Thursday, October 27, 2022

সমসাময়িক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে আমার রাজনৈতিক অভিমত

বেশ কয়েক বছর আগে ১৩-১২-২০১৮ তারিখে লিখেছিলাম “রাজনীতি কি যেন তেন ব্যাপার” আজ আবার প্রয়োজন বোধ করলাম আমার মতামতটা পর্যালোচনা করার। আমি কোন রাজনৈতিক দল কিংবা গোষ্ঠীর সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত নই তার মানে আমি একেবারে নিরপেক্ষও নই। পক্ষপাতিত্ব বলতে যা বোঝায় তা হলো কোন মতাদর্শের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি। আমার সেটা নেই, বরং বলা চলে সমকালীন রাজনীতির গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে আমার মতামতও পরিবর্তিত হয়। রাজনৈতিক পরিভাষায় যাকে বলে ফ্লোটিং ভোটার আমি অনেকটা তাই। তাই আমি দাবি করি আমি নিরপেক্ষ দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে মতামত দেয়ার সামর্থ্য রাখি। আমি দু দু বার ভোট গ্রহণের সময় এসিস্ট্যান্ট প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি আর দু বারই চোখের সামনে ভোট গ্রহণে দুর্নীতি হতে দেখেছি। এই দেশে তাই নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায় না তার পরও বোলব জাতীয় প্রয়োজনে সকলেরই একটি রাজনৈতিক মতামত থাকা অত্যাবশ্যক। আমরা সামরিক শাসন চাই না জনগণই হওয়া উচিত সকল ক্ষমতার উৎস। যারা রাজনীতি নিয়ে মতামত দেয়ার যোগ্যতা রাখেন তারা দেশের চলমান রাজনীতির বিষয়ে আমার চেয়ে অনেক অভিজ্ঞ আর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলীর প্রতি তাদের রয়েছে সমকালীন খবরাখবর। আমি অতটা খবর রাখি না তার পরও লোকজনের কথাবার্তা মন্তব্য ও পেপার কিংবা টিভি নিউজ দেখে আমার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে যতটুকু মতামত তৈরি হয় তার প্রেক্ষিতেই লিখে প্রকাশ করলাম আমার ধারণাগুলো। রাজনীতি নিয়ে গতবার যা লিখেছিলাম পড়ে দেখলাম সেই ধারনা গুলোর আমার মধ্যে তেমন কোন পরিবর্তন হয় নাই তবে তার শেষে নতুন কিছু যোগ করার প্রয়োজন আছে। আমার আগের লেখাটা পুনরাবৃত্তি করে এর শেষে নতুন কিছু যোগ করলাম আমার সমসাময়িক মতামত প্রসঙ্গে।

