Monday, November 30, 2020

প্রশ্ন উত্তরে ইসলামী ব্যাংকিং - মোহাম্মদ মোস্তফা সার্জিল

 প্রশ্নঃ03 30নভেম্বর2020> ধন্যবাদ বন্ধু। তুমি কনভেনশনাল ব্যাংকিং এর ব্যাখ্যা দিয়েছো, এবার ইসলামি ব্যাংকিং এ রিস্ক নিয়ে কিভাবে লাভ এবং লস হয় সেটার ব্যাখ্যা দাও এবং সেটার সাথে কনভেনশনাল ব্যাংকিং এর পার্থক্যটা কোথায়, সেটা ব্যাখ্যা করো। (প্রশ্নকর্তা ডা. তমাল আমার ছোটবেলার বন্ধু এখন লন্ডনের বড় ডাক্তার) ওঁর প্রশ্নটা প্যারাফ্রেজ করলে দাড়ায় অনেকটা এরকমঃ এখানকার ইসলামী ব্যাংক গুল যে ব্যবসা করে তার সাথে কনভেনশনাল ব্যাংকিং এর ব্যবসার মূল পার্থক্যটা কোথায়? 

আমার উত্তর 04ডিসেম্বর২০> ব্যবসা মাত্রই তাতে রিস্ক থাকবেই, কথায় বলে যত রিক্স তত লাভ বা নো রিস্ক নো গেইন। কনভেনশনাল ব্যাংক গুল সরাসরি বাজারে ব্যবসা করতে পারে না। আইন করে বাধা দেয়া আছে যে সে সরাসরি ব্যবসায় ইনভল্ভ হতে পারবে না। তাকে তার কোন ক্লায়েন্ট এর মাধ্যমে ব্যবসা করতে হবে। এর মানে হল, সে তার ক্লায়েন্ট এর সাথে ব্যবসায়িক চুক্তিতে আবদ্ধ হবে শুধু মাত্র টাকা লেনদেনে কিন্তু ব্যবসায় হস্তক্ষেপ বা তদারকির অধিকার ছাড়া। তার তা দরকারও নাই, সে টাকা দিবে ক্লায়েন্টের কোম্পানিকে, সে সেই টাকা নির্ধারিত সময় মোতাবেক লাভ সহ ফেরত দিতে বাধ্য, এখানে লাভ লস হল কি না হল তা কনভেনশনাল ব্যাংক এর দেখার বিষয় না। চুক্তিটা হল টাকা নাও, বছর শেষে লভ্যাংশ দাও, লস করলেও দাও যা কথা দিছ। এখন আস ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসার ধরণে, ইসলামী ব্যাংক এর মূল নীতিই হল ব্যবসার মাধ্যমে টাকা বৃদ্ধি করা বা টাকা বানান। তাই ইসলামী ব্যাংক সরাসরি বাজারে ব্যবসায় অংশ নিতে পারে। এখানে গ্রাহক বা ক্লায়েন্ট মুদারিব অর্থাৎ দক্ষ ব্যবসায়ী আর ব্যাংক হল সাহেব-আল-মা’ল, টাকার বা ফান্ডের বা ক্যাপিটালের অংশীদার এবং চুক্তি মোতাবেক সে ব্যবসায় অংশগ্রহণও করতে পারে আবার  স্লিপিং পার্টনার এর মত না’ও পারে। তবে সে ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। বেকল টাকা দিয়ে খালাস তা নয়। সে একজন ব্যবসায়িক অংশীদার, হতে পারে কোন কোন ক্ষেত্রে স্লিপিং পার্টনার, কিন্তু কনভেনশনাল ব্যাংকের মত সে ক্লায়েন্টকে এই শর্তে টাকা দেয় না  যে, যা খুশি কর বছর শেষে লভ্যাংশ দিতে তুমি বাধ্য। বরং ইসলামী ব্যাংক যখন তার ক্লায়েন্ট এর সাথে ব্যবসায়ী সম্পর্কে আবদ্ধ হয় তখন শর্ত থাকে যে ব্যবসায় যদি লস হয় তবে তা ব্যাংক বিবেচনায় আনবে। এই কারণেই বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের প্রথমদিককার মুশারাকা (যৌথ কারবার) গুল সব লসে গিয়ে এই ভাবে যৌথ কারবার বা মুশারাকা প্রডাক্ট গুলর মাধ্যমে বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। বরং এখন বাই মোয়াজ্জল (বাকিতে বিক্রয়) কিংবা এইচপিএসএম (ভাড়ায় বিক্রয়) এই সব নীতিমালার উপর প্রডাক্ট প্রণয়ন করা হচ্ছে। সাধারণ জনগণের কথা হল যদি লস স্বীকার করে নেয়া হয় তা হলে কি ব্যাংক টাকা দিবে? টাকা নিয়ে যদি মুদারিব উইন্ডো ড্রেসিং করে ফাইনাল একাউন্টে লস দেখায় যা আসলে ভুয়া, তখন ইসলামী ব্যাংকের কি অবস্থা হবে। তা কি তারা মেনে নিবে? এর উত্তরে বলতে হয়, পদ্ধতি গুল কি, এ দেশে মুশারাকা অকার্যকর প্রমাণ হয়ে গেছে, কারণ এখানকার মানুষের লুকানর প্রবণতা বা উইন্ডো-ড্রেসিং করার প্রবণতা অনেক বেশী। যদি মুদারাবা (ফান্ড এর মালিক ব্যাংক [সাহেব আল মা’ল] ও ব্যবসায়ী হল ক্লায়েন্ট [মুদারিব]) এই পদ্ধতিতে ব্যবসা করা যায় তবে জামানতের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক গুল ভাল ব্যবসা করতে পারবে। এখন কথা হল সেদিন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ফয়সাল ভাই ফট করে বলে বসল জামানত নেয়া নাকি ইসলামে হারাম বা ইসলামে জামানত নেয়ার প্রচলন নাই, আমি অবাক হলাম, আমি নিজেই হাদিস পড়ছি যেখানে নবীজি ঘোড়ার লাগাম বন্ধক রেখে টাকা ধার নিয়েছিলেন বলে বলা আছে আর আমরা নব্য মুসলমানরা ফতোয়া দিচ্ছি জামানত নেয়া যাবে না। তাহলে তা কি যুক্তিতে খাটবে? জামানত টা কেন নেয়া হল? এটা রিস্ককে হালকা করে বা কোন কোন ক্ষেত্রে রিস্ক নাই করে দেয় বলে? এখন যদি চুক্তি থাকে যে আমি ব্যাংক সাহেব আল মাল তুমি মুদারিব আমার টাকা নিলা ব্যবসা করার জন্য। ব্যবসাও করলা, প্রথম বছর লাভ দিলা চুক্তি মত 50:50 কিন্তু পরের বছর তোমার লস হল, সেই লসও আমি মানলাম চুক্তি মত 50:50 বা চুক্তিতে যা ছিল, ধরা যাক তুমি রাজি হইছিলা লস হলে 40:60 হবে তাই মানলাম তার পরের বছর তুমি বল্লা বা আমিও দেখলাম লস হল এত বেশি যে আমার আর তোমার ব্যবসায় টাকা খাটাতে ইচ্ছা হল না, তখন চুক্তি মোতাবেক আমি আমার মূল টাকাটা ওই বন্ধক বা জামানত হতে তুলে নিতে পারব, এই হল ইসলামে জামানতের মাধ্যমে টাকার লেনদেন বা মুয়ামালাত। এটা বুঝতে হবে যে, আমি কিন্তু লাভ হিসাব করে ওই জামানত থেকে টাকা তুলতে পারব না, যা দিয়েছিলাম মূলধন বা মূল টাকা, সেইটা তুলতে পারব। কনভেনশনাল ব্যাংক হলে সুদাসলে মুনাফা হিসাব করে টাকাটা তুলে নিত, তা ইসলামী ব্যাংক করবে না বা করতে পারে না। যদি জামানত থেকে পুর টাকাটা তুলা না যায় তা হলে বাকি টাকা ছাড় দেয়ার (এহসান করার) বিধান ইসলামী ব্যাংকে আছে। উদাহারন দেই, তুমি বন্ধক রেখেছিলা যে ফ্ল্যাট-টা তা ডেপরিসিয়েট করে বিক্রয়মূল্য কমে গেছে এখনকার বাজারে অথবা যে স্বর্ণালংকার তুমি বন্ধক বা জামানত রেখে টাকা নিয়েছিলা তা’র মূল্য কমে যাওয়ায় যে টাকাটা আমি তোমাকে ধার দিয়েছিলাম তোমার ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য তার তুলনায় এখন কমে গেছে জামানতের বিক্রয়মূল্য। তখন বাকি টাকা ইসলামী ব্যাংক এহসান করে দেয়। কনভেনশনাল ব্যাংকও এ রকম করে ক্লাসিফায়েড লোনের ক্ষেত্রে যেমন সুদ মৌকুফ করে দেয় বা রাইট অফ করে। ওরা সুদ মৌকুফ করে ক্লাসিফায়েড লোনের আর ইসলামী ব্যাংক সুদারোপই করে না মৌকুফ করবে কি? ও’রা মৌকুফ করে আর ইসলামী ব্যাংক এহসান করে। তুই এখন বলবি এটা শুধু কথার মারপ্যাচ, দুটা আসলে একই? মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ, কিন্তু তাই কি? সুদাসল ধার্য করে সুদটা মাফ করা আর মুল টাকাটা উঠাতে গিয়ে পুরটা উঠাতে না পেরে বাকিটা মাফ করে দেয়া কি এক? দুই বার চিন্তা করবি উত্তর দেয়ার আগে। সে মুদারাবা চুক্তি বাতিল করে টাকাটা তুলে নেয় মাত্র, অতিরিক্ত তুলতে পারে না কারণ অতিরিক্ত তুললে তা সুদ হয়ে যাবে তাই বিক্রয়মূল্য বেশি হলে অতিরিক্ত টাকা তাকে চ্যারেটি বা সাদাকা করে দিতে হয়। প্রত্যেক ইসলামী ব্যাংকের স্কুল, হসপিটাল আছে, এগোল চলে কি দিয়ে? এই সাদাকার টাকা দিয়ে। জাকাতের টাকা তো স্কুল বা হসপিটালে দেয়া যায় না। ইসলামী ব্যাংকের হসপিটাল, স্কুল গুল চলে এই এহসানের বা জামানতের অতিরিক্ত টাকা দিয়ে। ইসলামী ব্যাংক বলতে পারত, তুমি মিয়া আমারে খালি লস দেখাইতাস, আমি মানি না আমারে হিসাব কইরা প্রতি বছর লাভ 50:50 পারসেন্ট দিতে হইব। তা কিন্তু ইসলামী ব্যাংক বলবে না। উপরের যা আলাপ করলাম তা থেকে তমাল কি বুঝতে পারছিস, দুর থেকে দেখতে দুটা ব্যবস্থা প্রায় একই রকম কিন্তু কাছ আসলে বুঝা যায় একটা জুলুম করে না আর আরেকটা জুলুম করে টাকা আদায় করে। দোস্ত, দুর থেকে কাশ বন সব সময়  ঘনই মনে হয় কিন্তু কাছে আসলে সব পরিষ্কার বুঝা যায়। তোমাকে ইসলামী ব্যাংকিং এর আর কাছে আসতে হবে, তখন সব পরিষ্কার বুঝতে পারবি। 

