Tuesday, July 25, 2023

মনের স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশকে যা বন্ধ করে দেয় তাই অনিষ্টকর

মানুষের মন মানেই সেই মানুষটা, মন বাদ দিলে সে শুধু রক্ত মাংসের দেহ বিশিষ্ট এক প্রকার উন্নত প্রাণী মাত্র। আমি যখন অনেক ছোট ছিলাম তখন আমার ঘুম ভাংতো বাংলাদেশ বেতারের প্রভাতি অনুষ্ঠানের গান শুনে। আমার বাবা প্রচুর গান শুনতেন। সেই গানের সুর এখনও যখন শুনতে পাই তখন মনটা নেচে উঠে। মানুষের মন বলতে তো আসলে ছোটবেলা থেকে গড়ে উঠা কতগুলো ধারণার সমষ্টিকে বুঝায় আর আমাদের ইন্দ্রিয় গুলোর ভাল মন্দ বুঝার একটা স্বাভাবিক ক্ষমতা রয়েছে। যে জিনিস গুলো জিহ্বায় বিস্বাদ লাগে তা যেমন আমরা অনিষ্টকর বুঝতে পারি তেমনি মনে যা আনন্দ দেয় না তা অনিষ্টকর হওয়াটাই স্বাভাবিক। যখন আপনি মনের এই স্বাভাবিক বিচারকে বুদ্ধি দিয়ে নাকচ করে তার উপর কার বলা কথা চাপিয়ে দেন তখন তা হয়ে যায় অস্বাভাবিক ও অনিষ্টকর। যখন কেউ আমার মনের কথা কাইরা নিতে চায় কিংবা কথায় কথায় শিকল পড়ায় তাদের আমি মনের অনেক গভীর থেকে ঘৃণা করি। আমি কৈশোরে যখন খুব মন খারাপ করে থাকতাম তখন আমার এক বন্ধু রিপন বলতো, মনটা তো আমার এটাকে আমি ভাল রাখব কি রাখব না সেটা আমার উপরই নির্ভর করে। ওর কথা তখন বুঝতাম না কিন্তু এখন বুঝি। ওকে আজীবনই আমার কাছে চটপটে ও বুদ্ধিমান মনে হয়েছে আর ও ঠিক তাই। এখনও যখন বহুকাল পরে দেখা হয় তখন ওর চঞ্চলতা আর বুদ্ধির ছটা আমার চোখে ধরা পরে। খালেক ভাই নামে আরেকজন জুনিয়র ফ্রেন্ডকে কাছে টেনে নিয়েছি কারণ তার মধ্যে ঘটমান বাস্তবতা নিয়ে যে প্রাণচঞ্চল মন্তব্য গুলো শুনি তখন মনে হয় পৃথিবী আনন্দময়। পৃথিবীটা তখনই আনন্দময় হয় যখন আমরা মনকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বিকশিত হতে দেই। মনের এই বিকাশকে বন্ধ করে দেয় যারা তারা মানবতার শত্রু বলে আমি মনে করি। বিধি নিষেধ আরোপ করা উচিত এক্সট্রিম পয়েন্টে, তার আগে নয়। কিছু কিছু বাবা মা তাদের ছোট সন্তানদের ডিভাইস ধরতে দেয় না, মানে মোবাইল কিংবা ট্যাব ধরতে দেয় না কিংবা ইন্টারনেটে যাতে বিপথগামী হতে না পারে তাতে পেরেন্টাল গাইডেন্স আরোপ করে। আমার সন্তানদের আমি তা করি নাই আর যে জিনিসটি আমি দেখেছি যে, বয়সের সাথে সাথে তাদের আগ্রহের দিকগুলোও ধরা যায়। তারা সেই সব জিনিসের প্রতিই আকৃষ্ট হয় যা তাদের শিশু মন আকর্ষণ বোধ করে। আমার বয়স্ক মন যাতে আনন্দ পায় তাদের মন তাতে আনন্দ পাবে না এটাই স্বাভাবিক তাই তাদের স্বাধীন ভাবে ডিভাইস ও ইন্টারনেট ব্যবহারের পক্ষপাতী আমি। আমার তিন সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৯৯৯ থেকে ২০০৬ মানে ৭ বছর আর পরের জনের মধ্যে ব্যবধান ২০০৬ থেকে ২০১৪ মানে ৮ বছর। ওদের তিন জনকে নিয়ে একটা মুভি দেখা সম্ভব ছিল কিছু কাল আগেও, তাতে তিন জনই মজা পেত। বয়স বাড়ার সাথে সাথে যা দেখলাম তিন জনের রুচি ও আনন্দ পাওয়ার প্রবণতা বদলে গেছে, এখন আর তিনজনকে নিয়ে এক মুভি দেখার উপায় নাই। আমি পিতা মাতার এক মাত্র সন্তান হওয়ায় আমি শৈশব থেকে কৈশোর ও যৌবনে পদার্পনে নানা ঘাত প্রতিঘাত অতিক্রম করেছি তাই আমার সন্তানদের বড় হওয়ার প্রতিটি ধাপ আমি বুঝতে পারি। ওদের মা কে ওরা ভয় পায়, সে তাদের উপর বিধি নিষেধ আরোপ করে কিন্তু আমি ওদের ফ্রিডম দেই, ওদের স্বাভাবিক মন বিকাশের দিকে নজর রাখি ও স্পেস দেই। এই স্পেসে তারা ডাল পালা মেলে চমৎকার বড় হচ্ছে দেখে আমার মনে আন্ত তৃপ্তি আসে। ওদের মা এর শাসন আর আমার প্রতি শাসন দুটো মিলে যেন একটা ফুল প্রুফ প্লেন যার মধ্যে দিয়ে ওরা বড় হচ্ছে। যে সব বাবা মা তাদের সন্তানদের কেবল বিধি নিষেধের বেড়া জালে চালিত করে ভাবছেন ভাল কাজ করছেন তাদের প্রতি আমার অনুরোধ আপনার শিশুর স্বাভাবিক মন বিকাশকে রুদ্ধ করবেন না। শাসন করুন তবে যতটুকু দরকার তার বেশি নয় আর তাদের মন বিকাশের একটি স্পেস দিন এরং তা যেন পর্যাপ্ত হয় সে দিকে খেয়াল রাখুন। 

শৈশব থেকে শিশু মনে ভাল মন্দের ধারনা, বিপদ ও বিপদ থেকে উদ্ধারের কৌশল, বাস্তবতার নানা প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে উপদেশ দেয়া বাবা মার কর্তব্যর মধ্যে পরে, তার পর আসে তাদের মন বিকাশের দিকটা, এখানে তাদের স্বাধীন ইচ্ছার প্রতিফলন না হলে মন বিকশিত হবে কোথা থেকে। এটা শুধু শিশুদের বিষয় নয়, আমি মনে করি সকল প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ এমনকি বৃদ্ধ কিংবা প্রউড় মানুষ গুলোর সমস্যা আরো বেশী। জীবন যত বাড়ে ততই জটিলতা বাড়ে কিন্তু তার মাঝেও তাদের মনের জন্য সময় ঠিকই বের করে নিতে হয়। মানুষের মানবিক প্রশান্তি যাকে আত্মতৃপ্তি বা ইনার পিস বলা হয় তা অর্জন করাই প্রাথমিক লক্ষ্য হতে দেখা যায়। কেউ কেউ তার সন্তানকে বিদেশে পড়তে পাঠাতে পেরে এই আত্মতৃপ্তি পায় আবার কেউ কেউ সন্তানকে বিয়ে দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত দেখে আনন্দ পায়। এমন পিতা আছেন যে সন্তান দাড়ি রেখেছে ও নামাজী হয়েছে দেখে আনন্দ পায় যার বিপরীতটাও ঘটতে দেখা গেছে।

প্রখ্যাত লেখক হুমায়ুন আজাদ তার নারী গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণের অবতরণিকায় লিখেছেন “আমরা আজ আছি প্রথা, মধ্য যুগ ও তার নির্মম বিধি বিধানের মধ্যে। আমি প্রথা বিরোধী; প্রথা মানুষকে পশুর স্তরে আটকে রাখে, বিকশিত হতে দেয় না; কিন্তু আমি বিশ্বাস করি নিরন্তর বিকশিত হওয়াই মনুষ্যত্ব। প্রচণ্ড ভাবে প্রথার প্রত্যাবর্তন ঘটান হচ্ছে পৃথিবী জুরে; প্রথার পক্ষে কথা বললে এখন অজস্র মুকুট মেলে, -------- তবে মানুষ প্রথার মধ্যে বাচতে পারে না, পশুও পারে না। প্রথা চিরজীবী নয়, কোন প্রথা হাজার বছর ধরে চলে এসেছে বলেই তা শাশ্বত নয়; কোন প্রথা মহাকাশ থেকে নামেনি, পুরষতন্ত্রই সৃষ্টি করেছে সমস্ত প্রথা। তবে প্রথার স্বেচ্ছা মৃত্যু ঘটে না, প্রগতিশীল মানুষেরাই অবসান ঘটায় প্রথার। পৃথিবীতে কিছুই শাশ্বত চিরকালীন নয়। পৃথিবী টিকে থাকবে আরো কয়েক কোটি বছর, প্রথা আর পঞ্চাশ বছরও হয়তো টিকবে না; এক শতাব্দী পর উত্তরপুরুষদের আমাদের সমস্ত বিশ্বাসকে মনে হবে হাস্যকর অপ বিশ্বাস।” বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এই কয়েকদিন আগেই যখন আমি জানতাম না তিনি এ কথা গুলো লিখে গেছেন, আমার ছোট বেলার বন্ধু বিপুল আর জুনিয়র ফ্রেন্ড খালেক ভাইকে বলছিলাম কয়েক শতক পর বা ৩৬৩৫ সালে সাইবার্গ যুগের মানুষ গুলো হাস্যরস করে বলবে একদা অতীতে লোকজন ধর্মের মোহে অন্ধ হয়ে পড়ে থাকতো। আমিও আজ প্রথার বিরুদ্ধে চলে গেছি তা হুমায়ুন আজাদ এর কথা গুলো জানার আগেই আমার নিজস্ব চিন্তা ভাবনা, গবেষণা আর আত্ম জিজ্ঞাসা থেকেই আমি সেখানে পৌঁছেছি।