আর আর কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো জাতি একটি মতামত দিবে পরবর্তী পাঁচ বছর কারা দেশ চালাবে। প্রত্যেকবার নানা ঝামেলা হয় এই সময় গুলোতে, সাধারণ মানুষের মতামত তাই নানা রকম, কেউ বলে আমার ভোট আমি দেওয়ার আগেই দেয়া হয়ে যায়, লাভ কি ভোট দিয়ে? কারচুপি তো হবেই।  যে যায় লংকায় সেই হয় রাবণ। সব শিয়ালের এক রা। এই বিশাল জন সমষ্টিতে এরকম নানা মতামত তো থাকাটাই স্বাভাবিক। আর উন্নয়নশীল দেশ গুলোতে দুর্নীতি? তা কম বেশী সকল দেশেই আছে। অনেক জনমতের মধ্যে একটি মত এরকম যে, রাজনীতি করে খারাপ লোকে, অর্থ ও ক্ষমতার প্রতি যাদের লোভ তারাই এই নোংরা রাজনীতিতে সময় দেয়। মজার ব্যাপার হলো এঁরা কোন রাজনীতির কথা বলছে? রাজনীতি কিন্তু সকল গোষ্ঠিবদ্ধ মানবিক কর্মকাণ্ডতেই আছে। সর্বনিম্ন তিন জনের প্রতিষ্ঠানেও রাজনীতি হয়। উল্লেখিত মতটি মূলত জাতীয় রাজনীতিকে উদ্দেশ্য করে বলা। একটি বিশাল জন গোষ্ঠিকে একক ভাবে সঠিক দিকে পরিচালনা করা, ঐ জন গোইষ্ঠির নানা মানুষের নানা মত, নানা ভেদ-বিভেদ, ভাল-মন্দ, সুবিধা-অসুবিধা অতিক্রম করে তাদের একক নেতৃত্বে সুনির্দিষ্ট দিকে পরিচালনা করা কি ভাবে একটি নোংরা কাজ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে? অনেকে বলবে যারা রাজনীতি করে তারা ভাল লোক নয়, রাজনীতিতে ভালো লোক থাকলে দেশ ও জাতীর আজকে এই দুরবস্থা হতো না। ভালো লোক বলতে তারা আসলে কাদের কথা বলছে? ফুটবলের মাঠে ক্রিকেটার নামালে তারা হয়তবা ভালই খেলবে বা অন্তত খেলতে পারবে কিন্তু মাঠে ভাল লোক নামাতে গিয়ে যদি কবি-সাহিত্বক-তাত্ত্বিক-জ্ঞানী লোক নামায়ে দেয় তবে খেলার মাঠ সংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনীতি করবে যারা রাজনীতি বোঝে, যাদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা আছে, যারা সমাজের সকল স্তরের লোকদের জীবনযাপন গভীর ভাবে অনুভব করার ক্ষমতা রাখে। এই লোকেরা তাত্ত্বিক নাও হতে পারে, হলে ভাল কিন্তু দেশ ও সমাজের সকল স্তরের মধ্য হতেই তাদের উঠে আসতে হয় বিধায় লোক গুলো উচ্চতর স্তরের লোকের কাছে নোংরা মনে হলেও করার কিছু নাই, লোকটি খেলতে জানে কিনা তা এখানে বিচার্য । জাতীকে ভালবাসে কি না, সাধারণ জনতা ও জনমতকে মূল্যায়ন করে কি না, জাতীর উদ্দেশ্য সম্পর্কের সচেতন কি না? নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা আছে কি না? বিরোধ মীমাংসা করতে পারে কি না? ইত্যাদি বিষয়ে পারদর্শিতাই তাকে রাজনীতি করার উপযোগীতা বিচারের মাপকাঠি হওয়া উচিত। সে উচ্চ শিক্ষিত হলে তো অনেক ভাল কিন্তু তা হওয়াটা আবশ্যকীয় নায়। এই যে এইটি আবশ্যকীয় নয় তা অনেকে মানতে চায় না, এটা কি সম্ভব যে দেশের সবকটি লোক সমান ভাবে উচ্চ শিক্ষিত হবে, সব একই রুচির হবে, সবাই যেহেতু একই ভাষায় কথা বলে তাই সবাইকে একই ভাবে চিন্তা করতে হবে?

রাজনীতি কি নীতির রাজা নাকি রাজার নীতি তা নিয়েও অনেক বাক বিতণ্ডা রয়েছে। আমার মতে এটি দুটোই। রাজাই নীতি প্রণয়নের অধিকার সংরক্ষণ করতো, আজ প্রজাতন্ত্রে এই নীতি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রণীত হয়। তাই এটি রাজার নীতি বটে, আবার সকল নীতির নেতৃত্ব স্থানীয় নীতি হিসেবে এটি নীতির রাজাও বটে। মূল কথা রাজনীতিতে সকলের অংশ গ্রহণ করা উচিত, সক্রিয় রাজনীতি না করলেও সবার উচিত রাজনীতির খোজ খবর রাখা, তা সবাই করেও কিন্তু জিজ্ঞাসা করলে বলবে, ভাই, রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাই না, সব গুলোই চোর। দুর্নীতিবাজ লোকগুলোকে যদি আপনি মাঠ ছেড়ে দেন তো তারা চুরি করবে না কেন? এর জন্য তো ওরা নয় বরং আপনাকে দায়ী করা উচিত। সমাজের দায়িত্ব সম্পন্ন লোকগুলো যদি তাদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ না করে তবে অসৎ/অসাধু লোকেরা তার সুযোগ নিবেই। যে কোন চা’এর দোকানের আড্ডায় রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডায় রাজা উজির মারার প্রবণতা আছে। ঠিক ভেটের আগদিয়েই চা’এর কাপে ঝড় উঠে। এ সব আলোচনা রাজনীতিতে আপাত কোন প্রভাব ফেলে বলে মনে হয় না, তবে জনমত যাচাইয়ের জন্য ভাল তথ্য প্রদান করে। ওই আড্ডায় যদি একজন অন্তত শিক্ষিত লোক উপস্থিত থাকে ও অংশগ্রহণ করে তবে আলোচনা ভালোচনায় পরিণত হতে বাধ্য। আজকালকার টিভি টক-ঝাল শো গুলো ইদানীং রাজনৈতিক জনমত গঠনে ভালো ভূমিকা রাখছে বলে অনুমান করা যায়।

