Friday, July 17, 2026

এবারকার বাজেটের (2026-27 FY) ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক গুলো

 

বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার একটি বিশাল বাজেট। এটি রেকর্ড সৃষ্টিকারী বাজেট বলা যায়, যা দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা সামাজিক সমতা বজায় রাখা এবং সংস্কারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক উপস্থাপিত এই বাজেটের মূল স্লোগান ছিল “একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির দিকে যাত্রা”যা বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরী ও সময়োপযোগী একটি অন্তত বলা যায়। নিচে এই বাজেটের ভালো দিক, খারাপ দিক এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক আলোচনার একটি চেষ্টা করে দেখা যাক।

 বাজেটের ভালো ও ইতিবাচক দিকসমূহঃ-

- সামাজিক খাতের অগ্রাধিকারঃ শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে (Social Safety Nets) বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে উন্নয়নশীল দেশে মানুষের মৌলিক চাহিদা সম্পৃক্ত সেবা সমূহ ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিচারে দেখা যায় যে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ যেমন বেসরকারি ভাবে অগ্রাধিকার পেয়েছে তেমনি সরকারও এ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, কিন্তু ব্রেইন যেমন ড্রেইন হয়ে যায় তেমনি এ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করলেই কি সমাধান হবে, যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত না করা গেলে এর অপব্যবহারে দেশের সম্পদ বরং নষ্ট হবে। অতি সম্প্রতি দেশের একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে শিশু বিভাগে ৬টি শিশুর আকস্মিক মৃত্যু একটা কথা বলে, তা হলো দেশের জনগণের মধ্যে যত্ন নিয়ে কাজ কারার মানসিকতার অভাব আছে। আদর্শিক ভিন্নতা আর দার্শনিক খিচুরির কারণে দেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে শুদ্ধাচারের প্রতি আস্তা নাই যার ফলশ্রুতি হলো অপেশাদারি আচরণ বা মনোভাব। প্রফেশনালিজম বা পেশাদারিত্ব কি তা মনে হয় না স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান হয়, যার ফলে এই অতি আবেগী অর্ধ শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে যতই টাকা দেন না কেন তার এক বিশাল অংশর অপব্যবহার করবেই। জনগোষ্ঠীকে শুদ্ধাচারে ও পেশাদারিত্বে অনুপ্রাণিত করার জন্য যে দার্শনিক কিংবা আদর্শিক শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন আর তার জন্য বাজেটে কিছু বরাদ্দ রাখা উচিত ছিল তা মনে হয় বলাটা অপ্রাসঙ্গিক হবে না।

- পুঁজিবাজার সংস্কারঃ ব্যাংক-কেন্দ্রিক অর্থায়নের ওপর চাপ কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের জন্য ইক্যুইটি, সুকুক (Sukuk), কর্পোরেট বন্ড এবং গ্রিন বন্ডকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যা অত্যন্ত আশাউদ্দিপক কিন্তু দেশ থেকে যে বিশাল অর্থ পাচার হয়ে গেল, ইসলামী ব্যাংক গুলো যে খোকলা করে দেয়া হলো, আর এর পিছনের কারনগুলো, মানুষগুলোকে ধরে এনে জনসমক্ষে দৃষ্টান্ত মূলক সাজা দেওয়ার জন্যও কিছু অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা বাজেটে উল্লেখ থাকতে পারতো।

-ডিজিটালাইজেশন এবং স্বচ্ছতাঃ আইপিও (IPO) প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসার দাবি রাখে। সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কিংবা অনলাইন পোর্টাল যাই বলেন না কেন, বর্তমান থেকে ভবিষ্যতে যে কোন ট্রেজেক্টরিতে আপনি যা পাবেন তা হলো আর্থ সামাজিক সকল যোগাযোগ ও লেনদেনই অদূর ভবিষ্যতে সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল হয়ে যাবে আর তাতে স্বচ্ছতাও বাড়বে প্রায় শতভাগ। প্রায় বললাম কারণ এটা মনুষ্য জগত আর মানুষ মানেই তার মধ্যে কম বেশি সিস্টেম কে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতাও আছে, তাই মনুষ্য জনশক্তি দিয়ে যদি ডিজিটালাইজেশন করেন তবে তাতে ফাঁক সে রাখবেই। ভবিষ্যতে মনে হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মনুষ্য সম্পৃক্ততা দুর করা হবে।

