Monday, June 16, 2025

সার্জিলে কবিতা সমগ্র


আরিফ (29নভেম্বর2025 আদমজিয়ান) “কবিতা মনসিজ। কবি অনাদিকাল ধরে মনের আনন্দে লেখেন। যার মনে যা দোলা দিয়ে যায়, যে ছন্দে, সেটা দিয়েই  তিনি কবিতা লেখেন, তাতে কেউ কেউ সুর দিয়ে গান বানান। কবিতার ভালোমন্দ বা উৎকর্ষ  বিচার শুরু হয়েছে কবিদের অর্থ/ক্ষমতা লিপ্সা থেকে। ব্যাকরন থেকে মানুষ ভাষা  শেখে, না কি কোন জনগোষ্ঠীর ভাষার চলন বুঝতে মানুষ তাদের ব্যাকরনের আশ্রয় নেয়- সেটা বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তর আছে চারণকবিদের গানে। লালন ছন্দের ক্লাস করে গান বাধেন নি, মুকন্দদাসও না। নাগরিক কবি/ রাজানুগ্রহপ্রার্থী কবিরা এইসব নিয়ে মাতামাতি করে বেশী। যা মনে আসে, তোমার জীবনবোধ থেকে, যে ছন্দে, তাই লিখে যাও সার্জিল। এতোটা ক্রিটিক না হলেও চলবে। খেয়াল করলে দেখবে কোনো ক্রিটিকেরই কালোত্তীর্ণ শিল্পকর্ম নেই। আর যারা সৃষ্টি করেন, তারা অন্যের কাজের দোষ ধরেন না, যদি না ঈর্ষা কাজ করে। 😁” ওর কথার সাথে আমি একমত। 

শুনেছি জীবনান্দ দাস কবিতা লিখে খাটের নিচে ট্রাঙ্কে রেখে দিত, লজ্জায় কাউকে দিতো না পড়তে। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা শ্যালিকা সেই ট্রাঙ্ক থেকে কবিতার খাতা বের করে প্রকাশ করেছে, হতে পারে তার কিছু অপ্রকাশিত কবিতা। তার কবিতা তো আমি ক্লাস ৮ কি ৯ এ বুঝি নাই কিন্তু যখন প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি তখন তো তার কবিতা প্রায় মুখস্ত করার দশা। --- তাই বলছিলাম কি, কবিতা সবাই বুঝবে না, সবার কবিতা সবার মনে প্রবেশ করবে না, করার দরকারও নাই। কোন কবি সবার জন্য কবিতা লেখেও না। তাই মনে যা আসে তাই ছন্দে হোক আর অছন্দে হোক লিখে ফেলাই উত্তম, লুকানর দরকার নাই কেউ দেখে ভালো বললে ভালো না বললে আরো ভালো।

 নিচে আমার বিভিন্ন সময়ে লেখা কবিতা গুলো সংকোলিত হলো

{৩৮} 

মনটা তাই হাউই-ফানুস

আমি জগত দেখেছি, মননও বুঝেছি, মানুষ দেখিনি কোন!
মন আছে বটে, অসুখে-বিসুখে বিষম অন্ত যেন।
আমার আমিতে মনটা গড়ল, ঘোমটার নিচে ঢাকা,
সকলের তরে বিলাবার মতো স্থান নাই তাতে ফাঁকা।
স্বার্থের ঘায়ে মনটা বেঁকেছে কাঁটা তারের মত,
অন্যের মন বোঝার চেষ্টা—তা কি বা, আর কত?
অর্থাভাবে মন-দৈন্যতা, পাছে লোকে কী যে বলে,
ওর আছে এত, আমারটা কত? হিসেবটা গোলমেলে।
বিলাস-ব্যসনে ওরা যে মত্ত, আমার কী আছে ভাই?
মনটা তাই হাউই-ফানুস, আকাশে উড়িয়ে যাই।

---- ৩১ ডিসেম্বর২০২৫


 


{৩৭} 


"উল্টো রথের যাত্রী"

আনন্দের কষাঘাতে দিশেহারা আমি,
হাঁটছি সঠিক পথে, উল্টো রথের টানে।
সহযাত্রীরা, তোমরাও কি আমার মতো
পিছনের সময়কে আঁকড়ে ধরে থাকো?

