Sunday, September 6, 2026

বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম এর উপর পর্যালোচনা

 

এই সরকার জনগণের ভোটে ক্ষমতায় বসেছে ১৮০ দিন পার হয়ে গেল । এদেশে আদতে এক সময় চলতো ডাইনেশটি পলিটিক্স , বলাই বাহুল্য বহু আগে বিটিভে তে দেখা টিভি সিরিয়াল ডাইনেস্টির কথা মনে পড়ে যায়, যেখানে কয়েকটা বড় বড় প্রভাবশালী ধনাঢ্য পরিবার পুর দেশটাকে চালায় যেন। রিজিম বা দল আর দলীয় রাজনীতির খোলসে চলে রাজ পারিবার ভিত্তিক ভক্তিমূলক রাজনীতি চর্চা এমনই দেখান হতো ৮০’র দশকের সেই টিভি সিরিয়ালে। এমন দেশ টি কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি, সকল দেশের সেরা সে যে আমার বঙ্গভূমি। এখানে কিছু বলেছেন কি মরেছেন, ”হয় আপনি ওদের দলে না হয় আপনি আমার দলে। চলেন দেশ ও জাতির ভাগ্য নিয়ে আমরা কুত কুত খেলি”, এই মানসিকতা যতদিন থাকবে ততদিন স্বাধীন মত প্রকাশ কিংবা নিরপেক্ষ রাজনীতি চর্চা এদেশে সম্ভব না বলে আমার ধারণা। ছোট্ট একটা উদাহারন দেই, আমার অফিসে ইয়াং কলিগ আসলেন তো তার সাথে কথোপকথনে জানা গেল আমাদের কোর ব্যাংকিং সফটওয়ার এর নানা ত্রুটি নিয়ে সে মহা বিরক্ত, তাকে বললাম ২০০৪ সালে যখন আমি ব্যাংকে জয়েন করি তখন ১২ কি ১৩ টা বিভিন্ন ভেনডরের সফটওয়ার দিয়ে ব্যাংকটা চলতো ছন্নছাড়ার মত, তার পর বহু কাঠ খোর পোরায়ে আমরা একটা সেন্ট্রাল ডাটা সেন্টার পেলাম আর পেলাম একটা ইন হাউজ সিবিএস। যার ফলে বর্তমান ব্যাংকিং পুরপুরি অনলাইন করা সম্ভব হলো ও গ্রাহক সেবার মান বিশ্বমানে উন্নীত করা গেল। যারা নতুন তারা জানে না কতটা পথ পেরিয়ে তবে হেথায় এসেছি, তাই আপনার নতুন চোখে দেখা বিরক্তি গুলো আমাদের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। অনেকটা ওই যে নতুন প্রজন্ম ৭১ কে তেমন একটা গুরুত্ববহ মনে করে না অনেকটা সেরকম। সে যাওয়ার সময় বলে গেল, হ্যাঁ বুঝেছি ”জয় বাংলা”, আমি তো হতবাক, ফোন ব্যাক করে বললাম আমি তো আপনাকে কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দেই নাই, তা হলে আপনি আমাকে কেন একটা রাজনৈতিক দলের স্লোগানের প্রতি অনুরক্ত মনে করলেন? উনি তখন নিশ্চুপ ছিলেন। তখনই বুঝেছি এদেশে আপনি নিরপেক্ষ কোন বক্তব্যই দিতে পারবেন না। হয় আপনি ওদের না হয় আপনি আমাদের। এমতাবস্থায় নিরপেক্ষ কিছু লেখা খুব মুশকিল, তার পরও একটু চেষ্টা করে দেখি। আমার উদ্দেশ্য নিরপেক্ষ বিচার বিশ্লেষণ, পাঠক তা বুঝলেই হয়। আশা করি বহু জটিল মনের বাঙ্গালীর মধ্যে কিছু সরল মনের বাঙ্গালী হয়তো আমার বক্তব্য কিছুটা হলেও নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করবেন। 

দুর্নীতির ওই বেড়াজালে,
দেশটা গেছে রসাতলে
সবাই বলে, কই? কই?
আমি বলি মাথায় ওই।

রক্তেও যে তা মিশে গেছে,
ছাড়াবে তবে কিসের জোরে?
শুদ্ধাচারের মন্ত্র দিয়ে
ধোলাই কর মগজটারে।