বেশ কিছুদিন আগে এক বড় ভাই বলেছিল, বাঙ্গালীরা কোন কিছু সহজভাবে গ্রহণ করে নি কোন সময়। এদেশের জনগণকে আলু খাওয়ান শিখিয়েছে পর্তুগীজরা, কিন্তু তারা কখনো আলু ভর্তা করে খায়নি। বাঙ্গালীদের সবকিছুই যেন একটু বেশী বেশী, আবেগ প্রবণতার প্রভাবে আসল বিষয়বস্তু গোলায়ে ফেলে। সেই গোপালের আমল থেকেই মাৎস্যন্যায় অবস্থাতেই নির্বাচন / নির্ধারণ হয়েছে রাষ্ট্র ক্ষমতার। একটু উনিশ বিশ করে সেই একই অবস্থা আজো বহাল আছে। রাজা-প্রজা সম্পর্ক কিংবা মালিক-দাস প্রথা আজ ভিন্ন ভাবে চালু আছে, যাদের তৃতীয় নয়ন আছে তারা তা ঠিকই দেখেতে পায়। সম্পদের সমান বন্টন স্বাভাবিক নয়, সুষম বন্টন হওয়াটা কাম্য কিন্তু সুষম হওয়ার মানদণ্ড কি হবে এবং কে তা নির্ধারণ করবে সে বিষয়ে কোন মীমাংসা আজো হয়নি। সর্বজন সম্মত মানদণ্ড বিধাতা ছাড়া কোন মানব বা মানবগোষ্ঠির পক্ষে প্রণয়ন করা সম্ভব নয়। পক্ষপাত মুক্ত মানব মন সম্ভব নয়। নিজের ভাই, নিজের ছেলে, আমার আত্মীয় ইত্যাদি বিষয়গুলো মানব মনে সাধারণ থেকে নিকটবর্তী হিসেবে বিবেচিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। এটি যদি না হয় তবে বলতে হবে সে অতিমানব বা দেবাত্মা।

দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিছুটা নিরপেক্ষ মতামত এরকম হতে পারে যে, যেহেতু এই মুহূর্তে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা একটি চলমান প্রক্রিয়াতে রয়েছে আর যেহেতু এই প্রক্রিয়ায় চলমান থাকলে অদূর ভবিষ্যতে কিছু বৃহৎ প্রকল্প সফল ভাবে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাই তাকে সেভাবেই চলতে দেয়া উচিৎ। হটাত গাড়ির চালক পরিবর্তন  করলে কিংবা রোড ম্যাপ বদল করলে গন্তব্যে পৌছান দুষ্কর হয়ে যেতে পারে। কেবল খাম খেয়ালী-পনা করে কেউ যদি এরূপ মনোভাব পেষণ করে যে, গত বার যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের বদলে দেখা যাক না অন্যরা হয়তবা আরো ভাল ভাবে দেশ চালাবে, যে সিদ্ধান্তের সাথে দেশের সকল ব্যক্তির ভাগ্য-জীবনযাপন জড়িত, যে সিদ্ধান্তর জন্য দেশের সকলের মতামত চাওয়া হচ্ছে, সে মতামত এত সহজে নেয়া উচিত নয় বলে আমি মনে করি। নিরপেক্ষ দৃষ্টি কোন থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যারা যোগ্যতার বিচারে সঠিক বলে মনে হয় তাকেই নির্বাচন করা উচিত।