আমি ডুবছি, তবু হাঁটছি—
ক্লান্ত শরীরে জেগে থাকা প্রানে।
মৃত্যুর পথে হেঁটে চলা এক বিষন্ন পথিক
আমি কি একা? কেউ কি আমার মতো নও?

যদি হও, তবে বলো—
কী রেখে গেলে, কী নিলে সাথে?
সবাই থাকবে নিজ ঠিকানাতে,
শুধু আমি হারাব অনন্তের পথে।

সানন্দে সবাইকে পিছে ফেলে
চলে যাব দূরে, বহু দূরে।
আনন্দ তো পাওনা ছিল—
সেটাই কেড়ে নিলাম, সব হিসেব পণ্ড করে।

---------- ২৬ডিসেম্বর২০২৫

 


{৩৬}

সাহিত্যের মর্মবাণী
বুঝে কে বা কয় জন?
কোমল মনের অধিকারী
বুঝবে তা বিলক্ষণ।

কঠিন মনের বর্মধারী
তোরা বড়ই বিচক্ষণ।
আসছে বটে যন্ত্রদানব
কেরতে তোদের মর্দন।

মন ছাড়াই মানব হবি
এতই তা সস্তা?
যন্ত্রগুলোই মন্ত্র পড়ে
করবে তোদের বস্তা।

সময় থাকতে মানুষ হয়ে
মনটা খুলে দেখ না?
মনের মাঝে সকল প্রাণের
হাসি, আনন্দ, কান্না।

সে বলে,
-তুই করে সম্বোধন কর
সাহস তো দেখি কম না।
আমি বলি,
মনের মাঝে কঠিন কথা
খুঁজে তো আর পেলাম না।

----১৯ডিসেম্বর২০২৫


{৩৫}

যতই বুঝাই মনটারে,
ওর মনে নাই তুমি ।
তোমা মাঝে  তাই ওর চিন্তন
অযথাই অভিমানী।

হতে পারে তাও, এমন কখনো,
তোমারই প্রতিচ্ছবি,
ওর মনে প্রতিভাত হয়ে,
করিছে প্রতিধ্বনি।

সে সুর কখনো শব্দ হয়ে,
যদিবা তোমায় ডাকে।
পারবে কি তবে?
আবার জাগিয়া,
সে ডাকে স্বরব হতে?

 ---১১ডিসেম্বর২০২৫

{৩৪}

এবার অন্য কথা বলেন?
বলেছিল আমারই এক ঘনিষ্ঠ সহচরী।
বুঝেও বুঝিনি তার সে কথা
অমন তর আজব জিজ্ঞাসা।

বোকাই ছিলাম, করবো টা কি?
মনের কথা বুঝাই ভার।
বহু দিনের কথকতা
ছিল না তা মনের কথা।

মোর প্রেমে নয়, অন্য করো
প্রেমের কথায় মত্ত দু জন।
তার সে প্রেমে আমার কথন
খাটতো কেবল কৌতুকে।

কথায় কথায় কত কথা,
হাস্য রসে ভর পুর
গানে গানে নতুন কত
ভাবের সে যা হুলুস্থুল।

এমনি করে কবে যে সে,
অমিও বরং তারিই সাথে,
ফেঁসে গেছি সেই প্রেমেতে,
বুঝেই নি সে অবুঝ মন। 

---১০ডিসেম্বর২০২৫

{৩৩}

বলার কিছুই নাই কি তোমার?
বলবো কি আর আমি ছাই।
আজব জগত পৃথ্বীপরে,
কাছের মানুষ কোই যে পাই?

সহজ হতে দোষ কি তোমার?
সবাই মোরা এক কি নই?
যার যার ঘরে আপন জনে
সবাই মোরা শুখি রই।

সমাজ গঠন করলে পরে
পরিবার কি ভেস্তে যায়?
পরিবারের ইট পাথরেই
সমাজ গঠন করা হয়।

বুঝছি আমি তোমার কথা,
মনটা একদম খুল নাই।
এমন মনে ভিন্ন লোকের
কোথাও কোন ঠাই তো নাই।

মরবো তো সব একে একে,
সময় কারো হাতেই নাই।
তাই বলে কি গোমরা হয়ে
থাকতে হবে সদা ভাই?