এই সরকার যারা বিগত ১৮০ দিন দেশ চালিয়ে চলেছেন তাদের কার্যক্রমের ফলাফল বিচার করাই যেহেতু এখানে উদ্দেশ্য তাই প্রসঙ্গে চলে আসা যাক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ১৮০ দিন (ছয় মাস) পূর্ণ হয়েছে । এ উপলক্ষে প্রকাশিত মূল্যায়ন ও জনমত জরিপ অনুযায়ী, রাষ্ট্রে জনমুখী নীতি ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দলীয় রাজনৈতিক নিয়োগ এবং জ্বালানি সংকট জনজীবনে ও সরকারের ভাবমূর্তিতে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে গণমাধ্যম পর্যালোচনায় দেখা যায়। আমার অত্যন্ত প্রিয় সহপাঠী অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী আলী ভাই এর লেখা থেকে কিছু উদ্ধৃত করার লোভ সামলাতে পারলাম না, “প্রধানমন্ত্রীর VVIP প্রটোকল সীমিত করা, সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট-সুবিধা বাতিল, Family Card ও Farmer Card-এর মতো উদ্যোগ, ক্ষুদ্র কৃষকের ঋণ-সহায়তা এবং পাচার হওয়া সম্পদ ফেরানোর প্রচেষ্টা—এসব পদক্ষেপ নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।” উনি নতুন চ্যালেঞ্জ সমূহ সম্পর্কেও বলেছেন, তা পরে উল্লেখ করবো।

ভালো দিক বা সাফল্য সমূহঃ-

জনকল্যাণমুখী উদ্যোগঃ প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃষকদের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয় । এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড ও প্রবাসী কার্ড চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে । যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একাংশের মনে প্রশান্তি দিবে ঠিকই কিন্তু বিগত অর্থবছরে যাদের নামে দুটা করে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন আছে তাদের থেকে পরিবেশ রক্ষার নাম দিয়ে ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত গাড়ির ট্যাক্স নেয়া কোন বিচারে যৌক্তিক। এটাকে কি সরকারের রবিনহুড মেন্টালিটি বলা যায়? প্রান্তিক চাষীদরে তাৎক্ষনিক একটা সুবিধা দিলেন আর বড়লোকদের মাথায় বাড়ি দিলেন, কারণটা কি? বড়লোকদের সবাই কি অনৈতিক ভাবে সম্পদ অর্জন করেছে বলে মনে করে সরকার? কৃষকদের শ্রমের মূল্য দিলেন আর গাড়ি ওয়ালারা সব পরিবেশ দূষণকারী তাই তাদের উপর খড়গ চালালেন, এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতি অবলম্বনটি ভালো লাগেনি আমার কাছে। তাছাড়া কোন রকম গবেষণা কিংবা আর্থসামাজিক বিচার বিশ্লেষণ ছাড়া কেবল কিছু লোকের পরামর্শে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড ও প্রবাসী কার্ড চালু করলে তাতে সমাজে কি কি উপকার হতে পারে তা পরিমাপ না করেই এরকম একটা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অনেক কেই প্রশ্ন করতে শুনেছি। যা হোক জনগণের জন্য সরকার, জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা ভাবনা করেই মনে হয় উদ্যোগ গুলো নেয়া হয়েছে। ফলাফল ভালো হলে এ প্রসঙ্গে বিরূপ সমালোচনার দরকার দেখি না।

নিত্যপণ্যের শুল্ক হ্রাসঃ সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুল্ক হ্রাস সব সময়ই প্রশংসার দাবি রাখে। শুল্ক হ্রাস মানে অর্থনীতির অবস্থান উন্নীত হয়েছে তাই আর শুল্ক নেয়া লাগছে না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও শুল্ক হ্রাস ভূমিকা রাখে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, বিগত জুলেইয়ে একটা জাতীয় আন্দোলনের পরে দেশের অর্থনীতির অবস্থা সম্পর্কে সবাই কম বেশি বিভ্রান্তির মধ্যে ছিল। দেশে বৈদেশিক রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছিল। দেশ পরিচালনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ঠেকা কাজ চালাচ্ছিল। এমতাবস্থায় দেশের অর্থনীতির চাকা সচল ছিল ঠিকই কিন্তু কতটা ভাল কিংবা কতটা খারাপ তা সহসাই বুঝা যাচ্ছিল না। নতুন সরকার এসে শুল্ক হ্রাস করলো তাও কি না ৬১টি পণ্যে যা থেকে বুঝা যায় দেশের অর্থনীতি আগের তুলনায় খুব ভালো অবস্থানে উঠেছে। দেশ অটো পাইলটে চলা অবস্থায়ও যদি অর্থনীতির এতটা উত্তরণ হয় তবে বুঝতে হবে এদেশ অনন্য সাধারণ আর অপ্রতিরোধ্য গতিতে কেবল আগায়েই যাবে ভবিষ্যতে। দেশে সম্পদ আছে বলেই না চোর চুরি করে, দেশে সম্পদ না থাকলে তো চুরি করতে পারতো না। আফসোস এই যে আমাদের দেশের সম্পদ পাচার হয়ে আরো উন্নত হচ্ছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, লন্ডন, আমেরিকা ইত্যাকার অতি উন্নত দেশ সমূহ আর এ দেশের ছাল নাই কুত্তার নাম তার বাঘা বাঘা লোক গুলো যেই তিমিরে সেই তিমিরেই পড়ে থাকছে।

রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচনঃ রাষ্ট্রীয় খরচে সংযম, অপ্রয়োজনীয় প্রটোকল হ্রাস এবং ব্যক্তিগত প্রচারবিমুখ থাকার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই নিতিটি অসাধারণ আর সকল সমালোচনার ঊর্ধ্বে প্রশংসার দাবি রাখে। দেশের অধিকাংশ আত্মপ্রেম মুগ্ধ জন নেতারা কি এই নিতির মর্ম  অনুধাবন করতে পেরেছেন বা কোন দিন বুঝবেন বলে আশা করা যায়? রাষ্ট্রীয় খরচে সংযম শব্দটাই একটা ঝাপসা শব্দ যা ব্যক্তি ভেদে গোষ্ঠী ভেদে পরিবর্তন হয়। ব্যয় সংকোচন তখনই যুক্তি যুক্ত হয় যখন দেশের ভিশনের সাথে তা সামজ্ঞস্য করে নির্ধারণ করা হয়। দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রার লক্ষ ও পথ নির্ধারণ করলেই কোন খাতে ব্যয় সংকোচন আর কোন খাতে ব্যয় সম্প্রসারণ করা লাগবে তা বুঝা যেত। ব্যক্তি পর্যায়ে কঞ্জুস আর মিতব্যয়ীর মধ্যে একটা ভাবগত পার্থক্য আছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও পদ্ধতিগত ভাবে মিতব্যয়ী হওয়া বাঞ্ছনীয়, কঞ্জুস হওয়ার প্রয়োজন দেখি না।

বিশেষ ভাতা ও সহায়তাঃ জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য স্পোর্টস অ্যালাউন্স এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  কাজ গুলো মনে হয় স্থগিত ছিল, জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য প্রচুর কাজ করার অবকাশ রয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মনে পড়ে যায় বাংলাদেশ জাতীয় হকি টিমের গোলকিপার এক রাত ছিল আমাদের সাথে দুর্লভ নামক সিলেটের এক দারুণ ডুপ্লেক্সে। আমি তখন এনআইআইটি’র কম্পিউটার ফ্যাকাল্টি বা প্রশিক্ষক। সাদউল্লাহ ভাই (স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মার্কেটিং টিম লিডার), ডা.জয়নুল আবেদিন প্রিন্স ভাই (WHO’s Vacsine Inspector) এই তিনজন আমরা ওই ডুপ্লেক্সটি ভাড়া নিয়ে থাকতাম। সাদ ভাই এর পরিচিত সেই হকি টিমের গোলকিপার তখন এতটাই অর্থকষ্টে ছিল যে, এক সময় সাদ ভাই তাকে আর হাত খরচ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। দেশের ক্রীড়াবিদদের দুরবস্থা ওই একটা ছোট্ট ঘটনা থেকেই আমি বুঝে গিয়েছিলাম ২০০০ সালে।