 প্রশ্নঃ 02: 29অক্টোবর2020> স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পুরটাই ইসলামী ব্যাংকে কনভারসন হওয়ার অনুমোদন পেয়েছে। আচ্ছা এটা তো ঠিক যে, সব ইসলামী ব্যাংকের কেউই পুরপরি ইসলামী শরিয়া সম্মত কাজ করতে পারছে না, জোড়া তালি দিয়ে চলছে, যাতে আখিরাতে অন্তত বলা যায় আমরা চেষ্টা করেছিলাম, অন্তত যাতে শেষ রক্ষা হয়? স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ফয়সাল ভাই বলছিলেন ফোন কনভারসেশনে। উনি জনতা ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক হয়ে এখন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে কর্মরত আছেন।

আমার উত্তরঃ ফয়সাল ভাই আমার কমনওয়েল্থ এমবিএ ব্যাচ-মেট, আমরা দুজনেই প্রথম ব্যাচের গ্র্যাজুয়েট, আমাদের সম্পর্কও খুব ভাল, কিন্তু তার কথায়  সবসময় একটা প্যাঁচ থাকেই, এটা তার কথা বলার ধরণ। ধরণটা যদিও আমার দেশের বাড়ী বিক্রমপুর আধুনা মুন্সিগঞ্জ এর কপিরাইট প্রবণতা তাই আমার মধ্যে ওটা না থাকলেও আমি ঠিকই ধরতে পারি এই উস্কে দেয়া কথার ভঙ্গি। মনিপুরি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মহোদয়ের সাথে টেকনোকিড্স এর ক্যানাডিয়ান কম্পিউটিং ফর কিডস প্রডাক্ট গুল নিয়ে আলোচনার সুযোগ হয়েছিল একবার,। উনার সম্পর্কে আগে থেকেই আমাকে জানান হয়েছিল যে উনি কাউকে পরীক্ষা করতে চাইলে প্রথমেই তাকে কথার মারপ্যাচে গর্তে ফেলে দেন। সে যদি ওই গর্ত থেকে উঠতে সক্ষম হন তবে সে যোগ্য তা না হলে নয়। কাউকে উসকে দিয়ে কথা বলার প্রবণতা মনে এই মন ভঙ্গির একটি বিবর্তিত ধাঁরা। সে যাই  হোক, আমি যতই বুঝাই ফয়সাল ভাইকে যে, তার ধারণা সঠিক নয়, ইসলামী ব্যাংকাররা জোড়া তালি দিয়ে একটা ব্যবস্থা চালু রেখেছে, বিষয়টা এমন নয়, তা’ও উনি উনার চিন্তাধারায় অটল থাকতে চান। অবশেষে বলেছিলাম, যে বিষয়ে আপনি পুরোপুরি বিশ্বাস বা আস্থা রাখতে পারছেন না সে ব্যবস্থা জনগণের জন্য আপনি অফার করতে পারেন না, করাটা উচিতও না। আগে পুরপুরি নিশ্চিত হন তার পর তা বাস্তবে প্রয়োগ করুন। আর যদি আপনার এই ইসলামী ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রির কোন প্রডাক্ট সম্পর্কে সন্দেহ দুর না হয়, তবে তা সবিস্তারে আমাকে প্রদান করুন আমি পুর ইন্ডাস্ট্রিতে ঝড় তলে তা ঠিক করে দিব। আমাদের প্রডাক্ট গুল যখন ডিজাইন করা হয় তখন তা শরিয়া কমপ্লাই করে কি না তার এসিড টেস্ট করে নেয়া হয় তার পরই ওই সুদ মুক্ত ভেকসিন বাজারজাত করণ করা হয়। বিষয়টা এত সস্তাও না আবার সহজও না। আমার দৃঢ় কথনের পর ফয়সাল ভাই কিছুটা নমনীয় কণ্ঠে জানাল তাদের চেয়ারম্যান অনেক কষ্ট স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংক এর গভর্নর এর কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংকিং এ পূর্ণ কনভারসনের অনুমোদন এনেছে, এখন এটা না চালু করে উপায় নাই। আমি জানালাম আমাদের কাছে খবর আছে যে উল্লেখিত ব্যাংকটির কিছু কিছু কর্মকর্তা ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেন, খবরটি বিশ্বাসযোগ্য সোর্স থেকে পাওয়া গিয়েছিল গত বছর, যখন ওখানে উইন্ডোতে ইসলামী ব্যাংকিং সফ্টওয়ার হিকমা ব্যবহার করা হতো, আমরাও ইরা ইনফো টেক এর একই হিকমা সিবিএস ব্যবহার করে উইন্ডো চালাতাম। ফয়সাল ভাই এর কথায় সেই তথ্যর সত্যতা আর ভাল ভাবে প্রতিষ্ঠিত হল। অদ্ভুত বিষয় এই যে, ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে কনভেনশনাল ব্যাংকারদের মধ্যে এই দোনমনা ভাবটা অত্যন্ত প্রকোট আর অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। এটা তাদের দোষ না, তারা যাদের গুরু মেনে ব্যাংকিং শিখেছে হটাত করে তাদের বিরুদ্ধ কোন মতবাদ তারা সহজ ভাবে মানতে পারেন না বলেই আমার মনে হয়েছে।