রৌদ্র উজ্জ্বল সকাল বেলা
দুপুর বিকাল সবই ওই।
ঘুরে ফিরে আমরা সবাই
একই গাছের নিচে নই? 

---৮ডিসেম্বর২০২৫

 {৩২}

ইট পাথরের মহা সড়কে
মানুষ খুঁজে পাই যে কই
?
সবাই দেখি মানুষ বটে
মনটা ছাড়া হাঁটছে ওই।

মনের কথা বলতে গেলেই
টাকার চিন্তা বড় ভার।
ওই ভারেতেই মনটা তাদের
চেপ্টা হয়ে গেছে আবার।

কেউ বা আছে সমাজ মাঝে,
দায় বদ্ধ মত্ত তার।
পাছে লোকে বলে কি বা
?
সেই ভয়েতে মরে আবার।

ক্লান্ত মনে মুক্তার হাসি,
সবার মনের সেই প্রশান্তি,
নষ্ট করে যে শহর।
সেই শহরে কেনই বা রই
চলো তবে দেশ ছাড়ি।

১২ডিসেম্বর২০২৫--- সার্জিল

{৩১} 

না বলা কথা

বলতে চেয়েও, বললো না সে,
এমন কি সে কথা?
ভাবতে গিয়ে ভালই লাগে
ভাবছি যথা তথা।

হয়তো বা সে বলতে গিয়ে
হয়েই গেল চুপ।
তাই যদি হয়, তাতেই বা কি?
এমন তর ধূপ।

ভাবছি কেবল আকাশ পাতাল,
কিছুই না সে বলে।
না বললে বুঝবো কি আর,
এমন তর ছলে?
 

--- ৪ডিসেম্বর২০২৪

{৩০} 

বয়স বেড়েছে? ভয় কি তাতে?
আমরা তো আছি সাথে।
কিছু কাল পর আমরাও যাবো
তোমাদেরই ওই পথে।

পিতৃ স্নেহে পথ দেখিয়েছ
কাজ শিখিয়েছ মোদের
ওই পথ ধরে হেঁটে চলে যাই
বিভোর আনন্দ রথে।

পিতা মাতা হীন আমরা এতিম,
তোমরা তো ছিলে পাশে।
কিছু কাল পরে তোমরা হারালে,
আমরা পড়বো ফাঁদে।

তারপর দেখ, আমরাও যাবো,
আসবে নতুন দল।
তাদের মাঝেও তোমাদের ছায়া
থাকবে অবিকল।
 

--- ৪ডিসেম্বর২০২৪

{২৯}

 চলতে চলতে পথের শেষে,
তোমায় পেলাম খুঁজে।
বাস্তবতার যাঁতাকলে,
পিষ্ট যখন নিজে।

বাস্তুহারা মনটা আমার
মরেই যেতে চায়।
চাইলে কি আর অমন করে
নিভে যাওয়া যায়?

অন্ধকারে হাতরে মরি
জিবনের কি মানে?
তোমার কথা ভাবতে গেলে
অর্থটা তার মেলে।

হারিয়ে গেছে কত প্রদীপ
হারাবে আরো কত।
মন মানবীর মিলন হবে
অযুত প্রহর যত।
 

---৪ডিসেম্বর২০২৫

{২৮}

তুমি আমার নাই বা হলে,
হলেই না হয় পর।
তাই বলে কি ভাবতে হবে
তোমার মনেও ঝড়?

মন মাতান গন্ধ ভরা,
হাসনাহেনার নীচে।
আমার সাথে কইতে কথা
বাধা তোমার কিসে?

কথার কথা বলবো না তে,
মনের কথা কই।
তোমায় না হয় বলতে পারি
স্মৃতির কথা ওই।

শুনতে এত বাধা কোথায়?
শুনেই দেখ দেখি।
চমকে উঠে ভাবতে পার
আমার দেখা দেখি। 

৩০ নভেম্বর ২০২৫---- সার্জিল

{২৭}

তোমা হতে বীজ, তোমাতে বিলীন।
তুমি কোথা নাই, হায়!
আমি মরি মিছে, গাছটার নিচে,
জীবন অন্ত প্রায়।

গাছটাতে ফুটে, অনেক সে ফুল,
লাল, নীল, সাদা, সবই তার ভুল
আমি মরি মিছে, ফুলগুলো নিতে
বিভোর, অন্ধ প্রায়।

তুমি আছ কোথা? গাছটা যে বৃথা!
আমি তো বিলীন নই।
তুমি না নিলেও, গাছটাতো আছে,
তার ছায়াতেই রই। 

১৫ নভেম্বর২০২৫---- সার্জিল

{২৬}

প্রথম জীবনে বিজ্ঞান পড়েছি
দ্বিতীয় জীবনে কর্ম।
বাকিটা জীবন কি হেলায় হারাব
করিয়া স্বপ্ন চূর্ণ?