গত পাঁচ বছর আগের পরিস্থিতি আর আজকের পরিস্থিতিতে পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নিরপেক্ষ বিচার বিশ্লেষণে বলা যায় যে, গত বছর গুলতে দেশের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতিতে তেমন কোন বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে নাই। বর্তমান সরকার স্বাভাবিক দক্ষতার সাথেই উদ্ভূত সমস্যাগুলোর মোকাবেলা করেছে। কিছু এদিক ওদিক হয়েছে কিন্তু ৫০ বছরের দেশটা বয়সে বেশি বড় নয়, তাই সামান্য এদিক ওদিক হওয়াটাকে তেমন কোন বড় বিপর্যয় বলা ঠিক হবে না। সব থেকে বড় কথা হলো, ধরতে গেলে দেশটাতে দল আছে মোটে দু টা। বাকি গুলা এত ছোট যে তারা জাতীর পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব নেয়ার যোগ্যতা রাখে না। দুটো দলের একটি ক্ষমতায় আছে আরকেটি টিকে আছে তার অতি পূর্বের কিছু অর্জনের জন্য। দুটো দলের মধ্যে শক্তিশালীটিই ক্ষমতায় আছে আর দুর্বলটি সম্পর্কে তার ক্ষমাতয় থাকাকালীন সময়ে কৃত অপকর্ম গুল মানুষ এখনও ভুলে যায় নাই বলেই মনে হয়। আমি রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন হই ১৯৮৫ সাল থেকে, হোসিইন মোহাম্মদ এরশাদ এর সামরিক শাসন এবং ১৯৯০ এর পর তিন তিন বার তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র মুক্তি পাক’এ উত্তরণ। তার পর পর্যায়ক্রমে দুটি মূল দলের শাসনামলে এর পালা বদল শেষে আবারও রাজনীতিকে সামরিকীকরণের প্রচেষ্টার ব্যর্থতার পরবর্তী আওয়ামীলীগের পর পর দু বার শাসনামলের সব কিছুই দেখলাম। আমার বিগত ৩৭ বছরের অভিজ্ঞতা বলে যখন বর্তমানের ক্ষমতা বহির্ভূত দলটি ক্ষমতায় থাকে তখন প্রশাসনিক ও দেশ পরিচালনার সকল জাতীয় কল কব্জা গুলো কিছুটা হলেও ঢিলা হয়ে যায়। আর বর্তমান দল যেটি বর্তমানে ক্ষমতায় আছে তা’র সময়ে এই কল কব্জা গুলতে যথাযোগ্য লোকগুলো তার তার দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করায় দেশটা দ্রুত আগায়ে যায়। এটা আমার অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান যা কারো মতামত দ্বারা প্রভাবিত নয়। আওয়ামীলীগের দাবি বিএনপি জন-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, কথাটা কম বেশি সত্য। বিএনপিতে নেতৃত্বদানকারী লোকবল কমে গেছে তা যে কারণেই হোক বুঝা যায়। ২০০৪ সাল হতে বর্তমান পর্যন্ত যতগুলো রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় লোকজনের সাথে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়েছে তাদের মধ্যে বিএনপি পন্থী লোকগুলোর মধ্যে প্রচুর নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করেছি যা আওয়ামীলীগ পন্থীদের মধ্যে দেখি নাই। এই অভিজ্ঞতাও আমার পক্ষপাত দুষ্ট মানসিক অভিজ্ঞতা নয় বরং নিরপেক্ষ বিচার থেকেই বলছি। যদিও সর্বাংশে নিরপেক্ষ নির্বাচন এখনো এদেশে আশা করা যায় না তার পরও কেউ না কেউ কোথাও না কোথাও কল কাঠি নেরে সূক্ষ্ম ইঞ্জিনিয়ারিং করে লোক চক্ষুর অন্তরালে কাউকে না কাউকে ক্ষমতায় বসায়। তার পরও বলবো গণতাত্রিক ভাবে প্রস্তাবিত এই দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচন এর আর প্রয়োজন নেই কিংবা বলা যায় যুক্তি যুক্ত নয়। সংবিধান অনুযায়ী কারো হস্তক্ষেপ বহির্ভূত ভাবে নির্বাচন কমিশনকেই নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে এ দায়িত্বে। ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এ দেশে পুলিশ প্রহরায় সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হয় মানে হলো এদেশের মানুষ এখনও ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রর মূল সঞ্জার সাথে সহমত নয় কিংবা অসম্পূর্ণ ধারনা পোষণ করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি বিন্দু মাত্র সম্মানবোধ রয়েছে বলে মনে হয় না বরং রয়েছে ঘৃণা ও সংঘাত প্রবণতা। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এই জনগোষ্ঠী মনে হয় যেন জানে না এখানে মানুষের মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা সাংবিধানিক ভাবে ও আইনগত ভাবে সংরক্ষণ করা হয়। গণতন্ত্রের মূল চারটি স্তম্ভ বা পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা তথা (১) ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, (২) বিশ্বাসের বা ধর্মীয় স্বাধীনতা, (৩) মালিকানার পূর্ণ স্বাধীনতা আর (৪) ব্যক্তিগত মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা। এই চারটি স্বাধীনতা আইনগত ভাবে ও সংবিধানগত ভাবে সকল নাগরিকের জন্য মান্য করা বাধ্যতামূলক। তাই যদি জনগণ বুঝত তা হলে কিছু বিতর্কিত বিষয়ে মতামত প্রকাশের জন্য কেন কিছু লেখককে দেশান্তর হতে হলো কিংবা নির্যাতনের শিকার হতে হলো আবার কিছু ব্লগারকে হত্যা পর্যন্ত করা হলো? এ থেকে বুঝা যায় এ জাতির জনগণ এখনও সংবিধানের কয়েকটি বিষয়ে সর্বসম্মত ভাবে একমত হতে পারে নাই। আমার অভিমত দেশ ও জাতির বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামীলীগকেই আগামী টার্মের জন্য ক্ষমতায় আনা উচিত আর দেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ জনগণকে এর পক্ষেই মত দেয়া উচিত। সমসাময়িক প্রেক্ষিতে এটি আমার একান্ত ব্যক্তিগত পক্ষপাতশুন্য নিরপেক্ষ অভিমত যা সময়ের সাথে ঘটনা প্রবাহের প্রেক্ষিতে অর্জিত অভিজ্ঞতার সাপেক্ষে স্বাভাবিক ভাবেই বদলাতে পারে। চলমান রাজনীতি একটি প্রবাহমান বাস্তব প্রক্রিয়া যাতে ধ্রুব বলে কিছু নাই। 