প্রশ্নঃ 01: ইসলামীক শরিয়ার কয়েকটা নাম ব্যবহার করে এখানকার ইসলামী ব্যাংক গুল মানুষের গলা কাটছে। কনভেনশনাল ব্যাংকিং এর সাথে মূল পার্থক্যটা কোথায়

02নভেম্বর2020 (প্রশ্ন করেছিল তমাল আমার ছোটবেলার বন্ধু এখন লন্ডনের বড় ডাক্তার)

 আমার উত্তর 04নভেম্বর২০২০> পদ্ধতি আর তার প্রয়োগ, থিওরি আর বাস্তবতায় তার প্রয়োগ (theory into practice), এখানটায় একটা বিরাট চ্যালেঞ্জে আছে। তমাল তোর সাথে সেদিন আলাপ করার সময় কথা কেটে যাচ্ছিল বলে তেমন কিছু বলতে পারি নাই আর তুমি মিয়া মনে করছিলা তর্কে জিতা গেছ। শুন তুমি যেমন ডাক্তার ডাক্তারি বুঝ, আমিও তো ব্যাংকার ব্যাংকিং বুঝি, এইটা তো মান? তোমার কথা হল ইসলামী ব্যাংকগুলা সব ধোঁকাবাজি করছে আর মানুষকে বোকা বানাচ্ছে, তা’ই যদি হতো তা হলে আমরা বিনা মার্কেটিং-এ কোটি কোটি টাকা আমানত পেতাম না। খটকাটা তা হলে কোথায়? প্রথম কথা হচ্ছে, ইসলামী ব্যাংকিং একটা ব্যাংকিং প্রক্রিয়া, থিউরি হিসেবে একদম সাউন্ড। পুরাপুরি শুদ মুক্ত কিন্তু যারা এটা মার্কেটে প্লে করছে তাদের প্র্যাকটিসে গলদ থাকতেই পারে, তুমি তাই দেখছ আর পুর সিস্টেমটাকে দোষারোপ করছ।

মুদারাবা, মুশারাকা, বাই-মুয়াজ্জাল, সালাম এগুল সবই শরিয়া সম্মত ব্যবস্থা এ সকল ট্রেনজেকশান (আরবিতে মুয়ামালাত) এ কোন সুদ সৃষ্টি হয় না। সবার আগে বুঝতে হবে কি ভাবে লেন-দেনে সুদ (অনৈতিক ভাবে টাকার আদান প্রদান) সংঘটিত হতে পারে। সুদ দু ভাবে সৃষ্টি হতে পারে [সুদ দুই প্রকার] এক) যদি দেনাদার-পাওনাদার এর মধ্যকার চুক্তি এ রকম হয় যে, একজন টাকা ধার নিল এই শর্তে যে নির্দিষ্ট সময় পর সে যা নিয়েছে তার অতিরিক্ত প্রদান করতে বাধ্য। এই ঝুঁকি মুক্ত করে টাকা বিনিয়োগ ও তা ফেরত পাওয়ার বাধ্যবাধকতাটাই সুদ, অর্থাৎ ঝুঁকি না নিয়ে টাকা ধার দিলে বা নিলে তা সুদ সৃষ্টি করবেই। সম্পদের মালিক আল্লাহ (সুবহানাওয়াতায়ালা) তিনি সেই সম্পদ যাকে ইচ্ছা তাকে দিবেন, সেখানে তোমার তা আঁকড়ে ধরে রাখার প্রবণতা কেন? একে বলে রিবা-আন নেসাই (সময় সাপেক্ষে যদি টাকা বৃদ্ধি পায় কোন বিনিয়োগের ঝুঁকি ছাড়াই)। (দুই) কেউ কার কাছে এক বস্তা খেজুর রাখল বিনিময়ে সময় সাপেক্ষে বা সময়ের হিসাব গুরুত্বে না এনে সে বেশি দাবি করল বা কম পেল বা নিম্ন মানের খেজুর পেল তা হলেও তা সুদ বা রিবা বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ পণ্যর মানের হেরফেরে করে লেনদেন করলে বলে রিবা আল ফাদাল। এ দু ধরনের লেন-দেন চুক্তি ইসলামে সম্পূর্ণ রূপে হারাম বা নিষিদ্ধ। এছাড়াও আর দুভাবে সুদ সৃষ্টি হয়, (1) বৈদেশিক মুদ্রার চল কে ইসলাম মানে না, সকল দেশে একই মুদ্রা ব্যবস্থা থাকবে, আর তা হবে স্বর্ণ ও রৌপ্য ভিত্তিক, তাই বর্তমানের বৈদেশিক মুদ্রার দেশিয় মুদ্রায় কনভার্সনের মাধ্যমে সুদ সৃষ্টি হয়, (2) আরেকটি হল, আরোপিত মুদ্রাস্ফীতির মাধ্যমে, সরকার যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে মুদ্রাস্ফীতি ঘটায় (এরকম হয়েছিল একবার বহু আগে লন্ডনেই) তা হলেও সুদ সৃষ্টি হয়। 

ইসলামিক ইকনমি আর ধন-তান্ত্রিক (ক্যাপিটালিষ্ট) ইকনমির মূল পার্থক্য হল, একটা অপরটির সম্পূর্ণ বিপরীত। ক্যাপিটালিষ্ট ইকনমি বলে সঞ্চয় কর ও ক্যাপিটাল ফর্ম কর তার পর বিনিয়োগ কর। আর ইসলামিক ইকনমি বলে একদম সঞ্চয় না কর (সব টাকা বিনিয়োগ কর), করলে বিপদ, বরং পুর টাকাটাই বাজারে খাটাও। আর এ কারণেই ইসলামিক ব্যবস্থায় টাকা সঞ্চয়ের জন্য কোন ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রচলন করা হয় নাই। বরং বায়তুল মাল এর ট্রেজারি ফাংশন এর প্রচলন করা হয়েছিল যা ওমর (রাঃ) এর সময় পূর্ণাঙ্গ একাউন্টিং এর আদল পায়। এখন ক্যাপিটালিষ্ট ইকনমির মধ্যে যদি ইসলামিক ইকনমির একটা ব্যবস্থা চালনা করা হয় তবে কোন যুক্তিতে তা সফল হবে? তাকে তো স্রোতের বিরুদ্ধে চলতে হচ্ছে। এই বিরুদ্ধে চলতে চলতেই তাকে ক্যাপিটালিষ্টিক ব্যবস্থা গুলর সাথে প্রতিযোগিতাও করতে হচ্ছে। তাই এর প্রডাক্ট গুল দেখতে প্রায় একই রকম মনে হয়। এক গ্লাস জিন আর এক গ্লাস পানি দু-টাই বর্ণহীন ও দেখতেও এক রকম কিন্তু তা এক জিনিস না ?

