Friday, September 22, 2023

কনফ্লিক্ট রেজোল্যুশন বা কলহ নিরসন প্রসঙ্গে

 

খামাখা মানুষ মানুষকে ভুল বুঝে, কৈশোরে এটা ছিল আমার মৌলিক ধারণা। তখন আমার অভিজ্ঞতা কম ছিল আর সরল চিন্তা থেকেই এরকম ভাবতাম আমি। আমার স্ত্রী আমার খালাত বোন, বিয়ের আগে যখন খালার মত ছিল না কিন্তু ওর মত ছিল তখন একদিন ওর হাতে হাত রেখে বলেছিলাম আমি দেখায়ে দিব যে দুজনের মনের মিল সত্য হলে দাম্পত্য কলহ হওয়া সম্ভবই না। কিন্তু সেই আমি বিয়ের তিন দিনের মাথায় হয় এসপার না হয় ওসপার করার মত কান্ড করে বসেছিলাম। ওকে তিন দিন ভাববার সময় দিয়েছিলাম ও থাকবে না চলে যাবে। তিন দিনের মাথাও ও কিছু না বলাতে জানতে চাইলাম, ও বললো যাবে না। এই তিন দিন কথা বন্ধ ছিল। ওর উত্তর শুনে ঘাবড়ে গেলাম, বলে কি! এত কিছুর পরও ও থাকবে? আসলে আমার মনে হতো ওকে সারাক্ষণ বিনোদন দিয়ে রাখতে হবে, কিন্তু ও মুখ গোমড়া করে রাখতো তাতে আমার মনে হতো ওকে ঘরে এনে আমি মারাত্মক ভুল করে ফেলেছি, আর অতিরিক্ত বিনোদন দিতে গিয়েই যত বিপত্তি হতো। আজ ২৫ বছর পর আমি বুঝি যে ওর সান্ত মুখটাই দেখতে ব্যথা ভরা লাগে আমার কাছে তাই ওকে দেখে আমি যা ভাবতাম তা মারাত্মক ভুল ছিল। বলা হয়ে থাকে ফেইস ইজ দ্যা ইনডেক্স অব মাইন্ড কথাটা সর্বত ভাবে সত্য নয়। হোচট খেয়ে শিখতে হয়েছে সেটা।

আমার এলাকার ছোটবেলার বন্ধু সোহেল, একই সাথে আমরা সোনালী ব্যাংকে জয়েন করি ২০০৪ সালে। ও সিনিয়র অফিসার আইটি আর আমি অফিসার আইটি হিসেবে। ও’র কথা বার্তা ও কথা বলার ভঙ্গি সব সময়ই আমার কাছে বিরক্তিকর লাগতো। মনে হতো ও দাম্ভিকতার সাথে অহং বোধে সব কথা বলে। পরে বুঝতে পারলাম ওরকম ভাবাটা আমার মারাত্মক ভুল, ও’র মুখভঙ্গিটাই এমন যে কথা বললে মনে হবে ও দাম্ভিক ভাব নিয়ে কথা বলছে। আসলে কিন্তু ও মোটেও তা নয়। সাধারণ স্বাভাবিক ও আমাদের মত করেই কথা বলছে কিন্তু ও’কে আমি ভুল বুঝতাম। আমার ভুল ভেঙ্গেছে অনেক পরে। আমাদের কলিগ আরেকটা মেয়েকে হাটতে দেখতাম দুলকি চালে হাটে, মনে হবে সে না জানি কত সুন্দর দেখতে আর তার অহমিকায় সে ও’রকম দুলকি চালে হাটে বলে আমার মনে হতো। পরে বুঝেছি ওটা তার নিজের হাটার ধরন, যখন থেকে হাটতে শিখেছে সে ও’ভাবেই শিখেছে। সে দেখতে কাল হতে পারে বা আমার দৃষ্টিতে অতটা সুন্দর মনে না’ও হতে পারে তবে সে তার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী সেটাই যথেষ্ট। আমার তার ব্যাপারে ভুল বুঝাটা আমি নিজেই ধরতে পেরেছি। এ তো গেল দুটো মাত্র উদাহারন যা আমি অন্যর সম্পর্কে ভুল বুঝেছিলাম ও তা পরে সংশোধন করে নেই। কিন্তু এরকম বহু উদাহারন আছে যার কারণে মানুষ মানুষকে খামাখা ভুল বুঝে সম্পর্ক নষ্ট করে কিংবা কার বলা কথার ভুল ব্যাখ্যা করে ভীষণ কলহতে মেতে উঠে।

আমার লেখা যারা পড়েছেন তারা দেখবেন আমি পুঁথিগত উদাহারন খুব কম দেই, মানে হলো বই এর থেকে জ্ঞান অর্জন করে সেই জ্ঞান লেখার মধ্যে ঝাড়া আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি মনে করি বই এর আগে আসে কোন বিষয় নিয়ে মানুষের চিন্তা ভাবনা ও তার অভিজ্ঞতা যা পরবর্তীতে সে বই আকারে বা লেখা আকারে প্রকাশ করে। মানুষের মধ্যে চিন্তার সূত্রপাত করতে পারলেই বাকিটা সে নিজেই বুঝতে পারে তার জন্য বড় বড় লেকচার শুনা কিংবা বই পড়ার দরকার হয় না । ২০০৪ কি ২০০৭ সালে কনফ্লিক্ট রেজুলেশন সম্পর্কে শ্যামল কান্তি নাথ সারের একটা পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইড শো আমার হতে চলে এসেছিল যখন এমডিস স্কোয়াডে আমার পোস্টিং ছিল। শ্যামল কান্তি নাথ স্যার এক সময় আমার ইমিডিয়েট বস হন, তাও জয়েনিং এর পর ৫ম বছরের শুরুর দিকে। এসপিও থেকে উনার এজিএম প্রমোশন কয়েকবার পিছাল দেখে উনি খুব দুঃখিত ছিলেন আর বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে লেখা তার আক্ষেপ ভারাক্রান্ত চিঠি আমি টাইপ করে দিয়েছিলাম। উনি পরবর্তীতে পিডি’র এজিএম হন তার পর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের ডিজিএম হওয়ার পর রিটায়ারমেন্টে যান। উনার কাছ থেকে পাওয়া কনফ্লিক্ট রেজুলেশন ডকুমেন্ট টা হাতে পেয়ে আমি যার পর নাই খুশি হয়েছিলাম যে ভাল করে পড়ে দেখবো। প্রিন্ট দিয়ে টেবিলের কোনায় রেখে দিয়েছিলাম যে সময় পেলেই পড়বো কিন্তু অন্যান্য কাজের ঝামেলায় বহু দিন পর পর একটু আধটু পড়ার সময় হতো। তাই পুরোটা পড়া হয় নাই, যে টুকু পড়েছি তাতে দেখলাম, ওটাতে প্রথমে কনফ্লিক্ট এর কারণগুলো ব্যাখ্যা করেছে তার পর তা নিরসনে সমাধান ব্যাখ্যা করেছে। যেটুকু মনে পর কনফ্লিক্ট এর প্রথম কারণটি ওখানে বলা ছিল সম্পদের অপর্যাপ্ততা বা স্কারসিটি হলে কনফ্লিক্ট বা দ্বন্দ্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেমন আপেল আছে দুটা কিন্তু খেতে চায় তিন জন তা হলে তো কনফ্লিক্ট হবেই, মানে কাড়াকাড়ি হবে। সমাধান বলা ছিল সেক্ষেত্রে একটা উপায় হলো সম্পদ বাড়ায়ে দাও, যদি পার তো দুইটার বদলে তিনটা আপেল দিয়ে দিলেই তো সমাধান। বিষয়টা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফুটবল খেলা দেখে মন্তব্য করার মত হয়ে গেল মনে হয়। সে বলেছিল একটা ফুটবল নিয়ে বাইশ জন কাড়াকাড়ি না করে বাইশ জনকে বাইশটা বল দিয়ে দিলেই তো লেঠা চুকে গেল। সে যাই হোক, এটা কনফ্লিক্টের বা কলহর একটা অন্যতম কারণ মাত্র। আর নানা কারণে কনফ্লিক্ট সিচুয়েশন হতে পারে যার সব গুলো নিয়ে গবেষণা ধর্মী কোন লেখা আমার লেখার ইচ্ছা নেই এখানে। যার প্রয়োজন সে লাইব্রেরিতে কিংবা গুগল মামার কাছ থেকে জেনে নিতে পারবেন। তবে কয়েকটা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রের কনফ্লিক্ট নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কথা শেয়ার করবো যা অন্য কেউ জানলে তাদের কাজে আসতেও পারে আর আমর জন্য তা চিন্তার পরিচ্ছন্নতা তৈরি করবে তারই উদ্দেশ্যে এই বিষয়ে লেখা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আমার প্রথম চাকুরীতে এন্ট্রি দাতা এক ইন্ডিয়ান ভদ্রলোক যার নাম দেভজিত সরকার, যাকে আমি আমার প্রফেশনাল গুরু হিসেবে সম্মান করি এখনো। ২০০০ সালের শেষের দিকে আগস্ট কি সেপ্টেম্বর মাসে সিলেটের এন.আই.আই.টি সেন্টারে উনার এক দিনের কমিউনিকেশন স্কিলের ওয়ার্কশপে নিজের ছাত্রদের সাথে আমিও অংশ গ্রহণ করেছিলাম আর ওটা ছিল আমার জন্য এক বৃহৎ শিক্ষা। ওই ওয়ার্কশপের স্লাইড শো বানায়ে আমি বহু জায়গায় ওই দিনের পুর বক্তব্য অনেককে বলেছি। ২২ বছর পর পুরানো সিডিতে সংরক্ষিত সেই লেকচার স্লাইড শো তুলে এনে আমার তিন সন্তানকেও শুনিয়েছি। ওখান থেকেই জেনেছি যে সকল মানুষিক কলহ’র মূল কারণ কমিউনিকেশন স্কিল এর অদক্ষতা বা যোগাযোগের অদক্ষতা কিংবা যাকে বলা যায় ভাষাগত বা ভাষাহীন যোগাযোগের অদক্ষতা। আজ সোনালী ব্যাংকে নতুন জয়েন করা অনেকের মধ্যেই এমনকি উচ্চতর পদবী ধারী অনেকের মধ্যেই আমি সেই কমিউনিকেশন স্কিলের ত্রুটি গুলো ধরতে পারি দেভজিত সরকারের সেদিনকার ওয়ার্কশপের অর্জিত জ্ঞান দিয়ে। আবার কার কারো মধ্যে সেই দক্ষতার কৌশলগুলোও প্রয়োগ করতে দেখি, তখন বুঝতে পারি তারা বিষয়গুলো জানে। ওই ওয়ার্কশপের অর্জিত ঞ্জানের ভিত্তিতেই আমি নিচের কলহ পরিস্থিতি ‍গুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবো আর তার সমাধান কি হতে পারে তাও বলার চেষ্টা করবো যতটুকু আমার বিদ্যা বুদ্ধিতে কুলায় ততটুকুই। কারো কাছ থেকে ধার করা কোন বক্তব্য দিয়ে নয় বরং আমার নিজের চিন্তা ভাবনা ও অভিজ্ঞতা থেকেই সমাধানের পথ দেখাবো। লেখাটা অনেকটা উইজডম বা প্রজ্ঞা শেয়ারিং এর মত।  

দাম্পত্য কলহ প্রসঙ্গেঃ
অন্তর্জালে (ইন্টারনেটে) ভাইরাল হওয়া একটা হাসির গল্প হলো এরকম। (“রাগ করে বাবার বাড়ি চলে গেছে স্ত্রী। অসহায় স্বামী স্ত্রীর কাছে ফোন দিয়ে অনুনয় বিনয় করছে। এক পর্যায়ে স্ত্রী নরম স্বরে বলছে, স্ত্রী :- আচ্ছা টেবিলে গ্লাস  আছে না? স্বামী :- হুম আছে। স্ত্রী :- ঐটা হাতে নাও। স্বামী :- নিলাম। স্ত্রী :- এবার হাত থেকে গ্লাসটা ফেলে দাও। স্বামী :- ওকে ফেলে দিলাম। স্ত্রী :- এবার দেখ গ্লাসটা ভেঙে গেছে। তুমি চাইলেও ঐ টুকরো টুকরো গ্লাসের খণ্ডগুলো আর জোরা লাগাতে পারবে না। লাগাতে পারলেও সেটা আর আগের মতো হবে না। ঠিক তেমনই মন ও বিশ্বাস কবার ভেঙে গেলে সেটা আর জোরা লাগানো যায় না। কোন ভাবে লাগানো গেলেও তা আর আগের মতো হয় না। স্বামী :- কিন্তু গ্লাসটা তো ভাঙ্গেনি, কারণ সেটা স্টিলের ছিলো স্ত্রী :- হায়রে কপাল আমার । তুমি আর শোধরাবে না। বুঝেছি এই পাগলটাকে নিয়েই আমাকে সারা জীবন চলতে হবে। আমি রেডি হচ্ছি তুমি তাড়াতাড়ি এসে আমাকে নিয়ে যাও।” ) এ তো গেল স্বামী স্ত্রীর ছোট খাট মজার ঝগড়ার গল্প। এর চেয়েও মারাত্মক মারাত্মক পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে দাম্পত্য জীবনের কলহ। আবার এই ইন্টারনেটেই আরেকটা ভিডিও দেখেছিলাম যেখানে এক রিক্সায় স্বামী তার স্ত্রীকে হাত দিয়ে নামতে বাধা দিয়ে ধরে রেখেছে, রিকশাওয়ালা পরেছে বিপদে, এরা রিক্সাও ছাড়ে না ওভাবেই কয়েক ঘণ্টা বসে আছে, রিক্সা ওয়ালা লোকজনের শরণাপন্ন হলে মহিলাটা উত্তর দেয় পাসের জন তার স্বামী। স্বামী মহাশয় ভীষণ জেদি সে কোনভাবেই তার স্ত্রীকে রিক্সা থেকে নামতেও দিচ্ছে না। আর ওভাবেই তারা ঘনটার পর ঘণ্টা বসে আছে। লোকজন বলে কয়েও ভদ্রলোককে রাজি করাতে পারছে না তার হাত সরায়ে নিতে। মানে হলো দুজনের ঝগড়ার পর বউ চলে গিয়েছিল বাপের বাড়ি এখন যখন আবার পেয়েছে তখন স্বামী তাকে ছাড়বে না আবার তাদের ঝগড়ারও কোন সমাধান করবে না। একবার একটা মুভি দেখেছিলাম ছোট বেলায় বিটিভির মুভি অফ দ্য উইকে। এক আঁকিয়ে একটা ছবি শেষ করতে পারছে না ওদিকে যে ছবিটা কিনছে সে তাগাদা দিচ্ছে। আঁকিয়ে মানে আর্টিস্ট ২৪ ঘনটার সময় চেয়ে নিয়ে কি করলো দেখেন, এক দৌর দিল!! বিভিন্ন জায়গায় খোজ করতে থাকলো তার বউ কই গেছে, খুঁজতে খুঁজতে সে যেখানেই যায় তার বউ সেখান থেকে অন্যত্র চলে গেছে ততক্ষণে, সে আবার দৌর বউ এর খোজে, এভাবে সিনেমাটা চলতে থাকে, শেষে যখন বউকে পায় তখন সে তাকে কোন কথা না বলে সোজা কোলে তুলে নিয়ে বাড়ি নিয়ে আসে তার পর তার ছবিটা আঁকতে বসে ও শেষ করতে সক্ষম হয়। মজার ব্যাপার হলো বউ ঘরে না থাকার কারণে সে ছবিটা শেষ করতে পারছিল না। এরকম মজার ছায়াছবি বাংলাদেশে তৈরি হয় না যা আফসোসের বিষয় বটে।

শুরু করেছিলাম আমার স্ত্রীর সাথে আমার দাম্পত্য কলহর ইতিহাস দিয়ে, বিয়ের সেই প্রথম জীবনে আমি লিস্ট করে ৩৫ টা কারণ আবিষ্কার করেছিলাম যার কারণে ওর সাথে আমার দাম্পত্য টিকবে না। আজ ২৫ বছর পার হয়ে গেছে আমরা ঠিক ঠাকই আছি, বাচ্চা তিনটাও ভাল আছে বাপ-মা এর মধ্যে ঝগড়া হতে দেখে না। আমার বাবা-মা যখন ঝগড়া করতো তখন পাড়া পড়শি এক হয়ে যেত। একবার আমি বাসা থেকে বের হয়ে মিজান চাচা (বাবার ছোট ভাই) এর বাসায় চলে গিয়েছিলাম আর বলেছিলাম এবার মনে হয় এসপার ওসপার হয়েই যাবে। বাবা মারা যাওয়ার পর মা পাড়ার রাস্তায় বসে যে মাতম করেছে তা দেখলে কেউ তাদের দাম্পত্য কলহ  যে হতো তা কল্পনাই করতে পারবে না। দাম্পত্য কলহ তাই বিবাহিত জীবনে সম্পর্কের নবায়নে অভূতপূর্ব সহায়তা করে থাকে। যে দম্পতির মধ্যে কলহ হয় না তা সহজেই ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সব থেকে ভয়ংকর হলো দুজনের মধ্যে যখন কেউ কথা বন্ধ করে দেয়। এতে কমিউনিকেশন গ্যাপ তৈরি হয় যা আর ভাংতে চায় না। এই বরফ গলানর জন্য তাপ দরকার, উত্তপ্ত বাক্যালাপও দরকার তখন। দাম্পত্য জীবনে যত কলহেই হোক কথা বন্ধ করা উচিত না। হই চই হোক কিংবা নিঃশব্দ বাদ প্রতিবাদ হোক দু পক্ষের মধ্যে সংলাপ চলতে দিতে হবে। তা ভারভাল বা ভাষাগত হোক বা ননভারভাল বা ভাষাহীন হোক তা হতেই হবে তা না হলে সমাধান আসবে কোথা থেকে। এগুলো আমাদের উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সমাজের উদাহারন। স্বল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত নিম্ন বিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্ত সমাজে বিয়ে ভেঙ্গে যায় মূলত অর্থনৈতিক কষ্টের কারণে, আমার বাড্ডার বাসার এক ভাড়াটিয়ার এক সুন্দরী বউ ছিল। ওই ভদ্রলোক প্রাণ কোম্পানিতে এ্যাডভেরটইজমেন্টে কাজ করতো। তার বউ একদিন কার সাথে যেন চলে গেল এক বাচ্চা সহ। ভদ্রলোক কান্না কাটি করেছে সবার সামনেই। আমার সাথে যখন দেখা হলো তখন বললো ভাই আমি দশজন মেয়েছেলের সাথে কাজ করি আমার না হয় অন্য সম্পর্ক বা অনৈতিক সম্পর্ক থাকার কথা কিন্তু আমার স্ত্রীর কিভাবে তা থাকলো। প্রকৃত পক্ষে সে তার স্ত্রীকে কম সময় দিতে পারতো আর উপার্যন নিয়ে প্রচুর ব্যস্ত থাকতো তার পরও যথেষ্ট উপার্যন মনে হয় করতে পারতো না। এ সব ফ্যাক্টরের/প্রভাবকের সামগ্রিক এফেক্টেই পরিবারটা ভেঙ্গে গেল বলে আমার মনে হয়েছে। মিডিল ইস্টে কাজ করে স্বামী, তার সাথে ইমুতে ভিডিও কলে কথা বলার সময় সে সেজেছে, লিপস্টিক দিয়েছে অথচ তার স্বামী তার এই সাজ গোঁজ দেখে মহা খেপে গেল, সে এত সাজ গোঁজ কেন করেছে তাতে সে জলে পুর ছাড় খার হওয়ার অবস্থা। এই হলো আমাদের অশিক্ষিত নিম্নবিত্তদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা। কোথায় স্বামীর খুশি হওয়র কথা তার বউকে সেজে গুজে তার সাথে কথা বলার জন্য তা না বুঝে সে নানা কিছু সন্দেহ করে বসল আর রাগ দেখাল।

ভেঙ্গে যাওয়া পরিবার গুলোর সন্তানদের বড় হতে দেখেছি আমি, তারাও ছন্নছাড়া হয়ে যায়। আমাদের নিচের তলায় ভাড়া থাকতেন রফিক আংকেল, তার স্ত্রীটি দেখতে ছিল বেশ সুন্দরী কিন্তু তাদের ছাড়া ছাড়ি হয়ে যায়। তিনটা ফুটফুটে বাচ্চা, মেয়েটাও দেখতে খুব সুন্দর হয়েছিল। ছেলে দুটাও দেখতে খুব স্মার্ট। মা বাবা এক সাথে না থাকাতে আর বাচ্চাদের বাবা তাদের খালা ও খালাত ভাই বোনদের বেশি আদর করা দেখে কষ্ট পেত ওরা। বড় ছেলেটা বিদেশে পড়তে চলে গেল। মেয়েটা পাড়ার এক সাধারণ ছেলের সাথে বিয়ে হলো। আর ছোট ছেলে নিঝু আমার দেয়া কম্পিউটার স্কুলে কাজ করতো। পরে তার এক মেয়ে ফেইসবুক ফ্রেন্ড তাকে বিয়ে করে বিদেশে নিয়ে যায়, ওখানে সে ভালই আছে এখন। ওর বিদেশ যাওয়ার সময় আমার দেয়া ওর চাকুরীর অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট ওর কাজে এসেছিল আমেরিকার ভিসা পেতে।