বিজ্ঞান আমায় দিয়েছিল জ্ঞান,
পিপাসা বেড়েছে আরো।
শিল্প দিয়েছে মনের মাঝারে
অপার আনন্দ কারো।

বিজ্ঞান দিয়েছে স্ফটিক আলো
বিস্ময় অনির্বাণ।
শিল্প দিয়েছে মুক্ত মনে
বিহঙ্গ অভিধান।

মন ও মানব দুয়ে মিলে এক
সেই তো আমার আমি
আমারে লঙ্ঘিতে পারিবে কি
ওই যন্ত্র মানব খানি? 

১৫ নভেম্বর২০২৫---- সার্জিল

{২৫}

আমি যতই হই না মাতাল,
তালে বড়ই ঠিক।
মনের গহন গভীর কোণের
আনন্দ ঝিলিক।

ধরে ফেলেছি মন তোমার ওই
মজার ছলনা,
প্রেমহীন মনে ভাব উৎপাদন
তোমার বাসনা।

চাই না যে সে বাসুক আমায়
নতুন করে ভালো।
চাই যে কেবল বুঝিয়ে দিতে
কষ্ট কেমন বাসলে ভালো। 

১৫নভেম্বর২০২৫---- সর্জিল

{২৪}

হেঁটেছি তিন বার

উদভ্রান্তের হাটা হেঁটেছ কখনো?
দকবিদিক জ্ঞান শুন্য?
আমি হেঁটেছি তিন বার!

প্রথম বার বায়োলজি পরীক্ষার
খাতা কেড়ে নিল স্যার,
দোষ নয় আমার,
বন্ধুকে আলগোছে দেখাতে গিয়ে
পরেছিলাম ধরা।

দ্বিতীয়বার হেঁটেছি অংক পরীক্ষায়
অর্ধেক উত্তর দিয়ে,
হাঁটতে হাঁটতে চলে গেছি
শ্যামলি।

তৃতীয়বার হোঁচট খেয়ে
হেঁটেছি আরেক বার।
এ হাঁটা 
পরীক্ষার নয়
আনকোড়া বাস্তবতার।

কোন হাঁটাই ব্যর্থ হয়নি,
পাশ করে গেছি সব গুলোতে
কেবল শেষেরটা বাদে।

ওই হাঁটা মনে হয়,
এখনও অনেক বাকি আছে। 

১৫ নভেম্বর ২০২৫--- সার্জিল

{23}

সোনিয়া, সেনিয়া
আজব দুনিয়া,
দেখেছ কতটা  তার?
আমি দেখিয়াছি
তার কতকটা,
নির্মম কদাকার।

কার আছে মন,
কার বা পাথর,
তোমার টা ছল ছল।
নিশ্চুপ হয়ে
থাকলে পরে
অন্ধ গহ্বর।

তোমাতে আমাতে
নাই কোন সুর
তাতে কি বা
যায় আসে?

ঝঙ্কার তুলে
মাতাও তোমার
নির্মল সব প্রাণে।
---- ১১নভেম্বর২০২৫

{২২}

এ তো কেবল আমার গল্প
তোমারটা তবে কি?
তপ্ত মনের উথাল পাথাল
আজও দেখি থামে নি।

মনটা আমার বেজায় পঁচা।
তোমারটা তবে কি?
আবোল, তাবোল বকেই চলেছি,
থামাতে পারি নি।

মনের কথা বলতে পারি নি,
আজো ভয় হয় মনে।
আগে ভয় ছিল বিফল হবার,
এবার অন্য খানে।

দীর্ঘ সময় কেটেছে কেবল
চূড়ান্ত অপেক্ষাতে।
বলবো না কিছু,
বলার কি আর
সময়ই বা কতটুকু?