- ব্যাংক ঋণের চাপ হ্রাসঃ সরকারের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কিছুটা কমিয়ে ১.১২ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বেসরকারি খাতের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে। বেসরকারি খাতকে উজ্জীবিত করা সরকারের একটি দায়িত্ব আর সে লক্ষে এরকম সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই।
 
- বিনিয়োগ বান্ধব সংস্কারঃ ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করতে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বেশ কিছু কাঠামোগত সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ বান্ধব কথাটা পুরাতন ও এখন প্রায় বস্তাপচা হয়ে গেছে। এটা এমন একটা বহুল ব্যবহৃত শব্দ যা তার সঠিক অর্থটা হারায়ে বসেছে। যে দলই ক্ষমতায় আসুক বলে তারা বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ এর জন্য কাজ করছে। এই দ্বিঅর্থবোধক শব্দটি আসলে যা বলে, তা হলো যারা ক্ষমতাসিন দলের পক্ষের লোক এবং যারা বিগত সরকারের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য বিনিয়োগ সুবিধার সুবন্দোবস্ত করা হয়েছে।

বাজেটের উদ্বেগজনক দিকসমূহঃ-

-অবাস্তব সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রাঃ দেশের চলমান অর্থনৈতিক মন্দার মাঝে ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রাকে অর্থনীতিবিদরা অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী এবং অবাস্তব বলে মনে করছেন। মূল্যস্ফীতি’র মানে কি ও কি কাজে আসে তা বুঝে কয় জন? প্রায়শই ব্যাংকের গ্রাহকদের জিজ্ঞাস করতে শোনা যায় আপনারা কত শতাংশ মুনাফা দিচ্ছেন? তার চাইতেও বেশি শোনা যায়, তারা জানতে চান ফিক্সড ডিপোজিট করলে লাখে কত টাকা পাবেন। সাধারণত যারা বেশি মুনাফা দিবে তাদের কাছেই টাকা রাখা হয়। সাধারণ জনগণ কিংবা সাধারণ গ্রাহকগন যা জানে বা বুঝে না তা হলো প্রতি লাখে  7.5% মুনাফায় তারা 7500 টাকা পাবেন বছরান্তে। তারা যেটা বুঝেন না তা হলো প্রতি 100 টাকায় বছরে কমে যাচ্ছে 7 টাকা 50 পয়সা যা লাখে হিসাব করলে দাড়ায় ওই 7500 টাকা। তার মানে হলো পুর এক বছর তারা টাকাটা ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিটে বিনিয়োগ করে কিছুই পেলেন না। ব্যাংক মুনাফা দিলো 7500  টাকা আর ওদিকে টাকা মূল্য হারাল 7500 টাকা। যাকে বলে লাভের গুড় পিপড়ায় খেয়ে ফেলেছে। - রাজস্ব আদায়ের বিশাল চাপঃ বাজেটে ৭ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দা পরিস্থিতিতে অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। উইন্ডো ড্রেসিং মানে ”যা হয় তা নয়” এরকম একটা প্রবণতা তো এদেশের সব প্রতিষ্ঠানে কম বেশি আছে, এটুকু শুধু ভরসা রাখা যায় যে, দেশের বাজেট প্রণয়নে যেন উইন্ডো ড্রেসিং এর কোন সুযোগ না থাকে। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে একটা ভারসাম্য যেন থাকে।