আমার স্ত্রী আমার খালাতো বোন, ওর সাথে কম কলহ হয় নি আমার। প্রত্যেক বার কলহ হওয়ার পর মনে হতো এ আর সমাধান হবে না। কিন্তু তা কালক্রমে সমাধান হয়েছে। যত যাই হোক ও ছিল আমার আদরের লিটিল সিস্টার, বড় আদরের ছোট বোন। একদম ছোট বেলায় আমার মা ওর হাতের আঙ্গুল চুষা বন্ধ করতে হত দোলনায় বেধে দিয়েছিল এই ভেবে যে হাতের আঙ্গুল চিকন হয়ে যাবে। আমার মা’র অদ্ভুত কথা সেই বয়সেই আমি ধরতে পেরে ওর হাতের বাধন আমি চুপি চুপি খুলে দিয়েছিলাম। আমার একটাই খালা আর মা ও খালার মধ্যে সম্পর্কও ছিল এক আত্মার মত। আমার খালাকে আমি মা ডেকেছি ছোট বেলায়। তার মেয়ে আমার স্ত্রী। আসলে ওকে আমি খালাতো বোন ভাবতাম না নিজের বোন ভাবতাম কারণ আমাদের মামাত ভাই বোনরা আমাদের অনেক পরে জন্মেছে। তাই এক সময় আমি আর ওই ছিলাম পরিবারে ছোট বাচ্চা দুই জন। আমার সাথে ওর বয়সের ব্যবধান ৬ বছর মাত্র। ওকে বুঝতে না পারার কারণ আমি মনে করি অনেকটা জেনেটিক। আমার বাবা বিক্রমপুরের আর ও’র বাবা কুমিল্লার। দুজনের নানা-নানু একই তারা সলিম নগর আর টাংগাইলের। বিক্রমপুরের মানুষের মন বড় আর সহজ সরল আর কুমিল্লার মানুষ গুলো হয় আটকানো মনের, সবাইকে সন্দেহ করার প্রবণতা আছে তাদের, সহজে নিজেকে প্রকাশ করে না। অন্যের কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখে। বিক্রমপুর আর কুমিল্লার মানুষের প্রাচীন ও প্রথাগত দ্বন্দই মূলত আমার ওকে না বুঝার কারণ। তার চেয়েও ভয়ংকর হলো তিনটা বাচ্চা হয়ে যাওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই ও আমার সেই আগের খালাতো বোন হয়ে গেল। মানে হলো ওকে আবার বিয়ে দেয়া যাবে। আমি মেনে নিয়েছি, কি আর করবো শত হলেও খালাতো ছোট বোন। একমাত্র খালার মেয়ে তাকে তো আর দুরে ঠেলে দিতে পারবো না। দাম্পত্য সম্পর্কটা টিকে থাকে অনেক গুলো সমঝোতার উপর। এই সমঝোতা গুলো একেক জনের কাছে একেক রকম। তবে দুজনকে সমঝোতায় আসতেই হবে কোন না কোন এক সময়। আমি যখন ২০১৪ সালে বুয়েট ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিলাম তখন এজিএম স্যার একদিন রাতে ফোন দিয়ে আমাকে তার ছেলের ইমেইল একাউন্ট থেকে আসা মেইল গুলো কেন দেখতে পাচ্ছেন না জানতে চেয়েছিলেন, কথার ফাকে স্যার বললেন নেন একজন ভদ্রমহিলা আপনার সাথে কথা বলবে, তো ভাল কথা বুঝলাম ভাবী কথা বলবে, ভাবী ফোন ধরে বলা শুরু করলো ইদানীং কালের বুড়োরা রাত জেগে ইন্টারনেটে পচা পচা ছবি দেখে --- বলতে বলেতে স্যার ফোন কেড়ে নিয়ে রেখে দিল। বুঝলেন বিষয়টা স্যার কোন ভদ্রমহিলাকে ফোনটা দিয়েছিলেন, ভাবি একজন ভদ্রমহিলা তার কাছে আমার স্ত্রী যেমন আবার খালাতো বোন হয়ে গেছে আমার কাছে।

২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত আমি ফেইসবুকে ইন্টালিজেন্ট ডিসকোর্স – ভিউপয়েন্ট নামে একটা আইডি খুলে তাতে ইসলামদের দাওয়া করতাম। তেমন কিছুই না, সুন্দর সুন্দর প্রাকৃতিক ছবির ডিজিটাল প্ল্যাকার্ডে ইসলামের বানি লিখে গ্লোবালই ছেড়ে দিতাম। ওই আইডি টা অনেকের কাছে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে সবাই ওটাকে আইডিভি বলে ডাকতো। আমার সাথে বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকজন ব্যাকগ্রাউন্ডে যোগাযোগ করে আমাকে সহযোগিতাও করেছিল যার কারণে দুটো ব্যাকগ্রাউন্ড গ্রুপও খুলেছিলাম আমি যাতে প্লেকারড গুলো প্রাথমিক উপস্থাপন করার পর সবার মতামত নিয়ে গ্লোবালই পোস্ট করা হতো। এরা ছাড়াও কয়েকজন আমার সাথে যোগাযোগ করতো মানে তারা চেহারা বিহীন আইডিভির সাথে কথা বলতে চাইতো। কয়েক জন্য ছেলের পাশাপাশি রোকেয়া নামের একটা পাকিস্তানী মেয়ে আমার সাথে কথা বলতো, আমি অবাক হতাম ইসলামী একটা আইডিতে কেন একটা মেয়ে এভাবে কথা বলবে, সে আমাকে তার প্রথম প্রেমের কাহিনী বলতো আমি তাকে পরামর্শ দিতাম। বেশ কয়েক বছর কোন যোগাযোগ ছিল না তার পর যখন কথা হলো জানলাম তার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল পরে সে বিয়ে ভেঙ্গেও যায়। তার তখনও তার সেই প্রথম প্রেমের কথা মনে পড়ে। আমি বললাম সে তার বৈবাহিক সম্পর্কে আদি রসের তৃতীয় ধারা ধরে রাখতে পারে নি বলেই বিয়ে ভেঙ্গে গেছে। আদি রসের তৃতীয় ধারা কি জানতে চাইলে ব্যাখ্যা করতে কয়েকটা বেলি ড্যান্সের ভিডিও দেওয়ার পর সে আমার সাথে আর কখনই যোগাযোগ করে নাই। আদি রসের তৃতীয় ধারা বৈবাহিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কিন্তু সন্তান সন্ততি হয়ে গেলে আর দীর্ঘ সময় ধরে এই ধারা একই রকম আনন্দ বহ রাখাটা খালেক  ভাইয়ের ভাষায় বলতেই হয় শুধু অসম্ভবই না নামুমকিন হে। 

প্রিয় কলিগ নোমান ভাই বলেছিলেন দাম্পত্য জীবনে লিবিডো মাত্র ৬ মাস টিকে থাকে তার পর সব ডাল ভাত। কথা কম সত্য নয়। প্রথম দাম্পত্যে যা দৈনিক তিন চার বারও হয় তা বয়স কালে মাসে ১ কি ২ বারে এসে ঠেকে। এর জন্য দু পক্ষই দায়ী তবে এটা প্রাকৃতিকও বটে। বিয়ে ত কেবল ওই কাজ করে মজা নেয়ার জন্য নয়, প্রচুর দায় দায়িত্ব ও নির্ভরশিলতার দড়ি, সুতা টানা থাকে এই সম্পর্কে। এ প্রসঙ্গে মজার একটা মুভির কথা মনে পড়ে গেল, যা দেখেছিলাম ১৯৯০ কি ১৯৯১ সালে যখন সিডি প্লেয়ারে মুভি দেখা হতো, ডিভিডিও এদেশের বাজারে এসে পৌছায় নাই। তো সে মুভির কাহিনীটা ছিল এমন যে এক বড় মাপের আর্টিস্ট রং এর বড় বড় কৌটা নিয়ে ছবি আঁকে বিশাল দেয়াল জোড়া ক্যানভাসে। একদিন ছবি আকার সময় তার রং এর বড় বড় কৌটা গুলো সব খোলা এমন সময় তার প্রেমিকার আগমন ও দুজনে তুমুল দাম্পত্য কলা তাও আবার সেই ক্যানভাসের চাদরে ঝড় তুলে। তাতে করে সারা গায়ে রং মেখে ঝড় তুললে যা হয় একটা মাস্টার পিস এবসট্রাক্ট আর্ট হয়ে গেল। ওটা প্রদর্শনীতে অনেক দামে বিক্রি হলো। এর পর চললো তাদের নতুন পদ্ধতিতে বড় ক্যানভাসে ছবি আকার খেলা। দুজনেই চাদরে দাম্পত্য ঝড় তুলে আর একটা করে মাস্টারপিস ছবি হয়ে যায়। এমন সময় একদিন দুজনে ঝগড়া হয় আর দুজন আলাদা হয়ে যায়। তার পর সেই আর্টিস্ট আর ছবি আঁকতে পারে না, অন্য কারো সাথে তো সেই ঝড় আর উঠে না। তার মানে হলো দাম্পত্য জীবনে এই আদি রসের ঝড়টা দরকার। এটা বড় বড় ইন্টারভেলে হলেও দরকার আছে। এটা দুজনকেই বুঝতে হবে। দুজন দুজনের কাছে আকর্ষণীয় থাকতে হবে যত দিন পারা যায় বা তার জন্য চেষ্টাটা অন্তত থাকতে হবে। আমাদের দেশের মেয়েরা এটা মনে হয় বুঝেও বুঝে না। তারা স্বামীর চাহিদার বিষয়ে উদাসীন যা দাম্পত্যকে নিরস করে দেয়। পুরুষদেরও নানাবিধ সমস্যা থাকতেই পারে কিন্তু তার জন্য ডাক্তারি পরামর্শ নেয়ার ব্যবস্থাও তো আছে কিন্তু তারা লজ্জায় তাদের শরণাপন্ন হয় না। লন্ডনে স্কুল পর্যায়ে যৌন সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে আনুমানিক ২০০২ সালের দিকে আর আমাদের দেশে না আছে মানুষিক স্বাস্থ্য শিক্ষার কোন বিষয় না যৌন শিক্ষার সাধারণ জ্ঞান। হলিউডের একট্রেস দিপিকা পদুকন এর লিভ, লাফ, লাভ বা (3এল) ফাউন্ডেশনের ওয়েব পেইজ দেখলাম সেদিন। ওরা মানুষের মানুষিক স্বাস্থ্য সমস্যার মূল উৎপাটনে মানুষিক শিক্ষার প্রতি প্রচারণা করছে ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যারা মানুষিক সমস্যায় আছে তাদের পরামর্শও দিচ্ছে। আর লন্ডনে যৌন শিক্ষার নামে যাচ্ছে তাই শেখান হচ্ছে স্কুলে তার সমালোচনা পড়লাম সেদিন। যে সব দম্পতির দু জনই চাকুরীজীবী তাদের জন্য দাম্পত্য কাজ কর্ম পালন আরো দুরূহ, তারা এমনিতেই কম সময় পায় একে অপরের জন্য। তাদের উচিত সপ্তাহান্তে প্রচুর ঘুরা ঘুরি করা ও একে অপরকে প্রচুর সময় দেয়া। আমার বাবা ১৯৮৯ সালে লিবিয়া থেকে ঢাকায় এসে তার ওখানকার এক কলিগের শ্যালকের দাম্পত্য কলহ নিরসনে প্রচুর শ্রম দেয়, মা বিরক্ত হতো কিন্তু আমার বাবা ছিল চরম সহজ সরল মানুষ তার একটা জেদ ছিল কেন মানুষকে বুঝান যাবে না। ওই দম্পতিকে নিয়ে যে কত মিটিং এর আয়োজন করেছিলেন আমার বাবা আমার কৈশোরে সেই ঘটনা এখনো আমার মনে দাগ কেটে আছে। এ প্রসঙ্গে একটা কথা না বললেই নয়, যে পরিবার গুলো ভেঙ্গে যায় তাদের দ্বিতীয় বিয়ে না করাই ভাল, মনোবিজ্ঞানীরা বলেন যে দ্বিতীয় বিয়ে বহুলাংশেই ভঙ্গুর হয় বা কখনই ভাল ফলাফল দেয় না। আমার বাবার মৃত্যুর পর মা আবার বিয়ে করতে পারতেন কিন্তু তা তিনি করেননি আমার কথা চিন্তা করে, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমাকে আগলে রেখেছেন, এমন মা কয়জন পায় আমার জানা নাই। 

দাম্পত্য কলহ নিয়ে এভাবে লিখতে থাকলে পুর একটা বই লেখা হয়ে যাবে, তাই অন্য কলহ প্রসঙ্গ গুলো আলোচনায় আনার তাগিদে এই আলোচনাটা সংক্ষেপ করলাম। আমার আর আমার স্ত্রীর দাম্পত্য কলহ সব গুলো নিয়ে লিখলে তা কামসূত্রকেও হার মানাতে পারে। লেখার ইচ্ছা ছিল কিন্তু তা আর লিখলাম না। এত গোপন কথা সবাইকে বালার দরকার নাই। যারা যার দাম্পত্য তার তার ব্যাপার সবার কলহ প্রকৃতি এক রকম নয় হওয়ার কথাও নয় আর হওয়াটা উচিতও নয়। দাম্পত্য কলহ নিজেদের মধ্যেই রাখা উচিত অন্য কাউকে এর মধ্যে নাক গলাতে দেয়া উচিত নয় বলে আমি মনে করি।

কৈশোরের সন্তানের সাথে অভিভাবকদের কলহঃ
এই বয়সটাতে সন্তান মানুষ থেকে ভিন্ন প্রজাতি হয়ে যাওয়া এরকম মন্তব্য করেছিলেন একজন স্বনামধন্য বক্তা কোন এক আলোচনা ভিডিওতে। যা হোক কথাটা কমবেশি সত্য। আমি বায়োলজিতে ভাল ছিলাম, ওখানে পড়েছিলাম লার্ভা -পিউপা-মথ বা প্রজাপতি। বুকে হাটা লার্ভা গুটি গঠন করে কৈশোরে তার পর গুটি থেকে বের হয়ে তার পাখা গজায় তাই হয়ে যায় মথ বা প্রজাপতি। এটা আমাদের প্রকৃতির স্বাভাবিক ধারা। কৈশোরটা আসলে এই গুটি পাকানো অবস্থা। শৈশব পাড় করে যখন তারা কৈশোরে উঠে তখন গুটি পাকান পিউপাতে পরিণত হয় তার পরই তাদের প্রজাপতি হওয়ার পালা, মানে পাখা গজান। অভিভাবকদের এই পরিবর্তনটা মনে হতে পারে তার সন্তান মানুষ থেকে ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীতে পরিণত হয়ে গেছে। কৈশোরে একবার আমি নানা পশ্চিমা শিল্পীর বড় বড় পোস্টার বা ছবি দিয়ে ঘর ভরে ফেলেছিলাম তা দেখে মা ভীষণ খেপে গেল। বাবাকে এনে দেখাল, সেও বিরূপ মন্তব্য করলো। তার পর রাগের চোটে আমি সব ছিঁড়ে ছুড়ে ফেলেছিলাম। সাধারণত ১৩ থেকে ১৯ বয়সটাকে ইংরেজিতে টিন এইজ বলে কারণ এই সংখ্যাগুলো উচ্চারণের শেষে টিন শব্দটা আসে আর এই বয়স গুলোই কৈশোরের ভিন্ন প্রজাতির গুটি পাকানোর বয়স। তবে কার কার ক্ষেত্রে কয়েক বছর আগে বা প্রলম্বিত কৈশোরও হয়ে থাকতে পারে বলে মনোবিজ্ঞানীরা বলে। কৈশোরিক প্রবণতা গুলো কার কার ক্ষেত্রে  ওই বয়স গুলোর আগে আসতে পারে আর কাটতেও পারে কয়েক বছর পর। তবে বুঝতে হবে যে এই গুটি পাকানোটা স্বাভাবিক ভাবে মানব জীবনে আসবেই আর তা কেটে যেতেও বাধ্য। শৈশবের পর কৈশোরে না ছোট না বড় অবস্থাটা খুব জটিল, মনের মধ্যে বিশ্ব সম্পর্কে নানা স্বপ্ন, দেহে নানা হরমোনের মাতামাতি, মনে নানা রংবেরং এর অনুভূতির আর ভাবের উত্থান পতন মনুষ্য সন্তানদের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা দুষ্কর এটা তাদের বাবা মা রা হয়তো বুঝতে চান না। বাচ্চাদের উদ্ভট আচরণ দেখে তারা ভয় পেয়ে যান। আমার লেখা “মনের স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশকে যা বন্ধ করে দেয় তাই অনিষ্টকর “ পড়ে সকল ৮৯ এসএসসি’র এক ইউনিভার্সাল গ্রুপের বেচ মেট লিপি আমাকে ফোন করে বললো আমার লেখা কয়েক লাইন পড়ার পর যখন দেখতে পায় তা অনেক বড় তখন তার মাথা ঘুরে যায় আর আগাতে পারে না। তাই ফোন করি জানালো তার মেয়েকে নিয়ে তার নানা সমস্যার কথা। সে সবিস্তারে তা বর্ণনা করে আমার পরামর্শ চাইলো। তার মেয়ে পড়ে নর্থ সাউথ ইউনিভারসিটিতে, মা বাবার কথা শুনতে চায় না, প্রাত্যহিক জীবনাচরণেও প্রচুর অনিয়ম করে। আমি বুঝায়ে বললাম আমার দুই কাজিন ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ে বের হয়েছে তাদের স্বামীরাও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের। ওখানকার ছাত্রদের একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো, তাদের দেশ প্রেম থাকে না, পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যায়। তাদের বানানো হয় মেটেরিয়াল বেনিফিট ফোকাস্ড, স্বার্থপরতা পরম ধর্ম ওদের কাছে। ওদের কেউই দেশে নাই, এক দম্পতি গেছে আমেরিকায় আরেক দম্পতি গেছে ক্যানাডায়। ওরা দেশীয় সংস্কৃতিকে তোয়াক্কা করে না। দেশর ঐতিহ্যকে গ্রাহ্য করে না। এদের কাছ থেকে দেশ খুব একটা উপক্রিত হওয়ার কথা না। বুঝায়ে বললাম চাপ না দিতে, একে পরিবারের অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা সম্পর্কে সে জানে তার জন্য তাকে টিউশনি করতে হচ্ছে, দ্বিতীয়ত তার স্বাধীনতা খর্ব করে এমন কিছু সে মেনে নিতে চাচ্ছে না। মা তার পিছনে সারাক্ষণ লেগে আছে এটাও তার পছন্দ না। কৈশোরে সন্তানকে খানিকটা ব্যক্তিগত স্পেস দিতেই হয় যা অনেক বাবা মা দিতে চায় না। কৈশোরের চরম উত্তেজনা গুলো প্রশমনের এগজস্ট না দিলে তারা বিদ্রহ করে বসবে তাই পিতা মাতার উচিত কৌশলে সেই এক্সজস্ট এর ব্যবস্থা করে দেয়া। আমার কৈশোরেও আমি প্রচুর আজগুবি কাজ করেছি আর আমার বাবা মাও আমাকে নিয়ে চিন্তিত ছিল। বাবা আমার কৈশোর কাটার আগেই পরপারে চলে গেল। আর মা তার পর আমাকে ছেড়ে দিয়েছিল। আর ছেড়ে দিয়েছিল বলেই আমি হোঁচট খেয়ে খেয়ে পথ চলা শিখেছি। আমার দুই মেয়ে সন্তানের এক জন এখন কৈশোরে, প্রথমটাকে নিয়ে কোন সমস্যাই হয় নাই, দ্বিতীয়টাকে নিয়েও কোন সমস্যা দেখছি না। ছেলেটা ছোট এখনও কৈশোর পর্যন্ত পৌছায় নাই। যে মেয়েটা কৈশোরে সে তার ছোট ভাইকে খেলার সাথির মত নেয় যার ফলে ও’র সমস্যা হচ্ছে না। আমার পরিবারে সমাজের অন্য পরিবারের সংযোগ কম, অনেক কনজারভেটিভ পরিবারের বড় হয়েছ আমার মা আর খালা তাদের নাতিরা তো কনজারভেটিভ হবেই। ওদের মা কড়া আর আমি হলাম স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান প্লাস পরিবারের কর্তা, এই সেট আপ ওরা ভালই গ্রহণ করেছে। ওদের মানসিক স্বাস্থ্যর দিকে আমার গভীর নজর আছে বিধায় কোন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না এখনো। তবে ভয়ে আছি ছেলেটাকে নিয়ে কারণ ও যখন কৈশোরে পড়বে তখন আমি মহা বৃদ্ধ বা মৃত। সময়ই বলে দিবে কি হয়। কোন গাছ যখন তার ফুলের মঞ্জুরি উন্মুক্ত করে তখন দেখেছেন কি তার নিচে তারা কয়েকটা পাতার একটা বেইজ তৈরি করে নেয়, বাবা মা মূলত সন্তানের জন্য সেরকম একটা বেইজ, তারা যদি পরস্পর সম্পূরক না হয় তবে মঞ্জুরি স্বরূপ সন্তানেরা শক্ত বেইজের উপর দাড়াতে পারে না আর তখনই কনফ্লিক্ট সিচুয়েশন এর সৃষ্টি হয়।

বন্ধুতে বন্ধুতে কলহঃ
খুব বেশি কাছে আসতে নাই কারো তাতে ঠোকা ঠোকি লাগবেই। আমার মতাদর্শন যখন পরিবর্তন হয়ে ধার্মিকতা থেকে নাস্তিকতার দিকে চলে গেল তখন সকল বন্ধ মহলেই আমার সাথে টক্কর লাগলো। আমি তাতে বিচলিত হই নাই বরং আমার অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি। যদিও তাতে তেমন একটা লাভ হয় নাই কারণ যারা ধর্মান্ধ তারা আফিম খাওয়া নেশাগ্রস্থের মত আচরণ করে থাকে। তাদের কাছে ধর্ম বিরুদ্ধ কিছু বলা মানেই শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা ফিসফিসানি। যত যুক্তিও দেন না কেন তারা তাদের তালগাছ ছাড়বে না। তালগাছের আগায় উঠে বসে থাকবে আর পরকালের স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকবে। আমি বন্ধু পছন্দ করি আর বন্ধু ছাড়া জীবন অচল এই ভাবনাটা আমার পছন্দ কিন্তু তার মানে এই নয় যে সে আমার মতামতের গুরুত্ব দিবে না। বন্ধুত্বর বন্ধন সহমর্মিতার এখানে ভাবাদর্শন কিংবা ধর্ম বাধা হতে পারে না। সোনালী ব্যাংকের দু একজন বেচ মেট তুই তুকারি সম্পর্ক এমন কাছে বানায়ে ফেলতে চায় যেন আমরা সেই ছোট বেলার বন্ধুর মত। তাদের আচরণে অতিরিক্ত আন্তরিকতা যা এক পর্যায়ে কনফ্লিক্টে রূপ নেয়। ওদের বুঝাতে হয়েছে যে আমারা পরিণত বয়সে এসে বেচ মেট হয়েছি তার মানে এই নয় যে আমরা পাড়ায় যে ছোট বেলার বন্ধুদের সাথে আচরণ করি সেরকম গালিগালাজ আচরণ এখানেও করবো। ওরা বুঝেছে কিনা তা জানি না তবে আচরণে ওদের পরিবর্তন এসেছে তাই যথেষ্ট মনে করি। বন্ধুতে বন্ধুতে ঝগড়া লাগতেই পারে তা পরে মিলমিশ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে যদি তা অর্থ সংশ্লিষ্ট হয় কিংবা আতে ঘা দিয়ে কথা বর্তা হয় তবে তা আর জোড়া লাগে না। এখানেও ওই একই সমাধান, কথা বন্ধ না করে সংলাপ চালায়ে যাওয়া উচিত যাতে বরফ গলে পানি হয়ে যায়।