খারাপ দিক ও চ্যালেঞ্জ সমূহ:-

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিঃ নানা তৎপরতার পরও খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও মব জাস্টিসের মতো অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি তো বটেই বরং মব জাস্টিসের চাক্ষুষ স্বাক্ষী আমি নিজে অবলোকন করেছি। যে ভাবে সোনালী ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ার ম্যানকে পুলিশ প্রহরায় বের হয়ে যেতে হয় তার অফিস থেকে আর যাওয়ার আগে তার যে রক্ত চক্ষু সবার প্রতি, সেই দৃষ্টি অনেক কথা বলে দেয়। খুন, চাঁদাবাজির মত কাজ গুলো এই উন্নয়নশীল সমাজে সমূলে উৎপাটনের কলা কৌশল সম্পর্কে বিস্তর গবেষণার প্রয়োজন আছে। কিন্তু যে দেশে নুন আন্তে পান্তা ফুরায় আর যারা ক্রমাগত খাই খাই করছে তাদের দিয়ে সমাজের এই ব্যধি সমূহ নির্মলের জন্য গবেষণা তো দুরে থাক, এ বিষয়ে হতাশা আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়া আর কিছুর করার থাকে না। অনেকেই তাই বেল, এ সব এ দেশ থেকে কখনই যাবে না। কেউ বলে না শুদ্ধাচার আর সততা সংঘ’র মত সংগঠন বৃদ্ধি করে একটা নীরব আন্দোলনের মাধ্যমে এই অসম্ভব কাজটির করা সম্ভব হতে পারে আর তার জন্য উদ্যোগ নেয়ার সময় এখনই। কার বা গোয়াল আরে কে বা দিবে ধোয়া, তাই এ বিষয়টি আজ অব্দি আটকা পড়ে আছে অন্ধকূপে। গ্রামীণ সমাজে আর শহরে তাই এই বিষাক্ত বায়ু আজও বহালতবিয়তে ঝড় তলে যাচ্ছে। গ্রামের কথা বলতেও ভয় লাগে, গ্রামে বিনোদন এর নমুনা হলো বিয়ে বাড়িতে আনন্দ করার জন্য হিজরাদের নাচের ব্যবস্থা করা, গ্রামের লোকগুলোর শিক্ষার অবস্থা খুবই করুন, ওদের ভালো লাগা গানের দিকে নজর দিলে বুঝা যাবে বিরহ প্রেম, একাধিক বিয়ে ও বিচ্ছেদ, সামান্য কারণে ঝগড়া থুড়ি কাইজা করা, আর কথায় কথায় গালাগালি, গলা চুলকায়ে ঝগড়া করা আর সেই ঝগড়ার রেশ ধরে তাকে আতে ঘা দেওয়ার পর্যায়ে নিয়ে গিলে কার কত শক্তি তা নিয়ে জঘন্য কোন্দল হলো ওদের বাস্তবতা। আইন দিয়ে ওদের পরিশিলত করতে গেলে আইন নিজেই বিপদে পড়তে পারে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটঃ গ্যাস ও জ্বালানির স্বল্পতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে । শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের কম চাপের ফলে উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। ছয় সাত ঘণ্টা গ্যাস পাম্পের লাইন ধরে থাকা গাড়ির বহর যখন কেন্দ্রে পৌছায় তখন তারা ৩০০ টাকার গ্যাসও পায় না, তবে যারা গ্যাস দিচ্ছে তাদের হাতে যদি চা খাওয়ার জন্য ২০, ৫০ টাকা গুজে দেন তবে হয়তো ৪৫০ টাকার গ্যাস পেতেও পারেন। ওরা অন্যান্য নজল গুলো বন্ধ রেখে চা খাওয়ার লোভে ওই কাজ করে। জ্বালানি আর বিদ্যুৎ ছাড়া এই ব্রেভ নিউ বিশ্বে নিশ্বাস নেয়াও অসম্ভব, তা হলে এটাতে সর্বাধিক গুরুত্ব কেন দেয়া হচ্ছে না বুঝা মুশকিল। যে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ কনজাম্পশন যত বেশি সে দেশের জীবন মানও তাত উন্নত। নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ না পেলে কল কারখানা কিংবা বাসা বাড়িতে সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই ব্যহত হবে যার বৃহত্তর প্রভাব পরবে দেশের উন্নয়ন আর অর্থনীতিতে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সেক্টর নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের আরো দৃঢ়তার সাথে এই বিষয়টি নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

