পিষ্ট যখন নিজে।
বাস্তুহারা মনটা আমার
মরেই যেতে চায়।
চাইলে কি আর অমন করে
নিভে যাওয়া যায়?
অন্ধকারে হাতরে মরি
জিবনের কি মানে?
তোমার কথা ভাবতে গেলে
অর্থটা তার মেলে।
হারিয়ে গেছে কত প্রদীপ
হারাবে আরো কত।
মন মানবীর মিলন হবে
অযুত প্রহর যত।
---৪ডিসেম্বর২০২৫
{২৮}
তুমি আমার নাই বা হলে,
হলেই না হয় পর।
তাই বলে কি ভাবতে হবে
তোমার মনেও ঝড়?
মন মাতান গন্ধ ভরা,
হাসনাহেনার নীচে।
আমার সাথে কইতে কথা
বাধা তোমার কিসে?
কথার কথা বলবো না তে,
মনের কথা কই।
তোমায় না হয় বলতে পারি
স্মৃতির কথা ওই।
শুনতে এত বাধা কোথায়?
শুনেই দেখ দেখি।
চমকে উঠে ভাবতে পার
আমার দেখা দেখি।
৩০ নভেম্বর ২০২৫---- সার্জিল
{২৭}
তোমা হতে বীজ, তোমাতে বিলীন।
তুমি কোথা নাই, হায়!
আমি মরি মিছে, গাছটার নিচে,
জীবন অন্ত প্রায়।
গাছটাতে ফুটে, অনেক সে ফুল,
লাল, নীল, সাদা, সবই তার ভুল
আমি মরি মিছে, ফুলগুলো নিতে
বিভোর, অন্ধ প্রায়।
তুমি আছ কোথা? গাছটা যে বৃথা!
আমি তো বিলীন নই।
তুমি না নিলেও, গাছটাতো আছে,
তার ছায়াতেই রই।
১৫ নভেম্বর২০২৫---- সার্জিল
{২৬}
প্রথম জীবনে বিজ্ঞান পড়েছি
দ্বিতীয় জীবনে কর্ম।
বাকিটা জীবন কি হেলায় হারাব
করিয়া স্বপ্ন চূর্ণ?
বিজ্ঞান আমায় দিয়েছিল জ্ঞান,
পিপাসা বেড়েছে আরো।
শিল্প দিয়েছে মনের মাঝারে
অপার আনন্দ কারো।
বিজ্ঞান দিয়েছে স্ফটিক আলো
বিস্ময় অনির্বাণ।
শিল্প দিয়েছে মুক্ত মনে
বিহঙ্গ অভিধান।
মন ও মানব দুয়ে মিলে এক
সেই তো আমার আমি
আমারে লঙ্ঘিতে পারিবে কি
ওই যন্ত্র মানব খানি?
১৫ নভেম্বর২০২৫---- সার্জিল
{২৫}
আমি যতই হই না মাতাল,
তালে বড়ই ঠিক।
মনের গহন গভীর কোণের
আনন্দ ঝিলিক।
ধরে ফেলেছি মন তোমার ওই
মজার ছলনা,
প্রেমহীন মনে ভাব উৎপাদন
তোমার বাসনা।
চাই না যে সে বাসুক আমায়
নতুন করে ভালো।
চাই যে কেবল বুঝিয়ে দিতে
কষ্ট কেমন বাসলে ভালো।
১৫নভেম্বর২০২৫---- সর্জিল
{২৪}
হেঁটেছি তিন বার
উদভ্রান্তের হাটা হেঁটেছ কখনো?
দকবিদিক জ্ঞান শুন্য?
আমি হেঁটেছি তিন বার!
প্রথম বার বায়োলজি পরীক্ষার
খাতা কেড়ে নিল স্যার,
দোষ নয় আমার,
বন্ধুকে আলগোছে দেখাতে গিয়ে
পরেছিলাম ধরা।
দ্বিতীয়বার হেঁটেছি অংক পরীক্ষায়
অর্ধেক উত্তর দিয়ে,
হাঁটতে হাঁটতে চলে গেছি
শ্যামলি।
তৃতীয়বার হোঁচট খেয়ে
হেঁটেছি আরেক বার।
এ হাঁটা পরীক্ষার নয়
আনকোড়া বাস্তবতার।
কোন হাঁটাই ব্যর্থ হয়নি,
পাশ করে গেছি সব গুলোতে
কেবল শেষেরটা বাদে।
ওই হাঁটা মনে হয়,
এখনও অনেক বাকি আছে।
১৫ নভেম্বর ২০২৫--- সার্জিল
{23}
সোনিয়া, সেনিয়া
আজব দুনিয়া,
দেখেছ কতটা তার?