ক্ষমতার প্রভাব নিয়ে কলহঃ
এটা রাজনৈতিক কলহ, যাকে পাওয়ার ক্ল্যাশ বলা যায়। সোনালী ব্যাংকের বিএমইবি শাখায় থাকা কালে আমি নিজের প্রচেষ্টায় মাদ্রাসা বোর্ডের প্রচুর মানে বস্তা বস্তা ডিডি আসার প্রক্রিয়াটি অটোমেশনের জন্য প্রস্তাব রাখি ম্যানেজার সারের কাছে তার পর প্রধান কার্যালয়ের আইটি প্রোগ্রামারদের সাথে মাদ্রাসা বোর্ড ও ঢাকা বোর্ড এর আইটি কর্মকর্তাদের সাথে মিটিং এর ব্যবস্থাও করি যার ফলশ্রুতিতে সোনালী সেবা নামক নতুন ইনহাউজ সফ্টওয়ার বিল্লাল স্যার আর যহির স্যার এর মাধ্যমে বাস্তবে রূপ লাভ করে। কিন্তু টিটি প্রেরণ কথাটাকে ইএফটি প্রেরণ না করায় বা না বলায় সবাই টিটি পাঠাতে থাকে আমাদের প্রচলিত আরএমএস প্লাস (রেমিটেন্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমস প্লাস) এর মাধ্যমে। শাখার আমার একই পদমর্যাদারে আরেক কলিগ আনিস ভাই বলে বেড়াচ্ছিল যে সোনালী সেবা কার্যকর করা যাবে না, এত টিটির কোনটা আরএমএস প্লাস এর মাধ্যমে আসলো আর কোনটা সোনালী সেবার মাধ্যমে আসলো তা সব তালগোল পাকায়ে যাবে। ওখানে আমি শক্ত হাতে আরেক অধস্তন সহকর্মী কেয়া মেডামের মাধ্যমে আরএমএস প্লাস এর মাধ্যমে পাঠানো সব টিটি ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করলাম ও ম্যাসেজে লিখে দিতে বললাম তা যেন সোনালী সেবার মাধ্যমে পাঠানো হয়। আমি তার জন্য আলাদা এক্সেল ডাটা বেইজের ব্যবস্থা করলাম যাতে ট্রেক রাখা যায় কোন গুলো ফেরত গেল আর তা পুনরায় সোনালী সেবার মাধ্যমে পাঠান হয়েছে কিনা। এভাবে সোনালী সেবা সারা দেশের সব সোনালী ব্যাংকের ব্রাঞ্চে পরিচিতি পেয়ে গেল। এখন ১২ কি ১৩ টা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার ফি কিংবা রেজিস্ট্রেশন ফি জমা নেয়া হয় সোনালী সেবার মাধ্যমে। আমার ওই দিনের দৃঢ় অবস্থান না নিলে সোনালী সেবাকে সারা দেশের সব ব্রাঞ্চে পরিচিত করাতে সময় লাগতো অনেক। এতে আনিস ভাই এর সাথে আমার কনফ্লিক্ট হয়েছিল কিন্তু কেয়া মেডাম আমাকে সহযোগিতা করেছিল। যা হোক ক্ষমতার প্রভাব বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব সব জায়গায় আছে, তা তিন সদস্য বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানেও আছে, পরিবারেও আছে আবার বাড় বড় প্রতিষ্ঠানে তো আছেই। এটা সম্মুখ লড়াই বা ফ্রন্ট লাইন কমবেট, কোন কোন দেশের সংসদে হাতাহাতি, চেয়ার টেবিল ভাঙ্গা এ সবও দেখা গেছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নিরসনেই সংবিধান ও নির্বাচন ইত্যাদির অবতারণা। সাংগঠনিক গঠনতন্ত্রে আচরণবিধি ও সিদ্ধান্ত নেয়ার পদ্ধতি ভাল ভাবে উল্লেখ থাকলে এসব কনফ্লিক্ট সমাধান সহজ হয়।

অফিসের বসের সাথে অধস্তন কর্মীর কলহঃ
কিছু কিছু লোক আছেন যারা অন্যের উপর তার রাগ ঝাড়েন, বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে হয়তো দেখা যাবে তার ব্যস্ততার কারণেই তার অধস্তন ভুলটি করেছিল কিন্তু বসের মনে হতেই পারে যে তার অধস্তন সহকর্মীর অদক্ষতার কারণে কিংবা অবহেলার কারণে বিষয়টি ঘটেছে। বসের মন রক্ষা করে চলা ছাড়া কর্পোরেট চাকরীগুলোতে কোন পথ খোলা নাই। বসের অসন্তুষ্টির জের বহু সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। তবে বসদের আরো বিজ্ঞ হওয়া উচিত, তাদের অধস্তনদের মানসিক ও পারিবারিক সমস্যা গুলো বুঝে দেখা উচিত আর অধস্তনের উপর কাজের প্রেশার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। কোন একটা অঘটনের জন্য কে দায়ী তা নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার না করলে অধস্তনরা অবিচারের সম্মুখীন হয়। গুরু পাপে লঘু শাস্তি যেমন খারাপ তেমনি লঘু পাপে গুরু শাস্তিও সমান ক্ষতিকারক। এক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ খুব কম লোকই পেয়ে থাকে। আমার চাকুরী জীবনে এ পর্যন্ত যতগুলো বস পেয়েছি তারা সবাই খুব ভালো ছিল কিন্তু একসাথে কাজ করতে গেলে কোন না কোন সময় মনমালিন্য কিংবা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েই যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অধস্তনদেরকেই মানায়ে নিতে হয়। পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে যাতে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত আর তা হয়েই গেলে সরে যাওয়াই শ্রেয়। আমার সকল প্রিয় বস যারা আমাকে অত্যন্ত প্রিয় মনে করতো তাদের সবার সাথে লম্বা সময়ের শেষের দিকে দ্বন্দ্ব হয়েছে আবার তা নিরসনও হয়ে গেছে। আমি বর্তমানেও একটা কলহ বা দ্বন্দ্বর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি জানি না এটার সমাধান হবে কিনা, তবে আগের অভিজ্ঞতা থেকে জানি সময়ে সব ঠিক হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে জীবনটা দুই দিনের বাকি পাঁচ দিনইতো অফিস।

উপরোক্ত কলহ প্রসঙ্গ গুলো ছাড়াও আরে অনেক কলহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে যা আলোচনা করতে গেলে লেখাটা অনেক বড় হয়ে যাবে। উপরোক্ত কয়েকটা কলহ দমন করতে পারলেই আমাদের জীবনটা অনেক সহজ হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। কলহর প্রকৃতি বুঝতে পারা আর তার সমাধান জানা থাকলে সকল কলহ সমস্যার নিরসন খুব সহজ হবে বলে আমার বিশ্বাস। সব কথার শেষ কথা এই যে, কমিউনিকেশন মিসমেচই সকল কলহের মূল কারণ এটা মনে রাখলেই প্রচুর কলহ পরিস্থিতি এড়ানো যাবে।

আপডেট হিস্ট্রিঃ ০১ফেব্রুয়ারী২০২৩> ৩১আগস্ট২০২৩> ২৩ সেপ্টেম্বর২০২৩> ০৬জুলাই২০২৫>
 

 

Monday, September 18, 2023

ইন্টালিজেন্ট ডিভাইস এর হিউম্যান ইন্টারফেসিং (বুদ্ধিমান যন্ত্রাংশের মানব সংযুক্তি)

 

ছোটদের মধ্যে যেমন দেখা যায় মোবাইল কিংবা ট্যেবের প্রতি প্রচুর আগ্রহ, বড়দের আগ্রহও কম যায় না। ইন্টালিজেন্ট ডিভাইসের হিউম্যান ইন্টারফেসিং দিন দিন বাড়ছেই। তাই যখন বলা হয় খুব তাড়াতাড়িই সাইবর্গদের যুগ চলে আসবে যখন মানুষ তার শরীরে প্রচুর ডিজিটাল ডিভাইস সংযোজন করবে। এখন যখন আমরা ব্লুটুথ কিংবা ইয়ার ফোন ব্যবহার করে মোবাইলে আমাদের পছন্দের গান গুলো সিলেক্ট করে তাতে স্যাফল ফাংশন দিয়ে শুনি তখন এই ইয়ার ফোনটা কিংবা ব্লুটুথ ডিভাইসটি হিউমেন ইন্টারফেস হিসেবে কাজ করে। মোবাইলটা ইন্টালিজেন্ট ডিভাইস কারণ আমি যে গানগুলো পছন্দ করি সেগুলো হয়তো আমাকেই নির্বাচন করে দিতে হয় কিন্তু ডিভাইসটির স্যাফল ফাংশন আমাকে অনিশ্চয়তার একটা আনন্দ দেয়। গনগুলো পর পর শুনলে মন ঠিক বুঝে যেত কোন গানটার পর কোন গানটা আসবে সেক্ষেত্রে বিষয়টি একঘেয়ে হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু ডিভাইসটার স্যাফল ফাংশনটা ইন্টালিজেন্ট কারণ সেটা কোন গানটা সিলেক্ট করবে তা আমরা আগে থেকে জানতে পারি না, ওটা স্বয়ংক্রিয় ভাবে এটা পছন্দ করে দেয় আমাদের জন্য। কম্পিউটারে আমি যে টাইপ করছি কি বোর্ড দিয়ে এই কি বোর্ডটি একটি হিউম্যান ইন্টারফেস যা দিয়ে আমি কম্পিউটারটিকে কিছু করার নির্দেশ প্রদান করতে পারছি। মনিটরটি যা আমাকে দেখাচ্ছে যা আমি টাইপ করছি সেটিও হিউম্যান ইন্টারফেস। এক কথায় যা কিছু আমাদের বুদ্ধিমত্তাকে বুদ্ধিমান যন্ত্রের সাথে সংযুক্ত করে তাই বুদ্ধিমান যন্ত্রাংশের মানব সংযুক্তি বা হিউমেন ইন্টারফেস। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে তাই বুদ্ধিমান যন্ত্রের সমারহ। এই সব বুদ্ধিমান যন্ত্রের সাথে মানুষ যা দিয়ে সংযুক্ত হচ্ছে তাই মানব সংযুক্তি বা হিউম্যান ইন্টারফেস। ইন্টালিজেন্ট ডিভাইস বা বুদ্ধিমান যন্ত্রে যে বুদ্ধি সংযোজন করা হয় তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যাকে ইংরেজিতে বলে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই। আজকাল হাতে একটা ডিজিটাল ঘড়ি পড়ে থাকলে সে মেপে বলে দিতে পারে আপনি সারাদিনে কতটা পদক্ষেপ হেঁটেছেন, আপনার ওজন কত, আপনার রক্তের চাপ কত চলছে, এরকম কত কিছুই দিন দিন হিউমেন ইন্টারফেসিং এ চলে আসছে। 

বিষয়টা এমন যে কিছু অতি বুদ্ধিমান মানব যন্ত্রের মধ্যে তাদের বুদ্ধিমত্তা প্রসূত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভরে দিচ্ছে যা দিয়ে কম বুদ্ধির মানবেরা প্রচুর পরিমাণ সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। এই সুবিধাটা তারা পাচ্ছে টাকার বিনিময়ে কিন্তু সামগ্রিক ভাবে পুর মানব সভ্যতা উন্নত হচ্ছে। আর এখন তো সর্বসাধারণের হাতের নাগালে বিশ্বের অন্যতম সর্বউন্নত এআই চেট-জিটিপি যা দিয়ে বহু কিছুই করা সম্ভব। গুগল এর বিস্ময়কর সব সার্ভিস গুলো পুর বিশ্বটাকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে তার ইভলিউশনারী এআই দ্বারা। প্রশ্ন হচ্ছে মানব যখন কিছু সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তখন তাকে মানব সদৃশ করতে চাচ্ছে কেন? কেন মানুষ মানব সদৃশ রোবট বানাতে চাচ্ছে? রোবট আর্ম আর কম্পিউটার প্রোগ্রামিং নিয়ন্ত্রিত বহু যন্ত্রাংশ ইতোমধ্যেই নির্মিত হয়ে গেছে কিন্তু মনে হয় মানুষ মানব দেহকে এতই পছন্দ করে যে, সে তার আকৃতিতে যন্ত্র মানব বা রোবট বানাতে চায়। অনেকে মানব দেহকে অপূর্ব সমন্বয় বা ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন মনে করে কিন্তু হলিউডের এক বিনোদনমূলক টিভি টক শোতে বেঙ্গ করে বলা হয়েছিল এতটাই দারুণ দেহ বিন্যাস যে বিনোদন কেন্দ্রের পরেই নরদমা কিংবা পয়নিষ্কাসন ব্যবস্থা। হলিউডের চাপাই মুভিটাতে দেখায় চাপাই নামক যন্ত্রমানবকে ধ্বংস করার পরও তার চেতনাকে অন্য আরেকটা যন্ত্র মানব বা রোবটে ট্র্যান্সফার করা গেল। এ.এক্স.এল মুভির সেই যান্ত্রিক নেকড়েটা সেল্ফ ডিসট্রাকশনে ধ্বংস হয়ে গেলেও তার চেতনা সফটওয়ার আকারে রয়ে গেল যা যে কোন নতুন যন্ত্র নেকড়েতে প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। সোনালী ব্যাংকের আমার পরিচিত ইকবাল স্যার একবার একটা ডিভাইস আমদানি করতে চাচ্ছিলেন, ও’টা একটা কলম যা দিয়ে কোরআন শরিফের যে কোন আয়াতে পয়েন্ট করলে তা ৩৬টি বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে দিতে পারবে আয়াতটাকে। আবার একটা চশমার ছবি দেখেছিলাম অন্তরজাল বা ইন্টারনেটে যেখানে কোর’আনের যে কোন সুরা ভাসতে থাকবে আর তা দেখে দেখে নামাজে তা পড়া যাবে। কিন্তু এই নব্য ফতোয়াবাজ মুসলিম সমাজ সেই চশমা দেখে দেখে কোরআনের আয়াত পরে নামাজ পড়াকে বাতিল বলে গণ্য করলো। দিন কে দিন নতুন নতুন মানব সংযুক্তি সহ ইন্টেলিজেন্ট ডিভাইস আসতেই থাকবে যা আমাদের জীবন যাপনকে বদলে দিতে থাকবে। এটাকেই এখনকার স্বাভাবিক বাস্তবতা ধরে নিতে হবে। যারা যন্ত্র সংযুক্ত হয়ে আজব আকার ধারণ করবে তাদেরকে একসময় সাইবর্গ বলে ডাকা হবে। এটাকে মানব সভ্যতার উন্নয়ন বলা যায় নিঃসন্দেহে। উদাহারন দিচ্ছি আমাকে দিয়েই, আমার কর্ম জীবন শুরু ১৯৯৮ সালে কম্পিউটারে একটা পত্রিকা অনলাইনে আপলোড করা দিয়ে। আমি যা দুই ঘন্টায় সম্পাদন করতাম। তখনই সফটওয়ার সুইচিং এর সাথে পরিচিত হই। ওয়ার্ড স্টার ফাইলগুলো ফ্রন্ট পেইজ ৯৮ এ চট জলদি কনভার্ট করতে দুটো সফটওয়ারে এ আল্ট+টেব দিয়ে সুইচ করতে হতো। আমি যখন আমার ছোট মামার ডেক্সটপ পাবলিশিং হাউজ পল্টনের কালার রুটসে মামার হাতেই ফটোশপ ও ইলাস্ট্রেটর শিখলাম তখন আমার ১৯৯৮ সালের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে স্থাপিত ইনিস্টিটিউট অফ সাইন্টিফিক ইন্সট্রুমেন্টেশনের এক বছরের সার্টিফিকেট কোর্সের চেয়েও আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা আরো বেড়ে গেল। তার পর এন.আই.আই.টি তে কম্পিউটার এর শিক্ষকতা করতে গিয়ে গ্লোবাল নেট কারিকুলামের আরো প্রচুর কিছু শিখলাম, তার পর টেকনো কিডস এ বাচ্চাদের ক্যানাডিয়ান কম্পিউটার কারিকুলামের শিক্ষক থাকার সময়ও আমার অভিজ্ঞতা আরো বৃদ্ধি পেল। কম্পিউটার টেকনোলোজিও দ্রুত বাড়তে থাকে আমার বড় হওয়ার সাথে সাথে। মাল্টি টাস্কিং এর সময় মাল্টি লেয়ার ডেক্সটপ এর ব্যবহার আমাদের দক্ষতা আরো বাড়ায়ে দিল। তার পর আসলো এনড্রয়েড মোবাইল যা বিশাল এক লম্ফন এই ডিজিটাল বিপ্লবে। আমাদের এর প্রতিটি ধাপের সাথে খাপ খাওয়ায়ে নিতে হয়েছে। আমি যখন সোনালী ব্যাংকের এমডি’স স্কোয়াডে কাজ করি তখন প্রচুর টাইপের কাজ করতে হতো। আমি গান শুনতে শুনতে সেই কাজ করতাম। আমি খেয়াল করলাম যে, এতে আমার মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। গানটা পরিচিত বা বার বার শ্রুত হওয়ায় তা পরিপার্শ্বের মধ্যে থেকে আমাকে আলাদা করে দেয় যার ফলে আমার মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। এর মানে হলো উচ্চ ভলিউমে গানটা একটা ভারি পর্দার মত কাজ করে যা আমাকে আমার চারপাশের অযথা হট্টগোল থেকে আমার কর্মের দিকে আমার মনকে নিবিষ্ট করে দেয়। আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন তো আর এন্ড্রয়েড মোবাইল ছিল না কিন্তু গান শুনার জন্য ওয়াক ম্যান ছিল, ওটাতে গান শুনতে শুনতে অংক করলে ভালই লাগতো কিন্তু মা বকতেন এই বলে যে আমার মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। আসলে ভাল লাগা গানগুলো বার বার শুনলে মন তা আগে থেকেই জেনে যায় ও সেই অনুভূতির একটা বেকগ্রাইন্ড তৈরি করে কিন্তু আমার কর্ম মানে আমার মনোযোগের কোন ক্ষতি সেটা করে না বরং পরিপার্শ্বের বিশৃঙ্খল ঘটনা প্রবাহ থেকে তা আমাকে পর্দা দিয়ে আড়াল করার মতো করে অনেকটা একমুখী করে দেয়। তাই যখন আমার বড় মেয়েকে পড়ার সময় কানে ইয়ার ফোন ব্যবহার করতে দেখি তখন আমার মা’র মত তাকে ধমক দেই না। কারণ আমি জানি এই ইন্টারফেসিং টা তার মাথায় ভিন্ন ভাবে কাজ করছে, তাকে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে তার পড়ার প্রতি আরো মনোনিবেশ করতে ভারি পর্দার মত কাজ করছে।

কমনওয়েলথ এক্সিকিউটিভ এমবিএ এর ই-কমার্স বই এর এক কেইস স্টাডিতে ছিল মাইন্ড ম্যানেজার প্রোগ্রামের ব্যবহার এর কথা। আমি সেরকমই একটি মাইন্ড ম্যানেজার বা ডিজিটাল ডায়রি ব্যবহার করি সেই ২০০২ সাল থেকে যা আমাকে আমার সকল চিন্তা ভাবনা ও কর্ম পরিকল্পনা সমন্বয় করতে মারাত্মক ভাবে সহযোগিতা করে আসছে বিগত ২০ বছর ধরে। মজার বিষয় হলো ২০০০ সালে আমি ছাত্রদের পড়াতাম মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের আউটলাইন ভিউ সহ অন্যান্য ভিউগুলো সম্পর্কে যা পাওয়ার পয়েন্টেও আছে। আর এই আউটলাইন ভিউ টুল টি দিয়ে বড় বড় আর্টিকেল খুব দ্রুত সাজায়ে গুছায়ে লিখে ফেলা যায়। কিন্তু এই টুলটি দিয়ে যে ডিজিটাল ডাইরি বানালে তা মারাত্মক রকম ব্যবহারিক কাজে আসতে পারে তা আমি দুই বছর পরে বুঝতে পারি। তাই টেকনোলজি জানা আর তাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার মধ্যে অনেক তফাত। ই-কমার্স বইটাতে বলা ছিল যে তথ্য প্রযুক্তি বিভিন্ন দেশে কয়েকটি পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যায়, যেমন ডাটা প্রসেসিং ইরা, যখন সব ম্যানুয়াল তথ্য ডিজিটালাইজেশন হয় তার পর আসে এমআইএস ইরা বা ম্যানেজমেন্ট অব ইনফরমেশন সিস্টেমস ইরা যখন সেই ডিজিটাল ডেটা গুলো স্ট্রাকচারাল রিলেশনাল ডাটাবেইজে সন্নিবেশিত হয় যা থেকে প্রয়োজন মত বিভিন্ন ভাবে আমরা তথ্য যাচাই বাছাই করতে পারি আমাদের প্রয়োজন মত ফিল্টার করে নিতে পারি। এর পর আসে সিস ইরা বা স্ট্র্যাটেজিক ইনফরমেশন সিস্টেমস ইরা যখন ব্যবস্থাপকেরা সেই ডেটা বেইজ থেকে বিশ্লেষণ ধর্মী তথ্য উপাত্ত উৎপাদন করতে পারেন ও ভবিষ্যতবাণীও করতে পারেন। এটাই মূলত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর পর্যায়। তার পর আসে আইওএস ইরা বা ইন্টার অরগানাইজেশনাল অপারেটিং সিস্টেম ইরা যখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান এর মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহককে তাদের সেবা পৌঁছে দিতে পারে।


