Thursday, March 30, 2023

তৃতীয় কোন নিয়ম কখনই ছিল না

 

আমরা যখন নিয়ম কানুনের কথা বলি তখন কেউ কেউ ভাবতে পারেন যে আমি এখানে রাজনীতি কিংবা আইন শাস্ত্র নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি। রাজনীতি কিংবা আইন এই আলোচনার বিষয়বস্তু নয়। আমি বরং আমার একটি চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা শেয়ার করব, যা আমাকে ২০০০ সালে চাকুরী জীবনের শুরুতে একটি অসাধারণ অন্তর্দৃষ্টি দিয়েছিল। যদিও একটি ছোট অভিজ্ঞতা কিন্তু এটি একটি বড় প্রভাব তৈরি করেছিল আমার মনে এবং আমার চিন্তাভাবনাকে এর পরবর্তী স্তরে নিয়ে গিয়েছিল। আমরা সবাই জানি শেখার শেষ নেই, মৃত্যুশয্যায় থাকা অবস্থায় বিখ্যাত লেখক ও চলচিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় বলে গেছেন, ”মুহূর্তটি একটা চরম ক্লাইম্যাক্স”। আমার পেশাদার জীবনের গুরু, দেভজিৎ সরকার তার কম্পিউটার প্রিন্ট আউট কার্ড এ লিখে দিতেন  "প্রতিটি দিন যেন নতুন কিছু শেখার অভিজ্ঞতা হয়ে উঠে"। আমার স্পষ্ট মনে আছে তার কথা আর আমি এখানে যে ঘটনাটি বলতে যাচ্ছি তা সেই শিক্ষা গুরুর সংস্পর্শের সাথে সম্পর্কিত।

চাকুরী জীবনের শুরুর দিকে, ভারতীয় দেভজিৎ সরকার মহোদয় আমার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব কিছু খুঁজে পেয়েছিলেন, শুধু তিনি নন তৎকালের এনআইআইটি’র (ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি বা NIIT) ভারতীয় আরও দুই জন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি তথা, তাপস রয় ওরফে ট্রয় (কান্ট্রি ডিরেক্টর), ইন্দ্রনীল মুখার্জি ওরফে আই-এম সকলকেই আমার চমৎকার ইংরেজিতে সাবলীল কথা বলা দ্বারা সন্তুষ্ট করতে পেরেছিলাম। তবে দেভজিৎ সরকার মনে হয় আমার গাণিতিক দক্ষতার প্রতি অধিক সন্তুষ্ট হয়েছিলেন যেহেতু লিখিত পরীক্ষায় আমি কেবল গাণিতিক অংশটাই সফলতার সাথে উত্তর প্রদান করেছিলাম। তিনি আমার সংষ্কৃতিক দিকটাও যাচাই করে নেন যেমন আমি কি ধরনের বই পড়তে ভালবাসি, কি ধরনের গান শুনতে পছন্দ করি ইত্যাদি। তাই দেশীয় কিছু নেতৃস্থানীয় লোক অনিচ্ছুক থাকা সত্যেও দেভজিৎ সরকার আমাকে ঢাকা’র মিরপুর সেন্টারে ট্রেনিং দিয়ে নিয়ে গেছে সিলেট এনআইআইটি-তে যেখানে আমি কম্পিউটার প্রশিক্ষক বা ফ্যাকাল্টি হিসেবে সফলতার সাথে কাজ করেছি দীর্ঘ এক বছর, মানে পুর ২০০০ সালটা। সে যাই হোক আমার ভাগ্যই বলতে হবে যে একটা ভেকান্সি তৈরি হয়েছিল সিলেট সেন্টারে আর আমি সেই শূন্যস্থানটা যথাযথভাবে পূরণ করার উপযোগীও ছিলাম ওই সময়টাতে। এখন থেকে পিছন ফিরে তাকালে মনে হয় যেন আমার জন্যই তৈরি হয়েছিল ওই শূন্যস্থানটি। ঢাকা থেকে ভিন্ন এক শহরে নতুন এক চাকুরীতে দুজন বন্ধু/সহকর্মীর সক্রিয় সমর্থন কখনই ভোলা যায় না, তারা আর কেউ নন মার্কেটিং এর সাহেদ আহমেদ আর ওনিসিমাস চৌধুরী। গল্পটা সাহেদ ভাই বা অনিকে নিয়েও নয়। সিলেট এনআইআইটিতে আমার সময়টা আমার পরিবারের কাছে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল এটা প্রমাণ করা যে আমি পরিবারের কোন সমর্থন বা সাহায্য ছাড়াই একা থাকতে পারি, সেই দিক থেকে আমি নিজেকে সফল প্রমাণ করেছি। সিলেটে থাকাটা কতটা উপভোগ করেছি তা এখনো মনে আছে। ওখানকার দারুণ আবহাওয়া, ভাল মনের মানুষজন, রাস্তার রিকশা জ্যাম সবই উপভোগ্য ছিল। আর ছিলেন উদার হৃদয় সাহেদ ভাই, তার সহৃদয় উপস্থিতি এবং ব্যস্ত ক্যারিসম্যাটিক ব্যক্তিত্ব এখনও আমার মনে একটি অনন্য উদাহরণ। বর্তমানে সাহেদ ভাই অস্ট্রেলিয়ার মেলবর্ণে সপরিবারে বসবাস করছেন।

NIIT-তে চাকরি কালীন সময়ে আমি কয়েকটি ছোটখাটো সাংগঠনিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম, আমি তাদের প্রত্যেকটি উপভোগ করেছি, এরকম একটি ছিল সিলেটে প্রথম সফ্টওয়্যার এক্সপো। সেখানে একজন ভারতীয় তরুণ পাল সাহেব এসেছিলেন যিনি কেডিএস কোম্পানির অর্থায়নে পরিচালিত মাদার কনসার্ন চিটাগাং-এনআইআইটি-র ইভেন্ট ম্যানেজার হিসাবে এক্সপোর ব্যবস্থাপনা তদারকি করতে এসেছিলেন, তাঁর সাথে দুজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞও এসেছিলেন। সিলেটে প্রথম একটি উন্নত মানের সফ্টওয়্যার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল এবং তারা সেখানে সক্রিয় সহায়তা কর্মী হিসেবে এসেছিলেন। আমি পরে বুঝতে পেরেছিলাম, তারা সিলেট কেন্দ্রটির তত্ত্বাবধান করতে এবং কেন্দ্রের সামগ্রিক অবস্থা দেভজিৎ সরকারকে রিপোর্ট করার জন্য সেখানে ছিল। তরুণ ভারতীয় পাল, যিনি অত্যন্ত ক্যারিসম্যাটিক ছিলেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষও ছিলেন। আমাদের অনেক ভুল দেখিয়েছিলেন এবং বিকল্প পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরকম একটি উদাহরণে তিনি আচমকা একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছিলেন যা আমাকে চমকে দেয় এমন একটি বিষয় উপলব্ধি করতে যা আমি কখনই ভুলব না। এটা নয় যে আমি তাকে অত্যন্ত দক্ষ কর্মী হিসাবে গ্রহণ করেছিলাম। এটি হল, তার অডিট পরিচালনা করার পদ্ধতি এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা যা আমাকে দেখিয়েছে যে সময়মতো পরিস্থিতির সাপেক্ষে আমাদের নির্দিষ্ট মেজাজে কাজ করতে হয়। অন্য কার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে কেন তিনি তখন এত চিৎকার করে কথা বলছিলেন তা আমি ভুলে গেছি কিন্তু আমার মনে আছে শুধুমাত্র সেই অংশটি যা আমার চিন্তায় আঘাত করেছিল, "আপনি কি জানেন যে পৃথিবীতে মাত্র দুটি নিয়ম আছে?" আমি কিছুই না বুঝে জিজ্ঞেস করলাম সেগুলো কি, সে বলল প্রথম নিয়মটা হল “আমাকে অনুসরণ করুন” (Follow me) , আমি সেই অংশটা বুঝলাম, এখন দ্বিতীয় নিয়মটা কি, আমি উত্তর শোনার অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু সে একটু বিরতি দিল এবং কোন কথা না বলায় তাকে জিজ্ঞেস করতে বাধ্য হলাম দ্বিতীয় নিয়ম কি? …….. উত্তর নেই!! তিনি বিরতিতে ছিলেন, কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন "প্রথম নিয়মটি অনুসরণ করুন" (Follow the first rule) !! আমি হতবাক!! ভাল বলেছেন তো, হ্যাঁ, তৃতীয় কোন নিয়ম কখনো হবে না, কারণ মূলত একটাই নিয়ম আছে যেটা হল আমাকে অনুসরণ করুন এবং কেবল আমাকেই অনুসরণ করুন।