আপডেট হিস্ট্রিঃ ১৩ডিসেম্বর২০১৮ > ২৮অক্টোবর২০২২

Monday, October 3, 2022

মিথ্যা কি সত্যিই একটি অপরিহার্য বাস্তবতা

আনুমানিক ২০১২ সালের জুপিটার এ্যাসেন্ডিং মুভির মিথ্যা বিষয়ক কিছু ডায়ালগ আমাকে মারাত্মক অবাক করে দিয়েছিল। ডায়ালগ গুলো ছিল এরকম যে, মিথ্যা একটি অপরিহারযোগ্য বাস্তবতা। মিথ্যার অবর্তমানে সত্যকে যুক্তিযুক্ত করা যায় না, ইত্যাদি কয়েকটা বাক্য। ধ্রুব সত্য, আপেক্ষিক সত্য ও সত্যবাদিতা (Absolute truth, relative truth and truthfulness) নিয়ে কথা বলা অত্যন্ত ঝঁকিপূর্ণ কারণ সত্যকে চ্যালেঞ্জ করার মত সৎ সাহস খুব কম মানুষেরই আছে। আমরা মিথ্যা বলি না বা বলতে চাই না কিন্তু আমাদের বক্তব্য কতটা সঠিক সত্য তাকে সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। সত্য-অসত্যর ব্যবধানটা কতখানি? বা কোথায়? সত্য কি সবসময়ই আপেক্ষিক নাকি বাস্তব সত্য বলে আরো কিছু আছে। বক্তব্যর দ্ব্যর্থকতা নিয়ে একটা দার্শনিক আরটিক্যালে এরূপ পড়েছিলাম যে, বাস্তবতা কেবল দ্ব্যর্থকই নয় বরং দৃষ্টিভঙ্গি নির্ভর বিভিন্ন প্রকার অর্থবোধকও হতে পারে। তার আগে বুঝে দেখি সত্য বলতে সচরাচর কি বুঝান হয় বা আমরা কি বুঝে থাকি। যা ঘটে তা বর্ণনায় অতিরিক্ত বা কম বলা কিংবা তার সাথে অতিরঞ্জিত করে আরও কিছু সংযোজন করে বলা বা সম্পূর্ণ অন্য কিছু বলাই কেবল মিথ্যা নয় এমনকি কোন সত্য গোপন করাও মিথ্যার সমার্থক। সত্য গোপন করা বা সত্যর সাথে মিথ্যার মিশ্রণ করা উভয়েই সমান মিথ্যা। এর উপর আবার মিথ্যার প্রকার ভেদ আছে, যেমন ছোট মিথ্যা আর বড় বা ঢাহা মিথ্যা। ছোট মিথ্যা হলো সামান্য ঘটনা যা না বললেও কিছু যায় আসে না কিংবা কিছুটা ঘুরায়ে বললে বড় কোন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এরূপ ভাবনা থেকে যে  সব মিথ্যা বলা হয় তাকে ছোটখাটো মিথ্যা বলা হয়ে থাকে। আর ডাহা মিথ্যা হলো সত্যকে সম্পূর্ণ অন্য কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন করা। সত্য গোপন করা যে মিথ্যা হতে পারে তা আমার মনে হয় অনেকেই জানে না কিংবা ঠিক মিথ্যার পর্যায়ে ফেলে না। সকলের মনে সত্য মিথ্যা সম্পর্কে একই ধারণা না থাকায় সমাজে এর ভুল প্রয়োগ হয় আর নানা ঝামেলার সৃষ্টি করে।  সত্যকে স্পষ্ট করে বুঝতে না পারলে কিংবা মিথ্যার সাথে সত্যের পার্থক্য করতে না পারলে যতই সততা সংঘ কিংবা শুদ্ধাচার সংঘ করা হোক না কেন সমাজ থেকে মিথ্যাচার দুর করা যাবে বলে আমার মনে হয় না। আর মিথ্যাচার থেকেই সকল প্রকার দুর্নীতির সূত্রপাত বলা যেতে পারে। ”সদা সত্য কথা বলিব” এই প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ অনেকের সেই স্কুল জীবন থেকেই শুরু হয় তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত চলতে চলতে তা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। ছোট খাট মিথ্যা তো মানুষ অহরহ বলছে আর সত্য গোপন হর হামেশাই করে চেলেছে অনেকে। এমনকি কথা একটু ঘুরায়ে বলার ডিপ্লোম্যাসি আয়ত্ত করার চাতুর্যকে অনেকে সফলতার কৌশলও মনে করে। সত্য বলতে গিয়ে নিজের পায়ে কুড়াল মারার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে মিথ্যা বলাই শ্রেয় এটাই এখনকার প্রচলিত মতামত। এরূপ মন ভঙ্গিকে কি আপনি স্বাভাবিক কলতে পারেন? 