সোনালী ব্যাংকে যখন বিভিন্ন ব্রাঞ্চে যার যার মত ব্যাংকিং সফটওয়ার ব্যবহার করতো তখন ছিল ডাটা প্রসেসিং ইরা, তার পর যখন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হলো ও ইনটালেক্ট সিবিএস (কোর ব্যাংকিং সফটওয়ার) এর মাধ্যমে সকল শাখায় একই ইন্টারফেস ও সেন্ট্রাল ডাটা বেইজের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হলো তখন আমরা এমআইএস ইরা তে উঠে গেলাম। যখন একটিভ ডিরেক্টরি বা এডি’র মাধ্যমে ফায়ার ওয়াল সেট আপ করে ফেলা হলো তখন এই এমআইএস ইরা আরো পোক্ত হলো আর ডাটা সেন্টার থেকে নতুন নতুন রিপোর্ট জেনারেট করতে পারার ক্ষমতা আমাদের সিস ইরা তে উত্তরণ ঘটাল। এখন যখন আমরা আরটিজিএস (রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট), ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্র্যান্সফার বা ইএফটি’র মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের একাউন্টে টাকা পাঠাতে পারছি আর এ্যাপসের মধ্যমে ফান্ড আদান প্রদান করতে পারছি তখন আমরা আইওএস বা ইন্টার অরগানাইজেশনাল অপারেটিং সিস্টেম এরার দিকে ধাবমান আছি। পুরোপুরি ইন্টারনেট ব্যাংকিং চালু হয়ে গেলেই আর সকল ব্যাংক তা চালু করতে পারলে এই আইওএস ইরা চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাবে। একই দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই পর্যায়গুলো বিভিন্ন সময় চলতে পারে, কোনটা আগায়ে থাকে বা কোনটা হয়তো কিছুটা পিছনে পরে থাকে। মজার ব্যাপার হলো ইন্টারনেটে এখনও আমরা সর্বত নিশ্চয়তা প্রদান করে চুক্তি সম্পাদন করতে পারি না কিন্তু ব্লক চেইন টেকনোলজি চলে আসছে যা সেই সমস্যারও সমাধান করে দিতে পারবে ভবিষ্যতের কোন এক নিকটবর্তী সময়ে। এই ব্লক চেইন প্রযুক্তি সমগ্র আন্ত ডিজিটাল লেনদেনকে গ্রাস করে ফেললে তা মানব সভ্যতাকে কয়েক ধাপ আগায়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনও অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তবে প্রযুক্তিগত অগ্রসরমানতা সেই দিকেই যাচ্ছে বলে মনে হয়। 


আরেকটি হিউমেন ইন্টারফেসিং হলো ভয়েস কন্ট্রোল ডিভাইসেস। বর্তমানের স্মার্ট টিভি থেকে শুরু করে গুগল সার্চ সবই ভয়েস কমান্ড দিয়ে করা যাচ্ছে। এর পর এমন সব যন্ত্রপাতি আমাদের ব্যবহারে চলে আসবে যাকে মুখে কথা বলে চালনা করা যাবে। এটা উন্নত সভ্যতার একটা পরম সুবিধা বলা যেতে পারে। এই সুবিধার এক ভয়ংকর বিপদজনক দিকও আছে, খালেক ভাই বললো প্রায় তিন বছর আগে থেকেই ভয়েস ক্লোনিং করে টাকা আত্মসাতের চক্র সক্রিয় হয়ে গেছে। আপনার ভয়েস আরটিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে হুবহু নকল করা যায় আর তা দিয়ে আপনার পরিবারের কাউকে বোকা বানায়ে টাকা উপার্জন করা যায়। যেমন ধরেন হঠাৎ আপনার ছেলে আপনাকে ফোন করে বলছে আব্বু আমাকে টাকা পাঠাও আমি বিপদে পড়েছি। তার গলার স্বর নকল করে অন্য কেউ এই কলটি করেছে তা আপনি বুঝতেও পারবেন না। যত দিন যাচ্ছে প্রযুক্তিও উন্নত হচ্ছে তেমনি চোর বা ডাকাত ও ধাপ্পাবাজরাও তত উন্নত হচ্ছে। এটা যেন তালা চাবি যেমন উন্নত হচ্ছে চোররা তা খোলার চাবিও বানিয়ে ফেলছে। আজকের যুগের চোর ডাকাত রা হলো সাইবার হ্যাকার  যারা সাইবার ক্রাইম করে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির ঘটনা একটা ঐতিহাসিক কেইস স্টাডি হয়ে থাকবে যারা সাইবার ক্রাইম নিয়ে পড়াশুনা করবেন তাদের জন্য। ভয়েস কন্ট্রোলের এক মজার কাহিনী এক মুভিতে দেখিয়েছিল, ওই ব্যক্তি বাড়ির সব কিছু ভয়েস কন্ট্রোল করায় হঠাৎ একদিন বাইরে যাওয়ার পর বৃষ্টিতে তার ঠান্ডা লেগে গলা বসে যায় এখন সে যতই তার বাসার দরজা খুলতে বলে ওই বসে যাওয়া গলার স্বর তার ভয়েস কন্ট্রোল ডিভাইস গুলো আর রেকগনাইজ বা সনাক্ত করতে পারে না আর সে পড়ে যায় মহা বিপদে । আমার গাড়ির ড্রাইভারকে যখন বলি সময় আসতেছে চালক বিহীন গাড়ির তখন তোমাদের চাকরী আর থাকবে না তখন সে হেসে বলে ঢাকার শহরে চালক বিহীন গাড়ী কল্পনাই করা যায় না। তা আসলেও উন্নত দেশে আসবে কিন্তু আমাদের দেশে আসতে অনেক দেরি। আমাদের দেশে চালক বিহীন রিক্সা হতে পারে কিন্তু চালক বিহীন গাড়ি চালানর মত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স পশ্চিমারা অন্তত বানাতে পারবে বলে মনে হয় না। তবে ঢাকার ধোলাই খালের কিছু দক্ষ গাড়ি মেকানিক তা চেষ্টা করে দেখতেও পারে, বলা যায় না।

আমার নানু বহু আগে থেকেই পেইস মেকার এর মধ্যমে তার হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা সমন্বয় করে ৭৫ বছর পর্যন্ত বেচে ছিলেন। তার বড় ছেলে আমার বড় মামা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৫ম ব্যাচের ছাত্র থাকা অবস্থায় সে সরকারী সুযোগ সুবিধা দিয়ে তার মাকে পেইস মেকার সংযোজন করতে পরেছিলেন সেই অনেক বছর আগেই। আমার মা তার ৬০ বছর বয়সে ২০১৩ সালের মধ্য ভাগে যখন হঠাৎ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াকে নিয়ে গেলাম, ওখানে ডাক্তাররা তার বুকে একটা যন্ত্র লাগায়ে ২৪ ঘন্টা পর্যবেক্ষণ করার পর তাকে পেইস মেকার নিতে বললো। নানুর পেইস মেকার ছিল সেই পুরাতন আমলের, বুকের চামড়ার নিচে বসান একটা বেঢপ যন্ত্র যার কারণে তাকে কিছুদিন পরপর ওই জায়গা পরিষ্কার করতে ডাক্তার এর শরণাপন্ন হতে হতো কিন্তু মাকে যেটা ডাক্তার দিল তা ডাবল চেম্বার পেইস মেকার আর অনেক উন্নত। বুঝাই যায় না যে তার বুকে একটা যন্ত্র বসান আছে। ওটার ম্যানুয়ালে বলা ছিল ওই পেইস মেকার সংযুক্ত অবস্থায় ব্যক্তি এমনকি সাতারও কাটতে পারবে। এ কথা বললে মা হাসতো। মেডিকেল যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রেও নানা রকম নতুন প্রযুক্তি দিনকে দিন চলে আসছে যা আমাদের ব্যবহারিক জীবনে প্রচুর পরিবর্তন আনছে। এগুলো ডাক্তারদের ইনটেলিজেন্ট ডিভাইসের হিউমেন ইন্টারফেসিং বলা যেতে পারে। এনজিওগ্রামের মাধ্যমে হৃদ যন্ত্রের মধ্যে কোথায় ব্লক আছে তা তারা দেখতে পায় ও সেখানে রিং পড়ায়ে দেয়ার মত সূক্ষ্ম টেকনোলজি এখন তাদের কাছে সহজলভ্য। ১৯৯০ সালে আমার বাবার মৃত্যুর সময় যে ইনজেকশন পাওয়া যায় নাই সেই ইনজেকশন দিয়ে আমি ২০১১ সালে হার্ট এটাক থেকে বেচে গেলাম। এখন মানুষের রক্তের চর্বি কমানোর জন্য উন্নত যত ঔষধ পাওয়া যায় আগে তা পাওয়া যেত না। যত দিন যাচ্ছে তত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার মানুষকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে। যারা কানে কম শুনে তাদের জন্য এমন শব্দ শুনার যন্ত্র বেড় হয়েছে যা দিয়ে সে কানে শুনার মাত্রা বাড়াতে কমাতে পারে। ঢাকার মত শব্দ দূষণের শহরে ইয়ার প্লাগিং করা বিদেশী পরিব্রাজককে দেখেছি আমি। এ শহরে ইয়ার প্লাগিং করাটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপাদেয় যারা শান্ত উন্নত শহর থেকে এ শহরে বেড়াতে আসেন তারা বিষয়টা ভাল বুঝবেন। আমাদের কান এই হেজারডাস শহরে মানায়ে গেছে আর ভেজাল খেতে খেতে আমরা ভেজাল প্রুফ হয়ে গেছি।  


তাই বলি যারা এখনও ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দুরে আছেন তারা ডিজিটাল ডিভাইডের পেছনের কাতারে পড়ে যাবেন অতি দ্রুত। যথাসম্ভব ডিজিটাল ডিভাইস দেহ সংযুক্ত করে সাইবার্গে পরিণত হন কারণ এটাই সময়ের দাবি। সোনালী ব্যাংকের অতি প্রিয় একজন স্যার ছিলেন সামসুল তসলিম ভূঁইয়া, উনি বলতেন আমার দুই কানে দুটা যন্ত্র লাগানো থাকবে সব সময় এটা আমি সহ্য করতে পারবো না, অথচ এখন ছেলে বুড়ো সবাই কানে ইয়ার ফোন লাগায়ে মোবাইলে সংযুক্ত হয়ে কত কি না শুনছে আর দেখছে। 
 
 
মানবজাতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আঙুল ছুঁতে চলেছে। যন্ত্রটি এখন কথা বলছে, কয়েক দিনের মধ্যেই এটি হাঁটতে শিখবে, এখনও শিশু কিন্তু শীঘ্রই প্রাপ্তবয়স্ক হবে। আমাদের এই শিশুটিকে বড় করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

Human Race is in the verge of touching the fingers of Artificial intelligence. The machine is now talking, within few days it will learn to walk, still a kid but soon will be an adult. We need to be prepared to raise the Ai child

আমি এক সময় ভাবতাম, ইলেকট্রনিক আর অনলাইন বিপ্লবের পর, মনে হয় সব বই পেপারলেস হয়ে যাবে, এখন বুঝি তা হবে না। মনোরম পরিবেশে বই পড়ার আনন্দ আর অবসর পঠন থেকে যে জ্ঞান আহরণ হয় তা ওই টিক টক, পিডিএফ, এফবি রিলস ইত্যাকার সংক্ষেপিত যত্রতত্র ছড়ান ছিটান স্বল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী আর সর্টকাট সিস্টেম দিতে পারবে না কখনই। মানব জ্ঞান আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) র জন্ম দিলেও সেটা যত আগাবে, মানব সভ্যতাকে তার চেয়ে বেশি উন্নত থাকতে হবে, আর তা হবেও। কিছু লোক ছিটকে বাইরে চলে যাবে, যেমনটা হয়েছে ডিজিটাল ডিভাইডে, অনেকেই এই নতুন ও দ্রুত অনলাইন জগতটাকে বা ভার্চুয়াল রিয়ালিটিকে এখনও ঠিকমত বুঝতেই পারছে না। সামনে যে নতুন রিয়ালিটি আসছে তার জন্য এখন থেকেই আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে বা হতে হবে। তা না হলে এই ভয়ংকর রকম সুন্দর আর দারুণ দ্রুত অলীক বিশ্বে আপনি পশ্চদপদ থেকে যাবেন।
 

এডিট ও আপডেট হিস্ট্রিঃ ১৭জুলাই২০২৩> ২০জুলাই২০২৩> ০৩ আগস্ট ২০২৩> ১৯সেপ্টেম্বর২০২৩> ১২ফেব্রুয়ারী২০২৪> ৮জুন২০২৫>

Friday, September 15, 2023

আমার সেই ১০টি প্রশ্ন ও তার আজকের উত্তর


১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল মানে ৫টি বছর আমি এই ১০টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজার চেষ্টা করেছি। একটা বিষয় হলো প্রশ্নগুলো ছিল আজ থেকে ২৪ বছর আগের যখন আমার বয়স ছিল ২৮ । সবে মাত্র বিয়ে করেছি বাচ্চার বাবা হওয়ার সময় হয়ে গিয়েছিল । ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ প্রথম কন্যা সন্তানের বাবা হই। বয়সটা নিতান্তই কম ছিল তাই তখনকার কিছু কিছু প্রশ্ন এখনকার প্রেক্ষাপটে হাস্যকর রকম হালকা মনে হতে পারে অনেকের কাছে। আজ ফিরে তাকালে ১০টার মধ্যে বেশির ভাগ প্রশ্ন কম গুরুত্ববহ মনে হয় না আমার কাছে। অন্যর আছে কি মনে হলো তা নিয়ে আমার চিন্তা করার অবসর নাই, আমার কাছে ২৮ বছর আগের প্রশ্নগুলোর গুরুত্ব আজও আছে, তাই পুরাণ সিডিতে সংরক্ষিত ওই ১০টি প্রশ্ন তুলে এনে গুগল ট্রান্সলেটর দিয়ে বাংলায় অনুবাদ করে পুনরায় আলোচনাটা আমার নিজের জন্যই করা প্রয়োজন। আমার মনের ভিতরকার পরিবর্তন গুলো আরো ভালো করে বুঝে দেখাটা আমার জন্যই জরুরী। 

আমার লেখা আর্টিকেল যা ২রা জানুয়ারি ২০২১ সালে ব্লগে আপলোড করেছিলাম ”তিঁনি কেবল পাশাই খেলেন না, পাশার ঘুঁটিগুলোও হারায়ে ফেলেন!” তার মধ্যে এই প্রসঙ্গটা এনেছিলাম, তা থেকেই শুরু করি, কারণ না হলে একই কথাগুলোর পুনরাবৃত্তি করতে হয়। ছোটবেলা থেকেই জীবন ও জগত সম্পর্কে গভীর চিন্তার প্রতি আগ্রহ ছিল আমার। কৈশোর থেকে জীবনের মৌলিক প্রশ্নগুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন সমাধানের চেষ্টা শুরু হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে মিলন ভাই এর বাংলাদেশ এস্ট্রোনোমিকাল এসোসিয়েশন এর সাথে জড়িত ছিলাম যা একটি বামপন্থী সংগঠন। আমি তখন তা জানতাম না। আমার পড়া শুনায় শরিফ হারুনের “দান্দিক বস্তুবাদ”বইটি পরে দার্শনিক টার্ম গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট একটা ধারণা পাই। এ বিষয়ে অন্যদের লেখা বইগুলো খুব জটিল করে লেখা কিন্তু শরিফ হারুনের “দ্বান্দিক বস্তুবাদ” বইটা অত্যন্ত সরল ভাষায় লেখা তাই বুঝতে খুব সুবিধা হয়েছিল। একটা সাধারণ সূত্র উনার বইতে উনি পাঠককে ধরায়ে দিয়েছিলেন আর তা হলো অনেকটা নিম্নরূপঃ-


উনি প্রতিটির ব্যাখ্যাও সুন্দর করে লিখেছেন তার বইয়ে। তারপর বলেছেন যে বহুকাল ধরে দার্শনিকেরা অধিবিদ্যক বস্তুবাদ আর ভাববাদিক দ্বান্দিকতা এই দুই শিবিরে বিভক্ত ছিল কিন্তু যখন দ্বান্দিক বস্তুবাদ এর মতবাদ এ উন্নয়ন ঘটলো তখন অধুনিক চিন্তা চেতনার সূত্রপাত হলো। বাদ-প্রতিবাদ, সংবাদ (থিসিস-এন্টিথিসিস, সিনথেসিস) এর প্রক্রিয়াটি শুরু হলো। তখন আমি বুঝলাম যে আসলে অদিবিদ্য ভাববাদে সকল ধর্মের অবস্থান আর দ্বান্দিক বস্তুবাদে আধুনিক বিজ্ঞান মনষ্কতার পুরটাই বর্তমান। মেটা দাগে এই শ্রেনীকরণটি আমাকে দর্শনের বহু জটিল বিষয় বুঝতে সহযোগিতা করেছিল তখন। বর্তমানে আরো বুঝি যে বিষয়গুলো আরো গভীরে গেলে আরো অনেক ধারা উপধারার সৃষ্টি হয় তবে শরিফ হারুনের ওই বইটার কাছে আমি ঋণী কারণ তা বুঝার দরজাটা খুলে দিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সত্য বইটি আমি হারায়ে ফেলেছি কিন্তু তাতে বর্ণিত জ্ঞান আজো আমার মৌলিক ধারণা গুলোর একটা হয়ে রয়ে গেছে।

১৯৯০ এ বাবার মৃত্যু ও ২০১৬ সালে মার মৃত্যু পরবর্তী মানুষিক অবস্থা গুলর কারণে ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১৬ সালে স্রষ্টা সম্পর্কে ধারনা আমার মধ্যে তিনবার বিরাট পরিবর্তন ঘটে। ২০১৭ সাল হতে যা ধারাবাহিক পরিবর্তনের কিংবা ঝড়, জাপটার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। পর্যায় গুল এভাবে ভাগ করা যায়, (১৯৯২ – ১৯৯৮) ৬ বছর বস্তুবাদের প্রতি আসক্তি, (২০০২ – ২০১০) ৮ বছর ইসলামের প্রতি আসক্তি, (২০১৭ হতে আজ পর্যন্ত) ৭ বছর নাস্তিকতার প্রতি আসক্তি। আনুমানিক ১৯৯২ হতে ১৯৯৮ সালে হারুন শরিফের দান্দিক বস্তুবাদ বইটি পড়া হয় । এর ফলে মারাত্মক ভাবে ধার্মিক চিন্তা চেতনা থেকে সরে যাই কিন্তু মন মানছিল না, নানা ভাই এর ধার্মিক আদর্শ আর লিবিয়ার তবরুক শহরে বাবার কলিগ পাকিস্তানের মাসুম আঙ্কেলের আমাকে আগ্রহ ভরে কোরআন, উর্দু লেখন ও ধর্ম শিক্ষা এত সহজে ভুল মনে করব এ রকম অর্বাচীন আমি না। তাই তখন (১৯৯৮) সেই তরুণ বয়সে ১০টি প্রশ্নের একটি সেট তৈরি করেছিলাম যা বিভিন্ন জনের সাথে আলোচনা করে যদি উত্তর পাই তবেই একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিব এই ভেবে। প্রশ্ন গুলর আনুমানিক উত্তর আমার জানা ছিল কেবল নিশ্চিত হতে পারছিলাম না। আমার চাকুরী জীবনে প্রবেশ ১৯৯৮ সালে আর এই প্রশ্নগুলো ছিল ঠিক ঐ সময়কার। চার বছর খোঁজাখুজির পর উত্তর আমার অফিস টেবিলে একটা লিফলেটের মধ্যে লেখা হয়ে চলে আসে। ২০০২ সালে আমি তখন Canada based বাচ্চাদের আন্তর্জাতিক মানের কম্পিউটার শিক্ষাক্রমের প্রতিষ্ঠান টেকনোকিডস, ধানমন্ডিতে চাকুরীরত। নতুন প্রতিষ্ঠান তাই কাজ কম, চা খেতে বাইরে গিয়েছিলাম, এসে দেখি একটা সাদা কাল লিফলেট আমার ডেস্কে যাতে লেখা “ব্লাইন্ড ফেইথ অর ইন্টেলেকচুয়াল বিলিফ?”। আমার মাথা পুরাই নষ্ট হয়ে গেল লিফলেট টা দেখে। এই দ্বন্দ্বই ত ওই ১০ টা প্রশ্নর মূল যা গত চার বছর যাবত সমাধান করার চেষ্টা করছি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম যেতেই হবে এই কনফারেন্সে আর যথাসময়ে গেলামও। দু জন ব্যক্তি বক্তব্য রেখেছিলেন সেদিন সেই পুরাতন কৃষিবিদ অডিটোরিয়ামে (আজ যা ফার্মগেটের কেআইবি)। সেই কনফারেন্সের প্রথম বক্তা শাহ নেওয়াজ ভাই এর বক্তব্য মনে নাই অতটা, একজন ফিজিক্স গ্র্যাজুয়েট পেশায় শিক্ষকতা করেন লন্ডনে আর দ্বিতীয় বক্তা ইমরান ভাই যিনি লন্ডনে ডাক্তারি পড়ছেন, ইন্টার্নশিপে ছিলেন তখন। শাহ্‌ নেওয়াজ ভাই এর চৌকস ভাবভঙ্গি আর স্পষ্ট বক্তব্য মাথা ঘুরায়ে দিয়েছিল, আরে আমরা যে সব মোল্লাদের কাছ থেকে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে শুনি তাদের চেয়ে এঁরা শত গুন শ্রেষ্ঠ আর দারুণ ব্যক্তিত্বের মানুষ। ডা. ইমরান ভাইয়ের বক্তব্যটা আমি যত দিন বেচে থাকি মনে থাকবে।  সেই অতি পরিচিত গল্প সকলেরই জানা যে ১৬ বছর বয়সের ইমাম আবু হানিফা (রহিমাল্লা)র গল্প, যেখানে তিনি এক ঘন্টা দেরি করে এক বিতর্কে উপস্থিত হয়ে পুর বিতর্ক জিতে নেন। তার দেরির কারণ বলেছিলেন যে নদী পার হতে কোন নৌকা পাচ্ছিলেন না তাই কলাগাছ গুল নিজেরাই নিজেদের কেটে ছেঁটে বেধে ভেলা বানায়ে তাকে নদীটি পারাপারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে আর তাতেই তার আসতে এক ঘণ্টা সময় দেরি হয়েছে। উপস্থিত কেউ তার বলা দেরি হওয়ার কারণটি বিশ্বাস করতে পরছিলেন না, তাদের কাছে তা সত্য বলে গ্রহণযোগ্য হচ্ছিল না। তখন তিনি প্রশ্ন রেখেছিলেন প্রকৃতি একা একাই সব সৃষ্টি করেছে (কার বা কোন বুদ্ধিমত্তার ইশারা ছাড়া) এই বিতর্কে আমাকে ডেকে এনেছ আর তেমরাই এখন বিশ্বাস করতে পারছ না সামান্য এই কলাগাছ গুল একা একা নিজেদের কেটে ছেঁটে ভেলা বানায়ে আমাকে পার করেছে !!? এই ছোট্ট স্মৃতি-গল্পটি মারাত্মক একটি সূত্র প্রদান করে। মানুষের পুর চিন্তার পটভূমিকে পাল্টে দেয়, যারা নাস্তিকতায় বদ্ধমূল তাদের জন্য এটা পুরা মাত্রার ভূমিকম্প বটে। তাদের গভীর মনের ভাবনা যে, বিশ্বচরাচর একা একাই সৃষ্টি হয়েছে ও চলমান আছে এই বদ্ধমূল ধারণায় ফাটল ধরায়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী বক্তব্য।