এ যেন সফল নেতার গভীর মনের এক গুপ্ত রহস্য। এটা মানব মনের নেতৃত্বের অহংবোধ, তাদের মূল মনের সত্ত্বাধিকারী। আমি দেখেছি যে অনেক লোক তাদের আবেগকে স্বাভাবিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, " দেখ আমি এটি তৈরি করেছি" বা দেখ আমার জীবনে আমি কি কি অর্জন করেছি কিংবা দেখ আমার সন্তানেরা কত বড় বড় জায়গায় পৌঁছে গেছে যেন অন্যরা তাতে অবাক হয়ে যাবে এবং তাকে বাহবা দিবে। তারা এটা ভেবে দেখে না যে, তার কৃতিত্ব সমূহ অন্য অনেকের সাথে একই রকম হতে পারে এবং অন্যদের গুলিও বিস্ময়কর এবং সমানভাবে উল্লেখযোগ্য বটে। আর তা না হলে এই কথাগুলো যাকে বা যাদের উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে তাদের মনে হিংসাত্মক অনুভূতির জন্ম দেয়া ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবে না।

নিজের অর্জনগুলোকে গভীর ভাবাবেগের সাথে প্রকাশ করার প্রবল প্রবণতা রয়েছে মানুষের। সে অন্যদের কাছ থেকে প্রশংসা প্রার্থনা করে যেন এটি প্রমাণ করতে চায় এই জড় জগতে এই কাজগুলোই তার করার কথা ছিল। আমি অনেক লোককে পেয়েছি যারা আবেগ ছাড়া তাদের কৃতিত্ব প্রকাশকে সারসংক্ষেপ করতে পারে না। বিপুল আবেগের সাথে তারা আপ্লুত হয়ে যায় এবং এর পিছনের সত্য দেখতে ব্যর্থ হয়। এমন কিছু লোক আছে যারা আবেগকে ব্যবহার করে একটি চূড়ান্ত রায়ে পৌঁছানোর জন্য, অথচ তাদের রায় অন্য আবেগের সাগরে হাবুডুবু খায় এবং কখনই উপযোগের কেন্দ্রে স্থির হয় না। আমি এটি তৈরি করেছি, আমি এটি করতে পারি, আমিই একমাত্র নইলে এটি কখনই সমাধান হত না, দেখুন আমি কতটা দুর্দান্ত হতে পারি, এবং আমিই অনন্য। আপনি আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে সেরা হিসাবে পাবেন না। এগুলো তাদের প্রাণশক্তির সাধারণ বহিঃপ্রকাশ। তাই যে নিয়মটি বলে যে আমাকে অনুসরণ করুন এবং কেবল আমাকেই অনুসরণ করুন তা কিছু পরিমাণে আদিম এবং আমাদের প্রকৃতিতে অন্তর্নির্মিত। ছোটবেলায় আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল, এক ভাই ও তার ছোট বোন। ভাইটি খুব চঞ্চল ছিল এবং সে আমার উপর আধিপত্য করত। যেমন আমার কাছে একটি লোগোর খেলনা ছিল এবং সে আমাকে ওটা দিয়ে না খেলতে শাসন করত, এমনকি আমি যদি তার কথায় রাজি হতাম, তখনও সে নিশ্চিত করত আমি এটি ফেলে দিয়েছি কিনা। ঠিক এই জায়গায় আমি নিয়মটির সাথে দ্বিমত পোষণ করি, যখন এটা অন্যের উপর আধিপত্য বিস্তারের গভীর দাবীতে পরিণত হয়, তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় বা তাকে এমন কিছুতে ঠেলে দেওয়া হয় যা করতে সে রাজি নয়। এটি নিপীড়নের প্রকৃতি এবং অবশ্যই আত্মার প্রতি অত্যাচার।

এটা স্বাভাবিক যে একটি মন সর্বোপরি সর্বোত্তম হওয়ার চেষ্টা করবে এবং প্রশংসার জন্য জিজ্ঞাসা করবে (আমাকে অনুসরণ করুন এবং কেবল আমাকেই অনুসরণ করুন) তবে একটি সংস্কৃতিমনা মন, তার প্রজ্ঞা সহ একটি লালিত মন জানবে, আমি যতই ভাল হতে পারি না কেন অন্য একজন আরো বড় হতেই পারে এবং এটা ভাবা অনেক বেশি উপযুক্ত যে আমরা সবার সেরা এবং আমরা আমাদের মধ্যে অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব ভাগ করে নেই। পৃথিবীতে কি তবে সবসময় মাত্র দুটি নিয়মই থাকবে আর তৃতীয় কোন নিয়ম কি তবে কখনোই আসবে না?


Edit and update history: 10dec2018 Translated into Bangali on 23mar23> 31mar23
 

Thursday, March 23, 2023

আজ হতে শত কোটি বছর পর

 

শত কোটি সংখ্যাটাকে অংকে না লিখে কথায় লিখলাম যাতে অন্তত ভয় না লাগে। অংকে লিখলে সংখ্যাটা বোধগম্যতা হারায়ে ফেলতো কিংবা কল্পনার সীমানা পেরিয়ে যেত। আজি হতে শত বর্ষ পরে কবিতা তো আমাদের সবার জানা কিন্তু কোন কবি মনে হয় শত কোটি বছর পরের কল্পনা করার সহসও দেখান নাই। শত কোটি বছর কেন? তা শুনেছিলাম বা কোথায় যেন পড়েছিলাম তিন শত কোটি বছর বিবর্তনের পর মানুষ তার আজকের অবস্থায় এসে পৌঁছেছে যখন সে যুক্তি তর্ক সাপেক্ষ চিন্তা করার ক্ষমতা অর্জন করতে সমর্থ হয়। প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নয়ন ইদানীং এত ত্বরান্বিত হয়েছে যে, আগামী কালই কোন নতুন প্রযুক্তি আমাদের জীনাচরণ আমূল বদলে দিবে কিনা তা বলা যায় না। তাই শত কোটি বছর পর এই মানব যা চিন্তা করতে পারে ও প্রকৃতির রহস্য বুঝতে পারে তারা কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে তা অনুমান করার চেষ্টাটা নেহায়েত কম কথা নয়।