একটি ঘটনা বাস্তবে যখন ঘটে তখন তা নানা জন নানা ভাবে অনুধাবন করে তাই পরবর্তীতে তাদের বর্ণনাতেও পার্থক্য পাওয়া যায়। এই পার্থক্যকে কি আমরা মিথ্যা বলতে পারি? সকলেই সৎ ভাবে ঘটনাটি বর্ণনা করেছে তাহলে মিথ্যাটা কোথায়? অনেক সময় তারা মূল ঘটনার ছোটখাটো অংশ ভুলে যায় আর অনুমানের উপর নির্ভর করে বক্তব্য দেয়, এই অনুমান নির্ভর বক্তব্যও তো সঠিক নয়। অতিরিক্ত বিশেষণ সংযোজন করে অতিরঞ্জনও বাস্তব ঘটনার বিকৃতিকে নির্দেশ করে। ভুল বলা আর মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যটা মূলত মানুষের অভিপ্রায় বা ইনটেনশন নির্ভর বক্তব্য। একজন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে সত্যকে বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করে তা সে তার স্বার্থ সিদ্ধির জন্যেই হোক বা না হোক তা মিথ্যার পর্যায়ে পরে যাবে। তাই মানুষের কুচিন্তা/অসৎ ইচ্ছা প্রসূত সত্য উপস্থাপনই মিথ্যা। 

মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো সত্য বলা তাই মানুষ তখনই মিথ্যার আশ্রয় নেয় যখন তার সাথে স্বার্থ জড়িত থাকে। মিথ্যার মাধ্যমে সে কোন বিপদ থেকে বাচতে চায় কিংবা কোন উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। মানুষের খারাপ অভিপ্রায় থেকেই মূলত মিথ্যার সৃষ্টি হয়। অনেকে মধ্য পন্থা অবলম্বনের কথা বলে যা সত্যও নয় আবার মিথ্যাও নয় অনেকটা ডিপ্লোম্যাটিক বক্তব্য, কিন্তু এরূপ বক্তব্যও মিথ্যা কারণ তা সত্যকে গোপন করে কিংবা তা প্রকাশ করা থেকে বাধা দেয়। ছোট খাট কয়েকটা মিথ্যার উদাহারন দিলেই বুঝা যাবে এই মিথ্যা কতটা প্রচলিত ও সমর্থিত। বস একটা কাজ করতে দিয়েছিল দু এক দিন আগে, আজ জিজ্ঞাসা করতে বলা হলো কাজটা চলছে আদতে সে কাজটা বা ফাইলটা ধরেই দেখে নাই। এটা অনেকটা জনি জনি ইয়েস পা পা, ইটিং সুগার নো পা পা, ওপেন ইওর মাউথ, হা হা হা এর মত মিথ্যা। ধরা পরলে হাসি দিয়েই উতরে যাওয়া যায় মিথ্যা। একটা মিথ্যাকে ঢাকতে অনেক সময় এটার পর একটা মিথ্যা বলতে হয় আর এর এক পর্যায়ে শাক দিয়ে যেমন মাছ ঢাকা যায় না তেমনি নিজের দোষটা বের হয়ে আসে যে সে মিথ্যা বলছে। ছোট ছোট মিথ্যা বলা থেকেই বড় সড় মিথ্যা বলার চর্চা শুরু হয়। কেউ কেউ যত্র তত্র মিথ্যা বলতে বলতে সিদ্ধ হস্ত হয়ে যায়। তাদের কেউই আর বিশ্বাস করতে পারে না। ২০১৫ সালের দিকে লাভের আশায় আমার বাড্ডার বাসার কেয়ারটেকারের বড় ছেলের প্ররোচনায় নিটোল মটরস থেকে একটা টাটা ইএক্স-২ পিক আপ ভ্যান কিনেছিলাম। ওর কথা ছিল গাড়িটা রাস্তায় নামাতে ১ লক্ষ টাকা লাগবে আর মাসে মাসে ২২ হাজার টাকা কিস্তি দিয়েও প্রতি মাসে ৩০ কি ৪০ হাজার টাকা বাড়তি থাকবে। হাতে টাকা ছিল তাই গাড়িটা রাস্তায় নামালাম, কয়েক মাসে সত্যটা পাওয়া গেল, মাসে মাসে ২২ হাজার টাকা জোগাড় করাই কষ্ট হয়ে দাঁড়াল। ও নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য আমাকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়েছিল। একবার জিপিএস ট্রেকার চেক করে দেখলাম ড্রাইভার সারা রাত গ্যারেজে গাড়ি রেখে পরদিন সকালে বলে কি না সে সারা রাত পুলিশের রিকুইজিশান এর ডিউটি দিয়েছে। যা ছিল পুরপুরি মিথ্যা। তার পরপরই ও’র কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে নিলাম। ভাগ্যিস গাড়িতে জিপিএস ট্রেকার লাগান ছিল। বহু কষ্ট হয়েছিল গাড়িটাকে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার সময় আর লসের কথা না হয় নাই বললাম।

মানুষের সন্দেহ প্রবণতাও অনেক সময় সত্যকে মিথ্যায় পর্যবসিত করে। গাড়ির ব্যাটারিটা বসে গেছে, ড্রাইভারকে বলা হয়েছিল কয়েকদিন পর পর গাড়ি চালু করে রাখতে যাতে ব্যাটারিটা বসে না যায়। সে তাই করেছে। কিন্তু ডাস্ট ব্যাটারি হওয়ায় ব্যাটারিটা বসে যায়। মালিক তো তার উপর মহা খেপা, তার বিশ্বাস ড্রাইভার নিয়মিত গাড়ি স্টার্ট দেয় নাই। সে মিথ্যা কথা বলছে। এটা কি মিথ্যা না কি সত্য তা যাচাই করার উপয় নাই। হতে পারে ড্রাইভার মিথ্যা বলছে কিন্তু কেন সে তা করবে। সে যদি পুরান হয় তবে তার অপরাপর আচরণগুলো বিচার করলেই কিন্তু সত্য টা পাওয়া যায়। মিথ্যা বলার পিছনে তো একটা যুতসই উদ্দেশ্য বা এলিবাই থাকতে হবে। গাড়িটা নিয়মিত চালু করা তেমন কোন কঠিন কাজ নয় আর তা সে করবেই বা না কেন যদি না তার কোন অসৎ উদ্দেশ্য থাকে। আমার সরল বিবেচনায় ড্রাইভার মিথ্যা বলছে না বরং তাকে অযথা মিথ্যাবাদী বানান হচ্ছে কেবল মাত্র সন্দেহর উপর ভিত্তি করে। গাড়ি চাপা পড়ে একজন আহত হলো জুরিসপ্রুডেন্সের কাজ হল গড়ির ড্রাইভারের অভিপ্রায়কে মূল্যায়ন করা।, সে কি ইচ্ছাকৃত ভাবে ওই ব্যক্তিকে আহত করতে চেয়েছিল না কি বিষয়টি একটি অসাবধানতা বসত দুর্ঘটনা। এই অভিপ্রায় যদি নেতিবাচক হয় তবে ড্রাইভারটি দোষী অন্যথায় সে নির্দোষ। 