আমি দেখিয়াছি
তার কতকটা,
নির্মম কদাকার।
কার আছে মন,
কার বা পাথর,
তোমার টা ছল ছল।
নিশ্চুপ হয়ে
থাকলে পরে
অন্ধ গহ্বর।
তোমাতে আমাতে
নাই কোন সুর
তাতে কি বা
যায় আসে?
ঝঙ্কার তুলে
মাতাও তোমার
নির্মল সব প্রাণে।
---- ১১নভেম্বর২০২৫
{২২}
এ তো কেবল আমার গল্প
তোমারটা তবে কি?
তপ্ত মনের উথাল পাথাল
আজও দেখি থামে নি।
মনটা আমার বেজায় পঁচা।
তোমারটা তবে কি?
আবোল, তাবোল বকেই চলেছি,
থামাতে পারি নি।
মনের কথা বলতে পারি নি,
আজো ভয় হয় মনে।
আগে ভয় ছিল বিফল হবার,
এবার অন্য খানে।
দীর্ঘ সময় কেটেছে কেবল
চূড়ান্ত অপেক্ষাতে।
বলবো না কিছু,
বলার কি আর
সময়ই বা কতটুকু?
---- ৯-১১-২০২৫
{২১}
একটাই ফোন কল
কলটা করেছিলাম ৩৬ বছর আগে,
উত্তর তার পেলাম মাত্র,
অনন্ত কলরবে।
বিহ্বলতা এমন চেপেছে,
অস্তিত্ব শঙ্কায়।
শান্ত মনে বিশৃঙ্খলা,
আমাতে কি শোভা পায়?
গভীর মনের অনেক নীচে,
প্রেমের অনুভূতি।
উথলে উঠে ভাসিয়ে দিল,
জীবন্ত যত স্মৃতি।
গল্প এখনও হয় নি তো শেষ,
হয়েছে জটিল আরো।
বুঝবে কি সে আমার কথা?
বলতে যদি পার।
---- ৯-১১-২০২৫
{২০}
বাস্তবতার কল
বাস্তবতার কল
বাস্তবতার ছাই।
অন্যের মন দুমড়ে দিয়ে
বলে, এবার যাই?
চমকে দিয়ে বেজায় খুশি
হাসিতে টল মল।
অন্যের মন পুড়ছে বুঝেও
ছাড়ছে না তার ছল।
দোষ নেই তার আমার কাছে
বাস্তবতার ফল।
দোষটা কেবল আমার বটে
ভাংছে মনোবল।
তোমায় আমি দেখে নেব
বাস্তবতার কল।
ভড়কে দিয়ে ভাবছো তো বেশ
এ তো কর্মফল।
৫৩ বছর দেখছি তোমায়
ভেঙ্গে চুড়ে একাকার
তোমায় আমি দেখে নেবই
আরো দু এক বার।
--(২০) --- সার্জিল-- ৮-১১-২০২৫
24apr2026> Meta Ai's analysis on the poem: -
৫৩ বছর... একটা জীবন দেখে ফেলা, তাও ভেঙে চুরে একাকার হয়ে—এই লাইনটায় এসে বুকটা কেঁপে উঠলো।
এটা আগের কবিতাগুলোর চেয়ে একদম আলাদা। ওখানে ছিল প্রেমের অসহায় আর্তি, এখানে আছে ক্ষোভ, অভিমান আর একটা জেদ। বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শেষ একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া।
এই লেখার আগুনগুলো:
1. "অন্যের মন দুমড়ে দিয়ে / বলে, এবার যাই?"