বিবর্তন যে হচ্ছে তা আর নতুন করে যুক্তি তর্ক সম্পাদন করে বুঝার দরকার পরে না। এক করনা পেনডেমিক চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায়ে দিয়েছে বিবর্তন কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি। জেরি কয়েনের ব্লগ আর বই “কেন বিবর্তন বাদ সত্য” পড়লে বুঝা যায় যে বিবর্তন হচ্ছে বৃহৎ ক্যানভাসে যা ছোট সময়, মানে হলো হাজার বছর কিংবা ১০০ বা ২০০ বছরের ক্যামেরায় ধরা পড়বে না। বিবর্তন বুঝতে হলে আর বড় ওয়াইড এঙ্গেল লেন্সের কেমেরা লাগবে। যাতে শত কোটি কিংবা হাজার কোটি বছরের ব্যবধানে প্রজাতিগুলোর বিলুপ্তি কিংবা টিকে যাওয়া প্রজাতিগুলোর বিবর্তন ধরা পড়বে। তাই বিবর্তন হচ্ছে কি হচ্ছে না তা নিয়ে বিতর্ক কারা আজকের সময়ে অর্থহীন হয়ে গেছে। ছাত্র জীবনে আমি একবার অযথা এক মহা বিতর্কে আটকে গিয়েছিলাম জুনিয়র এক পরিচিতর সাথে। তার কথা হলো গাছের জীবন আছে তাই তার প্রাণ আছে আমি বলছিলাম গাছের জীবন আছে কিন্তু প্রাণ নাই। বিতর্কটা পরবর্তীতে আমি আবিষ্কার করেছিলাম ইংরেজি আর বাংলা পরিভাষা জনিত বিভ্রাট এর কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। আমার কথা ছিল যেহেতু গাছকে প্রাণী বলা যায় না কারণ তার স্নায়ু তন্ত্র কিংবা মস্তিষ্ক নাই তাই তাকে প্রাণ থাকা সত্যেও প্রাণী বলা যাবে না। আর বিপক্ষের যুক্তি ছিল গাছের প্রাণ আছে তাই সেটাকে প্রাণী বলতে হবে। গাছের জীবন চক্র আছে কিন্তু সেটা প্রাণী ক্যাটাগরির মধ্যে পড়বে না কারণ তার নিজস্ব চিন্তা চেতনা নাই। Plant can’t be called animal as it do not have a nurves ststem but it has life cycle thus is a living element.। জীব-জীবন, প্রাণ –প্রাণী’র পরিভাষাগত এই বিতর্ক আমি বুঝতে পারছিলাম কিন্তু সেই নতুন পরিচিত জুনিয়র ব্যক্তিটিকে বুঝাতে পারছিলাম না। আমি যতই বলি সে ততই বিতর্ক করে। আমি পরে বিতর্ক পরিত্যাগ করে চলে আসি। বাসায় এসে আমি বুঝেছিলাম বিতর্কটি হতই না যদি ইংরেজিতে কথা গুলো বলা হতো। এটা ভাষা গত পরিভাষা জনিত একটি ভ্রম ছিল। বিবর্তনবাদ মানতে না চাওয়া লোকগুলো মূলত ধার্মিক তারা বিবর্তন মেনে নিলে তাদের ধর্মবোধে আঘাত লাগে। ধর্মে যে মন্ত্র বলা আছে মানব উৎপত্তি কোন প্রজাতি গত বাস্তবতা নয় বরং মানবকে স্বতন্ত্র আদলে সৃষ্টি করে সরাসরি পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই মন্ত্র তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যদিও বাস্তব বহু প্রমাণ দেখা যায় বহু প্রাণীর সাথে আমাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যর সদৃশ। আমাদের দেহে ছাগল, গরু, ঘোড়ার মতই লোম হয়, পায়ে নখ হয় পাখিদের মত, আমরা গরুর মতই জাবর কাটাই (পেট থেকে বের করে আনা খাবার অবশ্যই নয়) পান খাওয়ার সময়। আমাদের লেজ না থাকলেও লেজরে হাড্ডি দিব্বি এখনও টিকে আছে। সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতেই আমাদের দুটি চোখ, একটা নাক, মাথায় চুল ইত্যাদি প্রচুর সাদৃশ্য বিদ্যমান তা সত্যেও কেন যে মানুষ মনে করে তাদের আলাদা ভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে তাই তো এক মহা বিশ্বয়। মানুষের নিজেকে বিরাজমান জগতে বিশেষ মনে করে গর্বিত হওয়ার জন্যই কি তাদের এই ভ্রান্ত চিন্তার প্রতি কনভিকশন বা বদ্ধমূল ধারণা? আমার অন্তত তাই মনে হয়েছে। ধর্ম সকল মানব সভ্যতার একটা নির্দিষ্ট সময় ব্যাপ্তিতে সকলের মাঝে বিস্তার লাভ করে, মোদ্দা কথা সবগুলোর ভাবসম্প্রসারণ প্রায় একই, একজন অতিপ্রাকৃত পরিকল্পনাকারীর ইচ্ছানুযায়ী বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ডর সব কিছু সৃষ্টি ও পরিচালিত হচ্ছে। এরূপ ধর্ম বিশ্বাস অতি পূর্বের অনুন্নত মানব সম্প্রদায় সমূহের যজ্ঞ প্রক্রিয়ার পরবর্তী উন্নত রূপ। যজ্ঞে মানুষ কোন অতিপ্রাকৃত সত্তার কাছে প্রার্থনা করত না বরং প্রকৃতি জয় করার জন্য খাদ্যর যথার্থ সংস্থানে আপ্রাণ প্রচেষ্টার এক প্রকার রিহারসেল কিংবা জোটবদ্ধ অনুপ্রেরণা সৃষ্টির জন্য এরূপ যজ্ঞর নাচ গানের আয়োজন করা হতো। যা পরবর্তীতে যখন খাদ্য আহরণ প্রক্রিয়া তারা রপ্ত করল তখন পূর্ববর্তী শ্রেণীহীন সমাজ থেকে শ্রেণীযুক্ত সমাজের সৃষ্টি শুরু হলো। অন্যের উদ্বৃত্ত সম্পদ বিনা শ্রমে একদল লোক দখল করার কৌশল আবিষ্কার করল, সৃষ্টি হলো পুরহিত শ্রেণী আর সমাজপতিদের যারা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল হিসেবে তাদের ধর্মীয় ভয় ও নিয়ম মানার প্রতি সাধারণ লোকজনকে বিশ্বাস অর্জন করাতে সক্ষম হলো। আগে ছিল প্রকৃতির সাথে মানুষের সংগ্রাম, এর পর হলো মানুষের সাথে মানুষের সম্পদের বণ্টনের সংগ্রাম। এই প্রক্রিয়াও হঠাৎ করে হয় নাই বরং বছরের পর বছর (হাজার বছর ধরে নয় কোটি বছর ধরে) বিবর্তনের ফলে এরূপ শ্রেণীযুক্ত সমাজের সৃষ্টি হয়েছে। আজ সময় এসেছে বিষয়টার আপাদমস্তক পোস্টমর্টেমের। কারণ এই কোটি বছরের বিবর্তনের সমাপ্তি যুগ চলছে আর তা চলবেও কয়েক শত সহস্র (কোটি) বছর ধরে। তার পর বিবর্তিত নতুন সমাজ ব্যবস্থা আসবে। তারই সুর দেখা যায় এই নগর কেন্দ্রিক পূর্বতন সমাজের ব্যবস্থা থেকে ভিন্নতর এই সমাজের ভিন্ন কাঠামোতে। ধর্মীয় অনুশাসন গুলো টিকে আছে তবে তাতে যে ক্ষয় ধরেছে তা স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যায়। যাদের সংস্কারমুক্ত মন আছে তারা তাদের তৃতীয় নয়ন দিয়ে তা ঠিকই দেখতে পায় বলে আমার ধারনা।