সেদিনের সেই সেমিনার পুরটা আমি ছিলাম না, একটা নোটে লিখে এসেছিলাম কাউকে পাঠাতে যাতে আমার প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারি। তখন ডা.সাঈদ ভাই যোগাযোগ করলেন আমার সাথে। তাকে প্রশ্ন গুলো দিলাম এর উত্তর যাতে তিনি আমাকে দিতে পারেন। বেশ কিছুদিন পর তিনি আসলেন আমরা আবার আলোচনায় বসলাম। উনি আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার বদলে প্রশ্নগুলোর প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে দিলেন যা থেকে আমি আমার প্রশ্নগুলোর যথার্থতা হারায়ে ফেললাম। তার পর ডা.সাঈদ ভাই এর সাথে বেস কয়েকবার আলোচনায় ইসলাম ধর্মের প্রতি ঝুঁকে গেলাম। ইসলাম ধর্মে যে ইনটেলেকচুয়াল ভাবেও প্রবেশ করা যায় তা আমার জানা ছিল না। তার পর আরো উচ্চতর জ্ঞান সম্পন্ন ও আধুনিক ভাবধারার লন্ডন ফেরত ভাইদের সাথে পাঠ সভায় অংশ নিলাম। ২০০২ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত সময়টা কাটে আমার ইসলাম সম্পর্কে আরো গভীর জ্ঞান অর্জন ও মানুষকে ইসলামে দাওয়া করার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। প্রতি সপ্তাহের সোমবার আমরা পল্টনে আলোচনা সভার আয়োজন করতাম ও ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বক্তব্য শুনতাম ও যারা তার বিপক্ষে তাদের সাথে বিতর্ক করতাম। আমরা একটা ফোরাম গঠন করি যার নাম ছিল মুসলিম প্রফেশনাল ফোরাম বা সংক্ষেপে (এমপিএফ)। এই ফোরামের পক্ষ থেকে আমরা ঢাকা সহরের বিভিন্ন বড় বড় অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে সেমিনার আয়োজন করেছি। সর্বশেষ ২০০৮ সালে আমরা একটা বিশাল আয়োজন করি, যা ন্যাশনাল কনফারেন্স হিসেবে শিরোনাম ছিল “ইসলাম মিস আনডারসটুড : মিস ইন্টারপ্রিটেড” ঢাকার কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস ইনিস্টিটিউট এর অডিটোরিয়ামে দিন ব্যাপী ছিল এই অনুষ্ঠানটি যাতে ৭০০ জনের মত লোকজন সমবেত হয়। এর পরিকল্পনা, প্রচার ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মুসলিম প্রফেশনাল ফোরাম এর হয়ে আমি বহু কাজে অংশ নিয়েছিলাম।  

এই অনুষ্ঠানটির পর লন্ডন ফেরত ভাইরা একে একে ফেরত চলে যান আর দায়িত্ব দিয়ে যান দেশীয় লোকদের হাতে যাদের তারা ইসলামী প্র্যাকটিসে প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করে রেখে যাচ্ছিলেন। দেশীয় লোকগুলো তাদের মত করে আর সংগঠনটি ধরে রাখতে পারেননি। ২০১০ সালের পর থেকে এমপিএফ এর কার্যক্রম দুর্বল হয়ে যায় ও আমিও এর কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরি। ১৯৯০ এ বাবার মৃত্যুর কারণে মনের মধ্যে শূন্যতা ছিল, পৃথিবীর অর্ধেকটা শূন্য মনে হতো। মা বেচে ছিল তাই তখনও নিজেকে ঠিক রাখতে পেরেছিলাম। কিন্তু ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন মা’ও চলে গেলেন তখন আর বাকি কিছুই যেন রইলো না। পৃথিবীর পুরটাই আক্ষরিক অর্থেই অর্থহীন হয়ে গেল আমার কাছে। যখন কেউ সান্ত্বনা দিয়ে বলতো কার বাপ মা চিরকাল বেচে থাকেন না তখন ভিতর ভিতর এত রাগ লাগতো যে বলতে ইচ্ছা হতো, যার বাপ মা নাই সেই কেবল বুঝে এর কষ্টটা কতখানি। জীবনের পুরো শিকর উপড়ে ফেলার মত মনে হয়। ভাগ্য ভাল মা খালাত বোনের সাথে কম বয়সে বিয়ে দিয়ে গেছেন আর তিনটা বাচ্চার জনক হয়ে গেছি ততদিনে। তা না হলে আমি ছন্ন ছাড়া বাউণ্ডুলে হয়ে যেতাম। নেশাগ্রস্থ হয়ে তিলে তিলে নিজেকে শেষ করে দিতাম হয়তোবা। মা’র মৃত্যুর পর এতটাই নার্ভাস ব্রেক ডাউন হয়ে গিয়েছিল যে আমি মানুষিক ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম সোনালী ব্যাংকের মিরপুর প্রিন্সিপাল অফিসের আমার এক কলিগের পরামর্শে। আরনেস্ট মিলার হেমিংওয়ের “দ্যা ওল্ড ম্যান এন্ড দ্যা সি” পড়া ছিল আমার তাই আমি জানতাম মানুষ ধ্বংস হয়ে যায় কিন্তু কখনও পরাজিত হয় না। এই মনোভাব থেকে আবার উঠে দাড়াই কিন্তু এবার আর কার ডর ভয় নাই। কিসের স্রষ্টা, কিসের কি, যে স্রষ্টা বাবা মা দিয়ে আবার তাদের বিনা বিচারে উঠায়ে নিয়ে যায় সেই স্রষ্টার তাঁবেদারি আমি আর করবো না। এরকম একটা মনোভাব থেকেই ধর্মীয় সব ধ্যান ধারনা প্রত্যাখ্যান করা শুরু করি। মুসলিম প্রফেশনাল ফোরামের ভাইদের সাথে যোগাযোগ ছিল তখনও কিন্তু তাদের কার্যক্রম আর কথা বার্তা আমার কাছে তখন অর্থহীন ও হাস্যকর মনে হতো। তাদের সাথে ঝগড়া করে সম্প্রতি তাদের গ্রুপ থেকে বের হয়ে এসেছি। ইউভাল নোয়া হারারীর “সেপিয়েন্স-মানুষের ইতিহাস”, ইসমাইল আল ফারুকী ও ডেভিড সফার (আসাদ ইকবাল মামুন অনুবাদ কৃত) “হিস্ট্রি অব দ্য রিলিজিয়নস” আর ওয়ালি উল মারূফ মতিনের অনুবাদকৃত ক্লাউস শোয়াব এর “চতুর্থ শিল্প বিপ্লব” বইগুলো আমার মানসিক পরিবর্তনে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।
আমার চিন্তা চেতনায় পরিবর্তন গুলো টাইম লাইনে প্লট করলে নিম্নক্ত তথ্যচিত্রটি পাওয়া যাবে। 

সে যাই হোক, এবার তবে আমার সেই প্রশ্ন গুলো আর তার আজকের উত্তরের দিকে মনোযোগ দেয়া যাক।

১) আমার প্রথম প্রশ্ন ছিলঃ ইসলাম কি মেটাফিজিক্যাল আইডিয়ালিজমের (অধিবদ্যিাগত ভাববাদ) সেক্টরে দাঁড়ায় না? Doesn’t Islam stand in the sector of Metaphysical Idealism?

আমার আজকের উত্তরঃ হ্যাঁ সর্বত ভাবে সকল ধর্মই এই ডোমেনেই পড়বে তাতে কোন সন্দেহ নাই। ধর্মের সকল ব্যাখ্যাই ভাব জগতে, আবেগ ছাড়া একটা মন্ত্রও ব্যাখ্যা যোগ্য নয় আর এটা কোন পরিবর্তনশীল ধারনা নয়, বদ্ধমূল অপরিবর্তনীয় ধারণা সমষ্টি। তাই তা অধিবিদ্য ভাববাদের কোটার মধ্যেই পড়বে।

২) আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিলঃ আমি যদি বিজ্ঞানকে অস্পষ্টের দিকে মানুষের মশাল হিসাবে গ্রহণ করি তবে আমাকে ডারউইনবাদকে গ্রহণ করতে হবে। ইসলাম কি প্রজাতির বিবর্তনকে মেনে নেয়?
If I accept science as the torch of human towards the obscure then I have to accept Darwinism. Does Islam accept evolution of species?

আমার আজকের উত্তরঃ না ইসলাম প্রজাত্যায়ন কিংবা বিবর্তনের কোন অংশেই বিশ্বাস করে না। তারা মনে করে মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত মানে সৃষ্টির সেরা তাই তারা বানর থেকে বিবর্তিত হয়ে আসতেই পারে না। তারা আদম হওয়ার সন্তান ও স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে এসে পড়েছে। তারা দেখতে যে শেইভ করা বেবুনের মত, তাদেরও যে গায়ে লোম আছে, দাঁত আছে, পায়ে নখ আছে তা তারা জানে, কিন্তু স্বর্গ থেকে টুপ করে পৃথিবীতে এসে পড়লে তারা প্লাস্টিক সদৃশ কিংবা ভিন্ন কোন পদার্থর শরীর নিয়ে আসার কথা ছিল, ঘর্মাক্ত, লোমশ, দাড়ি চুল ওয়ালা বানর সদৃশ্যতা তাদের থাকার কথা না। বিবর্তনবাদের প্রতি তাদের অনীহা তাদের মানব হিসেবে অহং বোধ থেকে আসে বলে আমার ধারণা। ঠিক যে কারণে পৃথিবীকে মহাবিশ্বের কেন্দ্রে ভাবতো পৌরাণিক গির্জার পাদ্রিরা আর যারা সত্য বলতো যেমন গেলেলিও, জিওরদানো ব্রুনো তাদের তারা হত্যা করতো। এখনকার কাঠমোল্লা মুসল্লিরা সেই সব ক্লার্জিদের হুবহু নকল আজকের সংস্করণ। সম্প্রতি জেরি কয়েনের “বিবর্তন বাদ কেন সত্য” বইটি থেকে বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রচুর যুক্তিও জানতে পারি। আর বর্তমানে জীবাশ্ম রেকর্ড গুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি বিবর্তনের স্বপক্ষে প্রমাণ হাজির করে।

৩) আমার তৃতীয় প্রশ্ন ছিলঃ দ্বাদ্দিক বস্তুবাদ বিজ্ঞান থেকে উৎপন্ন হয়, কোন ধর্মই যদি অধিবিদ্যক আদর্শবাদের সেক্টরে থাকে তাহলে ইসলাম এবং বিজ্ঞান কিভাবে একই স্থানাঙ্কে দাঁড়াবে? Dialectic Materialism is generated from Science, if any religion is in the sector of metaphysical Idealism then how can Islam and Science stand in the same quadrants?

আমার আজকের উত্তরঃ আমি ১৯৯২ সালের দিকে মাশহুরুল আমিন মিলন ভাই এর বাংলাদেশ এস্ট্রোনোমিকাল এসোসিয়েশনে সদস্য ছিলাম তখন এক সম্মানিত বড় ভই আমাদের আলোচনা শুনে বলেছিলেন ভাববাদের পর মানব চিন্তনে উন্নয়ন হলো বস্তুবাদ তা হলে কেন আপনারা এ নিয়ে বিতর্ক করছেন, এ তো প্রমাণিত সত্য আজকের সময়ে। কোন ভাবেই ধর্ম দ্বান্দিক বস্তুবাদের সেক্টরে পড়ে না, সকল ধর্মের অবস্থান অদিবিদ্য ভাববাদে। রবীন্দ্রনাথের ভাষা ও ছন্দ কবিতায় যা বলেছেন যে, রাম তোমার মনে যা উদয় হয়েছে তাই সত্য বাস্তবে যা দেখছো তা সত্য নয়, এটাই ভাব বাদের মূল সূত্র।  ভাষা ও শব্দ কবিতায় রবিন্দ্রনাথ লিখেছেন

 ”নারদ কহিলা হাসি, "সেই সত্য যা রচিবে তুমি,

ঘটে যা তা সব সত্য নহে। কবি, তব মনোভূমি

রামের জনমস্থান, অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো।"

বিজ্ঞান ও ধর্ম পরস্পর বিরোধী অবস্থানে থাকে। বিজ্ঞান প্রকৃতিকে বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করে স্রষ্টা অস্তিত্ব স্বীকার বা অস্বীকার করা তার কর্মক্ষেত্র নয় বটে কিন্তু স্রষ্টা সকল কিছুর স্রষ্টা ও কারণ এটা মেনে নিলে বিজ্ঞানের আর গবেষণা করার প্রয়োজনটাই থাকে না। এই সরল সত্যটা নিয়ে বড় বড় পণ্ডিতের মধ্যেও দ্বন্দ্ব দেখা যায়। কিন্তু আজ তা আমার কাছে জলবৎ তরলং। বৈজ্ঞানিক মতাদর্শ আর ধার্মিক মতাদর্শ সহাবস্থানে থাকতেই পারে না।

৪) আমার চতুর্থ প্রশ্ন ছিলঃ অন্ধকার ছাড়া আলোর কোনো মানে নেই। আলো জানার জন্য অন্ধকার চেনা কি জরুরী নয়? Without the darkness light have no meaning.  Isn’t it important to know the dark to know the light?

আমার আজকের উত্তরঃ হ্যাঁ জানাটা জরুরী। স্টার ওয়ার মুভির শেষ পর্বটা দেখেছেন মনে হয় অনেকেই ওখানে ইভেলের উত্তরসূরি কিভাবে পয়দা হয় তা দেখান হয়েছে। শয়তানের ধারনা জরথ্রুষ্ট্রর ধর্মে প্রথম দেখা যায় তবে সেখানে তারা শয়তানকে সকল অমঙ্গলের বিধাতা মনে করে থাকে। ইসলামে শয়তান পথভ্রষ্ট হয়ে অমঙ্গলকে বেছে নিয়েছে কিন্তু এখানেও দাজ্জাল হলো প্রকৃত শয়তানি শক্তি যাকে মুসলমানরা পরাভূত করতে অপারগ হবে আর একমাত্র ঈসা মসিহ তাকে পরাস্থ করতে পারবে বলে তারা বিশ্বাস করে।  শুভকে জানতে হলে অশুভ কি তা তো জানতেই হবে। তাই কোন জিনিস পুরপুরি দেখতে হলে তাকে সব দিক থেকেই দেখা চাই। এক পেশে দৃষ্টি ভঙ্গি আপনাকে ভুল তথ্য দিবেই। গুড এন্ড ইভেল এই দুই ভাগে বিশ্বকে বিশ্লেষণের প্রয়োজন নাই প্রকৃত সব সমই নিরপেক্ষ ও রুক্ষ। প্রকৃতি কোনকিছুকেই ছাড় দেয় না। প্রকৃতিকে ভালোও বালা যায় না খারাপও বলা যায় না। এটাই বাস্তব আর এটাই আমাদের বাস্তবতা, খারাপ হোক আর ভালো হোক এটাকে মেনে নেয়া ছাড়া আমাদের হাতে আর কোন উপায় নাই। তবে প্রকৃতিকে অনেকভাবেই জয় করেছি আমরা। আজ আর প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার উপর আমাদের ভাগ্য নির্ভর করে না। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান আরো অগ্রগতি করে প্রকৃতিকে আরো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে বলে আশা করা যায়।

৫) আমার পঞ্চম প্রশ্ন ছিলঃ কুরআন মুসলমানদের জন্য সমস্ত প্রশ্নের সম্পূর্ণ সমাধান। তাহলে কেন আমি সেখানে আমার সব উত্তর পাচ্ছি না? The Quran is the total solution to all the question for Muslims. Then why don’t I get all my answers there?

আমার আজকের উত্তরঃ কারণ আর কিছুই না, আমাকে উদ্দেশ্য করে কোরআন নাজিল হয় নাই। আরব ভুখন্ডে আইয়ামে জাহিলিয়াত মানে হলো কতগুলো বড়বড়, অসভ্য, অশিক্ষিত জাতির উন্নয়নে তা নাজিল হয়েছিল। সমগ্র বিশ্বের জন্য তা সমাধান তা মুসলমানরা বিশ্বাস করে কিন্তু এই বিশ্বাস তাদের আবেগ তাড়িত বিশ্বাস বাস্তবতা বর্জিত বিশ্বাস ছাড়া আর কিছুই না। ধর্মান্ধতার আবেগের কারণে তারা তা দেখতে পায় না। ঈসা মসিহ এসেছিলেন ইহুদিদের জন্য কিন্তু তাকে পরবর্তীতে অন্য ভাবে মানব জগতে উপস্থাপন করেছে তার অনুসারীরা। ঈসা আঃ কে মসিহ মনে করে না ইহুদিরা কারণ তার পূর্বের যত ভবিষ্যৎ বানি আছে মসিহ সম্পর্কে তার সাথে ঈসা আঃ এর মিল খুঁজে পাওয়া খুবই মুশকিল। মুহাম্মদ তানিম নওশাদ তার বই “ধর্মের অন্তরালে বিশ্বাস ভিত্তিক চেতনায় শ্রেণী সংগ্রামের আভাস” বই এর পৃষ্ঠা ৩৯, দ্বিতীয় আর্টিকেল “যিশুর মসীহত্ব এবং বিতর্ক” অনুচ্ছেদে তা বহু প্রমাণ সহ বর্ণনা করেছেন। গৌতম বুদ্ধ বলে গেছে তাকে যেন তাকে পয়গম্বর মনে না করা হয় কিন্তু তার অনুসারীরা পারে তো তাকে স্রষ্টা বানায়ে ফেলে। মানুষের এই উপাসনা করার প্রবৃত্তি বড় ভয়ানক রকমের শক্তিশালী। রাঙ্গামাটির মত দুর্গম অঞ্চলেও দেখলাম পাহাড়ের উপর পিতলের বৌদ্ধ মূর্তি বানায়ে রেখেছে। কোরআন সকল প্রশ্নের উত্তর ভাবে বিশ্বাসীরা, তাদের কাছে এর একেকটা শব্দের অর্থ অনেক গভীর। এর অর্থ বিশ্লেষণ করতে করতে কত মুজতাহিদ তৈরি হয়েছে। কত তফসির রচনা হয়েছে। আর সময়ের সাথে এটা হতেই থাকবে। ভাষা যত ক্লাসিকাল হবে তত তার ব্যাপ্তি। বাংগালীর ধর্মচিন্তা বইয়ে মোহাম্মদ আবদুল হাই বলেছেন (পৃষ্ঠা ২৩) এক ওঁ বা ওম শব্দের ১৯ টি ভিন্ন ভিন্ন অর্থ আছে। ক্লাসিকাল আরবির বিভিন্ন শব্দের শতাধিক অর্থ থাকাও আশ্চুর্য কিছু না। তা হলে একেক লাইন থেকে শতাধিক বিভিন্ন অর্থ উৎপাদন তো করাই যায়। একেক অর্থের একেক বয়ান। আর তা থেকেই যত বিভেদ বিপত্তি। কথা সত্য, এটা বিশ্বাসীদের বা মুসলমানদের জন্য সকল প্রশ্নের সমাধান কিন্তু আপনি মুক্ত মন নিয়ে প্রশ্ন করলেই ধরা খাবেন, কোন প্রশ্নের উত্তরই আপনার মনপুত হবে বলে আমার মনে হয় না।

৬) আমার ষষ্ঠ প্রশ্ন ছিলঃ সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদের বলেছেন, তিনি এক এবং তিনি অসীম। কিভাবে এক এবং অসীম ধারণা সিঙ্ক্রোনাইজ করা হয়?
The all mighty Allah told us, he is one and he is infinity. How does the concept of one and infinity stand synchronized?