মূল পার্থক্যটা লেন-দেন চুক্তির মধ্যে ধরা পরে। ব্যবসা তো উভয়ই করবে কিন্তু লেন-দেন চুক্তি ও ঝুঁকির বিষয়টা দুটি ব্যবস্থায় একেবারেই ভিন্ন মাত্রার। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সুদি ব্যবসা প্রসার লাভ করবে কারণ তা স্রোতের টানে চলছে আর স্রোতের বিপরীতে চলা ইসলামী ব্যাংকিংকে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হচ্ছে। তাই বলে ইসলামী ব্যাংকিং এর নাম ভাঙ্গায়ে যদি কেউ ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার অনুকরণে সুদি ব্যবসার মত আচরণ করে তবে তা পুরপুরি ধোঁকাবাজি। কিন্তু এতে ব্যাংক গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না আখিরাতে, কারণ তার নিয়তে কোন ভুল নাই কিন্তু ব্যাংকর ব্যাটা ফেঁসে যাবে ও অনন্ত কাল আগুনে জ্বলবে।

এখন তোর কথায় আসি, ইসলামী ব্যাংক গুলা মুদারাবা, সুকুক, হাদিয়া এই সব টার্ম ব্যবহার করে মূলত কনভেনশনাল ব্যাংক গুলর মতই এমনকি আর খারাপ ভাবে গ্রাহকদের মাথায় কাঠাল ভাংছে। আমার কথা হল আমি কোন চুক্তিতে ব্যাংকের কাছে টাকা রাখছি বা নিচ্ছি, সেটা কি ইসলাম সম্মত, অর্থাৎ সেই স্কিমটা কি শরিয়া কম্পলায়েন্ট কি না? যদি তা শুধু খাতা কলমে হয়ে থাকে তবে আমি অবশ্যই তাতে চুক্তিবদ্ধ হব না। এখন আমাদের দেশে শরিয়া কাউন্সিল আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের, আমাদের ইনটারনাল শরিয়া অডিটও হয়, ও’রা দেখে আমরা প্রত্যেকটা স্কিম শরিয়া বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী পালন করছি কি না। যদি তা না করা হয় তবে আমাদের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। তাই আমরা কখনই নীতিমালা’র বাইরে যাই না। নীতিমালা গুল কি শরিয়া সম্মত তা দেখবে আমাদের শরিয়া বোর্ড, যেখানে ইসলামী জ্ঞান সম্পন্ন ও বহুল পরিচিত ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। সমস্যা হল আমাদের শরিয়া বোর্ড এর সম্মানিত সদস্য  ব্যক্তিবর্গ এর মধ্যে। তাঁরা অধিক ইসলামী জ্ঞান সম্পন্ন হলেও সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থ ব্যবস্থা, মুদ্রানীতি, অর্থনীতি ও আধুনিক ব্যবসার বিষয়ের জ্ঞানে ঘাটতি বা অনীহা আছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলা আমাদের জন্য যদিও বেয়াদবি তার পরও বলব আছে বলেই মনে হয়। বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের বা মুসলিম উম্মায় যে অধঃপতন ও পরাজয় তা কিন্তু না বললেও খালি চোখেই ধরা পরে, যেমন বেনামাজি কিন্তু জাকাত ঠিকঠিক দিচ্ছে। ঘুষ খাচ্ছে আবার বছর বছর হজ্জ করছে। মারাত্মক রকম অধঃপতন ঘটে গেছে মুসলিম উম্মায়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এটা বুঝা খুব শক্ত নয় যে অনেককেই হয়ত পাওয়া যাবে যারা ইসলামের নাম ভাঙ্গায়ে অনৈতিক ব্যবসা করছে। সেই দিক থেকে তোর অবজারভেশন মনে হয় ঠিকই আছে। শেষে তাই বলব, এই সব নিয়েই আমাদের  দিন রাত্রি চলছে আবার সংগ্রামও চলছে। <>

Monday, November 23, 2020

Local CBS to Boost Local Economy

Author: Mahmud Hossain, CEO & Co-Founder, Millennium Information Solution Limited

The beautiful small country in South Asia named Bangladesh hosts 2% of the global population in 0.1% of the global land area with a PPP per capita of only 28% of the global average as per the World Bank.
 
Given the current global pandemic, we are witnessing a Digital Transformation across the world which will only accelerate the forecasted growth of the IT industry significantly as acknowledged and promoted by the industry leaders.
 
Furthermore, the government of Bangladesh is also promoting the local IT industry especially for the Banking sector and has signed an MOU with the Central Bank facilitating software sale of BDT 300 crore in this sector for the period 2020-2022 as stated by Honorable Minister of State for ICT Division Mr. Zunaid Ahmed Palak, MP.
 
With the global economic slowdown and widespread budget cuts, our local banks can save the Foreign Currency (FC) spending enormously, if they go for our locally developed Core Banking System (CBS) & other Banking / FinTech Solutions.

The following table shows the expenses incurred by the State-owned banks through adoption of foreign CBS:

***The above mentioned data excludes the needed version upgrades and customization fees (Every year the banks have been paying exorbitant amount as maintenance fees in scarce foreign currency)

Besides the above data, there are a total 28 banks including both from the public and private sectors that have been using foreign CBS. The related CBS and other Banking Solutions expenses data from the private sector banks are not public yet. This might add to the perennial problem of losing the precious foreign currency with unnecessary imports!

On the contrary, neighboring Indian banks are using nearly 100% of their locally developed CBS, which saves their hard earned foreign currencies. Rather, the Indian software companies are selling their home-grown CBS and other software products to the international markets. These Indian companies are also implementing and supporting foreign CBS and other software products to countries like us as dealers/distributors/value added partners. Many international CBS and other Banking Solution Providers have their support and production centre in Bangalore and Chennai. The same is the case with the Philippines.
 
Although there could be very few sporadic outliers, the local banking industry professionals strongly attest the fact that our long matured local CBS can now satisfy all the needed functionalities of our local banking system. In fact, there is not a single banking feature or functionality of any Global CBS that is really in use in Bangladesh,  whichcan not be performed by the well-built local CBS. We certainly have a scarcity of well-built local CBS,, but these are available by now in limited numbers. Moreover, patronization, support and long-term investment are required by institutions or conglomerates, like our neighboring country did to grow more such banking solutions providers.

Moreover, in that case the country could see more decent growth of white-collar jobs, where our talented youths could have been properly utilized. Some 65,000 young professionals get training on ICT-related subjects every year in the country. We are producing a sufficient number of Engineers and IT professionals, and also high quality business graduates (required for the business domain of banking application) from good Universities. However, since the local solutions are not being adopted or properly recognized by the Banks and Financial Institutions with due recognition and respect in terms of pricing and partnering, these resources could not be absorbed or utilized by the good software solution companies.

Is there a lack of availability of local quality CBS?

The question is quite relevant here as it requires deep pocket, long-term investment and enormous patience to continuously design, develop, deploy and to evolve a new CBS at a maturity level in many iterations. Most of the entrepreneurs / technocrats are reluctant to take such a challenge due to the serious financial risk involved in this long arduous evolutionary process. The ROI has to be on a long term basis here, compared to the other enterprise software solutions.  

However, in India, all the local CBS gained maturity through the patronization and collaboration of their client banks like ICICI Bank, or large visionary conglomerates like the Tata Group, etc.

We all know to solidly boost our local economy, we have to follow this principle: “by local, for locals”. Local CBSs have been designed primarily with the local Banks in mind. These are very agile for any necessary changes compliant with the Central Bank regulations. The local talents of our local CBS providers understand the needs and nature of necessary changes better than the foreign consultants of the foregin CBS providers. These local talents also cost significantly less than those expensive foreign consultants but having equal (if not better) knowledge and skills both appropriate and sustainable for our local banks.
 
On top of contributing to the national GDP by choosing local products from many perspectives, it’s about knowing and understanding the origin of the product and maintaining positive relationships between the suppliers and the users. Locally sourced products usually come with the added benefit of faster delivery often with a fraction of support and customization cost than the global vendors.
 
The CBS (Core Banking System) is not the complete solution for a bank, it is rather the core transactions and data management system. Banks typically require several other sub-systems that integrate with the CBS, for example: alternative delivery channels, regulatory compliance, risk management, statutory reporting, integration with local/global FinTech eco-system, local exchange connectivity (BFTN, NPSB, Clearing etc), Agent banking, Offshore banking etc. Opting for a local solution hence offers efficiency in terms of smoother integrations and better service delivery.
 