----   ৯-১১-২০২৫

{২১}

একটাই ফোন কল

কলটা করেছিলাম ৩৬ বছর আগে,
উত্তর তার পেলাম মাত্র,
অনন্ত কলরবে।

বিহ্বলতা এমন চেপেছে,
অস্তিত্ব শঙ্কায়।
শান্ত মনে বিশৃঙ্খলা,
আমাতে কি শোভা পায়?

গভীর মনের অনেক নীচে,
প্রেমের অনুভূতি।
উথলে উঠে ভাসিয়ে দিল,
জীবন্ত যত স্মৃতি।

গল্প এখনও হয় নি তো শেষ,
হয়েছে জটিল আরো।
বুঝবে কি সে আমার কথা?
বলতে যদি পার। 

----   ৯-১১-২০২৫

{২০} 


কিছু লোকের ব্যস্ত মুখে
বাস্তবতার ছাই।
অন্যের মন দুমড়ে দিয়ে
বলে, এবার যাই?

চমকে দিয়ে বেজায় খুশি
হাসিতে টল মল।
অন্যের মন পুড়ছে বুঝেও
ছাড়ছে না তার ছল।

দোষ নেই তার আমার কাছে
বাস্তবতার ফল।
দোষটা কেবল আমার বটে
ভাংছে মনোবল।

তোমায় আমি দেখে নেব
বাস্তবতার কল।
ভড়কে দিয়ে ভাবছো তো বেশ
এ তো কর্মফল।

৫৩ বছর দেখছি তোমায়
ভেঙ্গে চুড়ে একাকার
তোমায় আমি দেখে নেবই
আরো দু এক বার। 

----   ৮-১১-২০২৫

{১৯} 

ভুলটা কেবল আমারই ছিল,
বলেই দিলাম সেই সে কবে।
আবার কেন আসলে তবে
অমন করে চমকে দিতে?

মনটা না হয় নাই বা তোমার
আমারটাতেই ঝড়
ঝড়ের শেষে বৃষ্টি হলে
পড়বে তাতে চর।

চরের পড়ে পুষ্প বনে
নানান রং এর ফুল
ফুল কাননে হারিয়ে গেলেও
ধরবে আমার ভুল?

ছল চাতুরীর গোলাক ধাঁধাঁয়
চলছি যে পথ ধরে,
তোমার তাতে কি আসে যায়
আমার করা ভুলে? 

-------------------- সার্জিল ৯-১১-২০২৫

{১৮} 


বৃষ্টি ভেজা বুদবুদে হায়,
জীবন নিপাত যায় যখন।
এমন কি আর হয় বলো?
সবই চলে ব্যস্ত প্রায়।

আমায় যদি ভুলেই যাও,
কার তাতে আর কি বা হয়?
নিকট জনের আহাজারি,
কদিন বাদেই স্তব্ধ হয়।

চলছি যখন চলতে থাকি,
দেখি কোথায় কি বা হয়।
হবেই বা কি নতুন করে?
সবই পুরাতন ফুলঝুরি।

জন্ম থেকে দেখছি যা সব,
ভুলেই গেছি কতক তার।
সামনে যাই বা আসবে আবার,
ভুলে যেতে পারলে হয়।
------------- ২৬অক্টোবর২০২৫ 

 

{১৭}  

উড়ো কাগজে পাঠিয়ে দিলাম
মনের যত কথা,
তোমার কাছে না পৌঁছালেও
ভাসবে যথা তথা।

কখন যে তা কাহার মনে
তুলবে তুমুল ঝড়?
আছড়ে পড়ে ভাঙবে তাহার
শুভ্র কোমল ধর।

বুঝবে তখন অবহেলার
মূল্য কত ভারি
চলতি পথে হারালে সব
এতই তাড়াতাড়ি।

সব হারালেও থাকবে কিছু
কথার ফুল ঝুড়ি,
কাহার তরে পাঠিয়ে দিলাম,
নিজেও তা না জানি।

------২১-অক্টোবর-২০২৫

{১৬}

 অস্তাচলের সন্ধি ক্ষণে
দেখা হলো তোমার সনে
কইবো কথা মনটা খুলে,
সময় যদি পাই।

কথায় কথায় জীবন গেল
আর কি কথা বলার বাকি?
শুনবে যখন, শুন তবে
জীবন কথা অল্প বাকি।

এই জীবনের ভয় ভীতি সব
এমনি নাচায় মানব সকল।
ভয় পেলে কি আদম-হওয়া
অমনি খেত গন্ধম ফল?