আমার আজকের উত্তরঃ জেনোর প্যারাডক্স এর কথা মনে পড়ে যায়। হয় সব এক না হয় সব বহু কিন্তু যদি সব বহু হয় তবে তা আরো বহু হতেই থাকে যার শেষ নাই। সেলুনের আয়না প্যারাডক্স উদাহারণ হিসেবে নেন, দেখবেন আয়নার ভিতর আয়না তার ভিতর আয়না আর আপনার অনন্ত আপনি কত গুলো তাও আপনি জানতে পারবেন না। এই জায়গায় এসে এক ও বহু দুটো ভিন্ন বিষয়। এক কখনই বহু হতে পারে না। বিপরীতে বহু কখনই এক হতে পারে না। জেনোর কচ্ছপটা আজো স্টেডিয়ামের কেন্দ্রে পৌছতে পারে নাই শুধুমাত্র এই কারণেই। কারণ ১ থেকে ২ এ যাওয়ার মাঝের অর্ধেকটা পথ পর হতে তাকে অনন্ত অর্ধেকটা পথ পার হতে হয়ে চলেছে যেই অনন্ত অর্ধেক কখনই শেষ হবার নয়। তাই কচ্ছপটা কখনই ২ এ পৌছাতে পারবে না। তাই স্টেডিয়ামের কেন্দ্রেও তার আর যাওয়া হবে না। তাই এক ও অনন্ত এক সাথে কোন অর্থ বহন করে না। 

৭) আমার সপ্তম প্রশ্ন ছিলঃ আমাদের এক কুরআন, এক রসুল (সা.), এক স্রষ্টা (আল্লাহ), তাহলে তাবলীগ, জামাত, মোল্লা, শিয়া, সুন্নি, বিভিন্ন মাজহাবের মতো মুসলিমদের এত বিচিত্র গোত্র কেন?
We have One Quran, One Rasul (SM), One Creator (Allah), Then why there are so many different tribes of Muslims like Tablig, Jamat, Mullahs, Shia, Sunnia, different majhabs?

আমার আজকের উত্তরঃ নানা মুনির নানা মত। একটাই সোর্স কিন্তু তার ব্যাখ্যায় ব্যাখ্যায় সব সর্বনাশ করে ফেলেছে। যেখানে কোন দ্বিমত নাই সেখানে শত মত এনে দাড় করায়ে দিয়েছে আজকের মোল্লা শ্রেণী। এক জনের ব্যাখ্যা আবার অন্য জন মানে না। তারা আবার তাদের অনুসারী দল বানায়। এভাবে সব ধর্মেই নানা গোত্র ও শ্রেণীর উৎপত্তি হয়ে গেছে।  এভাবে তারা যে তাদের ঐক্য ভেঙ্গে ফেলছে তা বুঝার ক্ষমতা তাদের নাই। যে কোন ধর্মের মূল বানীর মর্মার্থ বা ক্রিড যদি তার অনুসারীরা তর্ক বিতর্ক করে নানা বিধ ধারায় ব্যাখ্যা করা শুরু করে তবে তা তাদের ঐক্য নষ্ট করে দেয়। ধর্মান্ধ এই বেকুবগুলার সেইটুকু জ্ঞানও নাই। সাধে কি আর ইংরেজরা ফাজিল পাসকে একটা গালিতে রূপান্তরিত করেছে। সেদিন দেখলাম বরিশালের কোন এক গ্রামের নাম ফাজিল পল্লি। ওখানে মনে হয় সব ফাজিল লোকের বাস। 

৮) আমার অষ্টম প্রশ্ন ছিলঃ পৃথিবীতে বিদ্যমান সকল ধর্মেই স্বর্গ ও নরকের ধারণা রয়েছে। আমার ছোট জীবনে খুব কম কিছু করার আছে, মৃত্যুর পরের অনন্ত জীবনে কি করব? All the religion existing in the world has the concept of heaven and hell. I have very few things to do in my small life, what should I do in the infinitive life after death?

আমার আজকের উত্তরঃ বারট্রান্ড রাসেল তার “আমি কেন ধর্ম বিশ্বাসী নই” বক্তৃতায় বলেছেন, সকল ভয় থেকেই ধর্মের উৎপত্তি। মৃত্যু ভয় থেকেই অনন্ত জীবনের স্বপ্ন দেখে মানুষ। অনন্ত জীবনে কি করবে তা নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নাই, ৭০ টা হুর পরি পেলেই তাদের অনন্ত জীবন আনন্দে কেটে যাবে। আর মুখ হা করলেই খাবার এসে মুখে ঢুকে যাবে। আমি কোরআনে বর্ণিত স্বর্গ বর্ণনাও পড়েছি আবার ছোট বেলায় মার্ক টোয়েনের লেখা গল্প যতদূর মনে পড়ে এক রাজা এক আঁকিয়েকে দিয়ে নরক দৃশ্য আঁকাচ্ছেন যখন সেই আঁকিয়ের মেয়েকে রাজা আগুনে নিক্ষেপ করার ব্যবস্থা করছে যাতে করে সেই নরক দৃশ্যটা সঠিক হয়। মানুষকে হাজার কোটি, কিংবা লক্ষ কোটি বললে সেই অংকটা তার মাথায় ঢুকে না আর যে সংখ্যাটাকে গুগল সংখ্যা বলা হয় তা হলো ১০০ টু দি পাওয়ার ১০০ বা ১০০১০০ মানে হলো ১ এর পর ১০০ টা শূন্য বসাতে হবে। মানুষ গুগল সংখ্যাটা তার মাথায় নিতে পারে বলে মনে হয় না আর সেই মানুষকে যদি বলা হয় অনন্ত সংখ্যা তা তার বোধগম্যতাতেই আসার কথা না। আমরা ১ বুঝি ১ থেকে ১০ও বুঝি। অক্টাল, ডেসিমাল, হেক্সা ডেসিমাল সংখ্যাও বুঝি কিন্তু গুগল সংখ্যা বুঝা আমাদের জন্য কষ্টকর। আমি ছোট বেলায় গণিতের দুটো রিডেল সল্ভ করেছিলাম একা একাই এর একটা হলো পর পর একটার উপর আরেকটা টিক চিহ্ন দিয়ে গেল মাঝখানে যে বরফি গুলো হয়, মানে তিনটা দিলে ১ টা বরফি হয়, আমি সূত্র বের করেছিলাম কতটা টিক দিলে কতগুলা বরফি হবে। আরেকটা মাজার জিনিস আমি দেখেছিলাম তা হলো ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত যোগ করলে তা হয় ৫০৫০, ১ তেকে ১,০০০ পর্যন্ত ধারাবাহিক যোগ করে গেলে হয় ৫০০৫০০ যা থেকে বুঝা যায় ১ তেকে ১০০,০০০ পর্যন্ত ধারাবাহিক যোগ করলে হবে ৫০০০৫০০০। বিষয়টা জানতে পেরে আমার তখন মজাই লেগেছিল। কার বা কোন বই এর সাহায্য ছাড়াই আমি এই গাণিতিক রিডেল দুটো বুঝতে পেরেছিলাম আমি। গণিত বিমূর্ত যা প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজনে মানুষ চিন্তন ব্যবহার করে আর এই চিন্তনে অনন্ত যে সংখ্যাটি আছে যাকে ইনফিনিটি বলা হয় তা মানুষের বোধগম্য সংখ্যা নয়। তাই যখন বলা হয় তোমকে অনন্ত জীবন দোজখে কিংবা স্বর্গে আবাসন দেয়া হবে তখন একটা সম্পূর্ণ অবোধগম্য তথ্য মানুষকে দেয়া হয়। আর ধর্মান্ধ ধার্মিকেরা তা বিনা শর্তে মেনে নেয়। ভাবে সাবে মনে হয় তারা তা বুঝেছে কিন্তু এটা সত্য যে তাদের বোঝার বাইরের একটা কথা তারা মেনে নিয়েছ।

৯) আমার নবম প্রশ্ন ছিলঃ সময়ের প্রশ্ন, প্রথমে আদম, তারপর ইব্রাহিম (আ.), তারপর দাউদ (আ.), তারপর মুসা (আ.), তারপর ঈসা (আ.) তারপর মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.), রসুলদের ট্রেন্ড একের পর এক পথ দেখাল। দুনিয়ার মানুষ, আল্লাহ তায়ালার কথামতো এক মুহূর্তে সবকিছু ঘটছে। তিনি আগে-পরে সবকিছু জানতেন। তাহলে কেন তিনি একের পর এক তাদের পাঠালেন? The question of time, First the Adam, then Ibrahim(AM), then Dived (AM), then Musa(AM), then Issa(AM) then Muhammad Mustafa (SM), The train of Rasuls came one after another to guide the peoples of the world, According to Allah, everything is happening in a moment. He knew everything before and after. Then why did he send them one after another?

আমার আজকের উত্তরঃ মহাকালের ধারণা এখনো মানুষের অজানা, আমরা কেবল বিগ ব্যাং থেকে সময় হিসাব করি। সময়ের হিসাবে মানব সভ্যতা পুরটাই এক পলকের মত মনে হয় কসমিক ক্যালেন্ডারে। ধারাবাহিক ঘটনা প্রবাহ মানব ইতিহাসের ব্যাপার, এখানে এক জনের পর আরেকজন ও তাদের মাধ্যমে মানুষকে হেদায়েতের যে কথা বলা আছে তা আমার কাছে এখন অর্থহীন মনে হয়। অনেক ধর্মীয় বুজুর্গ আছেন যারা সময়ের নানা ব্যাখ্যা দেন নানা ধর্মীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তাদের বয়ান। আবার আসমান সম্পর্কে তাদের বক্তব্যও নানাবিধ। এক আসমান, দুই আসমান এভাবে চৌথা আসমান, মানে আকাশের উপর আকাশ তার উপর আকাশ এরকম কল্পনা। যার সাথে বিজ্ঞানের বর্তমানে ব্যাখ্যা মাল্টি ভার্সের কিছুটা সাদৃশ আছে। ইমরান নজর হোসেন আসমানকে ডাইমেনশন বলেছেন বা সামাওয়াত মানে স্তর যার সাথে স্ট্রিং থিওরির সাদৃশ আছে। কিন্তু না স্ট্রিং থিওরি প্রমাণিত সত্য না আকাশের উপর আকাশ। এ সবই হাইপোথিসিস। বিগ ব্যাং এর আগে সময় ছিল কি না তা আমরা জানি না কিন্তু মাল্টি ভার্স এর অধিকল্পনা বা হাইপোথিসিস মেনে নিলে বলতে হবে বিগ ব্যাং এর আগেও সময় ছিল। সেই মহাকাল সম্পর্কে মানুষের কোন ধারণাই নাই। এক চান্দ্র মাস নিয়ে কেলেন্ডার বানায়ে তাকে বিশ্বজনীন করতে পারেনি মুসলমানেরা। একেক দেশে একেক দিনে ঈদ উজ্জাপন করে তারা। ব্যবসা বাণিজ্যে এই রকম কেলেন্ডার কি কাজে আসবে তা বুঝা শক্ত। যে সব বড় বড় অর্থনীতিতে এক ঘন্টার ব্যবধানে কোটি কোটি টাকা এদিক সেদিক হয়ে যায় সেখানে এক দিন ব্যবধান হলে তো কথাই নাই। যাচ্ছে তাই একটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় অর্থনীতি চলবে তখন সারা বিশ্বে। এটুকু বুঝার ক্ষমাতও কি তাদের বিধাতা তাদের দেন নাই?

১০) আমার দশম প্রশ্ন ছিলঃ মুসলিম আইন অনুযায়ী ইসলামে কি নারীত্ব বঞ্চিত নয়? Isn’t the womanhood is deprived in Islam according to the Muslim Law?

আমার আজকের উত্তরঃ নারীরা পুরুষের কাছে পরাভূত হয়েছে যখন পুরুষ জানতে পেরেছে নারীরা পেটে যে বাচ্চা ধরে তা মূলত তাদের সূত্রানু থেকে আসে। নারীদের তাই তারা নানা ভাবে বঞ্চিত করেছে কৃষি বিপ্লবের পরবর্তী শ্রেণী বিনাশিত সমাজ কাঠামোতে। ১৪০০ বছর আগে বেদুইন আরবের সমাজে নারীদের শিশুকালেই কবর দেয়ার প্রচলন ছিল। চিন দেশে নারীদের নেতৃত্ব দেয়ার কথা চিন্তাই করা যায় না। মুসলমানরাও নারী নেতৃত্ব অস্বীকার করে। নারীদের গৃহবন্দী করে রাখার বিষয়ে তাদের আগ্রহের শেষ নাই। বিবাহিত নারীরা পুরুষের সম্পদ। মদিনায় হিজরত করে আসা সাহাবীদের মদিনার স্থায়ী বাসিন্দারা তাদের একাধিক স্ত্রীর সবথেকে প্রিয় স্ত্রীদের দান করে দিয়েছিল। এসব থেকে বুঝা যায় তারা নারীদের বস্তু সদৃশ সম্পদ মনে করতো তারা তখন। হ্যাঁ নারীদের উত্তরাধিকার আইনে তাদের অংশ নিশ্চিত করা হয়েছে কিন্তু তাতেও ভাইদের অংশের চেয়ে বোনদের অংশ অর্ধেক দেয়া হয়েছে আর বলা হয়েছে তারা তো তাদের স্বামীর সম্পদের এক অষ্টাংশ পায়। এ সবই অকাট্য প্রমাণ যে নারীদের আগের তুলনায় ইসলাম কিছু বাড়তি সুবিধা দিলেও সেই একই ভাবে পদানত করে রাখার সুব্যবস্থাও করেছে। শুধুমাত্র নবীর স্ত্রী নেকাব পড়বে নাকি সব নারী নেকাব পড়ে তার চেহারা ঢেকে বাইরে বের হতে পারবে তা নিয়েও তাদের মধ্যে মতভেদ আছে। আমার এক কলেজ ফ্রেন্ড তত্ত্বাত্তিক পদার্থ বিদ্যায় পিএইচডি করেছে, সে আবার মহা ধার্মিক, এতটাই যে সে বিয়ে করতে ভুলে গেছে। আর মেয়ে দেখলে ভুতের মত আচরণ করে। ফেইসবুকে কোন মেয়ের পোস্টে ক্লিপ করাও নাকি জায়েজ না তার কাছে। আমি ওদের গ্রুপে মুম্বাইয়ের অভিনেত্রী দীপিকা পাদুকনের লিভ, লাভ, লাফ ফাউন্ডেশনের পত্রিকার একটা কাটিং পোস্ট করেছিলাম, সে তা মুছে দিল। দীপিকা পাদুকনের ওই ফাউন্ডেশন সমাজে মানুষিক শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে সেদিকে তার কোন লক্ষ্যই ছিল না। আমি ওকে কয়েকটা ভদ্র গালি দেয়ে গ্রুপ ত্যাগ করি। তার পর ওই গ্রুপের মডারেটরকে বলি যে, সে জ্ঞান অর্জন করেছে কিন্তু শিক্ষিত হতে পারে নাই। তার ডিগ্রি আছে বটে কিন্তু সে সত্যিকারের মানুষ হতে পারে নাই। তার উপর কট্টর ধর্মের অন্ধকার তাকে অন্ধ করে দিয়েছে। এরা রবীন্দ্রনাথের বর্ণনার সেই ঝরনার নুড়ি যার চারদিকে জল অথচ তার ভিতরে সেই জল প্রবেশ করতে পারে না। হুমায়ুন আজদের নারী গ্রন্থ দুই বার চেষ্টা করেও বেশি দুর পড়তে পারি নাই। যতদূর পড়েছি তাতে হাজার খানেক বার পুরষতন্ত্র আর নারী পরাজিত শব্দগুলো ছিল আর শেষ পর্যন্ত পড়লে হয়তো কয়েক লক্ষ বার এই শব্দ দুটো পড়তে হতো। যে দেশের নারী প্রধান মন্ত্রী, সংসদের স্পিকার নারী, প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রীও নারী সে দেশে নারী অবহেলিত তা নিয়ে বই তাও আবার গবেষণা ধর্মী বই লেখা কতটা যৌক্তিক তা আমার বোধগম্য নয়। তবে নারী যে পুরষতন্ত্রে পরাজিত ও ধর্মীয় ভাবে অবদমিত শক্তি তাতে কার সন্দেহ থাকার কথা না। শুধু ইসলামী আইন না, প্রায় সকল পুরুষ রচিত আইনেই নারী বঞ্চিত বটে। তবে এখনকার প্রেক্ষাপট পাল্টে গেছে। নারীরা সমান অধিকার পাচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশেও প্রমীলা ফুটবল দল আছে, ক্রিকেট দলও আছে। অন্ধকার যুগ থেকে নারীরা সচেতন হয়ে বের হয়ে আসছে আর তা সমাজে বিশাল পরিবর্তন আনছে। আমাদের সোনালী ব্যাংকের মিরপুরে নারী কর্মী প্রচুর আর তারা বিভিন্ন শাখার ম্যানেজার বটে। নারীরা ব্যাংকের জিএম, ডিএমডি হচ্ছে। একদিন দুরে নাই যখন নারী এমডি হবে সোনালী ব্যাংকে। আজকের নারীরা পদানত নয় পুরুষের তবে তারা ধর্মীয় অন্ধত্বে পুরুষকেও হার মানায় ও হিজাব পড়ে ধর্মের প্রতি তাদের নিষ্ঠা প্রদর্শন করে। এরা পুরুষদের চেয়ে আরো বেশি ধর্মান্ধ বলে আমার মনে হয়েছে। 

উপরোক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায় ডা.সাঈদ ভাই এভাবে আমাকে কোন উত্তরই দেন নাই, বরং আমার দৃষ্টি ইসলামের ব্যাখ্যার দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন আর তাদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত ও চৌকস লন্ডন ফেরত ভাইদের ব্যাখ্যা গুলো আমার কাছে চমকপ্রদ মনে হয়েছিল বিধায় আমি ইসলামের দিকে ঝুঁকে পরেছিলাম। কিন্তু এখন আমি বিপরীত দিকে আমার চিন্তা চেতনার যথার্থতা খুঁজে পাচ্ছি। মুসলিম প্রফেশনাল দের হোয়াটস এ্যাপ গ্রুপ থেকে ঝগড়া করে বের হয়ে আসি আমি কিছু দিন আগে তবে এক ছোট ভাইকে খুব ভাল লাগতো তার সাথে অতি সম্প্রতি কিছু বাক্যালাপ হয়। সেটা নিচে তুলে দিচ্ছি যাতে বুঝা যাবে এখনকার আমার মানুষিক অবস্থাটা কোন পর্যায়ে।

৮-সেপ্টেম্বর-২০২৩ তারিখে এমপিইফ এর এক ছোট ভাইকে হোয়াটস এ্যাপে বলা কথাগুলো এখানে তুলে দিলামঃ ১৪০০ বছর আগের একটা বই আর আরব কালচার নিয়ে পড়ে না থেকে ৩০০ কোটি বছর আগের জীবাশ্ম নিয়ে কিছু ঘাটাঘাটি করেন তাহলে বহু কিছুই জানতে পারবেন। ভাই একই কুয়ার মধ্যের সব বই পড়লে ওই কুয়ার ব্যাঙ হয়েই থাকতে হয়, বিভিন্ন কুয়ার বই পড়লে প্রকৃত সত্যটা স্পষ্ট হয়। বাস্তবতাটা বুঝা যায়। একটা ছবিতে দেখা যায় বন্যার মধ্যে একটা বাচ্চা ছেলে গলা পানিতে গামলায় করে এক কুকুর ছানাকে বাচায়ে নিয়ে যাচ্ছে। বলালাম এটা হলো প্রকৃত মানব ধর্ম, বাকি যা আছে সব গাজাখোরী গল্প। মানুষকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বাচতে দিন, মন্ত্র-তন্ত্রর বেড়াজালে বেধে জানোয়ার বানাবেন না।

চাল ডালের জন্য মরকেটিং দরকার পরে না। আপনার ধর্ম যদি হতো স্বতঃস্ফূর্ত তা হলে এত দাওয়ার প্রয়োজন পড়তো না। ধীরে ধীরে যে আপনার ধরমর অবক্ষয় হচ্ছে তা সমাজের দিকে তাকালেই বুঝা যায়। ফজরের নামাজে জামাতের পেরামিটার দেখুন তাহলেই এর একটা হিসাব পাবেন। আর জুম্মায় কোন রকমে দুই রাকাত পড়ে লোকজনের মোনাজাতের আগেই পলায়ন চেষ্টা লক্ষ্য করেছেন কি? এসব কি দেখেও না দেখার ভান করেন? মেসেজ দিতে হবে কেন? যা সত্য তা খালি চোখেই দেখা যায়। সকালে আলো হয় সূর্য উঠেছে বলে তার জন্য কাউকে তো মেসেজ দিতে হয় না। অন্ধ যারা তাদের বলতে হয় এখন সকাল। আপনারা মেসিভ দাওয়ার বড়ি খেয়ে দৃষ্টিশক্তি হারায়ে ফেলেছেন। সত্য তো বর্তমানেই দৃশ্যমান। যারা স্বপ্ন দেখে তারা সত্য খুঁজে বেড়ায় আকাশে বাতাসে। মনটাকে এক ইঞ্চির মত প্রশস্ত করুন, সব সত্য ধরা পরবে এখনই। তার জন্য যত্র তত্র মন্ত্র তন্ত্র ঘাটা ঘাটি করা লাগবে না। মন্ত্র তন্ত্রর ব্যখ্যায় ঘোটা মিক্স করে আপনারা যে সরবত খাওয়ান মানুষকে তাতে তাদের বদ হজম হয় কিন্তু কেউ ওই বদহজমের সাথে আপনাদের সরবতের যোগসূত্রটা দেখতে পায় না। আপনারা যেমন অন্ধ আপনাদের অনুসারীদেরও অন্ধ করে ফেলেন। এসব জগাখিচুড়ি ধ্যান ধারনা বিতরণ বন্ধ করেন, জনগণের মঙ্গল হবে। দিনে পাঁচ বার মঙ্গলের দিকে আসুন বলে বলে আপনার মানুষের অমঙ্গল করবেন তা জনগণ একসময় মেনে নিবে না। উল্টা রিএকশন হবে। তখন পালাবারও পথ পাবেন না।