বেশ কয়েক বছর আগে সচিবালয় বা সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং গুলোর চৌহদ্দির মধ্যের মসজিদে নামাজ পড়ে যখন বের হচ্ছি তখন দেখলাম এক হুজুর বাচ্চাদের পড়াচ্ছে, হাতে তার বেত, কথায় কথায় বাচ্চাদের মারছে সেই বেত দিয়ে। আমার মা আমাকে পড়াতেন হাতে হাত পাখা নিয়ে, মনোযোগ অন্য দিকে গেলেই বাড়ি খেতাম সেই হত পাখার। অনেক আগে সেটাই ছিল রীতি, পড় না পড়লে বেতের বাড়ি খাও। আমাদের স্কুলে স্যারেরা হাতে রুলার দিয়ে বাড়ি দিত। এখনকার সময়ে সেই চল উঠে গেছে। আমার মা যতই মেরেছে ততই আমার জেদ চাপতও পড়া না পড়ার প্রতি। এভাবে বেতের বাড়ি দিয়ে পড়ান এখন আর নাই। আমার তিন সন্তানের কাউকেই আমাকে বেতের সাহায্য নিয়ে পড়াতে হয় নাই। তারা ভালই পড়ছে ও শিখছে। জ্ঞান অর্জনটা হবে স্বতঃস্ফূর্ত। মিচিও কাকুর বই ফিজিক্স অব ইম্পসিবল এ ইংল্যান্ডের অবিস্মরণীয় বিঞ্জানী মাইকেল ফেরাডের কথা পড়লাম। তিনি জন্মেছিলেন এক দরিদ্র শ্রমিক পরিবারে। চুম্বকের বল রেখার বিষয়ে তার ছিল অসম্ভব আগ্রহ, সেই সূত্র ধরেই সে হামফ্রে লেভির বক্তৃতা শুনতে যেত, পরে হামফ্রে লেভির একটা পা এর অসুস্থতায় তার ল্যাবরেটরিতে সহকারীর কাজ পায়। পরে মাইকেল ফেরাডের উন্নতি দেখে হামফ্রে লেভি তাকে হিংসা করতো। হামফ্রে লেভির মৃত্যুর পর এই অসাধারণ প্রতিভা ইলেক্ট্রো-মেগনেটিজমের বহু সূত্র আবিষ্কার করেন, এমনকি জেনারেটরের আবিষ্কারও তার হাতে। মজার ব্যাপার হলো তিনি অংক জানতেন না, তার খাতা ভরা থাকতো ডায়াগ্রামে। এখনো সেই ডায়াগ্রাম গুলো পদার্থ বিদ্যার বইয়ে স্থান পায়। আইনেষ্টাইন তার আকা ডায়াগ্রাম গুলো ব্যবহার করেছেন এমনকি মিচিও কাকুও তার স্ট্রিং থিউরির গবেষণায় সেই ডায়াগ্রামগুলোও ব্যবহার করেছেন। তাই বলা যায় বেতের বাড়ি দিয়ে শিক্ষা প্রদান মানব মনের অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়। যার মেধা আছে তার প্রচেষ্টা থাকবেই আর সে প্রস্ফুটিত হবেই। এটাই প্রকৃতিরই একটা নিয়ম।

আমার একটি আত্ম প্রবাদ আছে যা আমি নিজেই নিজেকে বলি “What a happy mind can do a sad mind can’t” যখন কোন কাজে প্রচুর বাধা আসে তখন এই প্রবাদটি স্মরণ করে আগে মনকে ভাল করে নেই। উৎফুল্লতা আর প্রাণবন্ততা না থাকলে যে কাজেই হাত দেন না কেন তা থেকে ভাল ফল আসার কথা না। যাতে মন সায় দেয় না তা করতে গেলে দেখবেন নানা রকম ভাবে মন চলতে চাচ্ছে না। সামান্য প্রতিবন্ধকতাকে অনেক বড় মনে হচ্ছে আর এর ঠিক বিপরীতটা দেখা যায় যখন মন যা চায় তাই করতে থাকা। মানুষের মন কখন সখন নিন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে, যা করছে তো করছেই থামতে চায় না, নেশাগ্রস্থ হয়ে সেই কাজটাই করতে থাকে। আরো আছে অভ্যাসের দাসে পরিণত হওয়ার প্রবণতা। এই জায়গাটাতেই বলা হয় নিজের মন কে শাসন করতে। Govern your passion or it will govern you প্রবাদটি এ জন্যই বলা হয়ে থাকে। কথা সত্য যে, মনকে উদাম ছেড়ে দিলে তা যথেচ্ছাচার করতে পারে সেক্ষেত্রে মনের উপর নিয়ন্ত্রণ খুব দরকার তবে তা হতে হবে নিজের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ অন্য কার বা কিছুর নয়। আমি পরীক্ষামূলক ভাবে ছাত্র জীবনে একবার আর বয়স্ক জীবনে একবার মদ বা এলকোহল খেয়ে দেখার চেষ্টা করেছি। ছাত্র থাকা অবস্থায় আমার এক বন্ধু সবে আর্মিতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে জয়েন করেছে সে আমাকে ঢাকা কলেজের উল্টা দিকে গ্যালাক্সি বারে নিয়ে গিয়েছিল। ওখানে যাওয়ার পর দুই কি তিন পেগ বিয়ার খেয়ে আমার কিছুই হলো না কিন্তু ও মাতাল হয়ে গেল। পরে ওকে ধরে ধরে বাসার দিকে রওনা করে দিতে হয়েছিল। এর পর বয়সকালে চাকুরী জীবনে ভাল ভাবে পরীক্ষা করে দেখার উদ্দেশ্যে বিয়ার, হুইস্কি, ভদকা এগুলো ট্রাই করে দেখলাম কয়েকদিন করে, অবাক ব্যাপার হলো আমার কোনটাই ভাল লাগে নাই এবং আমি তেমন মাতালও হই নাই। অবশ্য যে মাতাল হয় সে নিজে তা বুঝতে পারে না। যেহেতু অন্য কেউ এর উপস্থিতিতে আমি ওগুলো খাই নাই তাই আমার বিচারটা সঠিক হওয়ার কথা না। হ্যাঁ একটু তো রিলেক্সক্ড লেগেছে। আমি সাধারণত রাতে সব কাজ শেষে কোয়ালিটি টাইম পাসের জন্য  মিউজিক ভিজুয়ালাইজেশন দিয়ে নানা রং এর আলোকচ্ছটা উপভোগ করতে করতে চা ও সিগার খেতাম আর নানা চিন্তায় মগ্ন হতে থাকতাম। ওই জায়গায় চা এর পরিবর্তে বিয়ার, হুইস্কি কিংবা ভদকা ট্রাই করে দেখেছিলাম কয়েকদিন যদি তাতে আরো উপভোগ্য লাগে কি না তা যাচাই করে দেখতে। আমার চা এর প্রতি নেশা এতটাই বেশি যে একে একে হুইস্কি, ভোদকা, এগুল বাদ হয়ে কেবল বিয়ার রইলো তা’ও পরে আর তেমন ভাল লাগল না। তার চেয়ে বরং চা’ই বেশি ভাল লেগেছে যা এখনও আমি চালিয়ে যাচ্ছি। ছাত্র জীবনে আমি বিদেশী তামাকের মিকচার দিয়ে সিগার বানায়ে খেতাম, আমার জানা ছিল না যে মিকচার মানুষ গাজার সাথে মিশায়ে খাওয়ার জন্য বেশি পছন্দ করে। ছাত্র জীবনে গাজার গ কই পাওয়া যায় তাও জানতাম না। কিছু দিন আগে একটা সোর্স থেকে গাজা পেলাম, এবার বিদেশী তামাক মিক্সচার এর সাথে মিলায়ে পরীক্ষামূলক ভাবে খেয়ে দেখলাম তাতে আমার যা হলো তা বলাই বাহুল্য। নিজের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারাতে আমার ভাল লাগে না। গাজা বা কথ্য ভাষায় যাকে হুইট বলে তা চেষ্টা করে দেখা গেল তা আমার নিজের উপর, মানে নিজের চিন্তা ভাবনার উপর নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় বা তাকে অকেজো করে দিতে চায়। আমার কখনও মাথা ব্যথা করে না কিন্তু গাজা খেয়ে দেখলাম তা আমাকে বাধ্য করে আমার চিন্তা ভাবনা গুলোকে ব্লার বা ঝাপসা করে দিতে। তার পর ঘুমায়ে যাওয়া ছাড়া আর পথ খোলা থাকে না। আমি ভেবে পাই না মানুষ কেন এই সব নেশা করে। আমি চা মিশৃত কফি বা ক্যাফেইন আর সিগারেটের নিকোটিনে আসক্ত তা বেশ কড়া মাত্রায় কিন্তু মদ কিংবা গাজা আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারে নি। পারে নি কারণ আমি আমার মনের উপর আমার নিজের নিয়ন্ত্রণ হারাতে চাইনি অন্য কারো কাছে বা অন্য কিছুর কাছে। অন্যরা এই সব নেশাতে কেন মজা পায় তা মনে হয় এখন আমি বুঝি। তারা খানিক সময়ের জন্য তাদের অপছন্দের বাস্তবতা থেকে ভিন্ন দুনিয়ায় বেহুশ হয়ে থাকতে চায়। আমার যেহেতু আমার বাস্তবতাটা পছন্দের আর কোন দুঃখকে মনে স্থায়ী আবেগে পরিণত হতে দেই না তাই আমি ওদের কারণটাতে মজা পাই না। চা এর প্রতি আমার অতিরিক্ত নেশার কারণটা আমি মনে হয় এখন বুঝে গেছি। আমি ছোট বেলায় ডেয়ারি মিল্ক চকলেট খুব পছন্দ করতাম, কোকোর সাথে দুধ মিলালে যে স্বাদটা পাওয়া যায় তা ওই চকলেটেও পাওয়া যায়। আমার বাবা মা দাতে পোকা হবে ভয় দেখায়ে আমাকে কোন চকলেটই খেতে দিত না ছোট বেলায় । ওই অবদমিত প্রত্যাশাটা মনের গভীরে প্রথিত ছিল তাই যখন বড় হয়েছি তখন তা চা-কফি-কনডেন্সড মিল্ক মিশ্রিত করলে সেই কোকো আর দুধ মিশ্রিত চকলেটের স্বাদ দেয় তার সাথে নিকোটিন যুক্ত হলে তো কথাই নাই। তাই চা ই আমার কাছে তৃপ্তিদায়ক পানিয়, মদ নয় তেমনি সিগারেট এর তামাক পাতার ধোয়া চাইতে গাজার ধোয়া আমার কাছে বেশি তৃপ্তি দায়ক মনে হয়নি। তার চেয়ে ইন্দোনেশিয়া বা কোরিয়ার এ্যাপল ফ্লেভারড মন্ড নামক চিকন সিগারেট যাতে মাত্র 0.25% নিকোটিন তাই আমার কাছে পছন্দনীয়। ভ্যাপ বা ইলেকট্রনিক সিগার খাওয়ার চেষ্টা করেও দেখেছি। তা আমার ভাল লাগে না। মনের স্বতঃস্ফূর্ত আর প্রফুল্লতাকে আমি মনে করি সতেজ মন। ইনার পিস বা আত্ম তৃপ্তিই মানব মনের একান্ত প্রত্যাশা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অবদমিত মন কিংবা অসন্তুষ্ট মন থেকে কোন ভাল কিছু আশা করাটা বোকামি। মন থেকেই মনু বা মানুষ, মনটাকে বাদ দিলে আমি আপনি রক্ত মাংসের একটা হিংস্র পশু কিংবা নিরামিষ প্রাণী ছাড়া আর কিছুই নই।