পাপ পুণ্যের জঞ্জালে ভরা
এমন তর পৃথ্বী পড়ে
আলোর ছটা বৃথাই মরে।
অন্ধকারে প্রদীপ জ্বেলে
আশার আলোয় সামনে চলো।

------২১-অক্টোবর-২০২৫

{১৫}

এত্তগুলো কথোপকথন চলার পরে হায়,
হঠাত করে নাই হলে কি স্বস্তি পাওয়া যায়?
শূন্য ঘরে একাকী তাই গান শুনতে হয়
মনে মনে ভাবি এ গান কাহার তরে ধায়।
গানের কথার মর্ম ভাবে অনেক অনুভূতি
একা একাই হজম করি মনকে দিয়ে ফাঁকি।

------- - ১৪ অক্টোবর ২০২৫

{১৪}


 যুক্ত করে মুক্ত কর,
তোমার কাছে অর্পিতা।
বন্ধ মনে মুক্তার আলো
ফুটাও তাতে মল্লিকা।

মনের মাঝে তীব্র দহন,
দেহতে উত্তাপ
তোমার কাছে সমর্পণে
হইবে তা সন্তাপ।

রিক্ত আমায় পূর্ণ করো
সাজিয়ে পুষ্প ধাম।
শত দ্বিধার দেয়াল ভেঙ্গে
কর মোরে নির্বাণ।

নারী পুরুষ সম্মিলনে 
এমনি করেই সৃষ্টতা।
চক্রাকারে চলছে এ যে,
সৃষ্টি কলার চক্রতা।

-14------১২-অক্টোবর ২০২৫ 

 


সেই যে গ্রামে,  অনেক আগে,
পৌষ ভোরের কালে।
অদ্ভুত এক আলোর মাঝে,
জাগতো যখন সবে।
নগ্ন পদে মাড়িয়ে শিশির
ছুটে চলতাম ঘাসে.
ধীর এক লয়ে, মনের মাঝে
তন্ময়তা জাগে।

সেই সে ভোর আর আসে না কো,
মনটা আমার কাঁদে;
কোথায় গেল ভোরের শিশির,
কোথায় যে সে আলো?
শহর ছেড়ে পালাবো তাই,
ভাবছি সেটাই ভালো।

----- {১৩} ----০৯-১০-২০২৫

 ------

ক্যামেরার ক্লিকে, সাটার স্পিডে,

সময়ের স্রোতে থমকান পলকে;

ধরিয়া রাখিছ যে আলোকচিত্র;

ঝলকে ঝলকে অপার বিস্ময়ে !

তাকিয়ে থাকি নির্বাক হয়ে,

ধন্য হে তুমি আলোকচিত্রী।

ধারণ করিছ বিপুল বিশ্ব
বিমুগ্ধ নয়নে ।

-----{১২} --- ০৩-১০-২০২৫ লাল মামর ফটোগ্রাফির বই এর জন্য লেখা ।

 

তোমারে হেরিয়া প্রকৃতি সেজেছে,
না কি তুমি জাগিয়েছ তাকে?
তোমাকে ধারণ করিবার মত
সাধ্য কি তাহার আছে?

তুমি প্রকৃতিতে, প্রকৃতি তোমাতে
বিলীন হইলে পরে,
মর্তে মানবের নিমগ্ন থাকার
আদৌ কি প্রয়োজন আছে?

--- {১১} -- ০২-১০-২০২৫ --

আশা করাটা ভুল ছিল

আশা করাটা ভুল ছিল?
ঠিক বলেছ, ঠিক বলেছ
আশা করাটাই ভুল ছিল।

তোমার পানে অমন করে
চেয়ে থাকাটাও ভুল ছিল।
তন্ময়তার ভাবের দেশে
ভুলের মাঝেও ভুল ছিল?

ভুলের নায়ের মনের মাঝির
সেই কথাটা খেয়াল ছিল।
তাই বলে কি বলতে হবে
তোমার তাতে ভুল ছিল?

কম কথা কই, তাতেও দেখি
ভুলের বোঝা বেজায় ভারি
এত ভুলের মধ্য দিয়ে
সেই মনটা কোথায় খুঁজি?