- ঋণের ওপর অতি-নির্ভরশীলতাঃ বিশাল বাজেট ঘাটতি (২.৪ লাখ কোটি টাকা) মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা ও বৈদেশিক ঋণের ওপর তীব্র নির্ভরতা তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামষ্টিক অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ঋণের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতার প্রবণতা সব ক্ষেত্রেই খারাপ। বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণ নিতে হবে তা স্বাভাবিক কিন্তু তা যেন ঘি খেতে ঋণ করার মত হয়ে না যায়। সামষ্টিক অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়ছে তা যাতে আরো বেড়ে না যায় সেদিকে নজর রাখা উচিত।

-মূল্যস্ফীতির চাপঃ চলমান ৯ শতাংশের বেশি উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে এই ঘাটতি বাজেট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় যে পর্যায়ে আছে তা যদি আরো বেড়ে যায় তবে নির্ঘাত সমাজের সব থেকে নিচের স্ট্যট্রাম যাকে গ্রাউন্ড জিরো লেভেলও বলতে পারেন, সেই স্তরের লোকদের না খেয়ে মড়তে হবে। মূল্যস্ফীতি হ্রাস করতে না পারলে পুর অর্থনীতির ভিতটা নড়ে যাবে।

-সুশাসন ও নীতিমালার অভাবঃ বিভিন্ন বিরোধী দল ও বিশ্লেষকদের মতে, বাজেটে দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সম্পদ সমবণ্টনের জন্য সুনির্দিষ্ট শক্তিশালী কোনো কর্মপরিকল্পনা বা দিকনির্দেশনা রাখা হয়নি। তার কারণ মনে হয় এই টার্মগুলোর চেয়ে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে যাতে গতানুগতিক ধারাটা বজায় রেখে তার আওতায় কি ভাবে উন্নয়ন করা যায় তা নিশ্চিত করতে। গতানুগতিক ধারাটার একটা দারুণ সুবিধা হলো তাতে ধনীরা বিশাল সুবিধা ও স্বাধীনতা ভোগ করে, তাদের খুশি করতে গিয়েই মনে হয় ওই বিষয়গুলিকে কম গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।

সামগ্রিক অর্থনৈতিক আলোচনা ও পর্যালোচনাঃ-
অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা [সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD)](https://cpd.org.bd/) এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং দুর্বল সুশাসনের প্রেক্ষাপটে এই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ হলো এর বাস্তবায়ন যোগ্যতা। কাগজে কলমে সংস্কারের ভালো উদ্যোগ থাকলেও রাজস্ব আদায় না হওয়া এবং বিশাল ঋণের বোঝা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহকে সংকুচিত (Crowding-out) করতে পারে। বাজেটটি যেমন একদিকে মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখায়, অন্যদিকে দুর্বল বাস্তবায়ন দক্ষতার কারণে এটি এক ধরনের নির্ভরযোগ্যতার ঝুঁকিতেও রয়েছে। বাজেট কতটা বাস্তব সম্মত হয়েছে তা সময়ই বলে দিবে। আমরা কেবল ক্রমাগত উন্নত হওয়ার প্রত্যাশাই করতে পারি।