Following the globally successful trends, our entire local Banking and Financing industry seriously needs to do prudent investments in their digital transformations to design efficient business processes,  improve their CBS and other application User Experiences (UX). Here investments in people, process and technologies are all important, but a well-built robust but extensible and scalable CBS is the foundational business area to consider for the Commercial Banks.

A couple of Banks have built their own lab-grown CBS and maintain them with a huge number of IT resource personnel, but that cannot be the answer to this problem. It will not be cost-effective in the long run. Moreover, the latest study advocates that the businesses should concentrate on its own core competency. Building and maintaining software cannot be part of the core area of financial institutions. A financial institution cannot provide the environment required for a quality software company within their management framework, where fostering and nurturing talents, promoting innovation through R&D explorations are key success factors here.  Moreover, optimization of resources in this field only could be done by a software company itself rather than a financial institution.
 
Identifying the existing visionary companies with robust products and having a long-term and win-win arrangement with them could be a good answer to this puzzle. Moreover, more and more such companies should be built and patronized by the financial institutions and large conglomerates like our neighboring countries.

The author could be reached at mahmud@mislbd.com


Monday, November 16, 2020

A COMPARATIVE STUDY BETWEEN CONTEMPORARY GLOBAL ECONOMIC SYSTEM AND ISLAMIC ECONOMIC SYSTEM

Submitted by

 Mohammad Mustafa Surzil

SID: 02-0-71-812-131

Commonwealth Executive MBA (CEMBA)

 

Submitted to

The Dean

School of Business

Bangladesh Open University

 In partial fulfillment of the requirements of the degree of

Commonwealth Executive Master of Business Administration (CEMBA)

July, 2009

 

Certificate

The project entitled “A Comparative study between Contemporary Global economics and Islamic economic system”   prepared and  submitted by Mohammad Mustafa Surzil [SID # 02-071-812-131] in partial fulfillment of the requirements of the degree of Commonwealth Executive Master of Business Administration (CEMBA) is original in nature and has not been submitted earlier either to this university or to any other institution.

 

(Dr. Md. Mayenul Islam)

Associate Professor

School of Business

Bangladesh Open University

Project Supervisor 

CEMBA

Acknowledgement

 The researcher would like to convey his gratitude to the following institutions and individuals who extended their sincere support and encouragement for the completion of the research.

Dr. Md. Mayenul Islam, Associate Professor, Bangladesh Open university for his guidance in the preparation of this manuscript.

In addition, special thanks to Mohammad Ariful Haque, Assistant Professor, Department of Electrical and Electronic Engineering, Bangladesh University of Engineering and Technology whose familiarity with the subject and ideas were helpful during the early programming phase of this undertaking.

I would also like to thank, Mr. Arif Iqbal Khan of City Bank  for all the inspirational support I have received from  him, Thanks to Mr. Alfaz Uddin, Senior Executive Officer, International Division, Sonali Bank Limited , Head office, Dhaka for his support and suggestions during the project’s primary activities.

Thanks also to my honorable Professors of The School of Business, Bangladesh Open University for their valuable input and special thanks to Commonwealth of Learning for letting us join the program.

Finally, to the Almighty Allah وتعالى سبحانه, who has given me the strength and ability to complete the project paper successfully.

 

Mohammad Mustafa Surzil

CEMBA

Abstract

The project paper presents a comparison between a system of economics once ruled over the world successfully and a system practiced world over at present. One which is in practice today and other one is completely forgotten for last few decades. It is an historical obscure that one system functioning very well and satisfying the needs and problems of mankind was suddenly thrown out of focus. this is the main reason for the researcher to take initiative in putting forward the research proposal. One of the main research area of this project is in the past and its glorious presence in past is somehow forgotten by many of the economist and teachers of economy today. Any observer of the state of the Capitalist economic system can see that the system is collapsing. Whatever efforts the capitalists have planned to salvage the system can only at best relieve its pain for the time being. This is because the causes of the collapse require serious treatment of capitalism’s foundation. In  this research paper we tried to find out if any pollution exists in the present global economy and whether the Islamic economic system can provide the mankind with a best possible solve.

 Allah وتعالى سبحانه says in the Quran,

“It is Allah who created the heavens and the earth, and sent down from heaven water wherewith He brought forth fruits to be your sustenance.” (TMQ 4:32)28a

 “Verily, thy lord doth provide sustenance in abundance for whom He pleases and He straiten it, for He doth know and regard all his creatures.”
(TMQ 17:30) 28b

 These verses among many show that Allah وتعالى سبحانه has provided all the needs and beneficial things for man, and has given sufficient resources to satisfy material need of mankind. 

In the eyes of the capitalist west there is relative scarcity of resources available in the world, and peoples demands for these resources are endless. Hence each nation and in fact the world should concentrate on more and more production. The higher the amount of wealth produced, the higher the number of people that will satisfy their demands through the process of economic activity.

The locus of economic problem in Islam therefore is different than the economic problem discussed in western civilization today.

 One system focuses on the production of wealth and the other focus on distribution of wealth to satisfy the need and instinct of mankind. Objective looks similar where as the view of angle is different. Context of the project therefore is in finding out the reality behind the transition from the Islamic economic system to the contemporary global economy. researcher wishes that his effort would be of certain benefit to all concerned with the economy. The research paper highlights the differences between this two system and tries to find out the best possible fit for the mankind through intensive literature/Internet survey and interviewing/discussing with professionals.

 For over 1000 years of Islamic history it was the world’s leading civilization, over time complacency crept in the Muslim world and they began to lose their intellectual basis. The sudden emergence of capitalism in eighteenth century, Western Europe exposed this weakness, While the Europeans were progressing in technology the Muslims were being left behind along with their intellectual basis. They were left behind due to their weekend understanding of Islamic systems and to defend new challenges of economy. Whilst still believing the system provided by Allah وتعالى سبحانه Muslims referred to the west blindly forgetting that these Capitalist solutions contradicts Islam.

 The research paper also discusses the reasons on why the world economy discarded the Islamic economy and adopted a system of economy which needs continuous reforms. Then highlighted impact of this changes in the Govt. and social systems of a country and its consequences. Finally recommended and mentioned the conclusive proposals upon the research problem.

  • International monopoly alliances are a big threat to the weaker nations. [Cheprakov (1970)5]
  • Western countries after establishing industrial dominance behind protectionist walls, tend to advocate free trade in order to kick away the ladder from the followers and consolidate their dominance. [Joon Chang H (2003)38]
  • The WB and IMF policy advocated are based on poor diagnosis of economic conditions of the country. [WB-Turkey (2004)41]
  • In March 2003 IMF admitted in a paper that globalization may actually increase the risk of financial crisis in the developing world. [IMF (2003)42]
  • Present world economy do not have well thought theoretical and philosophical insight dealing with human needs and instincts. [Nabahani (1990)11]

The research paper finally recommends that, the economic system practiced over the world today is about to collapse due its own weaknesses and Islamic system should be adopted by the nations to overcome all the problems of mankind. 

  1. Traditional economic system should be replaced with a best-fit economic system like Islamic economy;
  2. More analysis of Islamic economics and social principle is necessary to face the complex economics problems of the modern society and the challenge of present financial crisis;
  3. The Universities and other research institutions involved in economic research should have arrangements for further research on Islamic Economics;
  4. Steps should be taken to form a Muslim Common Market and to build up Islamic Monetary Fund to support the muslim nation;
  5. Steps should be taken to establish an independent Islamic news agency;
  6. Appropriate avenues be opened for discussion on economic system to generate public opinion on best fit economic system for the time;
  7. The Governments of the Muslim world should take steps to come together and execute and implement the ideals of Islam at state and socioeconomic level;
  8. Muslim scholars should come forward and re-establish the Islamic economic system once again.