রাজনৈতিক ও দলীয় নিয়োগঃ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক ও প্রশাসনিক নিয়োগ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তা কি আর বলতে হবে ভাই? এও কি বলার মত একটা বিষয়? দেশ আগে না দল আগে? এটা মুরগি আগে না ডিম আগের মত বিষয়। বলেন তো ভাই কোন বাঙ্গালীর পক্ষে স্বজনপ্রিতি উপেক্ষা করা সম্ভব? যদি হতো তা হলে কি দেশে আদৌ তথাকথিত নিরপেক্ষ গণতন্ত্র থাকতে পারতো? হয় ওরা না হয় আমারা এর বাইরে আর কেউ নাই। ও কি আমাদের না কি ওদের? যদি ওদের হয় তবে লাত্থি মার আর যদি আমাদের হয় তবে মুখে ফুল চন্দন দাও। এই মানসিকতা নিজেই যে পক্ষপাত দুষ্ট এটা বুঝার ক্ষমতাই নাই অনেকের। ইংরেজিতে কার্টেল (Cartel) শব্দটার অর্থ হলো এক গোষ্ঠী ব্যবসায়ী যারা সিন্ডিকেট করে তাদের পণ্যর মূল্য বৃদ্ধি করে মনোপলি খেলায় মাতে। রাজনীতিতে যে কার্টেল ফর্ম করতে পারে তা বিভিন্ন পরিস্থিতি স্বচক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবে না।

ব্যক্তিগত বিতর্কঃ কিছু মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং প্রমত্ততা সরকারের ভাবমূর্তিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পলিটিক্স মানেই পাওয়ার ক্ল্যাস আর তাতে টক শোর জন্য আর পত্রিকা ব্যবসার জন্য বিস্তর রসদ থাকিবেই। মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রীগণ কিন্তু তাদের কর্মক্ষেত্রে কম বেশি জনপ্রিয় মানুষ, অন্তত তাদের একটা বৃহত্তর সমর্থক গোষ্ঠী থাকেতেই হয়। কিন্তু ১৬ কোটি মতান্তরে ২২ কোটি জনগোষ্ঠীর এত বিশাল এক জাতিতে যত বৃহত্তর ফ্যান বেইজই আপনার থাকুক না কেন, আপনার ততোধিক বৃহত্তর একটা প্রতিপক্ষও থাকবে। বিতর্ক ও সমালোচনা চলবে কিন্তু সেটা যেন জাতির অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে না দাড়ায়। আলোচনা আর সমালোচনা যদি গঠন মূলক হয় তখন বাদী কিংবা বিবাদী উভয়েরিই উপকৃত হয়। হোক মন মালিন্য, হোক ঝগড়া বিবাদ, কিন্তু যেন এ সব একসময় একটা সমঝোতায় চলে আসে আর দেশ ও জাতির হতচ্ছাড়া খেটে খাওয়া মানুষগুলো জীবন মান উন্নত হয় সেই বৃহত্তর উদ্দেশ্য মাথায় রেখে সামনে অগ্রসর হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

নীতি ভ্রষ্ট, সর্বস্বান্ত
যদি হয় জাতি?
রাষ্ট্র নীতির রূপান্তরে
নাই কোন গতি।

শুদ্ধ মনে, শুদ্ধ চিন্তা,
শুদ্ধাচারের প্রতি।
মনোনিবেশ করেন রে ভাই,
বলেন জন প্রতি।


কেবল দেশ ও জাতির ভালোর কথা ভেবে একটা ছোট্ট কিন্তু খুব শক্তিশালী জনসমষ্টি যতদিন না তৈরি হচ্ছে এ দেশে ততদিন মনে হয় এই দলা দলি চলবেই। খুব উন্নত দেশ গুলোতে মনে হয় এরকম একটা নিরপেক্ষ সততা সংঘ তৈরি হয়েছে বলেই তারা তর তর করে আগায়ে যাচ্ছে। কবে যে হবে এ দেশে তার কোন সম্ভাবনাই দেখি না। তাই বলে আমি হতাশ নই। এটা হবেই আজ হতে শত বর্ষ পরে কিংবা তার আগে, এটা হতেই হবে।

অতি প্রিয় আলী ভাই এর লেখার একটা অংশ উদ্ধৃত করে শেষ করছি “তারেক রহমানের সামনে এখন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে—এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ভবিষ্যতে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ক্ষমতায় এলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত বা দলীয় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে। নিজের সরকারের ক্ষমতাকেও নিয়ম, আইন ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের সীমার মধ্যে আনতে পারাই হবে প্রকৃত সংস্কারের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।”
 

উন্নয়ন ও সম্পাদনা ইতিহাসঃ ১৯আগস্ট২০২৫> ২৩আগস্ট২০২৫>০১সেপ্টেম্বর২০২৬ বন্ধন পুষ্পধাম> ৬সেপ্টেম্বর২০২৬ বন্ধন পুষ্পধাম >