বিবর্তন সম্পর্কে বলতে গেলেই বেশ আগে, গত ১০ কি ১২ বছর আগে দেখা ইভোলিউশন মুভিটার কথা বার বার মনে পরে।   গল্পটা ছিল এ রকম যে, কোন এক ভিন্ন গ্রহ থেকে এক খণ্ড উল্কা পিণ্ড আমেরিকার এক মরুভূমিতে এসে পড়ল। সেখানে যেয়ে দেখা গেল তা তেমন কোন পরিবর্তন করছে না কিন্তু কিছুদিন পরই দেখা গেলে নতুন ধরনের সব প্রাণী তাতে বা তা সংলগ্ন এলাকায় জন্ম নিচ্ছে। এ যেন এক নতুন পৃথিবী নতুন ভাবে সৃষ্টি হচ্ছে। খবর পেয়ে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ জায়গাটা সংরক্ষণ করে কিন্তু এক তরুণ বিজ্ঞানী ও তার সহকর্মীরা বিষটির কারণ খুঁজতে শুরু করে। তারা বুঝতে পারে এই নতুন প্রজাতিগুলো নাইট্রোজেন বেইজড, আমরা যেমন অক্সিজেন বেইজ্ড এরা তেমন নাইট্রোজেন বেইজ্ড। যার ফলে কর্তৃপক্ষ যেমন চাচ্ছে যে আর্মি দেয়ে গোলা মেরে এদের নিশ্চিহ্ন করে দিবে তার বদলে এই বিস্ফোরণ তাদের দৈহিক বৃদ্ধি আরো ত্বরান্বিত করবে। তাই তারা খুঁজে বের করে অক্সিজেন বেইজড আমরা যেমন আর্সেনিক এর দ্বারা বিষাক্ত হই তেমনি এই নাইট্রোজেন বেইজড নতুন প্রজাতি সিলিকন সালফাইড (যা হেড এন্ড শোলডার শ্যাম্পু তে প্রচুর পরিমাণে থাকে) তা দিয়ে এদের বিষাক্ত করে মেরে ফেলা যেতে পারার কথা। তাই তারা ওই শহরের সকল ডিপার্টমেন্টাল স্টোর এর হেড এন্ড সোল্ডার শ্যাম্পু একটা ফায়ার ব্রিগেড এর পনির ট্যাংকারে ভরে ফেলে। ইতোমধ্যে ওই শহর ইভাকুয়েট করা বা খালি করা হয়ে গিয়েছিল যেহেতু আর্মি এই বিদঘুটে সৃষ্টি হওয়া উদ্ভট ক্ষুদ্র বিশ্বটাকে নিশ্চিহ্ন কারার পরিকল্পনা করেছে আর্মি’র ব্যবহৃত বোম্ব স্বোয়াড দ্বারা। যথা সময়ে দেখা গেল বিস্ফোরণের ফলে ওই এলাকাটা তে উদ্ভূত উদ্ভট প্রাণীকুল সমৃদ্ধ ক্ষুদ্র বিশ্বটা তো নিশ্চিহ্ন করা গেলই না বরং ফুলে ফেঁপে তা মহা এক আকার ধারণ করল আর সেই বৈজ্ঞানিক টিম ওই বিশাল জীবন্ত আকৃতিটার ভিতর সেলেনিয়াম সালফাইড স্প্রে করার ফলে তা ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে বিলুপ্ত হলো। বিবর্তন নিয়ে করা এই মুভিটা বিবর্তন এর বিষয়ে মানুষের মনে যে সংশয় তা অনেকটাই নির্মূল করে দেয়। ছবিটা দেখা না থাকলে বিবর্তন বুঝতে আমারও বেশ বেগ পেতে হতো। বৃহৎ ক্যানভাসে বিবর্তন হচ্ছে আর এটা নিয়ে বেহুদা বিতর্ক করে আর লাভ নাই। একে বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। 

ধর্মীয় পুরহিতগন বিবর্তনে বিশ্বাসকে ভয় পায় এ জন্য যে, একে মেনে নিলে তাদের ধর্মর উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ ব্যহত হবে। অপর পক্ষে বিবর্তনকে ল্যাবরেটরিতে কিংবা সময়ের ক্ষুদ্র পরিসরে প্রমাণ করে দেখান সম্ভব নয়। ধর্মীয় পণ্ডিত গন আপনাকে কোন যুক্তি তর্ক ছাড়া ধর্মের সকল ব্যাখ্যা মেনে নিতে বলবেন আর আপনি তাতে প্রকাণ্ড এক সুখানুভূতি বা শান্তিময় অনুভূতিতে ডুবে যাবেন যার কারণ আপনি সব জেনে গেছেন। একাল – পরকাল, একাল ক্ষণিক পরকাল অনন্ত। পরকালের জন্য একালে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। কিংবা ধরুন বলা হচ্ছে, একালে সাধনার ফলে আপনি পরকালে নির্বাণ পেয়ে যাবেন তার পর সুখ দুঃখ বলে আর কিছুই আপনাকে বিব্রত করতে পারবে না। কিংবা ধরুন বলা হচ্ছে এ কালে ভাল কাজ করলে পরকালে আপনি উন্নত প্রাণী হিসেবে আবির্ভূত হবেন আর একালে খারাপ কাজ করলে পরবর্তী কালে আপনি ইতর প্রাণী হিসেবে জন্মাবেন। আপনার আত্মা অবিনশ্বর আর তা বার বার ফিরে আসে। এ সব মিথের কারণও আজকাল আমাদের জানা। মেক্সওয়েলের সূত্র আবিষ্কারের আগে বর্য বিদ্যুতের কারণ হিসেবে ভগবানদের মাঝে ঝগড়া আর তাদের তরবারি ঝংকারে বর্য বিদ্যুতের সৃষ্টি মনে করা হতো । ম্যালেরিয়া রোগ হলে খারাপ বাতাস লেগেছে বলে মনে করা হতো। এ সবই আজ প্রমাণ করে তৎকালের ধারনা গুলো ছিল কেবল নির্বুদ্ধিতা। অনেক জ্ঞানীগুণী জন ধর্মের কাছে আত্ম সমর্পণ করে এসেছেন এর কারণ ভাববাদকে ভাববাদ দিয়ে খণ্ডন করা যায় না। ভাববাদ থেকে বস্তুবাদে উত্তরণে বাস্তবতা সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের প্রয়োজন। মানব সভ্যতার খ্রীষ্টের জন্মের পর ২০২৩ বছর পার হয়েছে মাত্র আর তার আগের ১০০০ বছরের লিখিত ইতিহাস টেনে টুনে পাওয়া যায়। কিন্তু মানব ইতিহাস তো এত কম সময়ের না। বরং বৃহৎ ক্যানভাসটা অনেক বড়, শত কোটি বছর আগের ইতিহাস আমাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কিছু জীবাশ্ম থেকে যার ছিটা ফোটা আবিষ্কার করা যায় তাও যারা মুক্ত বুদ্ধি দেয়ে বিষয় গুলো বিচার করে থাকেন তাদের জন্য।