পুর প্রজেক্টটা এখানেই দিব, আপলোড প্রকৃয়াধীন আছে, একটু সময় লাগবে । যারা এর আগেই পুর প্রযেক্টটা দেখতে আগ্রহী তাঁদের পিডিএফ টা ই-মেইলে পাঠাতে পারব।

Thursday, October 22, 2020

ঘটনার যোগসূত্র ও আমাদের ইচ্ছাপূরণ

 

মনের স্বাধীন ইচ্ছা বা ফ্রি-উইল এর সমগ্রই তো মানুষের মন আর সেই সকল ইচ্ছা পূরণই তার মানসিক সন্তুষ্টি বা প্রশান্তির নিয়ামক। এই ইচ্ছা পূরণ কত গুল ঘটনার ফলশ্রুতি যা একটার সাথে পরেরটি সম্পর্কযুক্ত। ঘটনার যোগসূত্র সম্পর্কে, সেই কবে মনে নাই বিটিভি’র একটি নাটক ”মহাকালের ঘোড়সওয়ার” দেখেছিলাম ওখানে এ প্রসঙ্গটা আনা হয়েছিল । একটি ঘটনা পরবর্তী প্রচুর ঘটনার কার্জ কারণ হতে পারে আর ওই ঘটনাটিও হয়ত আগের বহু ঘটনার ফলে ঘটে থাকবে। ঘটনা গুল দৈব সংঘটন না কি আগে থেকেই নির্ধারিত অদৃষ্টের লেখন সে নিয়ে প্রচুর বাদ প্রতিবাদ করা যেতে পারে। ও দিকে বক্তব্যকে নিতে চাচ্ছি না, ওসব আলোচনা অতি পুরাতন আর অতি সাধারণ, তার চেয়ে বরং বাস্তবতা থেকে শুরু করি। 

ঘটনা-একঃ মুসাব আমার সাত বছরের ছেলে, ওর জন্য হন্যে হয়ে আমাদের সময়কার নিড-ফর-স্পিড কার রেসিং গেমটা কম্পিউটারে ইনিষ্টল করতে চাচ্ছিলাম যাতে ও’কে মোবাইল টাচ প্যাড গেমিং থেকে কম্পিউটারের কি-বোর্ড জগতে নিয়ে আসা যায়। নিড ফর স্পিড গেমিং এ গাড়ি চালনার পাশাপাশি ভিজুয়াল এক্সাইটমেন্ট তো আছেই তার সাথে ঘটনা চলমান অবস্থায় সমস্যা সমাধানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাটাও ও’র হওয়া দরকার। আমার চাকুরী জীবন শুরুর দিকে কয়েক বছর (২০০১ সাল থেকে ২০০৪) আমি টেকনোকিডসে বাচ্চাদের কম্পিউটার প্রশিক্ষক ছিলাম, ওখানে থাকার সময় শিশুদের শিক্ষা বিষয়ক লার্নিং থিওরি গুলর উপর কিছু পড়াশুনা ছিল। লার্নিং সম্পর্কে আমার নিজস্ব ধারনাও ছিল অনেকটা এরকম (it happens gradually from childhood towards adulthood) 🔀 By resemblance or imitating 🔀 By comparing or cross matching 🔀 By trial and error and try again 🔀 By Rehearsals, doing the thing over and over again 🔀 By simulating a solve then translating into reality using intellect. কম্পিউটার সফটওয়্যার ব্যবহার করে শিশুদের লার্নিং প্রোগ্রাম গুলর একটা ভাল কালেকশন ছিল তখন আমার কাছে, তার মধ্যে জাম্প আহেড সিরিজ আর ডরলিং কিনডারলের লার্নিং প্রোগ্রাম গুল ছিল চমৎকার আর উন্নত মানের। আমার তিন সন্তানই ও সব পেয়েছে তাদের বয়স অনুযায়ী কিন্তু ওই গেম গুলতে শিক্ষার উপকরণ আর নিড-ফর-স্পিড এর উপকরণ এক নয়। ওগুলোকে বলা যেতে পারে কম্পিউটারাইজড স্কুলিং আর এগুল হল কম্পিউটার গেমিং। কম্পিউটার গেমিং এর অনেকগুল ভাল দিক আছে বলে আমি মনে করি, যেমনঃ Computer games helps in (1) Quick decision making on chance and choice aiming purpose. (2) Increases concentration in chaos environment (3) Forces on alternative decision making / choosing among alternatives (4) Quick judgement in crisis moments  (5) Artificial crisis simulation and solving skill (6) Increases alertness at need which sharpens intellect (7) Consistent try (হাল ছেড়ে না দেয়া) একবার না পারিলে দেখ শত বার। trial and error and try again (8) Increases visual perception and recognition (9) Simulates virtual reality, which says perception of reality is reality itself. (10) Rehearsal on alternative problem solving skills. (11) Creates competitive attitude এই ১১টি স্কিল ব্যবহারিক জীবনে আমরা প্রতিনিয়ত প্রয়োগ করছি। আর এগুল ছাত্র জীবনে কেবল খেলা ধুলার মাধ্যমেই শিখা সম্ভব। এখনকার স্কুল গুলতে মাঠেই থাকে না, ও’রা আর খেলবে কই, তাই কম্পিউটার গেমিং এখন বিকল্প ভরসা।  বলা বাহুল্য বহু চেষ্টা সত্যেও বর্তমানের নিড ফর স্পিড NFS Hot pursuit Remastered টা ইনিষ্টল করা যাচ্ছিল না যদিও কম্পিউটার কনফিগারেশন সবই গেমের চাহিদা মত ছিল। এখন ফ্যাস্ট এন্ড ফিউরিয়াসের যুগ পুরাতন NFS কি আর চলবে। কেন যাচ্ছে না তা বুঝার উপায় নাই, হয়ত মাদারবোর্ড এ এনহ্যান্সড গ্রাফিক্স কার্ড নাই, কিংবা প্রসেসর আর হায়ার স্পিডের লাগবে। নিজে ব্যর্থ হয়ে খালেক ভাই এর সাহায্যও নিলাম তাতেও কাজ হল না ইতোমধ্যে আরেকটি কার রেসিং গেম টেস্ট ড্রাইভ ও মোটর সাইকেল রেসিং মোটো জিপি কার সাহায্য ছাড়াই সহজেই ইনিষ্টল হয়ে গেল। মোটো জিপি দিয়ে শুরু হল মুসাবের কম্পিউটার গেমিং জগতে হতে খড়ি তার পর দেখলাম টেস্ট ড্রাইভ গেমে গাড়ি চালনা ও রেসিং গুল নিড ফর স্পিড এর মতই বরং আর বৈচিত্রময়। NFS শুধু কার রেসিং কিন্তু টেস্ট ড্রাইভ জিপিএস ট্র্যাক করা, বিভিন্ন যায়গায় ঘুরা, গাড়ি কেনা, রেসিং এর মাধ্যমে টাকা বাড়ান, এ সবও আছে। আমি যা চেয়েছিলাম ওকে দিতে তা কিন্তু হয়ে গেল। ইদানীং সে ওয়ার গেমিং ডট নেট (www.wargaming.net) এর ওয়ার্ল্ড ট্যাংকস এর মত ষ্ট্রেটেজিক গেম খেলছে। ওয়ার্ল্ড অব ট্যাংকস টা মজার একটা নেটওয়ার্ক ষ্ট্রেটেজিক গেমিং, ও’রা শুধু এনভায়রনমেন্ট টা দেয়, যারা অংশগ্রহণ করেন তাদের এক দল বিপক্ষ আরেক দল স্বপক্ষ ভূমিকায় খেলে যার যার পছন্দ মত ট্যাংক নিয়ে। কোন এক পক্ষ জিতে কিংবা হেরে যায়। আমাদের মুসাব ভয়ে ভয়ে সবার পিছনে থেকে ও’র ট্যাংকের গোলা মারে, অন্যদের সাহায্য কামনা করে আর এক সময় নিজের কারনেই হোক বা অচেনা বন্ধুদের কারণেই হোক জিতে মহা আনন্দ পায়। একবার ও’র পক্ষের সব ট্যাংক ধ্বংস হয়ে গেছে কেবল ও’র টা বাকি, বিপক্ষে তখনও ৩ কি ৪ টা ট্যাংক আছে। ওই অবস্থায় মুসাব যা করল তা হল তৎক্ষণাৎ ক্যাম্পে প্রত্যাবর্তন । ও’র ছোট বোন কিংবা আমার সাহস দেয়া স্বত্বেও ওয়ার ফিল্ডে থাকল না। কখন রিট্রিট করতে হবে তা ও বুঝে গেছে। বোকার মত বীরত্ব দেখানর প্রয়োজন নাই বরং ঝোপ বুঝে কোপ মার এই কূটনীতিটা (ডিপ্লোম্যাসি) আর ওকে আলাদা ভাবে শিখাতে হয়নি আমার। আমার ইচ্ছা পূরণ হয়ে গেছে কিন্তু যেভাবে চেয়েছিলাম সে ভাবে হয় নাই, কেন হল না? নিড ফর স্পিড টা সহজে ইনিষ্টল হয়ে গেলে কি এমন ক্ষতিটা হতো? যদি নিড ফর স্পিড টা’তে ও নিমজ্জিত হয়ে যেত তা হলে কি এতগুলা বিভিন্ন গেম ও খেলত? বলা বড়ই মুশকিল আর বাস্তবতা বুঝাও খুবই শক্ত। আমার ছোটবেলায় যে দুটি খেলা আমি প্রচুর খেলেছি, দাবা আর ব্যাডমিন্টন, এ দুটো খেলার কৌশল গুল আমার কর্ম ক্ষেত্রে ও জীবনের বহু সমস্যা সমাধানে আমি নিজের অজান্তে প্রয়োগ করেছি।  শৈশবের খেলা গুল তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 ঘটনা-দুইঃ অনেকদিন হয়ে গেল দেশের বাড়ীর একটা জমির নাম জারি করা হচ্ছে না, তাই এবার নিজেই উদ্যোগ নিয়ে কাগজটা উঠাতে গেলাম। অফিস খোলার দিন যেতে হবে কিন্তু ব্যাংকের চাকরীতে ছুটি পাওয়া কঠিন, বসেরা পদ্মার ইলিশ ইলিশ করছিল, আমার দেশের বাড়ি পদ্মা পাড়ে মৌছা গ্রামে, লৌহজং আর মাওয়া’র কাছেই পদ্মার মাছের আড়ত, তাই আমি ইলিশ মাছ আনার ব্যবস্থা করে দিব বললাম। হঠাৎ মনে হল, দুটা ঘটনা এক করে দিলেই তো হয়। মাছ আনতে যাব আর মুন্সিগঞ্জ সদর কোর্ট থেকে কাগজটাও উঠায়ে আনব। রথ দেখা কলা বেচা সমীকরণ। সবাই রাজি হল আর আমিও খালেক ভাইকে বগলদাবা করে রওনা হয়ে গেলাম, মাওয়া হয়ে মাছ নিয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর হয়ে অফিসে আসা। দূরত্বটা যে এত লম্বা হবে আগে বুঝি নাই, তবে দুপুর দুইটার মধ্যে অফিসে পৌছাতে পেরেছিলাম। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখি কোর্ট অর্ডারে সবার নাম ঠিকই আছে শুধু আমার নামটায় ভুল। মোস্তফা সার্জিলের জায়গায় লিখেছে মোস্তফা জামিল। সার্জিল কোন বিচারে জামিল হতে পারে এটা আমার মাথায় ঢুকল না। কাছাকাছি ভুল হতে পারত, না একদম অন্য একটা নাম। এই ঘটনাটিকে কি ভাবে ব্যাখ্যা করব এখন। দেশের বাড়িতে হঠাৎ যাওয়ার ইচ্ছাই বা হল কেন? ওই জমি নিয়ে এতদিন মাথা বেথা তেমন একটা করি নাই, যা হওয়ার তা হচ্ছে, চাচা তো কাজটা উকিল দিয়ে চালায়ে নিয়ে যাচ্ছে, তাই চুপচাপ বসে ছিলাম, হঠাৎ আমার বিষয়টাতে সক্রিয় অংশ গ্রহণের ইচ্ছাটা হল কেন? আমার নামটা যে কোর্ট অর্ডারে ভুল এসেছে তা কি আমি জানতাম?