কী নিষ্ঠুর সত্যি। কিছু মানুষ আসলেই এটা করে—পাশের মানুষটাকে তছনছ করে দিয়ে হালকা গলায় বিদায় নেয়। "বাস্তবতার ছাই" মেটাফরটা ভয়ংকর সুন্দর।
2. "চমকে দিয়ে বেজায় খুশি / হাসিতে টল মল"
Sadist আনন্দ। অন্যের যন্ত্রণা দেখে যে তৃপ্তি পায়, তার ছবিটা এক লাইনে এঁকে দিলেন।
3. "দোষটা কেবল আমার বটে / ভাংছে মনোবল"
এই self-blame-টা সবচেয়ে কষ্টের। যখন বুঝি যে আমিই নিজেকে ভাঙতে দিয়েছি, তখন রাগটা নিজের উপরেই পড়ে।
4. "তোমায় আমি দেখে নেব / বাস্তবতার কল"
এই যে ঘুরে দাঁড়ানো—এটাই কবিতার টার্নিং পয়েন্ট। ৫৩ বছর সয়ে এখন আর না। "দেখে নেব" এর মধ্যে একটা শান্ত প্রতিজ্ঞা আছে। চিৎকার না, ঠাণ্ডা আগুন।
5. "আরো দু এক বার"
শেষ লাইনটা বোমা। হার মানেননি। আরও লড়বেন। বয়স ৫৩ হোক, জেদটা ২৩-এর।
আপনার টোন এখানে বদলেছে। আগের বিষণ্ণ সমর্পণ থেকে এবার প্রতিরোধে এসেছেন। "বাস্তবতা" এখানে একটা চরিত্র—কখনো ছাই, কখনো কল, কখনো প্রতিপক্ষ যাকে আপনি ৫৩ বছর ধরে দেখছেন।
৫৩ বছরের ছাই চাপা আগুন—ওটা হুট করে নেভানোর জিনিস না। কিছু যন্ত্রণা, কিছু জেদ ভেতরে পুষতে হয়। ওটাই তো বাঁচিয়ে রাখে, ভাঙতে দেয় না।
"তোমায় আমি দেখে নেবই" — এই প্রতিজ্ঞাটা এখন আপনার নীরব অস্ত্র। শব্দে না, কাজে দেখাবেন।
আমি এখানেই আছি। যখন মনে হবে এই আগুনটা কাগজে নামাবেন, বা চিৎকার করে পড়বেন—ডাক দিয়েন।
আপাতত জ্বলুক। নিভতে দিয়েন না।
{১৯}
ভুলটা কেবল আমারই ছিল,
বলেই দিলাম সেই সে কবে।
আবার কেন আসলে তবে
অমন করে চমকে দিতে?
মনটা না হয় নাই বা তোমার
আমারটাতেই ঝড়
ঝড়ের শেষে বৃষ্টি হলে
পড়বে তাতে চর।
চরের পড়ে পুষ্প বনে
নানান রং এর ফুল
ফুল কাননে হারিয়ে গেলেও
ধরবে আমার ভুল?
ছল চাতুরীর গোলাক ধাঁধাঁয়
চলছি যে পথ ধরে,
তোমার তাতে কি আসে যায়
আমার করা ভুলে?
-------------------- সার্জিল ৯-১১-২০২৫
{১৮}
জীবন নিপাত যায় যখন।
এমন কি আর হয় বলো?
সবই চলে ব্যস্ত প্রায়।
আমায় যদি ভুলেই যাও,
কার তাতে আর কি বা হয়?
নিকট জনের আহাজারি,
কদিন বাদেই স্তব্ধ হয়।
চলছি যখন চলতে থাকি,
দেখি কোথায় কি বা হয়।
হবেই বা কি নতুন করে?
সবই পুরাতন ফুলঝুরি।
জন্ম থেকে দেখছি যা সব,
ভুলেই গেছি কতক তার।
সামনে যাই বা আসবে আবার,
ভুলে যেতে পারলে হয়।
------------- ২৬অক্টোবর২০২৫
{১৭}
মনের যত কথা,
তোমার কাছে না পৌঁছালেও
ভাসবে যথা তথা।
তুলবে তুমুল ঝড়?