১৪০০ বছর আগে আরব ভুখন্ডের গুটি কতক অসভ্য, বড়বড় বেদুয়িন জাতিতে ইসলাম একটি সভ্য জীবন বিধান ছিল তা সত্য কিন্তু আজকের সভ্য জগতে সেই পুরাতন প্রথার পুনঃ প্রচলন চেষ্টা নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। এটুকু বুঝার ক্ষমতা আপনার আছে বলে আমি মনে করি। আপনার নিজস্ব মনটাই আপনার পরশ পাথর, গত ২০২৩ বছরের মানব সভ্যতার গড়ে উঠা সব গুলো ধারণা ও মতবাদের সাথে আপনার পরশ পাথরটির টোকা লাগালে দেখবেন সত্য আপনা আপনিই ধরা দিবে। একটা ছাতার নিচে না থেকে সবগুলো ছাতা ট্রাই করে দেখেন। দেখবেন মানব মনের বিশ্বটা অনেক বড়। সবগুলো ছাতা ট্রাই করলে দেখবেন সব ছাতার নিচেই অন্ধকার, ছাতাটা সরালেই আকাশটা মুক্ত আর আলোকময় কোন মেঘ বা বৃষ্টি কিংবা ঝড়ের আশংকা নেই। সেই আলোয় আপনিও আলোকিত হয়ে উঠবেন। মানব জাতিকে যা সভ্যতার সংগ্রামে বাঁচিয়ে রেখেছে তা হলো তাদের পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা। এই মানব জাতিই একদিন তাদের মত কিন্তু গরিলাদের মত শক্তিশালী নিয়ানথারডালদের সমূলে নির্বংশ করে টিকে গেছে। আর ২০ কি ৩০ বছর পর আমার আপনার হাড্ডি গুড্ডিও কেউ খুঁজে পাবে না কিন্তু মানব সভ্যতা চলমান থাকবে।

উপরের সেই ভাইকে বলা কথাগুলো থেকেই বুঝে যায় আমি আর ধর্মের উদ্ভট ধ্যান ধারণায় ফিরবো না। আমি ধর্মের ফাকা বুলি গুলো এখন ধরতে পারি। তাই বলি আমায় ডেক না, ফেরান যাবে না, ফেরারি পাখিরা কুলায় ফিরে না। 

এডিট ও আপডেট হিস্ট্রিঃ ১৯৯৯> ২০০২> ১০আগস্ট২০২৩> ৭সেপ্টেম্বর২০২৩> ১০সেপ্টেম্বর২০২৩> ১২সেপ্টেম্বর২০২৩> ১৬সেপ্টেম্বর২০২৩> ০৩ জানুয়ারী২০২৪ >

Wednesday, September 6, 2023

নির্বাচনকালীণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাঃ একটি গবেষনাধর্মী নিবন্ধ


৫ই আগস্ট ২০২৩ তারিখে ”এক জন অতি সাধারণের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ লেখাটা পড়ে” আমার এক কলিগের মন্তব্য ও তার প্রেক্ষিতে আমার উত্তর দিয়েই শুরু করি। এই প্রিয় কলিগটি আমাকে এই লেখার বিষয়ে রসদ ও লিংক সরবরাহ করে সহযোগীতাও করেছেন। উনার মন্তব্যর মাঝে আমার কথা গুলো সবুজ রং এ ব্র্যাকেট আবদ্ধ ও বোল্ড করা, উনি বলছিলেন “পুরো লেখাটাই পড়লাম। বলা যায়, বাংলাদেশের জন্ম থেকে এখন পর্যন্ত গোটা সময়ের একটা সংক্ষিপ্ত ও ধারাবাহিক বর্ণনা। অনেকটা বার্ডস আই ভিউয়ের মতো। তাতে পাঠকের ক্ষুধাই বাড়ে কিন্তু পেট ভরে না। (পাঠককে প্রচুর জ্ঞান দেয়ার ইচ্ছা আমার ছিল না, লেখাটার কলেবর ছোট না করলে লোকজন পড়তে চায় না। আমার উদ্দেশ্য মূলত ওই ক্ষুধাই বাড়ান, পেট তারা নিজেরাই ভরে নিবে। আমার লেখা পড়ে তার মধ্যে চিন্তার শুরু হলেই আমি মনে করি আমার কাজটা হয়ে গেছে।) আপনি আরও যতটা সম্ভব বিশদ লিখতে পারতেন। অথবা ধরে নেয়া যায়, আপনি বর্তমান সময়ে এসে যে কোনো একটা পক্ষ নেওয়ার প্রারম্ভিকতা হিসেবে পূর্বের কথা এনেছেন। তাহলে বর্তমান সময়টাও আরো বিস্তারিত বিকল্পসহ লিখতে পারতেন। (হ্যাঁ তা পারতাম কিন্তু তার জন্য পরের লেখাগুলো রইলো। মানে পরের লেখা গুলোতে ওই প্রসঙ্গ গুলো আনবো বা আনতে পারি।) যেমন, আমি যদি নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করি, আপনি মঈন ইউ আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে দেশের দুর্গতির কথা বলেছেন, তবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিকাশ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোন বিকল্প ফর্মুলার কথাও বলেননি। (বলিনি কারণ এখানে বলার কিছু নাই, আমাদের সংবিধান তত্ত্বাবধায়ক সরকার সমর্থন করে না। আর তাছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা দেশ ও জাতির জন্য একটা বড় ফাঁদ এর মত। দেশের সব গুলো অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দুর্বল হয়ে যায়। অনেকটা জাতি কিংবা দেশকে আইসিইউ তে নেয়ার মত। আমি এর বিপক্ষে কারণ, ক্ষমতার হাত বদল সাংবিধানিক প্রক্রিয়াতেই থাকতে হবে, অন্তর্বর্তী কেয়ার টেকার সরকার একটা সাময়িক ব্যবস্থা ছিল, মার্শাল ল থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের সময় একটা পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা ছিল, কিন্তু তাকে চিরাচরিত প্রথা করে ফেললে হবে কেন?) আমরা জানি, Absolute Power কোনো দলের জন্যই বা দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকাও দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য আবশ্যক। (সুশাসনের জন্য আবশ্যক সৎ ও দায়িত্বশীল শক্তিশালী জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন। শক্তিশালী বিরোধী দল যদি কথায় কথায় হরতাল ডেকে সরকারের কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে চয়, যেমনটা আমরা দেখেছি লাগাতার হরতাল, অগ্নি সন্ত্রাস তা হলে সেই রকম বিরোধী দল আসলে দেশের কোন মঙ্গল আনে না।) যত উন্নয়নই হোক মত প্রকাশ ও চলাচলের অবাধ স্বাধীনতা মানুষের আরাধ্য। মানুষ ভয়ের মধ্যে থাকতে চায় না। পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান কিন্তু উন্নয়নের গণতন্ত্রের কথা বারবার বলতেন। মানুষ তাঁর কথা শোনেনি। গাদ্দাফির লিবিয়ায় জনগণের জন্য অকল্পনীয় উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। তবু মানুষ বিদ্রোহ করেছিল। (গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল আমেরিকার ইন্ধন পুষ্ট লোকজন।) আপনার লেখায় বলেছেন, বিএনপির আজকে দেশ চালানোর মতো নেতা নাই। কেন নাই? শুধু তারেক রহমানই কি এর জন্য দায়ী? (না বিএনপির নেতাদের তারেক রহমানকে নেতা বানানর মানসিকতা দায়ী। তারেক রহমান নেতা হিসেবে যোগ্যতার পরিচয় দিতে পারেন নাই, আমার মতে তাকে দলের এক পাশে সরায়ে রেখে অন্য আরো যোগ্য লোককে উঠতে দেয়া উচিত।) আমিও কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত না। লেখাটি পড়তে ভালো লেগেছে বিধায় আপনার লেখার একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে গঠনমূলক সমালোচনা করেছি। আমার এ কথা থেকেই বুঝতে পারছেন, এখন কেউ সমালোচনা সহ্য করছে না। (আমি কারো সমালোচনা করি নি, আমার মতামত গুলো তুলে ধরেছি। যাতে পাঠকের মধ্যে নিরপেক্ষ চিন্তা করার ইচ্ছা জাগে।) দলে চাটুকার ও সুযোগসন্ধানী হাইব্রিড বা কাউয়াদের জয়জয়কার চলছে। একই কারণে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর, এসব হাইব্রিডরা উচ্চবাচ্য করেনি। বরং বেশিরভাগ হাত মিলিয়েছিল খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে। বি:দ্র: জেনারেল ওসমানী বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর হত্যাকারী মেজর ও মোশতাকের পক্ষ হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।” এই কথোপকথন থেকেই পরবর্তী লেখাটা লিখার ইচ্ছা জাগে মনে কিন্তু পিছন ফিরে তাকাতেই অনেক কথা মনে পরে গেলেও সময়ের যাত্রায় কোনটা আগে আর কোনটা পরে তা যেন তালগোল পাকায়ে গেল তাই লেখাটা আগাতে পারছিলাম না। এরই প্রয়োজনে শুরু করলাম লিটারেচার সার্ভে বা তথ্য সংগ্রহ । ঘটনাগুলো কোনটার পর কোনটা হয়েছিল তা একে তাকে জিজ্ঞাসা করে দেখলাম তারাও আনুমানিক সময়  বলছে কিন্তু নির্দিষ্ট করে তারিখ বা বছর উল্লেখ করে বলতে পারছে না। তাই এক মাস ধরে চেষ্টা করে সঠিক সময়গুলো ইন্টারনেট ঘেঁটে বের করে তথ্য চিত্র নির্মাণ করলাম যাতে করে তা আমার লেখাটিকে স্পষ্ট করবে। যারা এই নিবন্ধ পড়বেন তাদেরও সবই জানা আছে কিন্তু ওই ঘটনাক্রমে এসে অনেকের কাছেই তালগোল পাকান অবস্থাটা এই নিবন্ধ সরলীকরণ করে দিবে বলে আমার বিশ্বাস। 

তাই আলোচনাটি শুরু করা উচিত নূর হোসেন এর সাহাদাত বরণ ও গণতন্ত্র মুক্তি পাক আন্দোলন দিয়ে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে নূর হোসেন তার খালি পিঠে লিখে রেখেছিলেন “গণতন্ত্র মুক্তি পাক” এই স্লোগানটি যার কারণে তাকে পিছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নূর হোসেনের জীবনকাল ১৯৬১ - ১০ নভেম্বর ১৯৮৭। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব, যিনি ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগঠিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। দিনটিকে প্রথমে ঐতিহাসিক ১০ নভেম্বর হিসেবে পালন করা হলেও, আওয়ামী লীগ দিনটিকে "নূর হোসেন দিবস" হিসেবে পালন করতে শুরু করে। 

এবার প্রসঙ্গে আসা যাক, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কখন প্রয়োজন সেটা আগে বুঝতে হবে। যখন দেশ একটা অস্বাভাবিক অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে চায় তখন পরীক্ষামূলক ভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন পরেছিল, বিশেষ করে এরশাদ সরকারের অবস্থা থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের সিঁড়ি হিসেবে। সেই অবস্থাটি কি এখন আছে? আসুন ধারাবাহিক রাজনৈতিক পরিবর্তন গুলো পর্যালোচনা করে দেখি। বাংলা পিডিয়া অনুসারে “১৯৯০ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি রাজনৈতিক দলগুলির পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সমঝোতার অভাব থেকেই উদ্ভূত। একটি বিদায়ী সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আইনানুগ রীতিসিদ্ধ পদ্ধতিগুলোর কতখানি সুষ্ঠু প্রয়োগ করবে এবং সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কতটা পক্ষপাতহীনতার পরিচয় দেবে, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ সন্দেহ থেকেই মূলত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিটি উঠে আসে।” 

“১৯৯৬ সালের ২১ মার্চ ত্রয়োদশ (১৩ তম) সংশোধনীর মাধ্যমে তত্বাবধায়ক সরকার বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয় এবং ২৬ মার্চ ২৬৮-০ ভোটে বিলটি পাস হয়। ত্রয়োদশ সংশোধনীতে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ৫৮ (খ) (গ) (ঘ) (ঙ) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এসব অনুচ্ছেদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে নিম্নোক্ত মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়: সংসদ বিলুপ্তির পর প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্য বিশিষ্ট নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে; তত্ত্বাবধায়ক সরকার যৌথভাবে রাষ্ট্রপতির নিকট দায়বদ্ধ থাকবে; প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত হবেন, অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে ১০ জন উপদেষ্টা মনোনীত হবেন; প্রধান উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর এবং উপদেষ্টাগণ মন্ত্রীর অনুরূপ পদমর্যাদার অধিকারী হবেন; নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে এর কার্যাবলী, বিশেষত দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্য সম্পাদনে ব্যাপৃত থাকবে এবং নিতান্ত প্রয়োজন না হলে নীতি নির্ধারণী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকবে; তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে; নতুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের দিনই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত ঘোষিত হবে।” ৩০শে জুন ২০১১ সালে তত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে ১০ম জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ (১৫) সংশোধনী বিল পাশ হয় (ফুট নোট-৯ দ্রষ্টব্য)।  তথ্য সূত্র বাংলা পিডিয়া থেকে নিচের টাইম লাইন তথ্য চিত্র টি গঠন করলে যা বুঝা যায় তা নিয়ে আলোচনা করবো।

 

 

উপরের তথ্যচিত্র গুলো একমাস ধরে ধীরে ধীরে তৈরি করা হয়েছে ও দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন গুলোর পাশাপাশি যে সব দুর্ঘটনা গুলো বাংলাদেশের মানুষকে বিচলিত করেছে তাও সময়ের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে যাতে করে একটা পরিষ্কার ধারণা চিত্র তৈরি হয় মানস পটে। প্রতিটি ঘটনাই আমার জীবদ্দশায় ঘটে গেছে আর আমি তা অভিজ্ঞতা দিয়ে অনুভবও করেছি। যা বাদ গেছে তা হলো জামাতে ইসলামীর বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব স্থানীয় নেতাকে বিশেষ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার শেষে রাজাকার হিসেবে দোষী সাব্যস্ত ও মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করা। আরো আছে ডা. ইউনুস এর গ্রামীণ ব্যাকের সাথে সম্পর্ক ছেদ ঘটিয়ে তাকে রাজনীতি থেকে দুরে সরায়ে দেয়ার মত বিতর্কিত বিষয়গুলো। অত সব বিস্তারিত বিষয়ে না গিয়ে কেবল তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে দেখা যায় তা হলো আওয়ামীলীগের ২৩ মার্চ ১৯৯৬ এর জনতার মঞ্চ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিএনপি সরকার শুধুমাত্র তত্ত্ববধায়ক সরকার বৈধকরণের জন্য ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদে সংবিধানের ১৩ তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈধতা দেয়া হয় (১৯৯৬, ২৬ মার্চ  বিএনপি সরকার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল জাতীয় সংসদে পাস করে)। কেবল মাত্র এই ১৩ তম সংশোধনীর জন্যই অল্প সময়ের পরিসরে ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ গঠন করা হয়েছিল অথচ এই আওয়ামীলীগ সরকারই ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় সংসদে সংবিধানের ১৫ তম সংশোধীনর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল বাতিল করে দেয়। ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে অর্থাৎ ১৮ বছরের মধ্যে এমন কি হয়েছিল যার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের প্রয়োজন হলো? আমার যা মনে হয় তা হলো ১ লা জানুয়ারি ২০০৭ এর জরুরী অবস্থা আর ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর পিছন থেকে কাজ করা মঈন ইউ আহমেদের কার্যক্রম এর জন্য দায়ী। তখন বিএনপি ও আওয়ামীলীগের দুই নেত্রীকেই গৃহবন্দী করে মাইনাস টু ফরমুলা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন মঈন ইউ আহমেদ। এই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা থেকেই আমার মনে হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমার যতদূর মনে পড়ে কোন এক বক্তব্যে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে থাকার বিপরীতে বলেছিলেন কেন মনে নাই কি বিপদ হয়েছিল এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারণে, আমার মনে হয় তিনি মঈন ইউ আহমদের মাইনাস টু বাস্তবায়নের ইংগিতের কথাই মনে করায়ে দিতে চেয়েছিলেন তার বক্তব্যে। এ বিষয়ে আমার অভিমত হলো এরশাদ সরকার এর স্বৈরাচার থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একটা কার্যকরী পদক্ষেপ ছিল অথচ সেই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সংসদে বা সংবিধানে বৈধতা না দিয়েই বাস্তবায়ন করা হয়েছিল তার পর একে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে অযথা কালক্ষেপণ করা হয়। কিন্তু দুই বা তিন টার্ম পর এর আর প্রয়োজন থাকার কথা না। সংবিধানেই নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের নীতিমালা থাকা অত্যন্ত আবশ্যকীয় একটি বিষয়। তাকে অন্তর্বর্তী কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়ে বৈধ করণ করার ব্যবস্থাটি আমার কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। আমরা জাতি হিসেবে কি এতটাই পশ্চাদ পদ যে বার বার লেভেল প্লেইং ফিল্ড করে তার পর নির্বাচন দিতে হবে? উন্নত জাতিগুলোর তো প্রতিবার নির্বাচনে এরকম করা লাগে না। তাদের সংবিধান মতই তো ক্ষমতা হস্তান্তর হচ্ছে কোন অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই। আমরা কি আজো ততটা উন্নত হতে পারি নাই। এখানে লক্ষণীয় যে, যে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক বিল পাস হলো তা এক তরফা সংসদ ছিল আবার যে সংসদে এই বিল বাতিল হলো তাও এক প্রকার এক তরফা সংসদ। এভাবে আমাদের কেন একতরফা সংসদীয় ব্যবস্থার ফাঁদে বার বার পড়তে হচ্ছে তাই বুঝা মুশকিল। এ প্রসঙ্গে আমার ছোট বেলার অভিজ্ঞতা আমাদের দেশের এক সময়কার ফুটবল লিগের দুই দল আবাহনী আর মহাম্মডান স্পোর্টিং ক্লাবের তুমুল লড়াইয়ের কথা মনে পড়ে যায় যেখানে তৃতীয় শক্তি ছিল ব্রাদারস ইউনিয়ন। প্রত্যেক লীগ ফাইনালে হয় আবাহনী না হয় মোহম্মেডান জিততো কিন্তু ব্রাদারস ইউনিয়ন সব সময় পিছনেই পড়ে থাকতো। এরই প্রতিফলন যেন দেখতে পাই রাজনীতিতে, এখানেও আওয়ামে লীগ না হয় বিএনপি আর তৃতীয় দল বলা যায় জাতীয় পার্টি অথবা জামাত তবে জামাত যেন ছদ্ম ক্ষমতা লিপ্সু একটি ডরমেন্ট দলের মত আচরণ করে থাকে। আচ্ছা বলেন তো রাজনীতি কি ফুটবল খেলা যে বার বার সমতল মাঠ গঠন করার জন্য স্টিম রোলার চালাতে হবে? আমি সরল মনা মানুষ আমার মতে সংবিধানেই ক্ষমতা হস্তান্তরের একটা সুন্দর ব্যবস্থা থাকতে হবে আর দেশের জনগণ তা মেনে চলবে। সেটি যদি হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে তা হলে তাই সই। তবে কোনটি সঠিক তার জন্য কোন এক সরকারের উচিত গণভোট এর ব্যবস্থা করা। এভাবে কামড়া কামড়ি বা চুলা চুলি না করে পুর জনগোষ্ঠীর মতামত নেয়ার একটা ব্যবস্থা করলেই মনে হয় সমাধানটা পাওয়া যাবে। অন্তত ভানু বন্দপাধ্যায়ের মত বলতে হবে না যে, বাইশ জনকে বাইশটা বল দিয়ে দিলেই তো লেঠা চুকে যায়, একটা ফুটবল নিয়ে ২২ জনের এত মাতামাতির বা দৌড়াদৌড়ির দরকারটা কি। যে ভাবে রাজনীতি থেকে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে এবং পরবর্তীতে ডা.ইউনুসকে সরে যেতে হয়েছে তা আমার মোটেও ভাল লাগেনি। কারণগুলো আমরা সবাই জানি কিন্তু এ বিষয়ে বক্তব্য রাখাও বিরক্তিকর বলে মনে হয় আমার কাছে। রাজনীতিকে হতে হবে সাবলীল, কার ভয়ে, কার প্রভাবে, কার অন্যায় আবদারে কেন রাজনৈতিক মতাদর্শ স্বাধীন সার্বভৌম দেশে। আগামী ১০ কি ২০ বছরের মাথায় এ দেশে ডাইনেস্টি পলিটিক্স নির্মূল হয়ে যাবে আপনা আপনিই। নতুন নেতৃত্ব উঠে আসতে বাধ্য হবে। সে দিন পর্যন্ত বেচে থাকব কিনা তা কে জানে।

২০০৯ থেকে ২০২৩ এই ১৫ বছর তিন টার্মে আওয়ামে লীগ সরকারের বেশ কিছু অর্জন বা সাফল্য আছে। আমাদের মত দেশে স্থিতিশীল সরকার ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরী তা এর থেকেই অনুমান করা যায়। নিচে কয়েকটা উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেয়া হলোঃ-

১) নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ।
২) ঢাকায় উত্তরা দিয়া বাড়ি থেকে মতিঝিল মেট্রো রেল নির্মাণ।
৩) মাওনা থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত এক্সপ্রেস হাইওয়ে নির্মাণ।
৪) চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে টানেল নির্মাণ।
৫) ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পর স্মার্ট বাংলাদেশের পথে যাত্রা
৬) দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে স্থাপন
৭) ঢাকা-চট্টগ্রাম বুলেট ট্রেনের প্রকল্প হাতে নেয়া
৮) বিদ্যুৎ উৎপাদনে ও বিতরণে পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি সফল হওয়া।
৯) রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রর প্রকল্প হাতে নেয়া
১০) গবেষণা ও উন্নয়ন কাজে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা স্বরূপ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫,৭০১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১৫৮ কোটি টাকা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ প্রদান করা ।
১১) ২০০৬ সালে দানাদার শস্যের উৎপাদন ছিল মাত্র ২ কোটি ৭৭ লক্ষ ৮৭ হাজার মে. টন। ২০২৩ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭৭ লক্ষ ৬৮ হাজার মে. টন।
১২) ২০০৬ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে নারী শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ৫৯ হাজার ৫৫ জন। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৯০৬ জন।