কলকাতার নচিকেতা এতদিনে কিংবদন্তি হয়ে গেছে বলা যায়, তার ধারার গান একটা নতুন বা ইউনিক ধারার সৃষ্টি করেছে বাংলা গানে যা অন্য কার গলায় ভাল লাগে না। তার গান শুনলেই বুঝা যায় এটা নচিকেতা। তার একটা গান হলো, “যখন সময় থমকে দাড়ায়, নিরাশার পাখি দু হাত বাড়ায়, খুঁজে নিয়ে মন নির্জন কোন কি আর করে তখন? স্বপ্ন, স্ব-প্ন, স্ব-প্ন! ---স্বপ্ন দেখে মন”। কার কার ক্ষেত্রে তা দুঃস্বপ্ন হয়ে যায় আর এরাই বাস্তবতা থেকে পলায়ন করে নেশার আশ্রয় নেয়।তাই বলছিলাম মনের স্বাধীন চালনা বলতে একটা ভুল বুঝার সম্ভাবনা রয়েছে আর তা হলো মনে যা আসলো আমরা যদি তাই করি তবে তা যথেচ্ছাচার হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে আমার মনটাকে বা আমার মেধার যুক্তি কাঠামোকে আমি কি দিয়ে কালচার করেছি, গোবর দিয়ে কালচার করলে ফলন ভাল হবে কিন্তু তা আপনাকে দিক্বিদিক অন্ধকার পথে নিয়ে যেতে পারে। যদি আপনি জ্ঞানের সার ব্যবহার করেন ও কোন একটা সংস্কৃতির আওতায় তাকে গড়ে তুলেন তবে বিপথগামী হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। এখানে বলে রাখি কালচার বা সংস্কৃতির এক কথায় প্রকাশ হলো, এক গুচ্ছ মানুষের সাধারণ জীবনাচরণ যা একটি সমাজ গঠন করে থাকে। ইংরেজিতে বলা যায় A common lifestyle shared by a group of people which formed a society. সমাজ আগে না কালচার আগে সেটা বুঝতে হবে। গঠিত সমাজেই সাংস্কৃতিক চর্চা চলে যার মানে হলো আগে সমাজকে গঠন হতে হবে। সমাজ হলো কতক লোকের মধ্যে আন্ত লেনদেনের সর্বজন স্বীকৃত সমঝোতা যা একটি মুরুব্বি মহল কর্তৃক সংরক্ষিত। এই সর্বজন স্বীকৃত সমঝোতা থেকেই সাধারণ জীবনাচরণ উঠে আসে আর তার স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত আত্মপ্রকাশই সেই সমাজের সংস্কৃতি। সমাজ ভেদে জাতী ভেদে দেশ ভেদে তাই সংস্কৃতি ভিন্ন ভিন্ন হওয়াটা স্বাভাবিক। আজকের এই গ্লোবাল ভিলেজে সংস্কৃতির বিশ্বায়ন হয়ে গেছে। ধীরে হলেও বিশ্ব জোড়া একটা সাধারণ সংস্কৃতি সৃষ্টি হচ্ছে। অবাধ তথ্য প্রযুক্তির যুগে ইনফরমেশন হাইওয়ে ধরে দেশ ও সমাজ সব একাকার হয়ে যাচ্ছে তবে মোটা দাগে আরবান কালচার আর সাবআরব কালচারকে পৃথক করা যায় এখনও।

যে মন কোন বিধি নিষেধে আবদ্ধ হয়ে চলে কিংবা ধর্মীয় প্রথা বা অনুশাসনের কিংবা কুসংস্কার দ্বারা অবদমিত তাকে আমরা বদ্ধ মন বলি আর তা থেকে মুক্ত যে মন তারাই মুক্ত মনা। এই সব মুক্তমনা মানুষেরাই প্রগতিশীল ও যে কোন বাধ ভেঙ্গে সামনে অগ্রসর হতে জানে। শিকল পড়া ছল মোদের এই শিকল পড়া ছল, এই শিকল পড়েই তোদের মোরা করব রে বিকল, কথাগুলো গানে নজরুল এমনি এমনি বলেন নাই। কুসংস্কারের মাত্রা এত বেশি আর এত পৌরাণিক যা না শুনলে বুঝা যাবে না। একটা কুসংস্কারে এরকম মনে করা হয় যে বৃহষ্পিতি বাদে সপ্তাহের যে কোন তিন দিন প্রচুর লবণ পানি দিয়ে ঘর মুছলে আর সদর দরজার দুই কোনায় লবণ রেখে দিলে নাকি অর্থাগমনের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ রকম বিশ্বাস কোন পাগল ছারা কার মাথায় আসার কথা না, সেই পাগল সাধু সন্ন্যাসী বলে কোন কোন সমাজে সম্মানিত ও তাদের কথা মানুষজন মান্য করে। এর চেয়ে হাস্যকর ও বিস্ময়কর কথা আর কি হতে পারে।

এনএসইউ’র বা নর্থ সাউথ ইউনিভারসিটির এক দল তরুণী ও একজন তরুণ সিঁড়িতে বসে গিটার নিয়ে গান গাইছে, তাও আবার আঞ্চলিক একটা গান যার বাংলা অনুবাদটি গেয়ে শুনাল ছেলেটি। এই ভিডিও ক্লিপটি আমার কলেজ গ্রুপে শেয়ার করায় এক পিএইচডি করা বন্ধর মন্তব্য ছিল অশ্লীলতার জন্য ওখানে ফ্যাকাল্টি খোলা হয়েছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো পিএইচডি করা এই বন্ধুটিকে আমার স্রেফ বকলম মনে হলো তার বিষয় ছাড়া অন্য বিষয় গুলোতে। সে সংষ্কৃত মনা তো নয়ই বরং অন্ধকারাচ্ছন্ন মধ্যযুগীয় কালচারে নিজের মনকে জোর করে আবিষ্ট করে রেখেছে বলে আমার ধারণা। আমি তাকে মনে করায়ে দিয়েছি যে, আমরা যে দেশে বসবাস করি তা সেকুলার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যার নাম গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যার একটা সংবিধান আছে। আর সে জেন সংবিধানের বিরুদ্ধে কোন কথা না বলে। সংস্কৃতি প্রবাহমন নদীর মত, সম্মিলিত মনের স্বতঃস্ফূর্ত আত্মপ্রকাশ কে যে বাধা দিতে আসবে সে স্রোতের তোড়ে উড়ে যাবে। সংস্কৃতির শক্তি অনেক বেশি। আমার ছোট বেলার বন্ধু বিপুলকে বলছিলাম সেদিন যে, আমরা নিজেরা আমাদের সাধারণ বিচার বোধ দিয়েই একদল বানরের মধ্যে কোন বানর গুলো ভাল আচার পালন করছে তা বলে দিতে পারি আর স্রষ্টা যদি থেকেই থাকে তার পক্ষে তা যাচাই করা আরও সহজ। কোন একটা বই পাঠায়ে একটা ধর্মের ভিত্তিতে তাকে তা করতে হবে কেন ? আমি ধর্মীয় প্রথায় বিশ্বাস থেকে সরে গেছি তাই বলে অন্যকে সরতে বলছি না কিন্তু ধর্মের অনুশাসন গুলো পুরাতন আর তা বর্তমানের মানবিক আচরণগুলোকে ভুল ভাবে বিচার ও ব্যাখ্যা করে মানুষের মনকে বিধি নিষেধের আওতায় বাধতে চায়। এটা ভেবে দেখে না যে, সেই মানুষটার এই প্রথা মানার ইচ্ছা আছে কি নাই। তারা মনে করে এটা তাদের ভালর জন্যই কিন্তু আমি বলবো তা যদি আপনার পছন্দ না হয় তবে আপনি তাতে নিমজ্জিত হলে তা থেকে ভাল ফল আসার কোন সম্ভাবনাই নাই। অবদমিত মন কখন ফলন দিতে পারে না। তরতাজা মন এর কালচার করুন দেখবেন পৃথিবীটা কত সুন্দর।

এডিট ও আপডেট হিস্ট্রিঃ ২৮ জুন২০২৩> ১৫জুলাই২০২৩ > ২৩ জুলাই২০২৩ >২৬ জুলাই ২০২৩ > ০৯জানুয়ারী২০২৪>

Tuesday, July 18, 2023

চতুর্থ নয়নে দেখা অসামাজিক বাস্তবতা

 

আমি সেই ক্লাস ফাইভ থেকে চশমা পড়ি তাই আমার চার চোখ, আমার চতুর্থ নয়ন দিয়ে আমি কিছু দেখেছি আর বিত্তশালী সমাজের কিছু গোপন কথা শুনে ফেলেছি। চুপিচুপি আপনাদের বলছি আর ফিস ফিস করে বলে রাখি শুধু আপনাকেই বললাম, অন্য কাউকে বলবেন না যেন এই সব অকল্পনীয় বাস্তবতার কথা। এর কোনটাই আমি প্রমাণ করতে পারবো না কিন্তু এগুল ঢাহা সত্য বলে শুনেছি, কিছু কিছু চতুর্থ নয়নে দেখেছিও। বিষয়গুলো কোন কোন সময় মারত্বক বিরক্তিকরও লাগতে পারে কিন্তু যদি এই সত্যতা সত্য সত্যই বাস্তব হয় তবে আপনার বিশ্ব দর্শন পাল্টেও যেতে পারে। অনেকের কাছে মনে হতে পারে এগুলো ওপেন সিক্রেট, সবাই জানে কিন্তু বলে না। কিন্তু আমার কাছে এগুলো অজানা ছিল আর জানতে পেরে বা দেখতে পেরে মারাত্মক ভাবে ধাক্কা খেয়েছি সময় সময়।

সমাজ স্থবির নয় তাই এর চলমান বিক্ষোভও স্থির থাকে না। চোখ খোলা রাখলে নতুন নতুন গল্প পাওয়া যায় অভ্যন্তরীণ চলমান নিষ্পেষণের। সমাজ সম্পর্কে ইসলাম ধর্মে যা বলে তা যে কোন পরিচিত সমাজ বিজ্ঞানীর বলা কথাকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে। হাদিসে সাফিনা বা দুই তলা নৌকর হাদিসটি যারা জানেন তারা আমার সাথে একমত হবেন। মারগারেট থ্যাচারের দেয়া সমাজের সঞ্জা “কতক ব্যক্তির সমষ্টিতে গড়া এক সম্মিলিত সৌধ” কিংবা সমাজবিজ্ঞানীদের দেয়া সঞ্জা যে, সমাজের ব্যক্তিসকল সাইকেলের চাকার স্পোকের মত সব সংযুক্ত আর একাকার। এই দুই ব্যাখ্যার কোনটিই বিতর্কে দ্বিতল নৌকার হাদিসের ব্যাখ্যার চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করতে পারবে বলে মনে হয় না। পুঁজিবাদী সমাজ যখন অর্থনৈতিক ভাবে ফ্লাই করে, মানে চলতে চলতে যখন প্লেনের উড়ার মত উড়তে শুরু করে তখন সমাজের নিচের স্তরের মানুষ গুল চিড়া চেপটা হয়ে যায়। যা খালি চোখে দেখা যায় না মোটেও। মাদার তেরেসা স্বপ্নে স্রষ্টার কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েছিলেন বলে দাবি করতেন যে গরিবদের মধ্যেও যারা হত দরিদ্র তাদের সেবা করার। ভারতবর্ষে এসে তিনি তাই করেছিলেন জীবনের শেষ দিনটা পর্যন্ত। পুঁজিবাদী সমাজ সেই গরিবদের মধ্যে গরিব তৈরির একটি আধুনিক সক্রিয় যন্ত্র বিশেষ। নিচের গল্পগুলা তার প্রমাণ বহন করে যা এই পুঁজিবাদী সিস্টেমের বাই প্রডাক্ট। শহর ভরা গাড়ির ঝাঁক, ট্রাফিক পুলিশ ভিআইপিদের জন্য রাস্তা ফাকা করতে হিমসিম খেয়ে যায় অথচ এই বিলাস বহুল নাগরীকেরা কাদের পায়ের নিচে পিষে মেরে ফেলছে জানতেও পারে না। ওরা মরছে তো ওদের দোষেই, পড়াশুনা করেনি, পরিশ্রম করতে চায় না তাই তাদের এই দশা আর আপনার বাবা আপনাকে ২৫ লক্ষ টাকা খরচ করে প্রাইভেট মেডিকেলে পড়াতে পেরেছেন বলেই না আপনি আজ লক্ষ টাকা উপার্জন করে গাড়ি চড়তে পারছেন। অকাট্য যুক্তি খন্ডায় কার সাধ্য। খণ্ডাতে চাই না তবে দেখতে তো দোষ নাই করা পিষ্ট হচ্ছে কাদের পায়ের নিচে। যাদের তৃতীয় নয়ন নয় চতুর্থ নয়ন আছে তারা হয়তো সত্যটা দেখতে পারবেন।