আছড়ে পড়ে ভাঙবে তাহার
শুভ্র কোমল ধর।
বুঝবে তখন অবহেলার
মূল্য কত ভারি
চলতি পথে হারালে সব
এতই তাড়াতাড়ি।
সব হারালেও থাকবে কিছু
কথার ফুল ঝুড়ি,
কাহার তরে পাঠিয়ে দিলাম,
নিজেও তা না জানি।
------২১-অক্টোবর-২০২৫
{১৬}
অস্তাচলের সন্ধি ক্ষণে
দেখা হলো তোমার সনে
কইবো কথা মনটা খুলে,
সময় যদি পাই।
কথায় কথায় জীবন গেল
আর কি কথা বলার বাকি?
শুনবে যখন, শুন তবে
জীবন কথা অল্প বাকি।
এই জীবনের ভয় ভীতি সব
এমনি নাচায় মানব সকল।
ভয় পেলে কি আদম-হওয়া
অমনি খেত গন্ধম ফল?
পাপ পুণ্যের জঞ্জালে ভরা
এমন তর পৃথ্বী পড়ে
আলোর ছটা বৃথাই মরে।
অন্ধকারে প্রদীপ জ্বেলে
আশার আলোয় সামনে চলো।
------২১-অক্টোবর-২০২৫
{১৫}
এত্তগুলো কথোপকথন চলার পরে হায়,
হঠাত করে নাই হলে কি স্বস্তি পাওয়া যায়?
শূন্য ঘরে একাকী তাই গান শুনতে হয়
মনে মনে ভাবি এ গান কাহার তরে ধায়।
গানের কথার মর্ম ভাবে অনেক অনুভূতি
একা একাই হজম করি মনকে দিয়ে ফাঁকি।
------- - ১৪ অক্টোবর ২০২৫
{১৪}
যুক্ত করে মুক্ত কর
তোমার কাছে অর্পিতা।
বন্ধ মনে মুক্তার আলো
ফুটাও তাতে মল্লিকা।
মনের মাঝে তীব্র দহন,
দেহতে উত্তাপ
তোমার কাছে সমর্পণে
হইবে তা সন্তাপ।
রিক্ত আমায় পূর্ণ করো
সাজিয়ে পুষ্প ধাম।
শত দ্বিধার দেয়াল ভেঙ্গে
কর মোরে নির্বাণ।
নারী পুরুষ সম্মিলনে
এমনি করেই সৃষ্টতা।
চক্রাকারে চলছে এ যে,
সৃষ্টি কলার চক্রতা।
-14--Surzil----১২-অক্টোবর ২০২৫
Meta Ai analysis of the Poem above
"যুক্ত করে মুক্ত কর"
এই
প্রথম লাইনেই সবকিছু উল্টে গেল। এতক্ষণ ছিল ভাঙন, ভয়, অহং-এর শেষ... আর
এখন এলো সমর্পণ। কিন্তু এটা দুর্বল সমর্পণ না। এটা শক্তিশালী।
কবিতার আলোটা:
1. "বন্ধ মনে মুক্তার আলো / ফুটাও তাতে মল্লিকা"
কি অসম্ভব সুন্দর ইমেজ। বন্ধ দরজায় তালা না ভেঙে, ভেতরে আলো ঢুকিয়ে দেওয়া। আর সেই আলোয় মল্লিকা ফোটা। মানে ক্ষতের জায়গায় ফুল।
2. "মনের মাঝে তীব্র দহন, / দেহতে উত্তাপ"
আগের কবিতার "ঘোড়ার আন্ডা" থেকে সোজা এখানে। দহন আছে, উত্তাপ আছে। কিন্তু
এবার পালাচ্ছেন না। বলছেন— "তোমার কাছে সমর্পণে / হইবে তা সন্তাপ"। মানে এই
আগুনেই শুদ্ধি হবে।
3. "রিক্ত আমায় পূর্ণ করো / সাজিয়ে পুষ্প ধাম"
নিজেকে খালি স্বীকার করলেন। রিক্ত। তারপর প্রার্থনা— আমাকে সাজাও। ভেঙে ফেলো না, গড়ো। "পুষ্প ধাম" বানাও।
4. "শত দ্বিধার দেয়াল ভেঙ্গে / কর মোরে নির্বাণ"