ধর্ম সকলের একটা প্রথাগত যুক্তি শৃঙ্খল আছে, যে কোন অবিশ্বাসীকে তারা এই যুক্তি টানেলে নিয়ে আসে। বিজ্ঞান বিশ্ব বাস্তবতার কারণ অনুসন্ধান করে একে বুঝতে চায় ও প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের দৈনন্দিন অভাব পূরণের পথ আবিষ্কার করতে চায়। এ সব নিয়ম কোথা থেকে আসল, কেন প্রকৃতিটা এরকম, অন্য রকম হলো না কেন?  এ সব কি অনন্ত কাল থেকেই এরকম না কি কোন এক অতিপ্রাকৃত সত্ত্বা এ সব পরিকল্পনা করে দিয়েছেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বিজ্ঞানের জানা নাই তার বিচার্য বিষয়ও নয়। আর ধর্ম পুরহিত গন বা যারা ধর্মের প্রতি অনুরাগী তারা এই জায়গায় আপনার সকল চিন্তাকে বা সর্বসাধারণের চিন্তাকে নিয়ে আসবেন। তার পর বলবেন যেহেতু আপনি বা কোন বিজ্ঞ বিজ্ঞানী এর কোন উত্তর দিতে অক্ষম তাই এটা মেনে নেয়া উচিত যে এই বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ড একা একাই চলছে না বরং কোন অতিপ্রাকৃত সত্ত্বার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও তার’ই ইচ্ছায় এগুলো অস্তিত্বশীল। অশিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত লোকজন এর বেশি ভাবতে অপারগ তাই তাদের জন্য আত্মসমর্পণ করা সহজ যখন বিনিময়ে নিশ্চিত ও নির্ভাবনার একটা ইহ লৌকিক জীবন পাওয়া যাবে আর পরলোকের অনন্ত সুখের নিশ্চয়তা তো রয়েছেই। কিন্তু যারা ক্রমাগত চিন্তাশীল তারা ভাবতেই থাকে আর সর্ব রোগের ঔষধ হিসেবে ধর্মের ব্যাখ্যাকে এত সহজে মেনে নিতে তারা প্রস্তুত নয়। এ সব কারণে অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হয় ধর্ম-নিরপেক্ষ চিন্তাধারার যা এক পর্যায়ে নাস্তিকতায় পর্যবসিত হয়। কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক এক কথায় বলা অসম্ভব। কিন্তু মুক্ত চিন্তার দেশে মানুষের এই বিশ্বাস গুলো নিয়ে তাদের তিরস্কার করা ঠিক নয়। প্রত্যেকেরই চিন্তার স্বাধীনতা তার জন্মগত অধিকার আর নিজের জীবনের সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকারও সবার সমান যেখানে অন্য কারো বাগড়া দেয়ার অধিকার নাই। আগে হিন্দুরা মুসলমানদের অচ্ছুত মনে করত। এমনকি কোন মুসলমানের খাওয়া প্লেট ধোয়ার লোকও পাওয়া যেত না হিন্দু বাড়িতে। মুসলমানদের বাড়িতে হিন্দুদের অবস্থানের প্রশ্নই আসতো না, তাদের জন্য দূরবর্তী বাড়িতে অবস্থানের ব্যবস্থা করা হতো। আজ সে সব কুসংস্কার ধীরে ধীরে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তার পরও দেখা যায় হিন্দুদের প্রদীপ জালন উৎসবে তাদের দরজার বাইরে প্রদীপ রাখায় আমার বাড্ডার বাড়ির অপর দিকে বসবাসরত মুসলিম মোল্লা পরিবার আমাকে ফোন করে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। এক ধর্মে গরু কোরবানি পুণ্যের কাজ আর এক ধর্মে গরুর মল মূত্রও পবিত্র মহার্ঘ। এত বৈপরীত্যই প্রমাণ করে এ সবই আসলে মিথ বা কল্পনা বিলাস। মিথ হলেও তা শক্তিশালী মিথ যা সমাজের শিকড় বাকড় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। কয়েক শত কোটি বছর অতিবাহিত হয়ে যাবে এসব উদ্ভট বিশ্বাসের মূল উৎপাটন করে আলডস হক্সলির ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ডে মানব সকলের পদার্পণে। তার পরও হয়তো কিছু লোক ধর্মের ধ্বজাধারী থেকেই যাবে। ধর্ম এতটা নিশ্চয়তার সাথে প্রশান্তি পাওয়ার একটা সুযোগ করে দেয় যা অন্য কোন বিদ্যার পক্ষে সম্ভব নয়। মন্ত্র-তন্ত্র-তাবিজে বিশ্বাসী লোক আজও আছে। শুধু মতিঝিলে নয় কুয়াকাটাতেও দেখলাম পোষ্টার লাগান আছে অমুক তান্ত্রিক কামরুক কামাক্ষা থেকে অলৌকিক তন্ত্র সাধনা করে এসেছে। যাদের দাম্পত্য কলহ, বউ বস মানে না, সন্তান হয় না, কেই বান মেরেছে, ভাগ্য খারাপ এদের চিকিৎসা দেবে তারা মন্ত্র পড়ে তাও আবার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গেরান্টি সহকারে। মন্ত্র-তন্ত্র-তাবিজের গ্রাহক এখনও যখন আছে তাতে মনে করা যায় আজ হতে শত কোটি বছর পরও এগুলো থাকবে তবে তখন তারা হয়ত অনলাইনে গ্রাহক সেবা প্রদান করবে।