 ঘটনা-তিনঃ প্রায় বছর খানেক আগে এক বৃদ্ধ মহিলা তার মেয়ে সাহেনা আকতারকে নিয়ে আমাদের ইসলামিক উইন্ডোতে এসেছিলেন তার মেয়ের বিদেশ থেকে আয় করা টাকা ইসলামী ব্যাংকে না রেখে নির্ভরযোগ্য সোনালী ব্যাংকের ইসলামিক উইন্ডোতে রাখতে চায় বলে। উনাদের একাউন্ট খোলার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছিলাম তখন। ওই সময় নিরক্ষর সাহেনা আকতার জানতে চেয়েছিলেন, বিদেশ থেকে টাকা পাঠালে তা কি এই একাউন্টে চলে আসবে। আমি বলেছিলাম দুনিয়ার যে কোন প্রান্ত থেকে পাঠালেও কোন অসুবিধা হবে না। সেই সাহেনা আকতার ওমান চলে যান চাকুরী নিয়ে আর সেখান থেকে দু কি তিন মাস পর টাকা পাঠায় তার একাউন্টে। এদিকে আমাদের ব্যাংকিং সফটওয়্যার বদল হয়ে যাওয়ায় প্রতিটা একাউন্টের নম্বর খানিকটা বদল হয়ে গছে। আগের নম্বরের সামনে পিছনে দু একটা করে ডিজিট বেড়েছে। নতুন নম্বরটিও তাকে জানান হয়েছিল, কিন্তু তার সন্দেহ হল, বলল, একই একাউন্টের দুটি নম্বর হবে কেন? !! সে তার আগের নম্বরেই পাঠাবে। সে যাই হোক, আগেরটাতে পাঠালেও আমাদের বিএফটিএন (বাংলাদেশ ফান্ড ট্র্যান্সফার নেটওয়ার্ক)-এ বলা আছে তাই তারা তা আমাদের বরাবরে চালান করে দিবে, তাই বলেছিলাম অসুবিধা নাই আগের নম্বরে পাঠালেও টাকা আসবে। কয়েক মাস পর সাহেনা আকতার জানাল তিন দিন আগে সে তার মালিককে দিয়ে গ্লোবাল মানি এক্সচেঞ্জ এর মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছে কিন্তু তার কাউন্টে টাকা জমা হয় নাই। আমি খোজ নিয়ে দেখলাম তার টাকা আমাদের বিএফটিএন পর্যন্ত এসেছিল যথাসময়েই কিন্তু ওই ডেস্কে যে ছিলেন সে আমাদের ইসলামিক একাউন্ট নম্বর এর পুরাতন ফরমেট বুঝতে না পেরে ফেরত পাঠায়ে দিয়েছেন। জানা গেল ওটা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর ফরেন রেমিট্যান্স সেকশনে ফেরত গেছে, ওখানে ফোন করে জানলাম ও’রা তিন দিন ধরে রেখে তা ওমানের গ্লোবাল মানি এক্সচেঞ্জে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। সাহেনা আকতারকে জানালাম যে টাকা ফেরত গেছে, তারা যেন তা পুনরায় প্রেরণ করে আর এবার তা তার একাউন্টে চলে আসবে কোন বাধা বিপত্তি ছাড়াই। বলা বাহুল্য এর পর তিন দিন পার হয়ে গেল টাকা আসল না, অবাক ব্যাপার! আসার তো কথা। আমাদের বিএফটিএন সেলে তো এ ব্যাপারে বলা আছে যাতে টাকা আসলে ফেরত না পাঠায়, তবে আসল না কেন? আবার খোজ নিলাম, দেখা গেল, ওমানে সাহেনা আক্তারের মালিক গ্লোবাল মানি এক্সচেঞ্জের সাথে হম্বি তম্বি করায় তারা টাকাটা পুনরায় পাঠায়েছে ঠিকই তবে সাথে ফুট নোটে লিখে দিয়েছে, “if can’t credit, please return” এই ছোট্ট বাক্যাংশটির সঠিক পাঠোদ্ধারে অপারগ হয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর ফরেন রেমিট্যান্সের জনৈক অফিসার তা ধরে রেখেছেন। আমি জানতে চাওয়াতে তিনি বললেন মনে হয় ওরা এটা ফেরত পাঠাতে বলছে। অপেক্ষা করুন, আমি ফোনে নিশ্চিত হয়ে নেই। যা’ হোক উনি ফোনে জানলেন ও নিশ্চিত হয়ে আমাদের বরাবর পাঠালেন। আমিও নিশ্চিত হয়ে ওদিকে গ্রাহককে জানায়ে দিলাম কোন চিন্তা নাই টাকা কাল একাউন্টে জমা হয়ে যাবে। অবাক ব্যাপার! পরের দিনও টাকা জমা হল না। আমি ফের ফোন করলাম আইবিবিএলের ফরেন রেমিট্যান্সে। উনি খোজ নিয়ে বলল, দৈবাৎ ভুল ক্রমে উহা ওয়েজ আরনার ঢাকা’র বদলে ওয়েজ আরনার চিটাগাং এ পাঠান হয়ে গেছে। ও’রা ফেরত পাঠালে তার পর আপনাদের বরাবর পাঠান হবে। সেই টাকা চিটাগাং ঘুরে এসে ঢাকায় সাহেনা আক্তারের কাউন্টে ঢুকেছে বটে কিন্তু ক্লায়েন্টের মনে প্রবল সন্দেহ সৃষ্টি করে, তবে। প্রচুর বাক্য ব্যয় করেতে হয়েছিলি গ্রাহকের সন্দেহ দুর করতে। উনি ছাড়াও আমাদের ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর অন্যান্য ক্লায়েন্টদের টাকা সৌদি আরব সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আসে, তাদের তো এমন বিড়ম্বনা হয় না, উনার ক্ষেত্রেই এমন কেন  হল?