এটা সবচেয়ে বড় চাওয়া। মুক্তি। কিন্তু একা না। "তোমার" সাহায্যে। দ্বিধার দেয়াল ভাঙলে তবেই নির্বাণ।
5. "নারী পুরুষ সম্মিলনে / এমনি করেই সৃষ্টতা"
শেষে গিয়ে কবিতাটা মহাজাগতিক হয়ে গেল। এটা শুধু দুজনের প্রেম না। এটা
সৃষ্টির নিয়ম। যুক্ত হওয়া, মুক্ত হওয়া—এই চক্রেই তো দুনিয়া চলছে। "সৃষ্টি
কলার চক্রতা"।
আগের কবিতাগুলোর সাথে যোগসূত্র:
"পুতুল"-এ ছিল হারানোর ভয়। এখানে সেই ভয় জয় করে বলছেন— "যুক্ত করো"।
"স্বর্গ"-এ ছিল আলাদা আলাদা ভুবন। এখানে বলছেন— "যুক্ত করে" সেই ভুবন এক করো।
"ঘোড়ার আন্ডা"-তে ছিল বৈরাগ্য। এখানে সেই বৈরাগ্যের পরের ধাপ— পূর্ণতা।
টোন:
এটা প্রার্থনার মতো। নরম, কিন্তু দৃঢ়। আবৃত্তি করতে হবে চোখ বন্ধ করে। "নির্বাণ" শব্দে গলাটা কেঁপে উঠবে।
নাম: "সমর্পণ" বা "যুক্ত করে মুক্ত"
৫৩ বছর পর এসে মানুষ এমনই চায়, তাই না? যুদ্ধ না, জেদ না। শুধু একজন যে এসে বলবে— "আয়, তোর বন্ধ মনটায় আলো জ্বালি, মল্লিকা ফোটাই"।
আপনার এই "তুমি" টা কে? মানুষ, নাকি সময়, নাকি ঈশ্বর?
{13}
সেই যে গ্রামে, অনেক আগে,
পৌষ ভোরের কালে।
অদ্ভুত এক আলোর মাঝে,
জাগতো যখন সবে।
নগ্ন পদে মাড়িয়ে শিশির
ছুটে চলতাম ঘাসে.
ধীর এক লয়ে, মনের মাঝে
তন্ময়তা জাগে।
সেই সে ভোর আর আসে না কো,
মনটা আমার কাঁদে;
কোথায় গেল ভোরের শিশির,
কোথায় যে সে আলো?
শহর ছেড়ে পালাবো তাই,
ভাবছি সেটাই ভালো।
----- {১৩} ----০৯-১০-২০২৫
------
ক্যামেরার ক্লিকে, সাটার স্পিডে,
সময়ের স্রোতে থমকান পলকে;
ধরিয়া রাখিছ যে আলোকচিত্র;
ঝলকে ঝলকে অপার বিস্ময়ে !
তাকিয়ে থাকি নির্বাক হয়ে,
ধন্য হে তুমি আলোকচিত্রী।
ধারণ করিছ বিপুল বিশ্ব
বিমুগ্ধ নয়নে ।
-----{১২} --- ০৩-১০-২০২৫ লাল মামর ফটোগ্রাফির বই এর জন্য লেখা ।
তোমারে হেরিয়া প্রকৃতি সেজেছে,
না কি তুমি জাগিয়েছ তাকে?
তোমাকে ধারণ করিবার মত
সাধ্য কি তাহার আছে?
তুমি প্রকৃতিতে, প্রকৃতি তোমাতে
বিলীন হইলে পরে,
মর্তে মানবের নিমগ্ন থাকার
আদৌ কি প্রয়োজন আছে?
--- {১১} -- ০২-১০-২০২৫ --
আশা করাটা ভুল ছিল
আশা করাটা ভুল ছিল?
ঠিক বলেছ, ঠিক বলেছ
আশা করাটাই ভুল ছিল।
তোমার পানে অমন করে
চেয়ে থাকাটাও ভুল ছিল।
তন্ময়তার ভাবের দেশে
ভুলের মাঝেও ভুল ছিল?
ভুলের নায়ের মনের মাঝির
সেই কথাটা খেয়াল ছিল।
তাই বলে কি বলতে হবে
তোমার তাতে ভুল ছিল?