মানুষে মানুষে যোগাযোগ বা কমিউনিকেশন গ্যাপের কারণেও মিথ্যার সৃষ্টি হয়। ভুল বুঝাবুঝি হর হামেসাই লোকজনের মাঝে চলতে থাকে। সবার কথা বলার দক্ষতা সমান না, একটা বলতে গিয়ে অন্যটা বলে বসে। সবার মেধা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতাও সমান হয় না। ভাষা গত বিভ্রাট, শব্দের অর্থের ভুল ব্যাখ্যা বা ভিন্ন অর্থে শব্দের ব্যবহার অনেক ঘটনাকে ভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করে। অসাধু সংবাদিকরা এ ব্যাপারে ওস্তাদ বটে। ক থেকে কর্কশ কাক হবে না সুরেলা কোকিল হবে তা তারা লেখার আগেই ঠিক করে নেয়। এখানেও দেখা যাচ্ছে মানুষের অভিপ্রায় বা উদ্দেশ্যর অস্পষ্টতা বা নেতিবাচকতাই মিথ্যার জন্ম দিচ্ছে। গাড়ী চাপায় দু জন ছাত্র-ছাত্রী মারা গেছে এ বিষয়ে সংবাদিকরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয়ের মন্তব্য জানতে চেয়েছে, বেচারা মন্ত্রী তখনও বিষয়টি বিস্তারিত জানেন না, আর সে একটা ভিন্ন বিষয়ের মিটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তাই স্বভাব সুলভ হাসি দিয়ে সে তার পরিস্থিতিটা বর্ণনা করেছে মাত্র। ব্যাস সংবাদ রটে গেল দু জন ছাত্র ছাত্রী মারা গেছে অথচ মন্ত্রী মহোদয় তা নিয়ে হাসছে ও একে তুচ্ছ ঘটনা হিসেবে বিচার করছে। উক্ত মন্ত্রী মহোদয় এর সকল বিষয়ে হাসি দিয়ে কথা বলাটা একটা প্রকট মিথ্যা। সে হাসিটা সর্বক্ষেত্রে কৌশলগত ভাবে ব্যবহার করে থাকে সকল পরিস্থিতি হালকা করার জন্য। তার এই মোক্ষম অস্ত্রটা তার জন্য কতটাই না বিপদের কারণ হয়েছিল সেই সময় তা সকলেই জানেন। 

সত্য বা মিথ্যা বলা নিয়ে জনপ্রিয় মুভি বোধ হয় জিম ক্যারির ”লাইয়ার লাইয়ার” যেখানে দেখানো হয় একজন আইনজীবীর পক্ষে সত্য বলাটা কতটা কষ্টকর । ছেলের বার্থডে উইশ ছিল যে তার বাবা আর কখনও মিথ্যা বলবে না, সত্য সত্যই তাই হল, আর সত্য বলতে গিয়ে তার বাবার যে প্রাণান্তকর অবস্থা হয় তাই ছবিটির বিষয়বস্তু। ডাহা সত্য বলতে গিয়ে সে তার চাকরীতে বিপদে পড়লো, বন্ধু বান্ধবদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ হলও আরো কত কি।  সত্য সম্পর্কে এর সঞ্জাটাকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। “সদা সত্য কথা বলিব” বলতে আসলে কি বুঝান হচ্ছে। নিজের ক্ষতি হলেও সত্য কথা বলতে হবে এমন ব্রত কি বর্তমান সময়ে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য করা যাবে? 

সত্যের আপেক্ষিকতা ও সত্য-অসত্য–সততা সংঘ বিষয়ে গুণীজনদের আরো সরব হতে হবে। এটা যেন ধরেই নেয়া হয় যে, সত্য কি তা সবাই জানে বা বুঝে। সবাই বুঝে ঠিকই কিন্তু একেক জন ভিন্নতর ভাবে বুঝে তাই সকলের বুঝের মধ্যে সমতা নাই। শিক্ষার উদ্দেশ্যই হলো সকলের মধ্যে একই ধরনা বা ধারণার সমতা নিশ্চিত করা। কিন্তু ধারনার সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো বড় বড় দুর্ঘটনার কারণ তা হয়ত আমরা চিন্তা করে দেখি না। ধারণাগত বিশৃঙ্খলাই সকল অসত্যর মূলে কাজ করে বলে আমার বিশ্বাস।


এডিট হিস্ট্রিঃ ১৪নভেম্বর২০১৯ > ২৩জানুয়ারী২০১৯ >২২সেপ্টেম্বর২০২২ >০২অক্টোবর২০২২