ভুলেও যদি কড়া নাড়ি
তাতে কি আর ভুল হবে?
ভুলের মাঝেই বেচে আছি
মরলে কি আর ভুল হবে?

=={১০}== ১৫-০৯-২০২৫ -

 -------


গাজী বক, কাজি বক,
করে শুধু বক বক।
রিমি, রুনু, রওনক
ওরাও তো তিন বক।

হিল্লোলে, কল্লোলে
করে কত কোলাহল।
নিশ্চুপ, নির্বাক
আর যত আছে বক

---(৯)-----৩১-আগস্ট-২০২৫

 -----

সোনিয়া, তুমি
কেমন করিয়া
রাখিছ ধরিয়া গ্রুপটা?

তোমার কারণে
ঝিমিয়ে গেলেও
গ্রুপটা থাকে চাঙ্গা!

তোমার কথনে
গভীর মননে
আমরা সবাই বান্ধা।

হাসিও না, যেন, তোমায়
আমরা রাখিব স্মরণে
সর্বদা।

তুমি, ঝগড়াটে বড় !
তীব্র তর,
তবুও তুমি,
সবার প্রিয়।

মনটা সরল,
তাই তুমি বিরল।
প্রবাসে থাকিয়াও
বকিতেছ অনর্গল।
----(৮) সার্জিল ২৯-আগস্ট-২০২৫

(৭) - ০৮-জুলাই-২০২৫

চারদিকে দেখি শুধু
সুখী মানুষের ভিড়,
কলরব রত, হন্তদন্ত অস্থির !!
জানে না সে সুখী, মুখ ভার - আন্ধার,
অতি উচ্চাশায় উদভ্রান্ত;
তাই ক্লান্ত অবসরে,
সুখের পায়রা খুঁজে ফিরে।

 

(৬) রিভার্স প্লে  (07-07-2025)

যখন তোমার মাথাটা গরম

প্রচন্ড বিচলিত।

অন্যের কু-আচরণে

তুমি ক্ষুব্ধ, বিভ্রান্ত।

 

-- রিভার্স প্লে কর রে ভাই,

রিভার্স প্লে কর ---

 

ঠান্ডা মাথায় সামলে নিজেকে

অন্যকে দাও যা খুশি বলতে

নিজেকে করে সংযত।

 

 (৫) - ০৪-জুলাই-২০২৫

যতই আগায়ে যাই ততই পথটা সামনে খুলতে থাকে ।

কতটা পথ হাঁটলে পড়ে জীবনটা পূর্ণ হয়?

কতটা কার্য সম্পাদনে মন প্রশান্ত হয়?

চরম প্রশান্তিতে জীবন সমাপ্ত হলে পরে,

আরও কি কিছু চাওযার কারো থাকতে পারে?

তাদেরই কেবল যারা জীবনের অনন্ত কল্পনাতে বিভোর হয়ে আছে।

 

(৪) -১৮-০৬-২০২৫


চপল চঞ্চল ছন্দে মনোহর,

হাঁটিছে অবহেলে অনিন্দ্য সুন্দর,

পুরুষের চোখে সে সদা ঊর্বশী,

আদতে সে নারী, সর্বগ্রাসী সুন্দরী।



সূর্য হামলে পড়ে তাহারে চায়,

সেও রোদ্দূর মারিয়ে যায়,

আলো যা সব সে নিলো শুষিয়া,

আকাশের চাঁদ পড়িল মাটিতে খসিয়া।

 

 (3) -১৬-০৬-২০২৫

ছাড়িয়া মহাকাব্য

লিখিতেছ অনুকাব্য !

সাহস তো কম না,

খিচুড়ি সব ভাবনা !

 


(2)

মুক্ত আমি,

মুক্ত মনে

অনাবিল এক শান্তি।

মনের সাথে প্রকৃতি মিশায়ে,

বিদায় দিয়েছি ক্লান্তি।



 
 
 

  (1) -1988 (কৈশরকালীন অনুধাবন)

স্রষ্টা আমায় দেয়নি কোন
স্ফীত অংশে নিবাস,
দিয়েছে কেবল
সময়ের সংকীর্ণ পথে
বসবার অবকাশ।

 

No comments:

Post a Comment