প্রায় ১০ কি ১২ বছর আগে আমি সকালে মিরপুর থেকে সিএনজি ট্যাক্সি কিংবা মিশুক (এখন আর তেমন দেখা যায় না) এ করে মতিঝিল অফিস করতে যেতাম। এক মিশুক ড্রাইভার আমাকে কয়েকদিন পর পরই নিয়ে যেত তাই সে বেশ পরিচিত হয়ে যায় ও সে চলার পথে কথা বলে আমার সাথে। একদিন বলছিল আমাদের সমাজটা নষ্ট হয়ে গেছে, এক মেয়েকে সে মিশুকে তুলেছে যে সিগারেট খায় আর টেলিফোনে জিজ্ঞাসা করছিল একজন না দুজন, দুজন হলে সে যাবে না, এ সব কথা। সেই মেয়ে শেরাটন হোটেলের কাছে নেমে যায়। একবার আমার সব কাজিনদের নিয়ে বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে গিয়েছিলাম ওদের সিনেমা দেখাতে। এক উগ্র চরিত্রের মেয়ে টিকেট কিনার সময় থেকেই আমাকে ফলো করছিল। ছবি দেখার সময় সে আমার পাসের সিটে ফোনে কার সাথে যেন কক্সবাজার যাওয়ার আলাপ করলো, আমি বিরক্ত হচ্ছিলাম সিনেমা দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। হঠাত সেই মেয়ে আমার হতে হাত রাখলো। বাধ্য হয়ে পিছনের খালি থাক সিটে চলে গেলাম। এক বন্ধুর কাছে শুনেছি পাঁচ তারা হোটেল গুলোর রেস্টুরেন্টের বারে ওয়েট্রেসদের পোশাক সন্ধ্যা থেকে পরিবর্তিত হতে থাকে। গভীর রাতে তা স্কার্ট থেকে মিনি স্কার্টে এসে শেষ হয়। এটা হলো বড় লোকদের পানশালার কালচার। পাঁচ তারা হোটেলে তো সাধারণ মানুষ যাওয়ারই চিন্তা করে না, কিংবা যাওয়ার সামর্থ্যও থাকে না তাদের। ওখানে অতি নিম্নবিত্ত কিশোরী থেকে মাঝ বয়সী নারীরা এমনি এমনি বসে থাকে আর তাদের সাথে খানিকক্ষণ আলাপ চারিতা করে বড় বড় পয়সাওয়ালারা তাদের হাতে হাজার কয়েক টাকা এমনি এমনি গুজে দেয়। কেউ কেউ একধাপ বেড়ে অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা সুযোগে তাদের রুমেও নিয়ে যায়। এগুলো হর হামেশাই হচ্ছে তাও বহু বছর আগে থেকেই সাধারণের চোখের অন্তরালে। এ দেশে টাকা দিলে বাঘের দুধও মিলে। সে যাই হোক নিম্ন বিত্ত কিন্তু উচ্চ মূল্যের পোশাক পরিহিতা ওই মেয়েটির রোজগারের একটা পথ সে পায় এতে করে। বেচে থাকার একটা উপায় এটা তার কাছে। অর্ধশিক্ষত বা অশিক্ষিত এসব মেয়ে বা মহিলাদের জন্য এ সমাজ এর চেয়ে ভালো রোজগারের আর কোন পথ খোলা রাখেনি তাই এটা সমাজে আদিতেও ছিল এখনও চলমান আছে। এদের ব্যাকগ্রাউন্ড জানলে আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে তাদের আপনি দোষ দিতে পারবেন বলে মনে হয় না। হ্যাঁ তারা চাইলে অন্য কোন পথে উপার্জন করতে পারতো কিন্তু তা তারা পারে নি বরং শহরের মাকড়শার জালে আটকা পরে তাতে বাচার একটা উপায় খুঁজে নিয়েছে। এদের কয়েকটা গল্প শুনলে বুঝতে পারবেন এদের বাস্তবতাটা আসলে কিরকম বীভৎস ও নিষ্পেষিত। নিচে কয়েকটা উদাহারন দিলাম।

২০০৯ এর ঘটনা হবে, আমেনার মা অসুস্থ, বাবা দেখে না, মা’এর জন্য তার একমাত্র মেয়ে ঢাকায় চলে এসেছে, কাউকে চিনে না, তার দুটি দুর সম্পর্কের বোন সিনেমা জগতে কাজ করে, তারা তাকে দেহ ব্যবসায় নামায়ে দিল, টাকাও দেয় না ঠিক মত, তাদের দেখতে যেমন সুন্দর অবস্থাও অনেক ভাল, বড় বড় লোকজনের সাথে চলা ফেরা। এরকম অবস্থায় মেয়েটি বাড়ি ফেরত যায় কিন্তু করবে টা কি, মা’র চিকিৎসার টাকা কে দিবে, ভিক্ষা করে কি চলা যায়। তাকে আবার আসতে হয়, তবে এবার আর সেই বোন গুলর কাছে নয়, বরং এক মহিলার নম্বর সংগ্রহ করে রেখেছিল তার কাছে যাবে। ঢাকা এসে সে মহিলাকে আর ফোনে পাওয়া গেল না, সাথে লাগেজ, কোথাও থাকার যায়গা নাই, সেই বোনদের কাছে থাকার সময় এক মেয়ের নম্বর নেয়া ছিল তার নম্বরে ফোন করতে সে আরেক মহিলার কথা জানাল, অপরিচিত সেই মহিলার বাসায় থাকা ছাড়া আর কি উপায় আমেনার। সেই মহিলা তাকে অফিস পাড়ায় নিয় যায়, এখানে সেখানে দেহ ব্যবসা করে যা পায় তার বেশির ভাগই সেই মহিলাই রেখে দেয়। এক স্বনামধন্য ডাক্তার অনেক দুরে সেই সাভারে চেম্বার, তার ওখান যাওয়া লাগে, রুগী দেখার ফাকে ও’রও ডাক পরে, সেই ডাক্তার মহাশয় রুগী দেখার ছলে বন্ধ চেম্বারেই কাজ সেরে নেয়। বিচিত্র অভিজ্ঞতায় চলে মেয়েটার জীবন। এরকম সময় একজন সরাফত সাহেব ওই মহিলার কাছে একজন মেয়ে চায় যাকে সিলেটে নিয়ে যাবে। এর সাথে চলে যায় আমেনা সেই সুদূর সিলেটে, সেখান থেকে প্রত্যন্ত একটা এলাকায়, লোকজন শূন্য একটা ঘরে তাকে রাখা হয়, ঘরটাতে ধারাল সব মারণাস্ত্র, কোন কামারের কারখানর মত, অনেক ছুড়ি, কাছি, রামদা সজ্জিত। যে সিএনজি ট্যাক্সি চালক তাকে ও সরাফতকে নিয়ে এসেছে, সে প্রথম তাকে ভোগ করে ঘুমাতে চলে যায়, সরাফতও চলে গেছে শহরে মেয়েটাকে একা ফেলে রেখে। গভীর রাতে একদল লোক আসে, তারা সারা রাত মদ, জুয়া আর ওকে একের পর এক গ্যাং রেপ করে। পাশেই চাপকল, একজনের পর আরেকজন আসলে ওকে লাথি দিয়ে সরায়ে বলতে হয়েছে, একটু ধুয়ে আসি। রাত পোহায়ে সকাল হয়, লোক গুলো চলে গেছে, সরাফত ভাই এর দেখা নাই, সিএনজি ড্রাইভারটা উঠেছে, ও’র দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে, ও লুকচ্ছে বাথরুমে, কিংবা যেখানে আড়াল পাওয়া যায়। সিএনজি ড্রাইভারটা রক্তচক্ষুতে তা খেয়াল করছে। ভাগ্য ভাল সরাফত ও’কে নিতে এসেছিল আর দৌরে গিয়ে গাড়িতে উঠে এ যাত্রা বেচে গেছে। সেই থেকে সরাফতের সাথেই থাকা, সরাফত এর গোপন ব্রথেলে অনেক মেয়ের সাথে সেও একজন, আজ সে সিদ্ধ হস্ত দেহপসারীনি, বিয়েও করেছে, মাঝে একবার কুয়েতে চাকরীও করে এসেছে। নিজেই উপার্জন করে বিয়ে করেছে, স্বামীকে বিদেশও পাঠিয়েছে । একমাত্র মেয়ের বয়স ছয় কি সাত, নানুর সাথে গ্রামে থাকে। বাবুর মা ঢাকা এসে ফিজিওথেরাপি অফিসে কাজ করে টাকা পাঠায় গ্রামে তাই জানে সকলে। স্বামীটা খুব একটা উপার্জন করতে না পাড়ায় বিদেশ থেকে ফেরত নিয়ে এসেছে তাকে। এখন স্বামীর উপস্থিতিতেই বা অপ্রকাশ্য সম্মতিতেই এ কাজ চলে । এই অতি দ্রুত বলে ফলে গল্পটার কিছু বুঝলেন? এরকম উদ্ভট গল্প শুনেছেন আগে? শুনে না থাকলেও দেখে থাকবেন বোধ হয় কোন নাটকে।