বাজেট নিয়ে যদি হায়ারগ্লিফিক্স লিখি তবে প্রাচীন ইজিপশিয়ানরা মনে হয় বুঝবে আর ম্যানিক মানডে ব্যান্ডের “ওয়াক লাইক এ্যন ইজিপশিয়ান” গানটার মত করে ড্যান্স করবে। গুরুগম্ভির ইনফোগ্রাফিক সমৃদ্ধ বাজেট আলোচনায় যাই নাই। গণিতের পেছনে যেমন দর্শন আছে তেমনি বাজেটের পিছনেও একটা প্রেক্ষাপট আছে, আমি ওই প্রেক্ষাপটটি বিচার করে মন্তব্য করেছি। পট ও চিত্র’র ধাঁধাঁটা কয়জন জানেন? চিত্রটিকে যদি পট ধরা হয় তবে পুর ছবিটির অর্থ বদলে যায়, এরকম বেশ কয়েকটা পট-চিত্র ধাঁধাঁ’র ছবি ভাইরাল হয়েছে অনেকবার কিন্তু তাতে করেও মানুষজন মানব মনের পেছনকার পটভূমিটা ঠিকমত ধরতে পেরেছেন বলে আমার মনে হয় না। বাজেট শুধু বিজ্ঞ ও পন্ডিত জনেরাই বুঝবেন আর দেশের আম জনতা খালি হয় হয় করবে তা কেমন করে হয়? যে বাজেটের সাথে দেশের গ্রাউন্ড জিরো লেভেল যাদের নুন আন্তে পান্তা ফুরায় তাদের ভাগ্যও জড়িত, তাদের জানার বুঝার কি কোন অধিকার নাই? বুঝলাম ওরা বামন কিংবা বনসাই, তার পরও তো ওরা আমাদের দেশেরই জনগোষ্ঠী । জনমত যাচাইয়ের ভোট তো ওদের কাছ থেকেও নেয়া হয়।

বগুড়ার, দেউলী, গাংনগর, প্রদ্ধান পাড়া গ্রামে দু রাত থাকার অভিজ্ঞতা আছে আমার, ওখান এক মাঝবয়সী লোককে বলেছিলম, পুর জাতির কোন আদর্শিক নেতা নাই, রাজনৈতিক নেতৃত্ব আর আদর্শিক নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। দেশের দলবাজি করা জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ মানুষের মনোভাব হলো, ওরা দেখ কি সব করেছে আর আমারা দেখ কত কি না করছি। এবার তবে বুইঝে লও ! আমারা কত্ত ভালা মানুষ। এই রকম মনোভাবকে তো স্বাভাবিক বলা যায় না। ওরা মানে কর দেশটারে বেইচা ফালাইছিল আর শুধু নিজেদের আখের গুছাইছে। বস্তা বস্তা টাকা পাচার করেছে কিন্তু আমরা দেখ ওগুলোও করবার পারি কিন্তু করি না আর ওগ রাইখা যাওয়া ছিবড়া দিয়া দেখ কত কি না করতাছি। আমাদের ধন্য ধন্য কর আর নিজের মনকে বুঝা ‘হালার ঘরের হালারা’, কারা দেশের জন্য ভালা আর কারা চোর? উপরোক্ত বক্তব্যটি একটি দর্শনকে নির্দেশ করে আর এই দর্শনকে পাটাতন হিসেবে নিয়ে যা কিছু করা হোক না কেন তা আদর্শিক হবে না, হবে স্বার্থ কেন্দ্রিক বা আত্ম কেন্দ্রিক। যন্ত্র আর মানব এই দ্বন্দটা খুব নিকট ভবিষ্যতে প্রকট একটা আন্তরদ্বন্দ তৈরি করতে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঊর্ধ্বগতির কারণে। যাতে মানব মনের মিশ্রণ নাই তাই হয়ে যাবে যান্ত্রিক। এখনও মানুষজন বাজেট তৈরি করছে, নিকট ভবিষ্যতে তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ১৫ মিনিটে করে দিবে এমনকি ভবিষ্যতের বাজেট কি হতে পারে তাও বলে দিবে। তখন মনব সকল বিপুল বিশ্বয়ে যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তার পারদর্শিতায় বিমুগ্ধ হয়ে যাবে । প্রশ্ন থেকেই যায়, দলাদলিটা কেন? মতাদর্শিক পার্থক্য না কি স্বার্থপর মনভঙ্গির বহি প্রকাশ? বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিতে তা শতকরা শত ভাগ স্বার্থর দ্বন্দ্ব। শৈশবে শোনা বিবিসিতে প্রচারিত সেই গানটা মনে পড়ে যায় “হোয়েন উইল উই এভার লার্ন?”।

No comments:

Post a Comment