১৩) ২০০৬ সালে বিধবা ভাতা সুবিধাভোগীর সংখ্যা ছিল ৬ লক্ষ ৫০ হাজার। বর্তমান সরকারের সময়ে তা দাঁড়িয়েছে ২৫ লক্ষ ৭৫ হাজার।
১৪) ২০০৬ সালে আর্থিক সহায়তা প্রাপ্ত চা-শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ০ (শূণ্য) জন। বর্তমান সরকারের সময়ে তা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার।

১৫) ২০০৬ সালে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হিজড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ০ (শূণ্য) জন। বর্তমান সরকারের সময়ে তা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২০।

১৬) ২০০৮ সালে দেশে টেলিডেনসিটি ছিল ৩১.৯১% বর্তমানে দেশে টেলিডেনসিটি ১০৫.৮১%।

লিস্টটি আরো বড় করা যায় কিন্তু তার দরকার পরে না। উপরোক্ত কয়েকটা অর্জনকে আমলে নিয়েই এ কথা বালা যায় যে, এই সরকার চেষ্টা করেছে দেশের উন্নয়নে যাতে কারো সন্দেহ থাকার কথা না। তারপরও জনগণের মতামত নিলে দেখা যাবে বলছে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামে লীগ জিতবে না। কেন সাধারণের এরকম মনভঙ্গি কিংবা চিন্তাধারা তা আমার বোধগম্য হয় না। তিন টার্মে এই সরকারের অর্জনগুলো দৃশ্যমান ও এর সুবিধাগুলো মানুষ নিতে শুরু করেছে, তা হলে কেন তাদের মনে হচ্ছে নতুন সরকার দরকার। এই মানুষিকতাও আমার কাছে যথাযথ মনে হয় না।

যেহেতু এটি একটি রাজনৈতিক নিবন্ধ তাই আমার কিছু প্রস্তাবনাও আছে যা নিম্বরূপঃ-
ক) সরকার পরিবর্তন প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা হবে কি না তা গণভোটের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
খ) সংসদে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে। এক তরফা সংসদ হলে পুন নির্বাচন দিতে হবে।
গ) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর সকল নাগরিকের রাজনৈতিক মতামতের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
ঘ) রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য কিংবা মত প্রকাশের জন্য কাউকে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে হয়রানী করা যাবে না।
ঙ) আপামর জনসাধারণের যে কোন মতামতকে বা মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে উচ্চ মূল্য প্রদান করে সর্বতোভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
চ) সর্বক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতা ও পরমত সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে হবে।
ছ) গণতন্ত্রের চারটি মূল স্বাধীনতা ১)মত প্রকাশের ২) বিশ্বাসের ৩) মালিকানার ৪) ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কে সর্বত ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
জ) ডাইনেস্টি পলিটিক্স কিংবা রাজকীয় গণতন্ত্র বা পরিবার কেন্দ্রিক বা ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনৈতিক মানুষিকতা থেকে মুক্তি পেতে হবে।
ঝ) সবাইকে সামাজিক যে কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ করতে হবে।
ঞ) সামাজিক প্রভাব বলয় বা প্রেশার গ্রুপ গুলোকে আরো নিরপেক্ষ হতে হবে ও দেশের স্বার্থে “সবার আগে দেশ”এই স্লোগানে বিশ্বাস করে তাদের প্রভাব খাটানোকে টিউন করতে হবে।

ট) আভ্যন্তরীন রাজনীতিতে বিদেশী রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব যথাসম্ভব কমায়ে ফেলতে হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থেকে সাইবার নিরাপত্তা আইনে উত্তরণের এই সময়ে রাজনীতি নিয়ে কিছু লিখতেও ভয় লাগে। উপরের নিবন্ধটি কোন রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি থেকে লেখা হয় নাই। কাউকে হেয় কিংবা উন্নত বলার উদ্দেশ্যেও লেখা হয় নাই। যা লেখা হয়েছে তা মূলত লিটারেচার সার্ভে করে অতীতের ঘটনা প্রবাহকে তথ্যচিত্রর মাধ্যমে প্রকাশ করে আমার অভিমত সংযুক্ত করা হয়েছে মাত্র। এটি কারো মনে আঘাত দেয়া কিংবা কাউকে প্রভাবিত করার জন্যও লিখা হয় নাই। কেউ প্রভাবিত হয়ে থাকলে সেটি তার ব্যাপার আমি অতীতকে স্পষ্ট করে দেখে বর্তমানের প্রেক্ষাপটে আমার অভিমত ব্যক্ত করেছি মাত্র। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার সেই অধিকার আছে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশের অতীত ও বর্তমান নিয়ে যেই প্রবন্ধই লিখেন না কেন কয়েকজনের অবদান কখনই ছোট করে দেখাতে বা বাদ দিতে পারবেন না, যেমন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ, সাত জন বির শ্রেষ্ঠ, বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা, ভারতের তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এই নামগুলো ও এই ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কারো অবদান অস্বীকার করলে তা বাংলাদেশের রাজনীতির নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ হবে না। এই নিবন্ধ পক্ষপাত মুক্ত বলে আমি মনে করি। আমি উপরউল্লেখিত কারো অবদানকেই খাট করে দেখি না। উপরোক্ত নিবন্ধে আমি কোন ভুল তথ্য উপস্থাপন করে থাকলে বিজ্ঞ পাঠককে তা আমাকে জানিয়ে সংশোধনের অনুরোধ রেখে শেষ করছি।

এডিট ও আপডেট হিস্ট্রিঃ ০৬আগস্ট২০২৩> ১৫আগস্ট২০২৩> ২৪ আগস্ট২০২৩> ০৩সেপ্টেম্বর২০২৩> ০৭সেপ্টেম্বর২০২৩> ২৬সেপ্টেম্বর২০২৩>

ফুট নোট – ১  যে সব কারণে আলোচিত ছিলেন জয়নাল হাজারী

রাজনৈতিক জীবনের পুরো সময়টুকুই আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন ফেনীর এক সময়ের ‘গডফাদার’ খ্যাত নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন হাজারী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। ১৯৪৫ সালের ২৪ আগস্ট ফেনী শহরের সহদেবপুরের হাবিবুল্লাহ পণ্ডিতের বাড়িতে আব্দুল গণি হাজারী ও রিজিয়া বেগমের সংসারে জন্ম নেন জয়নাল হাজারী। আলোচিত জয়নাল আবেদীন হাজারী ছিলেন একজন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৭১ সালে ২ নং সেক্টরের অধীনে ক্যাপ্টেন জাফর ইমামের পরামর্শে রাজনগর এলাকায় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন। ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার পর রাজনগরে গিয়ে ওই এলাকার বেকার যুবকদের নিয়ে তিনি একটি সিভিল ডিফেন্স টিমও গঠন করেছিলেন।

জেলা পর্যায়ের নেতা হয়েও একসময় জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় ছিলেন জয়নাল হাজারী। কিন্তু দল ক্ষমতায় থাকলেও গত ১০ বছর রাজনৈতিকভাবে অনেকটা নিঃস্ব ছিলেন তিনি। নিজের হাতেগড়া রাজনৈতিক শিষ্যদের বাধার কারণেই ফেনীর রাজনীতিতে আর প্রবেশ করতে পারেননি আলোচিত এ রাজনীতিক। ছাত্রাবস্থায় ফেনী কলেজে তৎকালীন ছাত্র মজলিশের (বর্তমান ছাত্র সংসদ) জিএস ছিলেন। এরপর বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। পরে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদেও দায়িত্বপালন করেন জয়নাল হাজারী।

জয়নাল হাজারী ১৯৮৪ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ফেনী-২ (সদর) আসন থেকে ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে টানা তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। মূলত ১৯৯৬ সালের পর তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় ফেনীতে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার হয়ে প্রায় ১২০ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী মারা যান। এই পেক্ষাপটের পেছনে হাজারীকে সন্দেহ করা হয়। ২০০১ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৬ আগস্ট রাতে হাজারীর বাসভবনে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। ১৭ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান জয়নাল হাজারী।  আরো জানতে লিংক দেখুন ”https://www.jugantor.com/politics/502423/যেসব-কারণে-আলোচিত-ছিলেন-জয়নাল-হাজারী”

ফুট নোট – ২  সন্ত্রাসবাদী বাংলা ভাই (২০০৬)

সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই (১৯৭০-৩০ মার্চ ২০০৭) একজন বাংলাদেশী সন্ত্রাসবাদী। তিনি জাগ্রত মুসলিম জনতা, বাংলাদেশ নামক উগ্রপন্থী সংগঠনের নেতা, এবং বোমা হামলা, হত্যা সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত। ৬ মার্চ ২০০৬ খ্রীস্টাব্দে পুলিশ ও র‌্যাব এর সম্মিলিত অভিযানে তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে বোমা হামলার অপরাধে তাকে তার সহযোগীদের সহ মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়।  ঝালকাঠিতে দুই সহকারী বিচারকের হত্যার দায়ে জেএমবি নেতা শেখ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ৫ জঙ্গিদের সাথে, ৩০ মার্চ ২০০৭ তারিখে সিদ্দিক উল ইসলামকে ফাঁসি দিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। আরো জানতে লিংক দেখুন ”https://bn.wikipedia.org/wiki/বাংলা_ভাই”।

ফুট নোট – ৩  বিডিআর বিদ্রোহ

বিডিআর বিদ্রোহ দেশের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ই শুধু নয়, এই নৃশংসতা দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাঠামো বদলে দিয়েছে। বদলে গেছে এটির নাম। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির বিদ্রোহে পিলখানায় হত্যা করা হয় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে। এ রক্তাক্ত বিদ্রোহের পর সরকারের পক্ষ থেকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। পরের বছরের ১ মার্চ খসড়া আইন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। ২০১০ সালের ১২ জুলাই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইনের খসড়া অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ বিল-২০১০ জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি নতুন পতাকা উত্তোলন এবং মনোগ্রাম উন্মোচনের মাধ্যমে বদলে গিয়ে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) হয়ে যায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুধু নামেই নয়, সেদিন থেকে পরিবর্তন এসেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পোশাকসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে।

আরো জানতে লিংক দেখুন “https://www.newsbangla24.com/national/127045/বিডিআর-বদলে-যেভাবে-হলো-বিজিবি”

ফুট নোট – ৪  ২০১১ বাংলাদেশ শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি

২০১১ বাংলাদেশ শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি বলতে ২০০৯ থেকে ২০১১ সময়কালীন বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের অস্থির পরিস্থিতিকে বুঝানো হয়; নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বাংলাদেশের ঢাকা এবং চট্টগ্রাম উভয় শেয়ার বাজারে। ২০০৯ সালে বাজার ৬২% এ উন্নীত হয় যা ২০১০ ৮৩% এ পৌছায়, কিন্তু ২০১১ জানুয়ারীতে ১০% এ নেমে আসে। পরবর্তীতে ২০১১ ফেব্রুয়ারিতে ৩০% এ উন্নীত হয়।এই দর পতনটি কেলেঙ্কারি হিসাবে পরিচিতি পায় এবং সরকারের তৎকালীন ব্যর্থতায় বৃদ্ধি পায়।

২০০৯ সালের বেশিরভাগ সময় স্টক মার্কেটে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়[৩] দুই বছরের রাজনৈতিক সংকট শেষে এবং গণতন্ত্র পুনঃ উদ্ধারের (ডিসেম্বর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় লাভের মাধ্যমে) সময় থেকেই বুলিশ ট্রেন্ড (শেয়ার দরের উদ্ধগতি) এর প্রবণতা শুরু হয়েছিল [৪] এবং এটি বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার মাঝেও অপরিবর্তিত ছিল পুঁজি বাজারে গ্রামীণফোন প্রবেশের মাধ্যমে সমগ্র বাজারে ব্যপকভাবে সহায়তার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, ১৬ নভেম্বর ২০০৯ একদিনে মূল্যসূচক ২২% বৃদ্ধি পেয়েছিল  শেয়ার মূল্যের অস্থিরতা চলতে থাকে এবং ২০০৯ এর মধ্যভাগে এই হার বাৎসরিক সর্বোচ্চে পৌছায়।[৭] ২০০৯ এর শেষভাগে দর পতনের পুর্ব মুহুর্তে খুচরা বিনিয়োগকারীরা অনশন ধর্মঘট এর হুমকি দেয় উল্লেখ্য যে, এর আগে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে শেয়ার বাজার পতনের আরো একটি অভিজ্ঞতা রয়েছে। কাকতালীয় বিষয়, দুইটি পতনই সংগঠিত হয়েছে আওয়ামী লীগের শাসন আমলে সম্পূর্ণ ২০১০ শেয়ার বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করে, ডিএসই একই মাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ্য সূচক স্পর্শ করা এবং ১৯৯৬ সালের পরবর্তি সময়ের বিচারে কোন একক দিবসে সর্বোচ্চ্য দর পতনের অভিজ্ঞতা অর্জন করে।  

আরো জানতে লিংক দেখুন https://bn.wikipedia.org/wiki/২০১১_বাংলাদেশ_শেয়ারবাজার_কেলেঙ্কারি

ফুট নোট – ৫  হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর ঢাকা অবরোধ

১৯ জানুয়ারি ২০১০ সালে এই সংগঠনটি চট্টগ্রামের প্রায় একশত কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত হয়। হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা।[৩][৫] এটি ২০১০ সালে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতির বিরোধিতার মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। ২০১১ সালে তারা বাংলাদেশ নারী উন্নয়ন নীতি (২০০৯) এর কয়েকটি ধারাকে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক দাবি করে এর তীব্র বিরোধিতা করে।

২০২০ সালে শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর এই সংগঠনের আমির হন জুনায়েদ বাবুনগরী। জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যুর পর মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আমীর নিযুক্ত হন। ৫ মে ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম সারা দেশ থেকে ঢাকা অভিমুখে লং মার্চ করে এবং ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্ত্বরে তাদের প্রথম সমাবেশ করে। এই সমাবেশে প্রচুর লোকের সমাগম হয়।[১২] এসময় বিভিন্ন বাধার কারণে অনেক কর্মী চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে তারা চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড়ে সমাবেশ করে। এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠনের কর্মীদের সাথে আইনশৃঙ্খলারক্ষী বাহিনীর সংঘর্ষ হয় এবং কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঢাকা অবরোধ মূল নিবন্ধ অপারেশন সিকিউর শাপলা। ৫ মে ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি এবং ঢাকার মতিঝিলে তাদের দ্বিতীয় সমাবেশের আয়োজন করে। ৫ ও ৬ মে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে এই সংগঠনের কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষে বহু হেফাজতে ইসলামের কর্মী, পুলিশ, বিজিবি সদস্যসহ মোট ৪৭ জন নিহত হয় এবং সাংবাদিকসহ আরও অনেকে আহত হয়। তাদের উপর ফুটপাতের দোকান ও অন্যান্য বইয়ের সাথে কোরান শরিফ পোড়ানোরও অভিযোগ আনা হয়।] এদিন ধর্মীয় বইয়ের প্রায় ৮২টি দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়।তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা দেবাশীষের নেতৃত্বে কুরআন শরিফ পোড়ানো হয়।পল্টন মোড় ও সিপিবির কার্যালয়ের সামনে পুরোনো ৩৫টি বইয়ের দোকানের মধ্যে ৩টি বাদে সবগুলোই পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

আরো জানতে লিংক দেখুন https://bn.wikipedia.org/wiki/হেফাজতে_ইসলাম_বাংলাদেশ

ফুট নোট – ৬  হলি আর্টিজান বেকারির হত্যাকান্ড

হলি আর্টিজান বেকারি (Holey Artisan Bakery) হলো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক একটি বেকারি প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁ। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস একে “ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ” হিসেবে আখ্যায়িত করে।[১] এটি ইজুমি নামক অপর একটি রেস্তোরাঁর সহযোগী প্রতিষ্ঠান। রেস্তোরাঁটি প্রতিষ্ঠার সময়ে মূলত ঢাকার কূটনৈতিক পাড়ার নিকটে, গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কে অবস্থিত ছিল। রেস্তোরাঁর প্রধান গ্রাহকেরা ছিলেন মূলত স্থানীয় ও ঢাকার বসবাসরত বিদেশি ব্যক্তিবর্গ। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুলাই তারিখে জঙ্গিরা রেস্তোরাঁয় আক্রমণ চালায়। সেই হামলায় ১৮ জন বিদেশি নাগরিক প্রাণ হারান। হামলার পর সেখানকার রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং গুলশানের “র‍্যাংস আর্কেড” নামক ভবনে রেস্তোরাঁটি স্থানান্তর করা হয়। ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জানুয়ারি নতুন স্থানটিকে কর্তৃপক্ষ “নিরাপদ” বলে ঘোষণা দেয়।[৩][৪] ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে গুলশানেই রেস্তোরাঁটির আরেকটি শাখা খোলা হয়, যেটি বর্তমানে “ওরো” (ORO) নামে পরিচিত। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে আক্রমণের শিকার ভবনটিকে বেকারি কর্তৃপক্ষ নিজেদের জন্য আবাসিক ভবনে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা করেন। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে রেস্তোরাঁ পুনরায় চালুর কয়েকদিন পর, হলি আর্টিজান থাইল্যান্ডের ব্যাংককে তাদের প্রথম বৈদেশিক শাখা চালু করে। বর্তমানে ব্যাংককে বেকারির তিনটি শাখা সচল রয়েছে।

আরো জানতে লিংক দেখুন https://bn.wikipedia.org/wiki/হলি_আর্টিজান_বেকারি

 ফুট নোট – ৭  আওয়ামেলীগের মহা জোট গঠনঃ

১৯৯৮ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দ্বি-দলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম শক্তিকে একতাবদ্ধ করে একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠন করার উদ্দেশে এগারোটি দল মিলে গঠন করে একটি রাজনৈতিক জোট, যা ১১ দলীয় জোট নামেই পরিচিত হয়। ২০০৪ সালে ২৩ দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-মশাল), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ-কুঁড়েঘর) এই তিনটি দল মিলে গঠিত হয় ১৪ দলীয় জোট। পরবর্তীতে, ৪টি দল ১৪ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল,বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মাহবুব) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) - এই ৪টি দল ১৪ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায়। তবে, বাসদের একাংশ ১৪ দলীয় জোটে থেকে যায়। ফলে, ১৪ দলীয় জোটে দলের সংখ্যা হয় ১১টি। অল্প কিছুদিন পরে, গণফোরাম বাংলাদেশ ১৪ দলীয় জোট ত্যাগ করলে দলের সংখ্যা হয় ১০টি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে জাতীয় পার্টি (জেপি) ও তরিকত ফেডারেশন ১৪ দলীয় জোটে অন্তর্ভুক্ত হলে দলের সংখ্যা হয় ১২টি। কিছুদিন আগে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) দুই ভাগে বিভক্ত হয়। দুই ভাগই ১৪ দলীয় জোটে আছে বিধায় ১৪ দলীয় জোটের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৩টি দল। আরো জানতে লিংক দেখুন https://bn.wikipedia.org/wiki/ বাংলাদেশ_আওয়ামী_লীগ

 ফুট নোট – ৮  জনতার মঞ্চঃ

১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনের প্রতিবাদে ২৩ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তৎকালীন ঢাকার মেয়র মোহাম্মদ হানিফের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই মঞ্চ। শুরু হয় আন্দোলন। প্রথমে সাধারণ মানুষ এবং পরে জনতার মঞ্চে শামিল হয় রাজনৈতিক দল, সরকারের আমলাসহ সকল পেশাজীবী সংগঠন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রবল আন্দোলনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করে পদত্যাগে বাধ্য হয়। ১৯৮১ থেকে গণতন্ত্রের দাবিতে দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতন ঘটে? এরশাদ সরকারের পতনের পর সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন? সাহাবুদ্দিন আহমেদের অধীনে ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এই নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ আনেন। তিনি এই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে শপথ গ্রহণ করেন। সেই থেকে পঞ্চম সংসদের যাত্রা শুরু হয়।

সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা চলে এই অবস্থান। জনতার মঞ্চে একে একে শরিক হয় বিএনপি ছাড়া দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দল, আমলা, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষ। মঞ্চে বক্তৃতার পাশাপাশি চলে বিপ্লবী সঙ্গীত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েক দফা চেষ্টা করা হয় মঞ্চ ভেঙ্গে অবস্থান উঠিয়ে দেয়ার। জনতার প্রতিরোধে শেষ পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আর সাহস পায়নি। ২৬ মার্চ সরকার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল জাতীয় সংসদে পাস করে? আরো জানতে লিংক দেখুন “https://www.dailyjanakantha.com/national/news/180924

 ফুট নোট – ৯ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০১৪ ও তত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলকরণ

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০১৪ বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনটি নবম জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অধিকাংশ দলই বর্জন করে এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্রসহ ১৭টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এছাড়াও নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় নির্বাচনটি নিয়ে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ৫ জানুয়ারি রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাকী ১৪৭টি] আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার ফলে এবারের নির্বাচনে সারা দেশের মোট ৯,১৯,৬৫,৯৭৭ ভোটারের মধ্যে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান ৪,৩৯,৩৮,৯৩৮ জন।

৩০শে জুন ২০১১ সালে তত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাশ হয়। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার শরিক জোটগুলো এর পর থেকেই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারব্যবস্থা পুনরায় চালু করার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।] সরকারী দল আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনের ঘোষণা দেন] এবং তখনই বিরোধী দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না বলে ঘোষণা দেন।

আরো জানতে লিংক দেখুন https://bn.wikipedia.org/wiki/দশম_জাতীয়_সংসদ_নির্বাচন,_২০১৪