আরেকটা গল্প, মিনারা তার চার বোনের মধ্যে তৃতীয়, দেখতে অন্য সবার চেয়ে সুন্দর হওয়ায় তার বাবা তাকে ১১ বছর বয়সে বিয়ে দিয়ে দিল পাসের গ্রামেই। তারা তাকে পড়াশুনা করাবে কথা দিল, কিন্তু তা না করে তাকে ধান সিদ্ধর ঘরে কাজে লাগিয়ে দেয়া হল, শুধু তাই নয় শাশুড়ি তাকে কথা না শুনলে মারধোর করত । একটা ছেলে আর একটা মেয়ে হওয়া পর্যন্ত তা মেনেই চলছিল মিনারা কিন্তু যখন স্বামী আরেকটা বিয়ে করে আনল তখন আর সহ্য হল না, ঘর ছেড়ে দুটি সন্তান নিয়ে মিনারা তার স্বামীকে ডিভোর্স দিল, থাকবে না আর এত অপমান সহ্য করে। ঢাকায় যাবে, নিজেই একটা কিছু করে বাচ্চা দুটাকে বড় করবে, লেখাপড়া শিখাবে। নিজে পড়াশুনা করতে পারেনি ঠিকই কিন্তু পড়াশুনার মূল্য সে জানে। এই মরার ঢাকা কি তার জন্য গেস্ট হাউজ বানায়ে বসে ছিল? ঢাকায় এসে সেই সরাফতের মত এক জনের ব্রথেলেই তার ঠাই হল। অন্যান্যদের মত গেস্টরা আসে তাদের মনোরঞ্জন করে উপার্জন করা ছাড়া আর কি করার ছিল তার। কিছুদিন গার্মেন্টসে কাজ করেছে কিন্তু ওখানকার ফ্লোর ইন-চার্জরা তাকে উত্ত্যক্ত করতো। অশুভ ইঙ্গিত করতো। একদিন সেই ইঙ্গিতে সে সারা দেয় আর ঢাকার কোন এক ব্রথল হোমে একজনের সাথে চলে আসে। এভাবে সে জানতে পারে এই পথে বড় অংকের অর্থ উপার্জনের উপায় আছে। এভাবে কেটে যায় কয়েক বছর, এরকম সময় এক বড় গার্মেন্টস এর মালিকের সাথে পরিচয়, সে তাকে পছন্দ করে আর তাকে আলাদা করে এই কাজ থেকে সরায়ে নিয়ে যায়। তাতেও দুই বছর চলে গেছে, তার পর তাকে আলাদা বাসায় পুরাপুরি এ কাজ থেকে সরায়ে আনে ঐ লোক। এর মধ্যে মেয়েটা আবার একটা বিয়েও করেছে। কোন এক ফোন ফ্যাক্স এর দোকন মালিক ছোকরা তার সৌন্দর্যে পাগল হয়ে তার দেশের বাড়ি চলে যায় তার ও তার বোনের সাথে। তার পর মেয়ের বাবা মা কে রাজি করে পাকা পোক্ত বিয়েও করে ফেলে। ওই বিয়ে করা পর্যন্তই শেষ কিন্তু কোন খরচই সে দিত না। সেই গার্মেন্টস মালিক তাকে আলাদা বাসা ভাড়া করে রাখলেও এই নতুন বর তাকে সপ্তাহান্তে একবার বাজার করে দিয়ে যায়, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে মিনারা দুই পুরুষের ঘর করে কিন্তু কার বাসাতেই থাকে না। গার্মেন্টসের মালিক তার প্রেমে পড়ে গেছে আর সে তাকে সার্ভিস দেয় নিষ্ঠার সাথে। মিনারা অশিক্ষিত হলেও তাকে শিক্ষিত সমাজে বা উন্নত পরিবেশে সুন্দর মানায়ে যায়। গার্মেন্টসের মালিক তাকে কক্সবাজার এমনকি মালয়েশিয়া ঘুরায়ে নিয়ে আসে, যা চায় তাই কিনে দেয়। ব্যক্তিটির পরিবার আছে, দুই কন্যা সন্তানের জনক সে। রাতে বউ এর সাথে একই বিছানায় অথচ কথা হয় মিনারার সাথে, বিচিত্র এক পরিস্থিতি। এর পরের ঘটনাটা তাই ভয়ংকর। মিনারা ফোন পায় লোকটার,  দেখা করতে চায়, সেই ফ্ল্যাট টাতে যা সে কেবল মিনারা আর তার জন্য বরাদ্দ রেখেছে এত দিন। সময় অসময় একান্তে মিলনের ব্যবস্থা। ছোট খাট একটা আলাদা সংসার যেন। ফোন পেয়ে মিনারাও যথারীতি সেখানে যেয়ে ঘর দোর পরিষ্কার করছিল, হঠাত দরজায় কড়া নাড়া মনে হয় সে এসেছে, খুলে দেখে সে নয় তার জায়গায় তার বউ উপস্থিত সাথে অন্য এক লোক। মহিলাটির দাঁত উঁচা, দেখতেও ডাইনির মত। একে একে সে তার সব রাগ ঝেড়েছে মিনারার উপর, মারধোর করেছে, মোবাইল কেড়ে নিয়েছে। ফোনে অন্য লোকটি বলছিল, কেন ওকে মারলে আপনার লাগবে কেন? ও কি আপনার বিয়ে করা বউ?  যার মানে হল সেই গার্মেন্টসের মালিকটি জেনে শুনে মিনারকে নেকড়ের খাঁচায় ছেড়ে দিয়েছে। ও’র ফোন ট্যাগ করা ছিল, তাই বউ সব শুনে জেনেই আজ তার প্রতিশোধ নিতে এসেছে। তার নাকি কিছুই করার ছিল না। মেয়েটাকে তার পর তার বউ নানা রকম হুমকি দেয়, তার ভাড়া বাসায় যায়, ছেলে মেয়েদের সামনে অপমান করে, মারধোর করে ও সব শেষে তার মেয়েকেও এই ব্যবসায় নামানর বা নষ্ট করে দেয়ার হুমকি দেয়। উপায়ান্তর না দেখে মিনারা তার সব সঞ্চয় ও ছেলে মেয়েকে নিয়ে তার গ্রামের বাড়ীতে বাবা মা এর কাছ চলে যায় সাথে নিয়ে যায় তার বকলম সাইনবোর্ড স্বামীকে। তার বাবা প্রান্তিক কৃষক কিন্তু সে তার মেয়ের জন্য তার উপার্জনের টাকা দিয়ে ধানী জমি কিনে রেখেছে ও ঘর বানায়ে রেখেছ। সেখানেই থাকবে ঠিক করেছিল মিনারা কিন্তু গ্রামের নির্জনতা আর ভবিষ্যতের অন্ধকার বাস্তবতা দেখে সে ৭ মাসেই হাঁপায়ে যায়। এর মাঝে দু এক মাস পর পর সে ঢাকায় যেত সেই পূরণ ব্যবসায় অর্থ উপার্জনের জন্য। গ্রামে খাওয়া বা থাকার ব্যবস্থা থাকলেও ছেলে মেয়ের পড়াশুনার ও তাদের ভবিষ্যতের কি হবে ভেবে। পুরাণ স্বামীর কাছে ছেলে মেয়েকে রাখতে পারত কিন্তু তাদের অবস্থাও ত ভাল না। আর নতুন স্বামী তো কিছুই করতে জানে না। মিনারা তাকে ২ লক্ষ টাকাও দেয় ব্যবসা করার জন্য, সেই টাকা সে ফেরত ত দেয়ই নাই বরং মিনারার জমি বিক্রি করে বিদেশে যাওয়ার পায়তারা করছিল। মিনারার বাবা সেই লোভী লোকটার দুরভিসন্ধি ধরতে পারে ও মিনারার জমি বিক্রির ইচ্ছাকে নিবৃত করে। মিনারা মনে মনে সেই গার্মেন্টসের লোকটার মত আর কাউকে খুঁজছিল। ঐ লোকটি তাকে রক্ষিতার মত রেখেছিল, যা চাইত তাই পেত, এর কারণে তার অভ্যাসে সৌখিনতা চলে আসে অথচ লোকটিকে সে সেই রকম ভালোবাসতো না, ভাল লাগত তবে ভালবাসত না মন থেকে, তার উপর শেষ সময়ে সেই লোকের স্ত্রীর অত্যাচারে তার শহর ছেড়ে চলে আসতে হয়। দু মাসে একবার যে ঢাকা আসত দেহ ব্যবসা করতে তখন সেই সব লোকদের ডাকতো যারা নেশা দ্রব্য সাথে নিয়ে আসে। মিনারা এ কাজটাকে অপছন্দ করে, কিন্তু কথায় বলে অভাবে স্বভাব নষ্ট। করতে চায় না কিন্তু করতে বাধ্য হচ্ছে। আবার তার দৈহিক চাহিদাও অনেক। সব মেয়ের হয়ত এতটা চাহিদা থাকে না। মনকষ্ট, বিদ্বেষ, অর্থকষ্ট, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সব মিলে তাকে নেশা করার দিকে ধাবিত করে কিন্তু খুব দ্রুতই সে নেশা করার কুফল বুঝতে পারে। তার একটা মেয়ে আছে, একটা ছেলে আছে, আজ সে পুরাপুরি নষ্ট হয়ে গেলে ওদের কে দেখবে, এই চিন্তাই তাকে নেশা করা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। মিনারা  বর্ডার এলাকার মেয়ে, ছোটবেলা কেটেছে আসামে, দেখতে সুন্দর, তার এ রকম বাস্তবতা হবে কেন।

এবার তাহলে আরেকটা গল্প বলি, অনেকটা একই রকম তবে একটু ভিন্নতা আছে। রাশিদার বাবা একটা হোটেল চালাত মফস্বলে চার বোন দুই ভাই এর মধ্যে সে সবার ছোট, বড় তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে, ভাইটা মাদ্রাসায় পড়ে। বাবার হোটেল ঋণের দায়ে বন্ধ হবার যোগার, বৃদ্ধ বাবা আর আগের মত পরিশ্রমও করতে পারে না। রাশিদা তাই ঢাকায় আসে চাকরির খোজে, বোনের বাসায় থেকে গারমেন্টস ফেকটরীতে চাকরী করবে তা না করে যা করল তা মনোবিজ্ঞানী আর সমাজবিজ্ঞানীদের জন্য একটি গবেষণার বিষয়  হতে পারে। একটা পাতান বিয়ে করে বসল আর কোন এক দুষ্ট নারীর খপ্পরে পরে দেহপশারীনি হয়ে গেল। এ রাস্তায় সহজে উপার্জন করা যায়, গারমেন্টস এর চাকরীতে সারা দিন পরিশ্রম করে মাসে যা আসে তা এই ব্যবস্থায় দু এক দিন পরপর পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ আছে। মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি থাকলে অনেক কাজই সহজ হয়ে যায়। এ রকম গল্প এ সমাজে হর হামেশাই শুনা যায় আর সবাই তা শুনে হজম করে ফেলে।

অবাক করা বিষয় হলো এ সব মেয়েরা নামাজ পড়ে, কোরআন পড়ে এমনকি তাহাজ্জুদের নামাজও পড়ে বলে শুনেছি আর যারা এদের দালাল তারাও নামাজী কম না। ধার্মীক হয়েও তারা এরকম আচরণ কেন করে সেটা এক বিশাল বিস্ময়। কারণ হতে পারে এটা তাদের কাছে একটা পেশা বই আর কিছু নয়। নামাজ পড়ে হয়তো প্রয়াশচিত্ত করতে চায়। পাশ্চাত্যের অবস্থা সবাই জানে ওখানে এ সব ডাল ভাত এমনকি সরকারী অনুমোদনেও তারা এই ব্যবসা চালায়ে যায়। ওদের দু একটা মুভিও আছে এসব নিয়ে যার মধ্যে একটা হলো গার্ল লস্ট। মুভিটাতে এক মা ও তার মেয়ের করুন কাহিনী দেখান হয়। যেখানে তাদের বাস্তবতাটা তুলে ধরা হয়েছে। মা’ই মেয়েকে বলে যে, এই গেস্টের কাজে আমি গেলে আমাদের এক সপ্তাহের খাবার জুটবে আর তুমি গেলে দু সপ্তাহের খাবার ব্যবস্থা হবে। মেয়েটা পরে তার মার কাছ থেকে চলে যায় আর তার এক ছেলে বন্ধুর সাথে জীবন শুরু করে। সেই ছেলে যে রেস্টুরেন্টে দু জনের কাজ করার ব্যবস্থা করে সেখানে মেয়েটাকে এক জুয়ারি কটূক্তি করায় ছেলেটা মারামারি করে তার পর সে ভল্ট থেকে চুরি করতে গিয়ে মালিকের কাছে হাতে নাতে ধরা খেয়ে প্রচুর মার ধোরের শিকার হয়। মেয়েটা ওর কাছ থেকেও চলে যায় ও এক ব্রথেলে কাজ নেয়। সেখানে কিছুদিন ভাল চলার পর এক পারভারটের পাল্লায় পরে নাজেহাল হয়। এর পরিণামে সেই ব্রথেল থেকে তাদের ডায়মন্ড উপহার দয়া হয় যা তার বয় ফ্রেন্ডের সাথে বিক্রি করতে গিয়ে দেখা যায় তা নকল। এর প্রতিবাদে তার ছেলে বন্ধুটি ওই ব্রথেলে গেলে তাকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়। মেয়েটার আর কেউ থাকে না, তাই সে সাগরে হাটতে হাটতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। পাশ্চাত্যে এই ঘটনা গুলোর মুভি হয়েছে কিন্তু আমাদের দেশের মেয়েগুলোর কথা নিয়ে কার মাথা ব্যথা নাই। আমাদের দেশীয় মুভি (ছিনেমা) মেকাররা আর বীভৎস রকম যৌন পিপাসু। তারা বলে অশ্লীলতার কোন সঞ্জা নাই, আসলে বলতে চায় অশ্লীলতার কোন সীমা নাই। তাদের কার কার সিনেমা হলও আছে আর তাতে উন্নত মানের গেস্ট রুম আছে যেখানে তারা নায়িকা সদৃশ গ্রামের মেয়েদের নিয়ে এসে ভোগ করে। এক সচিবের কথা শুনেছি যার পুরুষাঙ্গ অপারেশন করে বাদ দেয়া হয়েছে কিন্তু তার নারী আসক্তি এতই প্রবল যে সে তিন চার জন ইডেন কলেজের মেয়েকে বাসায় নিয়ে আসে মহিলা ড্রাইভার দিয়ে গাড়িতে করে তার পর প্রচুর খাবার দাবার এর আয়োজন করে ও তাদের সাথে সারা রাত নাচ গান আর মৌজ মাস্তি করে। এই রকম যৌন বিকার গ্রস্থ লোকের সংখ্যা আমাদের সমাজে কোন ভাবে কম নয়। সবই চলছে পর্দার অন্তরালে।