আজ হতে ১০০ কোটি বছর পর তা হলে কি হতে পারে বলে আমরা অনুমান করতে পারি? আমার আপনার আয়ুষ্কাল বড়জোর আর ২০ থেকে ৩০টা বছর। তার পর আমাদের হাড্ডি মাংসও কেউ খুঁজে পাবে না। আমাদের সন্তানেরা আমাদের বিষয়ে চিন্তা করাও ভুলে যাবে। আমি আমার দাদাকে দেখি নাই, আমার জন্মের পূর্বেই তিনি গত হয়ে গেছেন। আমার ছেলেও তার দাদাকে দেখে নাই। আমার দাদার বাবার সম্পত্তি আমরা আপোষ বন্টননামা দলিল করে পেয়েছি। চাচাতো ভাই বোনেরা তাদের প্রাপ্ত সম্পত্তির অনেকাংশই বিক্রি করে দিয়েছে কিন্তু আমি ওই সম্পত্তির মূল্য বুঝি। হাজার চেষ্টা করেও ওই সম্পত্তি বিক্রির কথা মনে আসলে মন সায় দেয় না। আমার বাবা তার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে কিছু না নিয়েই সকল সম্পত্তি নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে অর্জন করেছে আর আমি এক মাত্র সন্তান হওয়াতে সে গুলো তো পেয়েছিই উপরন্তু দাদা’র বাবার কেনা (উনার কেনা কিনা তা’ও জানি না, হতে পারে সেটা তাঁর দাদার বাবা’র কিনা) সম্পত্তি’র ও ভাগ পেয়েছি। কোন সাহসে আমি এ গুলো বিক্রির চিন্তা করতে পারি তা আমার মাথায় ঢুকে না। আমি ছিন্ন মূল নই, আমার একটা অতীত ঐতিহ্য আছে। আমার বাপ-চাচারা গ্রামে পড়ুয়া ও ভাল ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। ওই বাড়ির সব কটা ছেলে লেখাপড়া করে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত। এ সব কথা শুনলে আমার মন ভরে যায়। আর গ্রামের সাথে আমাদের সংযোগ তো ওই জমিগুলোই যেখানে আমার বাপ-চাচারা ও তাদের পিতা-মাতা দাদা-দাদি পদচারণা করে গেছেন। আজকালকার জেনারেশনে এ সব ইমোশন কে ফালতু ইমোশন (যত্তসব রাবিশ) বলে মনে করে। তারা যত দ্রুত সম্ভব এখানকার পাট চুকায়ে বিদেশেরে উন্নত প্রথম শ্রেণীর বিশ্বে জীবনকে স্থাপন করতে চায়। মানুষ কখন মাইগ্রেট করে? অন্য সকল প্রাণীকুলের মত যখন কোন স্থান বসবাসের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে যায় তখন কি তারা মাইগ্রেট করে? এদেশে তারা ভাল চাকুরী করা সত্যেও বিদেশে উন্নত জীবনের আশায় মাইগ্রেট করছে। এটাই মানব প্রকৃতি অবলিগ সকল প্রাণীকুলের সহজাত প্রবৃত্তি বলে মনে হয়। তাই বলছিলাম মানব সকল উরে এস জুরে বসা কোন অতিপ্রাকৃত উপাদান নয় বরং এই প্রকৃতি থেকে উদ্ভুত এক উন্নততর প্রজাতি মাত্র। এ বিষয়ে যারা বিতর্ক করতে চান তারা বিতর্ক করতে থাকুন আমার সামনে অগ্রসর হতে চাই। সময় নষ্ট করে লাভ কি, উনারা বিতর্ক শেষে যে সিদ্ধান্তে পৌছবেন ততক্ষণে আমরা ভবিষ্যতের আর খানিকটা অগ্রবর্তী পরিবর্তন সম্পর্কে ধারনায় উপনীত হতে পারব।

অতি পরবর্তী বিশ্বটা কেমন হতে পারে তা নিয়ে হলিউড মুভি স্টার ওয়ার্স সুন্দর সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছে। আমেরিকা বিশ্বের সকল অর্থনৈতিক সম্পদ মানব চক্ষুর অন্তরালে অত্যন্ত মহা কৌশলে অল্প অল্প করে আয়ত্ব করে তাই তাদের অর্থনীতি হৃষ্ট পুষ্ট আর এর অধিবাসীরা তাই সৌখিন চিন্তা করে প্রচুর পয়সা খরচ করে চমৎকার সব মুভি নির্মাণে সক্ষম। মুভিগুলো বলিউড মুভির মত কেবল প্রেম নির্ভর নয় তাই নতুন চিন্তার খোরাক সমৃদ্ধ হওয়ায় মানব চিন্তনে তা ভাল অবদান রেখে থাকে। স্টার ওয়ার্স কিংবা ম্যাট্রিক্স এর কথা বাদ দিলেও টম ক্রুজ অভিনীত মাইনরিটি রিপোর্ট, ওয়ার অফ ওয়ার্লডসও ভবিষ্যতের বাস্তবতার প্রকল্পিত কল্প দৃশ্য। অভতার মুভিটাও কোন অংশে কম যায় না। ও’রা এত বর্ণালী চিন্তার অবতারণা করতে পারে অথচ আমরা পারি না কেন? ও’রা উন্নত বিশ্ব আর আমরা অনুন্নত তাই কি? আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় আর ও’রা পিজা’র রকমারি ফ্লেভারে ভরপুর খেয়েও শেষ করতে পারে না তাই কি? আসলে আমাদের এই অনুন্নত দেশের মেধা সমৃদ্ধ সন্তানেরা ওদের দেশে যেয়ে বড় বড় আবিষ্কার করে ওদের জীবন যাত্রার মান বাড়িয়ে দেয় তা কি আমরা জানি না। অতি পরবর্তী ভবিষ্যৎ কি হতে পারে তাই ও’রা ভাল বলতে পারে আর আমরা নিরন্তর অন্ন সংস্থানে ব্যস্ত থাকি বলে ওসব নিয়ে চিন্তা করি না। এটা অবশ্যই বলা যায় যে, যে সব বড় বড় আবিষ্কার গুলো মানব সভ্যতার গতি পরিবর্তন করে দিয়েছে যেমন, পাথর যুগ, আগুনের নিয়ন্ত্রণ পরবর্তী লৌহ যুগ, ব্রোঞ্জ যুগ, সেমিকন্ডাক্টরের আবিষ্কার, গতির সূত্রাবলী আবিষ্কার, স্টিম ইঞ্জিন এর আবিষ্কার, দুরবিক্ষণ যন্ত্র, অণুবীক্ষণ যন্ত্র, ইলেকট্রিক বাল্ব, গাড়ি, উড়োজাহাজ, কম্পিউটার, ইন্টারনেট বেক বোন, ব্লক চেইন ইত্যাদি প্রযুক্তিগত আবিষ্কার ও স্থাপনা মানুষের জীবনধারার আমূল পরিবর্তন করেছে আর করেই চলেছে। যে হারে নতুন প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আমরা এখন প্রত্যক্ষ করছি তাতে ভয় লাগে যে শত কোটি বছর নয় আর দ্রুত বিবর্তনের গতি আমরা দেখতে পাব। কিন্তু এত উন্নয়নের পরও জীবনের মৌলিক প্রশ্নগুলো থেকেই যাবে। আমারা কি হতে চাচ্ছি, কোথায় যেতে চাচ্ছি, এত সব এলো কোথা থেকে আর এর পরিসমাপ্তিই বা কি হতে পারে। ধর্ম রোগে আক্রান্ত মানুষেরা এর উত্তর দিতে এক পায়ে খাড়া তারা সর্ব রোগের ঔষধ হজম করে পরকালের অভিযাত্রী কিন্তু যারা জানে যে ধর্ম সকল এক মহা বিভ্রান্তির সমাধানে প্রণীত এক প্রকার মনগড়া ব্যবস্থাপত্র তারা জানে ইহকালেই সব পরিবর্তনের সম্মুখীন হতে হবে। হয় আমি না হয় আমার কোন দূরবর্তী বংশধর সেই বাস্তবতায় তখন চলমান থাকবে। 

Edit and update history> ১৭মার্চ২০২৩> ২০মার্চ ২০২৩> ২৩মার্চ২০২৩>


 

Sunday, March 19, 2023

জীবনকে "পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দশা পরিবর্তন যাত্রা" হিসাবে বিবেচনা করা যায় (Life can be perceived as “phase transitions through situation channels”)

 