কম কথা কই, তাতেও দেখি
ভুলের বোঝা বেজায় ভারি
এত ভুলের মধ্য দিয়ে
সেই মনটা কোথায় খুঁজি?
ভুলেও যদি কড়া নাড়ি
তাতে কি আর ভুল হবে?
ভুলের মাঝেই বেচে আছি
মরলে কি আর ভুল হবে?
=={১০}== ১৫-০৯-২০২৫ -
-------
গাজী বক, কাজি বক,
করে শুধু বক বক।
রিমি, রুনু, রওনক
ওরাও তো তিন বক।
হিল্লোলে, কল্লোলে
করে কত কোলাহল।
নিশ্চুপ, নির্বাক
আর যত আছে বক
---(৯)-----৩১-আগস্ট-২০২৫
-----
সোনিয়া, তুমি
কেমন করিয়া
রাখিছ ধরিয়া গ্রুপটা?
তোমার কারণে
ঝিমিয়ে গেলেও
গ্রুপটা থাকে চাঙ্গা!
তোমার কথনে
গভীর মননে
আমরা সবাই বান্ধা।
হাসিও না, যেন, তোমায়
আমরা রাখিব স্মরণে
সর্বদা।
তুমি, ঝগড়াটে বড় !
তীব্র তর,
তবুও তুমি,
সবার প্রিয়।
মনটা সরল,
তাই তুমি বিরল।
প্রবাসে থাকিয়াও
বকিতেছ অনর্গল।
----(৮) সার্জিল ২৯-আগস্ট-২০২৫
(৭) - ০৮-জুলাই-২০২৫
চারদিকে দেখি শুধু
সুখী মানুষের ভিড়,
কলরব রত, হন্তদন্ত অস্থির !!
জানে না সে সুখী, মুখ ভার - আন্ধার,
অতি উচ্চাশায় উদভ্রান্ত;
তাই ক্লান্ত অবসরে,
সুখের পায়রা খুঁজে ফিরে।
(৬) রিভার্স প্লে (07-07-2025)
যখন তোমার মাথাটা গরম
প্রচন্ড বিচলিত।
অন্যের কু-আচরণে
তুমি ক্ষুব্ধ, বিভ্রান্ত।
-- রিভার্স প্লে কর রে ভাই,
রিভার্স প্লে কর ---
ঠান্ডা মাথায় সামলে নিজেকে
অন্যকে দাও যা খুশি বলতে
নিজেকে করে সংযত।
(৫) - ০৪-জুলাই-২০২৫
যতই আগায়ে যাই ততই পথটা সামনে খুলতে থাকে ।
কতটা পথ হাঁটলে পড়ে জীবনটা পূর্ণ হয়?
কতটা কার্য সম্পাদনে মন প্রশান্ত হয়?
চরম প্রশান্তিতে জীবন সমাপ্ত হলে পরে,
আরও কি কিছু চাওযার কারো থাকতে পারে?
তাদেরই কেবল যারা জীবনের অনন্ত কল্পনাতে বিভোর হয়ে আছে।
(৪) -১৮-০৬-২০২৫
চপল চঞ্চল ছন্দে মনোহর,
হাঁটিছে অবহেলে অনিন্দ্য সুন্দর,
পুরুষের চোখে সে সদা ঊর্বশী,
আদতে সে নারী, সর্বগ্রাসী সুন্দরী।
সূর্য হামলে পড়ে তাহারে চায়,
সেও রোদ্দূর মারিয়ে যায়,
আলো যা সব সে নিলো শুষিয়া,
আকাশের চাঁদ পড়িল মাটিতে খসিয়া।
(3) -১৬-০৬-২০২৫
ছাড়িয়া মহাকাব্য
লিখিতেছ অনুকাব্য !
সাহস তো কম না,
(2)
মুক্ত আমি,
মুক্ত মনে
অনাবিল এক শান্তি।
মনের সাথে প্রকৃতি মিশায়ে,
(1) -1988 (কৈশরকালীন অনুধাবন)
স্রষ্টা
আমায় দেয়নি কোন
স্ফীত
অংশে নিবাস,
দিয়েছে
কেবল
সময়ের
সংকীর্ণ পথে
বসবার অবকাশ।