চরকি অরিজিনাল ফিল্ম যা তিন্নি’র ঘটনা নিয়ে করা তাতেও দেখান হয় যে একটা বড় চার তলা বাড়ির পুরটাই বিত্তশালীদের জন্য ব্রথেল সেইফ হাউজ। এরকম ঘটনা আমাদের সমাজেই ঘটছে। আর পল্টনের সম্রাটের কাছে নাকি ৭০০ দেহপসারীনির নাম ঠিকানা ছিল বা আছে যারা পাঁচ তারা হোটেলে মেহমানদারী করতে যেত, তাও সমাজের রাঘব বোয়ালদের। এক বন্ধুর কাছে শুনেছি মাইক্রো বাসে করে ৭ জন পুরুষ আর ৫ জন মহিলা গেছে বনানীর কোন এক হোটেলে, যেখানে অত্যন্ত সুব্যবস্থায় তরা একাধিকবার একাধিক জনের সাথে সঙ্গী বদল করে অবস্থান করেছে। অনেক জন মেয়ে কন্ট্রাক্টে এক দল পুরুষের একেক জন একেক জনের বউ সেজে কক্সেস বাজার বেড়াতে যায়। এরকম প্রত্যেক ট্রিপে তারা ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা উপার্জন করে। এক বন্ধুর সাথে এক প্রচলিত বারে গিয়েছিলেম দেখতে ওখানে কি হয়। তা যে ঢাকার মধ্যখানে তা বুঝার কোন উপায় নাই। যা দেখলাম তা হলো ওখানে মদ খাওয়ায় কোন বাধা নেই, ভাল খাবারের ব্যবস্থা আছে আর গায়িকাও আছে যে গান গাচ্ছে আর লোকজন টাকা ছিটায়ে দিচ্ছে তার চারদিকে। এক বা দুই জন লোক টাকার ব্যাগ নিয়ে ঘুরছে যদি কার খুচরা টাকা লাগে তা তারা করে দেয়। কয়েকজন মাসল ম্যান আছে যারা কেউ বেশি মাতলামি করলে তা সামলাবে। আর ভিতরের দিকে একটা রুমে পাড় মাতলদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না কেউ এ রকম কথা বললে।

কোলকাতার একটা মুভি দেখেছিলাম এসব নিয়ে করা। ওখানে দেখান হয় এক দেহপসারীনিকে এক হকার ছেলে পছন্দ করে কিন্তু সেই দেহপসারীনিকে তার ব্যবসা চালায়ে যেতে এক পুলিশ কনসটেবেলকে মাইক্রোবাসের পিছনে দেহ দান করতে হয় যখন সেই ছোকরাটা বাইরে বসে থাকে। দেখে আমার অত্যন্ত খারাপ লেগেছিল কিন্তু উপরে বর্ণিত আমেনার গল্পটাতে দেখুন তার স্বামী সবই জানে তার পরও যেহেতু সে উপার্জন করতে পারে না বরং এই কাজ করে তার স্ত্রী বেশি উপার্জন করে তাই সে কিছুই বলতে পারে না। এ সব পরিস্থিতিতে বিয়ে কি আর প্রেম কি তা বুঝা খুব শক্ত। তারা ভালই সংসার করছে, দুই সন্তানের বাবা মাও হয়ে গেছে। এসব দেখলে বা জানলে আসলে প্রকৃত বাস্তবতাটা বুঝতে পারা যায়। আর বিস্ময়কর ব্যাপার বছর বছর হজ্জ করে এসে চল্লিশ দিন পার করে তার পর যেই সেই পূরণ অভ্যাসে ব্রথেলে যাওয়া শুরু এমনও শোনা গেছে। সব থেকে বেশি শোনা যায় রাজনৈতিক নেতাদের কথা। সমাজে তাদের প্রভাব এত বেশি যে তারা এসব বিষয়কে করায়ত্ব করে সবার আগে। শিক্ষিত সুশীল সমাজে আমরা যা ভাবি বা দুই চোখে যা দেখি তা সর্বাংশে সঠিক নয়। তৃতীয় নয়ন দিয়ে হয়তো কিছু বুঝতে পারি কিন্তু চতুর্থ নয়নে ধরা পরে সমাজের অত্যন্ত গভীরের নাভিস্বাস উঠা নিষ্পেষণ।

এ ত গেল যাদের অন্ততপক্ষে দেহ টা আছে যা বার বার বিক্রয় করা যায় কিন্তু যাদের তা’ও নাই তারা কি করবে? একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা কি শুধু মাত্র বড় লোকদের জন্যই কাজ করে থাকে? দেশের সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তর কি এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করে না? সেভ দ্যা চিলড্রেন এনজিও পথে ঘাটে কিংবা কোন নোংরা পার্কে অত্যন্ত কম টাকায় যারা দেহ ব্যবসা করে তাদের যাতে এইডস না হয় তার জন্য বিনামূল্যে ঔষধ দিয়ে থাকে ও নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসে। বিনামূল্যে এইডস পজিটিভ কিনা তার পরীক্ষা করে। সেভ দ্যা চিলড্রেন ছাড়া আর কোন এনজিওর কথা আমার জানা নাই যারা এদের নিয়ে কাজ করে। ছাত্রাবস্থায় জানতাম পুরাণ ঢাকার ইংলিশ রোড আর নারায়ণগঞ্জ এর টান বাজারে দেহপসারীনিদের সরকার বৈধ কৃত ব্যবস্থা আছে। যেখানে যারা কর্মরত তাদের নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হতো। কিন্তু বিএনপি আমলে এসে যখন তাদের সকল প্রকার বৈধতা বাতিল করে দেয়া হলো তখন তা সারা শহরে ছড়ায়ে গেছে বলে আমার ধারনা। আজ নির্দিষ্ট কোন স্থান নয় বরং মিরপুর বলেন, বনশ্রী বলেন আর আরামবাগ বলেন সব জায়গায়ই এরা ছড়ায়ে গেছে। ইতিহাস থেকে জানা যায় এই ব্যবসাকে অতীতে কেউ বন্ধ করতে পারে নাই আর ভবিষ্যতেও পারবে বলে মনে হয় না। সমাজে একদল লোক এরকম থাকবেই যাদের টেস্টেরণ লেভেল বা ডোপামিন লেভেল অতিরিক্ত মাত্রায় সক্রিয়। তারা ভাঙ্গা বেড়া দেখলে মুরগি শিকার করবেই। আমেরিকার মরুভূমির শহর লস ভেগাস কিংবা থাইল্যান্ডের সিন সিটি গুলোতে এরকম ব্যবস্থা আপনা আপনিই হয়ে গেছে। বিবিসি ডকুমেন্টারিতে একবার দেখিয়েছিল বিশ্বের সব থেকে বড় ব্রথেল গুলোর একটা এ দেশেই দৌলদিয়া ফেরি ঘাটে। সেখানে ৫০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যায়ের সকল প্রকার দেহ ব্যবসায়ী থাকে আর বাপ মা সবই জানে তাদের ব্যবসা সম্পর্কে। শুধু জানেই না তারা বিষয়টিকে সমর্থনও করে। এদের খদ্দের মূলত ফেরি ঘাটে অপেক্ষমাণ ট্রাক ড্রাইভাররা। আমার কথা হলো যাকে বা যে বিষয়গুলোকে সমাজ থেকে দুর করা যাচ্ছে না বা সমূলে উৎপাটন করা যাচ্ছে না সে বিষয় গুলোকে শৃঙ্খলিত করে বিধি বদ্ধ করে দেয়া উচিত যাতে করে তা সুস্থ সমাজের ক্ষতি করতে না পারে। এতক্ষণ যা বললাম তা নতুন কোন বিষয় নয়। হুমায়ূন আহমেদ তার “কোথাও কেউ নেই” বিটিভি নাটক সিরিয়ালে তা অনেক আগেই বলে গেছেন। আমার কথা হলো দেশের সরকারের উচিত এ সব লোকদের জন্য ভাল সমাজ থেকে দূরবর্তী অঞ্চলে একটা ব্যবস্থা করে দেয়া।

এডিট ও আপডেট হিস্ট্রিঃ ৩০অক্টোবর২০১৯> ০৭ফেব্রুয়ারী২০২১> ২৮ জুন২০২৩> ১৫জুলাই২০২৩> ১৮জুলাই২০২৩>

 