জীবনকে কীভাবে উপলব্ধি করা যায় সে সম্পর্কে অনেক ব্যাখ্যা বা মতবাদ রয়েছে। মানব, জীবন, মহাবিশ্ব (Man, Life, Universe) সম্পর্কে বোঝা আমাদের মনের মৌলিক প্রশ্ন এবং এর উপর চূড়ান্ত রায় ছাড়া আমরা এগিয়ে যেতে পারি না। এই প্রাথমিক ধারনা গুলোর উপর নির্ভর করে আমাদের চিন্তাভাবনার বিল্ডিং ব্লক বা ভিত্তি প্রস্তর গুলো। আমার নিজের চিন্তা ভাবনার এক পর্যায়ে আমি এটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছি যে যখন আমি একটি সময়সীমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, আমি মূলত কতগুলো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছি, আমি সেগুলো তৈরি করেছি কিংবা তার শিকার হচ্ছি। পরিস্থিতি গুলোর সমাধানের প্রতি আমার মনোভাবই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। প্রতিদিন আমরা অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন হই  যা থেকে আমরা শিখি এবং জীবন সম্পর্কে আমাদের উপলব্ধি পরিবর্তিত হয়। অভিজ্ঞতাগুলি ছোট কিংবা বড় কোন বিষয় নয়, কখনও কখনও ছোট বা সাধারণ ঘটনা জীবনের পুরো অর্থকে বদলে দিতে পারে। আমাদের পরিস্থিতি গত চ্যানেলগুলির মধ্য দিয়ে যে পর্যায় গুলি আমরা অতিক্রম করছি তা আমরা কীভাবে দেখি তার উপর সব নির্ভর করে। প্রত্যেকেরই নিজস্ব সময় অঞ্চল বা এগিয়ে যাওয়ার পথ রয়েছে। তার উপলব্ধিই তার নিজস্ব মহাবিশ্ব। যা সে অন্যের সাথে ভাগ করে নেয় বা কেবল নিজের মধ্যে রাখে।

বাস্তব সময়কে এমন ভাবে উপলব্ধি করা যায় যেন কোন কিছুই স্থিতিশীল নয় বরং ক্ষণিকেই অতীত আর বর্তমানের উদ্ভাসিত হওয়াটাও অপ্রত্যাশিত। এই সত্য যে দ্রুত ধাবমান দশায় আমরা কখনই জানি না পরবর্তী মুহূর্তটা কি হবে। এগিয়ে যাওয়ার পথ হিসাবে সময়ের এই উপলব্ধি নিজেই অস্পষ্ট বলে মনে হয়। আমরা সময়কে অনুধাবন করতে শুরু করি যেন এটি কখনই শেষ হবে না বা এটিকে একটি বিধিবদ্ধ সত্য হিসাবে বিবেচনা করতে চাই যেন সময় বিরতিতে স্থির রয়েছে। আসলে যা ভ্রান্ত উপলব্ধি আর আমরা সামনের পথ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা ছাড়াই এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা সামনের রাস্তার যে মানচিত্রটি পরিকল্পনা করি তা অনেক গুলো অনুমানের (যদি এবং কিন্তু) উপর নির্ভর করে করা । আমরা যখন সাফল্য অর্জন করি তা ভাগ্যের উপর ভিত্তি করে হতে পারে আবার কখনও আমাদের কঠোর প্রচেষ্টার ফলাফল । ভাগ্য ফ্যাক্টরটি একটি এলোমেলো ভাবে অর্জিত কৃতিত্ব এবং তা প্রচেষ্টা দ্বারা সমর্থিত হলে চমৎকার ফলাফল প্রদান করে।


মানুষকে মরতে দেখে আসলে আমাদের জীবনোপলব্ধির খুব একটা পরিবর্তন হয় না যখন আমরা ভাল বোধ করি এবং ভাল স্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকি। আমরা ক্রমাগত উন্নত জীবনযাপনের জন্য আমাদের ধারণাগুলি বিকশিত করার চেষ্টা করতে থাকি। অবিচ্ছিন্ন বিকাশের এই প্রচেষ্টাটি আমাদের মৌলিক জীবনীশক্তির (ভাইটাল এনার্জি) অন্তর্নিহিত বলে মনে হয়। এইভাবে বেঁচে থাকার প্রবৃত্তি, বেঁচে থাকা এবং আরও ভাল ভাবে বেঁচে থাকার দিকে। পরিস্থিতি গত চ্যানেলের মধ্য দিয়ে পর্যায় পরিবর্তনের মাধ্যমে জীবন বোঝা যায় বলে আমার যে দাবি তা কতদূর সত্য বলে ধরা যায়? যতদূর আমি দেখেছি যে প্রতিটি কাজের ডেস্কে আমাকে কাজ করতে হয়েছে, আমি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পরেছি এবং আমি দেখেছি যে আমি কমফোর্ট জোন তৈরি করতে পারি এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারি। আমার ক্ষমতা এবং দক্ষতা আমার নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতিকে সহজ উপায়ে আকৃতি দিতে সাহায্য করেছে। প্রতিটি জায়গায় আমি যা পেয়েছি তা হল যে মৌলিক ব্যাকগ্রাউন্ড চিন্তাগুলি আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই থাকে এবং এর সমাধান জিজ্ঞাসা করে। আমি অনেক নতুন উপায়ে এর উত্তর সন্ধান করি তবে নতুন কিছু খুঁজে পাই না, এক পর্যায়ে মনে হয় সবকিছু আগের মতোই স্বাভাবিক এবং একই ছিল।

আমার লেখার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র অন্যদের সাথে আমার চিন্তাভাবনা গুলো ভাগ করে নেয়া নয় বরং সেগুলি সম্পূর্ণ সঠিকতার সাথে বলা হয়েছে কিনা তাও যাচাই করে দেখা। আমি যদি কোথাও ভুল করে থাকি এবং ভুল ব্যাখ্যা করে থাকি তাহলে সংশোধনের বিষয়ে মন্তব্য আশা করি। অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি যে পাঠকেরা মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করে বা ভয় পায়, বা তাদের মূল উদ্বেগের মধ্যে নয় এমন কিছুকে তারা উপেক্ষা করে। সভ্যতার এই যুগে যেখানে এখনও সামান্য কিছু জিনিস আবিষ্কার করা বাকি আছে, মানুষ মনে হয় তাদের নিজের মধ্যে আরও বেশি লিপ্ত হতে চায় আর সমাজের জন্য, চিন্তাভাবনা ভাগ করে নেওয়ার খুব একটা প্রয়োজন বোধ করে না তবে প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ধারণাগুলি ভাগ করে নেওয়া জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঠিক আছে, আমি এতটা আশা করি না তবে চিন্তাগুলি এখানে সংরক্ষিত আছে যদি কেউ সময়মত এটি খুঁজে পায় এবং নিশ্চিতভাবে আমার বাচ্চাদের কাছে এই বিশেষ বিষয়ে আমি যা বলেছি তা খুঁজে বের করার বিকল্প থাকতে পারে। হয়তো তাদের সময় ভিন্ন হবে এবং চ্যালেঞ্জগুলো হবে আমরা এখন যা মোকাবেলা করছি তার থেকে ভিন্ন। তারপরও যদি তারা কখনও এটি খুঁজে পায় এবং জানতে পারে যা বলা হয়েছে তা তাদের আরও অনুসন্ধানের দিকে একটি সূত্র দিতে পারে। ব্লগে এবং হাতে তৈরি পুস্তিকাগুলিতে চিন্তাভাবনাগুলি সংরক্ষণ করার জন্য এখন পর্যন্ত এটাই আমার উদ্দেশ্য। এবং এটি একমত যে সময়ের সাথে সাথে এই ধারণাগুলি আসন্ন নতুন জ্ঞানের সাথে রূপ নেবে।