Tuesday, July 11, 2023

ময়লা-আবর্জনা ও ভিক্ষুক মুক্ত সুন্দর নগর চাই

নগর পিতাদের উদ্দেশ্যে বলছি, যদিও জানি না উনাদের কান পর্যন্ত এই কথাগুলো পৌঁছাবে কিনা? আমরা প্রতি বছর সিটি কর্পোরেশন ট্যাক্স দিচ্ছি আবার আমরা আয়করও দিচ্ছি। প্রতিটি পণ্য তা সেবা হোক বা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য হোক কিনতে গিয়ে ভ্যালু এ্যডেড টেক্স বা ভ্যাট (মূশক) তো দিচ্ছিই। ব্যাংকে টাকা রাখলেও তা থেকেও সরকার আবগারি শুল্ক বা এক্সাইস ডিউটি ও সোর্স টেক্স (উৎসে কর) কেটে নিচ্ছেন। এত কিছুর পরও আমাদের কেন ময়লা আবর্জনা যুক্ত আর অবহেলিত ভিক্ষুকে পরিবেষ্টিত নগরে বসবাস করতে হয়? সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড “ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষিত এলাকা”দেখলেই ভাল লাগে। এই ভেবে যে, সরকার এর সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তর একটা দারুণ কাজ করছে। শুধু ভিক্ষুক মুক্ত করলেই চলবে না তাদের কোন না কোন ভাবে পুনর্বাসন তো করতে হবে? নিশ্চয়ই সেই রকম কোন ব্যবস্থা করেই তবে এলাকা থেকে ভিক্ষুকদের অপসারণ করা হচ্ছে বলে আমার ধারনা। এ কাজটা শুধু সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর করবে কেন, স্বাভাবিক হিসাবে এটা তো সিটি কর্পোরেশনের কাজ। এর পাশাপাশি ভাল কাজের হোটেল যা ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ করছে এরকম বেসরকারি এনজিও গুলোও আগায়ে আসতে পারেন। আর ভাল হতো যদি ময়লা মুক্ত ঘোষিত এলাকা নামে সাইনবোর্ড দেখতাম। এত ময়লা চারদিকে যে মনটাও অপরিষ্কার হয়ে যায়। আমার এক বন্ধুর বন্ধু নাকি বিদেশে থেকে এ দেশে এসে মন্তব্য করেছিল বিরাট এক ডাস্টবিনে প্রবেশ করলাম। ময়লা আবর্জনার জন্য গন মানুষের অনুন্নত মানুষিকতাও কম বেশী দায়ী। আমার অফিস মতিঝিলে হওয়াতে নানা প্রকারের ভিক্ষুক দেখতে পাই এখানে। একেক জনের দুরবস্থা একেক রকম, বেশিরভাগই ভেক ধরেছে বা ভান করছে, কেউ এমনকি মাইকে তার আর্তি জানাচ্ছে। কেউ বিয়ের কুলা নিয়ে জনসাধারণের কাছে মেয়ের বিয়ের জন্য টাকা চাইছে। মতিঝিল দিলকুশায় ভিক্ষাবৃত্তির অধিক্য কারণ এখানে যারা আসে সবাই পয়সাওয়ালাদেরকে পায়। বিশেষ করে ফুটপাতের চা এর দোকান গুলোতে যখন কেউ মানিব্যাগ খুলে তখন তারা তাদের উচ্ছিষ্ট ২ টাকা, ৫ টাকা বা ১০টাকা ভিক্ষুককে দিয়ে দেয়। আমার একটা উদ্ভট অভ্যাস অফিসের কাজের ফাকে ফাকে চা খেতে যাওয়া। কোন একটা কাজ শেষ করেই একটা রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য দৌর দেই। কাজে ফাঁকি দিয়ে নয় বরং পরবর্তী কাজের রিইনফোর্সমেন্ট এর মত এটা কাজ করে আমার মধ্যে। এই এলাকার ভিক্ষুকদের ধরন ধারণ ও পথ পরিক্রমা আমার জানা হয়ে গেছে। একেক জনের ভিক্ষা চাওয়ার ধরন আলাদা। প্রথম প্রথম আমার খুব খারাপ লাগত ওদের দুরবস্থা দেখে, তবে এখন যখন প্রত্যেক দিনই ওদের একই অবস্থায় একই ভাবে ভিক্ষা করতে দেখি তখন রাগ হয় আবার করুণাও হয়। একটা ছোট্ট মেয়ে বয়স ১২কি ১৩ হবে, তার কোলে একটা বিকলাঙ্গ বাচ্চা সারা দিন পিপলস টাওয়ারের সামনে বসে ভিক্ষা করে বিকাল হলে দলিকুশার রাস্তা ধরে ভিক্ষা চাইতে চাইতে বাড়ি ফিরে। ওই ছোট্ট মেয়েটা এই বিকলাঙ্গ বাচ্চাটাকে নিয়ে কিভাবে জীবন পার করবে কে জানে। হয়ত বাচ্চাটা আর বড় হলে হুইল চেয়ারে করে ওকে নিয়ে ঘুরে ঘুরে সেই একই কাজ করবে। কয়েকজন খুব বৃদ্ধ মহিলা আসে পথ পরিক্রমায় তাদের দেখার কেউ নাই বুঝাই যায়, না হলে এত বৃদ্ধ বয়সে কেউ ভিক্ষা করত না। ভিক্ষুকদের মধ্যে সব থেকে ভিক্ষার দাবিদার হলো অন্ধ আর বিকলাঙ্গ ভিক্ষুক, তাদের চাওয়ার মধ্যে তাদের অন্ধত্বর ও বিকলঙ্গতার কথাটা স্পষ্ট করে বলে আর এরা ভিক্ষা পায়ও যথেষ্ট পরিমাণে। একবার এক চায়ের দোকানে এক বয়োবৃদ্ধ কিন্তু শার্ট পেন্ট পড়া মুখে করুন ভাব করে রাখা লোক তার দুরবস্থার কথা জানাচ্ছিল। আমি প্রথমে ভাবছিলাম উনি ভিক্ষুক নয় কিন্তু পরে বুঝেছি এটা তার একটা ভড়ং বটে। এদের অনেকের মানুষিক রোগ আছে বলে আমার মনে হয় কিংবা হয়ত সত্যসত্যই দুরবস্থা গ্রাস করেছে এদের ভাগ্য। এক মাঝ বয়সী কি প্রায় বৃদ্ধ মহিলাকে রাজার বাগ মোড়ে দেখতাম ভিক্ষার জন্য গাড়ির পিছন পিছন দৌড়চ্ছে, আর কয়েকদিন পর দেখলাম সে ধীরে ধীরে আর দরিদ্র হয়ে চরম অবস্থায় চলে গেল। প্রথমে তাকে দেখে ভিখারি মনে হতো না কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তার চরম দুরবস্থা দেখলেই বুঝা যেত। আমার আফসোস এর কথা শুনে একদিন চা এর দোকানে এক লোক বলল ফার্মগেটের এক ভিক্ষুক তার দেশের বাড়ির, সে প্রতি মাস শেষে লোকটির কাছে তার ভিক্ষার্জিত সকল অর্থ জমা দেয় গ্রামের বাড়িতে পাঠানর জন্য আর সেটা নাকি কম করে হলেও ৩০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা হয়। প্রতি মাসে সে তার গ্রামের বাড়িতে সেই টাকা পাঠায়ে দেয়। গ্রামের বাড়িতে তার কালার টিভি আছে এত বড় যে শহরে তত বড় টিভি কিনার সাহস করে না অনেকেই। ফার্মগেটে হাজার মানুষের ভিড় হয় বললেও কম বলা হবে। প্রত্যেক দিন ওখানে মনে হয় লক্ষ লক্ষ মানুষের আনা গোনা হয়। সেখানে ৪০ কি ৫০ হাজার টাকা মাসে ভিক্ষা পাওয়া তেমন অসম্ভব বলে মনে হয় না।  

ভিক্ষাবৃত্তি এদেশে বেশি কারণ এদেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম আর ইসলামে দান করাকে উৎসাহিত করে। কিন্তু এই দান যা ইসলাম উৎসাহিত করে তা যারা হাত পাতে তাদের জন্য নয়, কিংবা যারা হাত পাতাকে পেশা হিসেবে নিয়েছে তাদের জন্য তো নয়ই বরং যাদের অর্থনৈতিক কষ্ট আছে কিন্তু বলতে পারছে না তাদের জন্য বলা হয়েছে। তাদেরকেই আরবিতে মিসকিন বলা হয়। বাস্তব প্রয়োগে জনগণ তা অন্যরকম করে ফেলেছে। ইসলামের প্রত্যেকটা শিক্ষাকেই যেন ভিন্নভাবে এ দেশে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে যার কারণে ইসলামের সুফল গুলো থেকে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। ভিক্ষুক মুক্ত ঘোষিত দেশ মনে হয় কল্পনাও করা যায় না তবে ভিক্ষুক যখন হাত পাতে তখন তার দুরবস্থাও সহ্য করা যায় না। ভিক্ষুকদের সংখ্যা দিন দিন যেন বাড়ছেই। মুছে ফেল চোখের জল, শক্ত করো মন, বাঁচতে হলে লড়তে হবে তোমায় সারাক্ষণ এই মন্ত্রে সকল ভিক্ষুককে দীক্ষা নিতে হবে আর এ কাজটা করবে সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কোন অঙ্গ সংগঠন আর এর মূল দায়িত্ব মূলত বর্তায় নগর পিতাদের উপর। সাধারণ নাগরিকদের মধ্য হতেও এরকম উদ্যোগ নেয়া হতে পারে যার একটি উদাহারন ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ ও তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম। এ রকম একটা কি দুটা দিয়ে হবে না, অনেক গুলো লাগবে কিন্তু সেরকম সুবুদ্ধি সম্পন্ন উন্নত সুশীল সমাজ কি গঠিত হয়েছে এ শহরে? আমার ছাত্রাবস্থায় এক বন্ধু সমাবেশে বলেছিলাম যে দেশে দুই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা পাশাপাশি চলে (অর্থাৎ স্কুল ও মাদ্রাসা) সে দেশে এক সময় না এক সময় একটা মারাত্মক সংকট বা দ্বন্দ্ব অবস্থা হবেই। আজ এ দেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগণের মধ্যে উগ্র ইসলামপন্থী আর মুক্তমনা সেকুলার মুসলিম নামধারী দুটি সম্প্রদায় বিভক্তি রেখা স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়। কেবল মাত্র ভাষা কে কেন্দ্র করে কোন সর্বসম্মত দর্শন সম্ভব নয় এটা সবাই জানে। ধর্ম ভিত্তিক দর্শন দিয়ে একটা পুর জাতিকে হয়তো একত্রিত করার প্রয়াস চালান যেতে পারে কিন্তু সেই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে যদি এত বিভেদ থাকে তবে তা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করবে কিভাবে? আজকের প্রযুক্তির যুগে ধর্মের গালগল্পগুলোও পানসে হয়ে গেছে বা যাচ্ছে। বকধার্মিক কিংবা সেকুলারদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে যার পরিসংখ্যান নেয়া হয় না বা কেউ জানে না। একটি সুগঠিত সমাজে ভিক্ষুক কেন থাকবে? অভাব গ্রস্থদের জন্য সমাজের সচ্ছল লোকদের কি কোন দায়বদ্ধতা নাই? শুনেছি সিঙ্গাপুরের ফুটপাতে একটা আলপিন পরলেও খুঁজে পাওয়া যায়, ওরা এতটাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। অথচ আমাদের দেশে একটা গোট মানুষ হারায়ে গেলেও খুঁজে পাওয়া যায় না। ভিক্ষুকদের অর্তি শুনে আমার মধ্যে যে কষ্ট বা করুণা হয় আশ পাশের মানুষের মধ্যে তেমন প্রতিক্রিয়া হয় বলে মনে হয় না। তারা এটাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবে নেয় আর যখন দান করে তখন ধার্মিক দায়িত্ব থেকে করে মানবতার দৃষ্টি কোন থেকে করে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। আজকের ধর্ম তার মানবতা বোধ হারায়ে ফেলে একে একটা প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছে। ইসলামের স্বর্ণযুগে বায়তুল মাল থেকে বিনা সুদে ঋণ বা কর্যে হাসানা দেয়ার ব্যবস্থা ছিল। ক্যানাডার মত ওয়েলফেয়ার ইকনমিতে কেউ পরিবার নিয়ে অসহায় হয়ে গেলে তাদের বেকার ভাতা দেয়া হয় বলে শুনেছি। আমাদের দেশে সে কথা চিন্তাই করা যায় না এখনো। নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এক ভিক্ষুককে কুঠার কিনে দিয়েছিলেন, তার মানে তাকে ভিক্ষা না করে কাজ করে উাপর্যনের পথ দেখায়ে দিয়েছিলেন। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে যারা ভিক্ষা করতে বের হয়, তাদের কেউ কেউ হয়ত বাচ্চা ভাড়া নিয়ে আসে তবে এক বোবা মা তার তিন বছরের ছোট্ট বাচ্চা হঠাৎ চোখের আড়াল হলেই হাউ মাউ করে উঠে, খুব স্পষ্ট বুঝা যায় বাচ্চাটা তারই আর সে কথা বলতে পারে না। আরেকটা মহিলা একটা ৯ কি ১০ বছরের মেয়ে নিয়ে ভিক্ষা করে, তাকে বললাম তুমি কাজ কর না কেন, সে বলে তার হতে ব্যথা তাই কাজ করতে পারে না। হাঁটুতে ভর দিয়ে হেটে ভিক্ষা করে এক মহিলা আর এক পুরুষ, তারা হাঁটুর জুতা বানায়ে নিয়েছে। আমি লোকটাকে বললাম তুমি তো বসে যারা কাজ করে যেমন বই বাধাই করা কিংবা অন্য কিছু তা করে রোজগার করতে পার, কর না কেন? সে কানে কম শুনে আমার কথা বুঝতেই পারলো না। আশপাশের সবাইকে যার যার ধান্দা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখি কেউ এ সব ছাই পাস ভিক্ষুক নিয়ে বিন্দু মাত্র চিন্তা করে না। আর সমাজের ধার্মিক সম্প্রদায় তাদের আখিরাতের চিন্তায় ব্যস্ত আর ফকির মিসকিনরা হলো তাদের কাছে স্রষ্টার পরীক্ষায় পতিত জনতা তাই তার সাথে মানবতা বোধের সংযোগটা করতে পারে না। ইংলিশ মিডিয়মে পড়া আমার আট বছরের ছেলেকে তার স্কুল থেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল সে বড় হয়ে কি হতে চায়? সুপার ম্যান না কি আর বড় কিছু, সে অকপটে বলেছিল সে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হতে চায়, আওয়ার সিটি ইজ টু মাচ ডারটি, এটা ছিল তার উত্তর। শুনে আমার অবাক লেগেছে অতটুকু ছোট একটা ছেলে বানায়ে কথা বলে না। যা সত্য মনে আসে তাই বলে দেয়। ওর কাজিনের জন্ম কানাডায় তাই সে হয়ত এরূপ মানসিকতা নিয়ে বড় হবে না। কিন্তু আমরা যারা এ দেশের ফাঁদে আটকা পড়ে গেছি তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এতটা অপরিচ্ছন্ন শহরে বড় হবে কেন? আমরা কি এই অবস্থার পরিবর্তন করতে পারি না? একদিন অফিসে যাওয়ার জন্য সিএনজি ট্যাক্সি ভাড়া করলাম, ড্রাইভারটার কথা জড়ায়ে জায়, পথে যাওয়ার সময় বললো তার ব্রেন স্ট্রোক করার পর থেকে এই অবস্থা হয়েছে। এ কারণে তাকে মালিক সিএনজি চালান থেকে বাদ করে দেয়, তার এক বন্ধুর নামে গাড়ি নামায়ে সে চালায় আর তা দিয়ে সংসার চালাতে পারে কোন মতে। এক আরহী একদিন সন্দেহ করে যে সে রাতে মদ খেয়েছিল বলে কথা জড়ায়ে যাচ্ছে? ড্রাইভার এর চোখ দিয়ে অশ্রু দেখে আর সব জানতে পেরে সে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছিল ও জরায়ে ধরেছিল। সেই ট্যাক্সি ড্রাইভার হতে ৫০০ টাকার কম থাকায় পিজি হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করতে না পেরে বাবা মেয়ে কেঁদে বাড়ি ফিরেছে। এই সব করুন বাস্তবতা গুল মিথ্যা নয় মোটেও। এদের ভাগ্যে দুর্ভোগ নেমে এসেছে আর তা থেকে উত্তরণের জন্য তারা কার সাহায্যও পাচ্ছে না। শিক্ষিত ও ধনিক শ্রেণীর এ সকল বিষয়ে কি কিছুই করনীয় নাই? এ সব দেখার জন্যই কি আমরা নগর প্রতিষ্ঠা করেছি, কর দিচ্ছি? এতকিছুর পরও কেন মানুষের এত দুর্ভোগ দেখতে হবে। সবাই যার যার নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকলে এরকমটা হওয়ারই কথা।

আমার মাথায় উপরে উল্লেখিত প্রশ্নগুলো বহুদিনের, মহাখালীর সাত রাস্তার একটু সামনে ভূমি অফিসের পাসের ফুটপাতে একদিন দেখলাম দেয়াল লিখন, “ভালো কাজের হোটেল” এখানে খেতে টাকা লাগে না, একটা ভাল কাজ করলেই চলে। এটা দেখে প্রথমে আমি ঠিক বুঝি নাই এটা কি বলছে? তবে আগ্রহ জন্মেছিল জানার। এর বহু দিন পর ফার্মগেটে ওদের বাঁশের ছাউনিতে একটা সাইনবোর্ডে লেখা facebook.com/vkhbd ওটা দেখে বাসায় এসে যখন ইন্টারনেটে ওদের ফেইসবুক পেইজ পেলাম আর ওখানে সময় টিভির ভিডিও ক্লিপটা দেখলাম তখন বিষয়গুলো পরিষ্কার হলো। আর খোজ খরব নেয়ার পর জানলাম ওরা ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ নামের দেশিও একটি সংগঠন যারা ডেইলি টেন মেম্বার সংগ্রহ করে। মানে হলো দিনে ১০ টাকা করে জমায়ে মাসে ৩০০ টাকা ওদের দিলে ওরা প্রত্যেক দিন এক বেলা তাদের তিন কি চারটা ভালো কাজের হোটেলে পথের ছিন্নমূল লোকদের খাওয়ায়। ওদের কিচেন খিলগাঁও এ আর ওদের বেশ কয়েকটি ডেইলি টেন স্কুলও আছে। ওদের কাজকর্ম সবই আমার খুব ভাল লাগলো। এরা তো মানবতার কাজ করছে আর মুসলিম সংগঠন গুলো হাদিস কোরান ঘাটা ঘাটিতে এতটাই ব্যস্ত যে তাদের সামাজিক দায়িত্বটাও ভুলে গেছে। ইয়ুথ ফর বাংলাদের ডেইলি টেন মেম্বার দের জন্য (যারা ওয়েব পেজে ঢুকে রেজিস্ট্রেশন করে) একটা করে মাটির ব্যাংক পাঠায়ে দেয় যাতে সদস্যরা প্রত্যহ ১০ টাকা করে সংগ্রহ করে মাস শেষে তাদের ৩০০ টাকা দিবে। এছাড়াও ওদের ওয়েব পেইজে কেউ যদি ২০ জন কিংবা ৩০ জনের বা আর বেশি জনের তিনটা সেট মেনুর যে কোনটা খাওয়াতে চায় তাও পারবে, তাতে যা খরচ হবে তা হিসাব করে দেয়া আছে ওখানে।  ওদের সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর জানলাম ওরা শেয়ারে কোরবানির আয়োজন করে, এটা জেনে ওদের সাথে ২০২৩ সালের কোরবানি ওদের সাথে দিলাম। ওরা তিন ভাগের একভাগ নিয়ে নিবে জেনে খুশি হলাম যে তৃতীয় ভাগটা যথাযথ বিতরণ হবে। ওরা সঠিক হিসাব দিল ও কিভাবে তৃতীয় ভাগটা বিতরণ করেছে তারও বিস্তারিত বিবরণ পাঠাল।

ওদের কাজকর্মে আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে আমার পরিচিত সবগুলো অনলাইন গ্রুপে ওদের সম্পর্কে বললাম আর ওদের কাজ কর্মের সাথে সম্পৃক্ত হতে বললাম। এখানে এসে আমার নতুন অভিজ্ঞতা হলো। লোকজন তাদের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলো। আমি ওদের যাচাই বাছাই করার সব লিংক গুলো সরবরাহ করার পরও কার কার সন্দেহ গেল না আর অনেকেই এ সব বিষয়গুলোতে উদাসীন বলে মনে হলো। সব থেকে অবাক করা ব্যাপার হলো আমার যে সব বন্ধুরা আগে অতটা ইসলাম সচেতন ছিল না কিন্তু ইদানীং লম্বা দাড়ি রেখে মহা মুসুল্লি হয়ে গেছে তাদের মধ্যে নামাজ রোজা হজ্জ্ব নিয়ে যত উন্মাদনা কিন্তু সমাজের অবহেলিত ও অভাবগ্রস্তদের নিয়ে তেমন মাথা ব্যথা নাই। তারা যাকাত দিবে অথরিটি ছাড়া আর পথে ঘাটে দু চার টাকা দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিকে চলমান রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে তাতে তাদের কিচ্ছু যায় আসে না। কিন্তু এটা কি ইসলামের শিক্ষা ছিল কোন দিন? হুজুররাও সমাজে এসব বিষয়ে মানুষদের সচেতন করে না। মুসলিম প্রধান দেশে ভিক্ষাবৃত্তি তাই একটা চিরাচরিত ব্যবস্থা। একটা হলিউড মুভিতে দেখিয়েছিল মক্কা দিয়ে যাওয়ার পথে ফকিররা গাড়ির জানালা দিয়ে ভিক্ষা চাইলে ওরা আঙ্গুল দিয়ে উপরের দিকে দেখায় যার মানে হলো আল্লাহ ফয়সালা দিবে। এটা ওদের মুভিতে হাস্যকর হিসেবে দেখিয়েছিল। আমি ছোট বেলায় লিবিয়ার তবররুক শহরে ছিলাম ওখানেও দেখেছি মিসকিন আছে, ওরা বিদেশিদেরকেও মিসকিন বলতো। ইসলামে রাস্তা থেকে একটা ময়লা সরানও সুন্নত, এমনও কথা বলা আছে সারা জীবন দেহপসারীনির কাজ করছে অথচ একটা বিড়ালকে দয়া করে পানি পান করিয়েছে তা হলে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। এই সব কথা থেকে এটা প্রায় নিশ্চিত যে ইসলাম মানবতার কথা বলে অথচ আজকের মুসলিম শহর গুলো ফকির মিসকিনে ভরা। এটা কোন কথা হলো? ইসলাম কি শুধু নামাজ রোজা হজ্জ্ব জাকাত আর কালেমা এই পাঁচ টা জিনিস নাকি এর সামাজিক একটা দায়বদ্ধতা রয়েছে। মুসলিম হোক বা অমুসলিম হোক সমাজে যত অসংগতি তার প্রতি দৃষ্টি দেয়া ওই সমাজের সকলের দায়িত্ব আর সমাজ থেকে ময়লা আবর্জনা আর ভিক্ষুক দুর করাও সবারই দায়িত্ব। নগর পিতাদের উদ্দেশ্যে তাই আবারও অনুরোধ জানাচ্ছি, এই বিষয়গুলোর দিকে আপনাদের সদয় দৃষ্টি দিন। 

আপডেট হিস্ট্রিঃ ২৬নভেম্বর২০২২> ৩০নভেম্বর২০২২> ১ডিসেম্বর২০২২> ২৫মে২০২৩> ১১জুলাই২০২৩>