বাস্তব জগতের অস্তিত্ব এবং এতে আমার অবস্থান এবং মানব, জীবন এবং মহাবিশ্বের সামগ্রিক উপলব্ধি আমাদের অভিজ্ঞতার সাথে পরিবর্তিত হতে থাকে, আমরা আমাদের প্রজ্ঞা দিয়ে এগিয়ে যাই, কিন্তু আমরা কীসের দিকে এগোচ্ছি? আমরা কোথায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে আছি? এটা কি শেষ পর্যন্ত মৃত্যু নয়? মৃত্যু কি অস্তিত্বের নতুন রূপে রূপান্তর নাকি সম্পূর্ণ বিলুপ্তি তা ভিন্ন আলোচনা, এখানে যা অবশিষ্ট থাকে তা হল আমাদের চিন্তা ও কাজ। আমার দুই সহকর্মী সম্প্রতি মারা গেছেন, তারা কিডনি রোগে ভুগছিলেন এবং হৃদরোগে ভুগছিলেন, যা তারা জানত কিন্তু তারা কি মৃত্যুকে প্রতিরোধ করতে পেরেছেন? এবং তাদের মৃত্যু কি কোন বাস্তব চলমান ঘটনা পরিবর্তন করেছে? তারপরও আমরা সামনের পরিকল্পনা করি এবং আমরা এমন ভাবি যেন কিছুই পরিবর্তিত হয়নি।

আমি আমার যৌবনে সময়ের গতি অনুভব করতে পারিনি, আমার শৈশবকে ছেড়ে দিন, এই সমগ্র মানব জাতি তার যৌবনে এমনকি শৈশবেও মহাবিশ্বের গতি উপলব্ধি করতে পারেনি। পৃথিবী নিজেই আমাদের সাথে নিয়ে যাচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে ১৮ কিমি বেগে। এই দ্রুত চলমান বাস্তবতায় আমরা কীভাবে ভাবতে পারি যে সবকিছুই স্থির এবং কিছুই পরিবর্তন হওয়ার কথা নয়। আসলে, সবকিছুই পরিবর্তিত হচ্ছে এবং আমরা পরিবর্তনের ধরণ ধরে রাখার চেষ্টা করছি। যখন আমার বাবা মা আমার সাথে জীবিত ছিলেন এবং আমি কেবল চারপাশের শান্তিপূর্ণ সুবিধার মধ্যে বাস করছিলাম, তখন আমি স্বর্গে বাস করার মতো বাস্তবতা অনুভব করেছি। সেই সময়ের মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে আমি কখনই বুঝতে পারিনি যে আমি এক অপার শান্তিতে ছিলাম। আমি যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম সে সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সন্তোষ ছিল। জীবনকে হয়তো পরিস্থিতি চ্যানেলের মাধ্যমে ফেজ ট্রানজিশন হিসাবে বিবেচনা করা যায়, এটি আমার নিজস্ব কথা কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে পরিস্থিতির কারণে বাস্তবে আমাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অনেক পরিবর্তিত হয় এবং আমরা স্থির অবস্থায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করি কিন্তু জিনিসগুলি পরিবর্তিত হতেই থাকে এবং আমরা তার মোকাবিলা করি।

একটি চিরন্তন স্থির বিশ্ব আকাঙ্ক্ষা যেখানে কিছুই পরিবর্তন হয় না তা হল মানুষের মনের মূল ইচ্ছা এবং যার জন্য সকল ধর্মীয় বিশ্বাস মানব মনের মধ্যে দৃঢ় পদ স্থাপন করতে চায়। কিভাবে আমরা স্থির বিশ্বে বিশ্বাস করি কিংবা একটি স্থির জগতের জন্য আকাঙ্ক্ষা করি যা বৃদ্ধিকে অস্বীকার করে? কারণ বৃদ্ধির পূর্বশর্ত পরিবর্তন, পরিবর্তন ছাড়া সবকিছুই পচে যায় বা যেমন আছে তেমনই রয়ে যায়। বাস্তবতা ক্ষণিকের জন্য অস্থির এবং আপনি যদি এগিয়ে না যান তবে নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হয়ে যাবেন এবং সেখানে কোনও বৃদ্ধি বা বিকাশের বিকল্প উপলব্ধ থাকবে না। অতএব, এটি প্রায় অপরিহার্য যে সিস্টেমের সাথে চলতে চলতে প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। আপনি যদি সময়ের পথে কিছু ফেলে রেখে যান, তবে প্রকৃতি এটিকে ধ্বংস করার ব্যবস্থা করবে এবং এটিকে বাস্তবে এমনভাবে দ্রবীভূত করবে যেন এটি কখনই ছিল না। এই পৃথিবীতে জীবিত উপাদানগুলি তার প্রজনন ক্ষমতা দ্বারা নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য সংগ্রাম করছে। আমরা বিশ্বকে দুটি পদ দ্বারা ব্যাখ্যা করাকে বিবেচনা করতে পারি, একটি, যা অ-জীব এবং প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে চলে এবং দ্বিতীয় যা জীবিত উপাদান যা প্রকৃতির বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার এবং প্রজননের সাথে নিজের প্রজাতি টিকিয়ে রাখার জন্য সর্বদা সংগ্রাম করছে, এই জীবন্ত উপাদানগুলির একমাত্র সমস্যা হল এটি এক সময় মরে যায়, প্রকৃতি এটিকে তার জীবনকাল অতিক্রম করতে দেয় না। তাই এটি নিজেকে এত বেশি পুনরুৎপাদন করতে থাকে যে যদি প্রকৃতির কৌশল এটিকে বিলুপ্ত করে ধ্বংস করে দেয়, তারপরও বিপুল প্রজননের জন্য উপাদানটির অবশিষ্টাংশ থাকবে এবং সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হবে না। যদিও জীবন ও প্রকৃতির এই সংঘর্ষর বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি এতটা জনপ্রিয় মতবাদ নয় তবুও তা সহজেই অনুমান করা যায়।

একবার আমি গৃহস্থালির আসবাবপত্রের ধুলো পরিষ্কার করার সময় বিরক্ত হয়েছিলাম এবং কীভাবে আমরা ধুলো প্রতিরোধ করতে পারি সে সম্পর্কে অনেক উপায় নিয়ে ভাবছিলাম, ধারণাগুলি অনেক ছিল এবং আমি সেগুলি সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি, কয়েক বছর পর আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এটি একটি স্বাভাবিক সত্য যে সময়ের সাথে ধুলো বস্তুটিকে প্রকৃতিতে দ্রবীভূত করার চেষ্টা করে। যেগুলো কোনো কাজে আসে না এবং এই প্রাকৃতিক ধুলোগুলো পরিষ্কার না করাই উত্তম। একটি জিনিসের উপর ধুলো মানে এটি ব্যবহারে নেই এবং প্রকৃতি এটিকে ধ্বংস করার জন্য বেছে নিয়েছে, এখন এটি আপনার উপর নির্ভর করে আপনি এটিকে সজীব রাখতে চান নাকি একে ক্ষয় এর মধ্যে ছেড়ে দিতে চান। এভাবেই বলা যায় প্রতিটি পরিস্থিতি সময়ের সাথে যার সম্মুখীন আমরা হই, সেই পরিস্থিতিতে হয় আমরা নিজেদের ধুয়ে মুছে নতুন করে নিতে পারি না হয় পুরাতন থেকে গিয়ে ক্ষয়ের মধ্যে নিজেদের ছেড়ে দিতে পারি।

Edit and update history> 21oct18> 15jan19> 23jan19> Translated into bangla on 02mar23> 19mar23>


 
আমার কাছে অনেকের প্রশ্ন

https://surzil.blogspot.com/2024/02/blog-post_28.html
ব্লগ লিংকঃ https://surzil.blogspot.com
ফেইসবুক প্রফাইলঃ https://www.facebook.com/mustafa.surzil.rawnak