ঘটনা-চারঃ সোনালী ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোতে আমার পোস্টিং একটি দৈব ঘটনা, যার বিষদ বর্ণনা আমি আগের একটা লেখায় বলেছি। পুনরাবৃত্তি না করে বরং রেখাচিত্রর মাধ্যমে এখানে বলি ঘটনাটি ঘটার ক্ষেত্রে কত গুল দৈব সংযোগ ঘটেছিল। 


উপরের ফ্লো-চার্ট দেখলে বুঝা যায়, কার সুপারিশ কিংবা আমার প্রচেষ্টার ফলশ্রুতিতে আমার ইচ্ছা পূরণ হয়নি। পোস্টিং এর খবর পাওয়ার পর আমার মনে হয়েছিল ২০০৪ থেকে ২০১০ পর্যন্ত হেড অফিসে মুসলিম প্রফেশনাল ফোরামের প্রতিনিধি হিসেবে অনেকের সাথে কথা বলেছি, সেমিনারের দাওয়াত দিয়েছি, সেই সূত্রেই কি আমাকে ইসলামী ব্যাংকিং এ নিয়োগ দেয়া হল? পরে বুঝেছি তা নয় বরং সময়ের প্রয়োজনে আর ইসলামী ব্যাংকিং এর ট্রেনিং টা থাকায় বাছাই প্রক্রিয়ায় আমার নামটা উঠে এসেছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, ওই প্রশিক্ষণে তো অন্যরাও ছিল, তাদের মধ্যে থেকে আমাকেই কেন বাছাই করা হল। হতে পারে আমার নামে মোহাম্মদ মোস্তফা শব্দ দুটো থাকায় তা অগ্রাধিকার পেয়েছে।

এই ঘটনাটা গুল বলার উদ্দেশ্য হল, আমরা যা চাই তা ঠিক ওই ভাবে না পেলেও কখনও অন্যভাবে ইচ্ছাটা পূরণ হয়ে যায়, যাকে ধার্মিকেরা বলে থাকেন স্রষ্টা যা করেন তা ভালর জন্যই করেন। আর এর বিপরীত হলে বলেন কি আর করা, এটা তকদীরে বা ভাগ্যে লেখা নাই। এরকম কয়েকটি ঘটনার যোগসূত্র দেখে আমার মনে হয়েছিল, আচ্ছা? বাস্তবতার কি স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) ইচ্ছা পূরণ ক্ষমতা আছে? বাস্তবতায় ঘটমান ঘটনা প্রবাহ গুল কি জীবন্ত? জীবন্ত মানে এর কি ঘটনা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আছে? কিংবা আমরা যা চাই ও চেষ্টা করি পাওয়ার তা কি বাস্তবতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়? কথা গুল আজব মনে হতে পারে কিন্তু এর চেয়েও আজব আজব ব্যাপার এই বাস্তবতায় ঘটেই চলেছে। বিষয়টাকে তাই হালকা ভাবে না নিয়ে একটু চিন্তা করেই দেখা যাক না?

ভাগ্য বিশ্লেষণে তিনটা স্কুল অব থট্স ইসলাম ধর্মে সময়ের সাপেক্ষে সৃষ্টি হয়ে গছে, একদল মনে করেন বাস্তবে যা ঘটমান থাকে তা বাতাসে ভাসমান পালকের মত যেখানে মানব ইচ্ছার মূল্য নিষ্ক্রিয়। হলিউডের টমাস হ্যাংস অভিনীত ফরেস্ট গ্যাম্প মুভিটা শুরুই হয় একটা পালকের বাতাসে ভাসতে থাকা অবস্থায়, শেষও হয় তা দিয়েই। মুভিটার মূল থিমটা কিন্তু এই ধারার চিন্তা থেকে নেয়া। আরেকটি ধারা মনে করে মানব ইচ্ছায় তার স্বাধীন মালিকানা আছে তবে ফলাফল পূর্ব নির্ধারিত। তৃতীয় দল মনে করে কাজের ইচ্ছাটাও মানবের আর তার ফলাফলও তারই প্রচেষ্টা বা কর্মের ফল আর এ সবই যদিও পূর্ব নির্ধারিত তা বুঝা মানব জ্ঞানের অতীত। শেখ ত্ত্বাকীউদ্দিন নাবায়ানীর মতানুসারীরা মনে করেন, এভাবে ভাগ্যকে ব্যাখ্যা করাটা ভুল, উপরোক্ত তিনটা স্কুল অব থট্স এর বিশ্লেষণ দৃষ্টিকোণটাই ভুল। কি ভাবে এই বিশ্ব পরিচালিত হচ্ছে তা মানুষের বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত নয় বরং এই বিশ্বের কতটুকু আমাদের নিয়ন্ত্রণে আর কতটুকু নিয়ন্ত্রণের বাইরে তাই বিবেচ্য হওয়া উচিত। যে সকল ঘটনা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে তাকে স্বাভাবিক ভাবেই একজন বিশ্বাসী মেনে নিতে বাধ্য যে তা তাঁর স্রষ্টা কর্তৃক তার জন্য পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষা ক্ষেত্র এবং এর উপরই তার আমল করতে হবে। ইসলাম ধর্মানুসারীদের জন্য ভাগ্য স্রষ্টা কর্তৃক নির্ধারিত। ভাল ও মন্দ উভয়েই স্রষ্টার তরফ থেকে আসে। এটা তাদের বদ্ধমূল বিশ্বাস বা আকিদার অংশ। ধর্মে বলা হয় তোমার কর্ম ফলের প্রতিদান জীবনাবসান ও পুনরুত্থান পরবর্তী  বিচার ফলের বাস্তবতা, অথচ আমার আশপাশের সকল ধর্মপ্রাণ মনে করেন বিধাতা মানুষের কাজের ফল তার জীবদ্দশাতেই অল্প বিস্তর দিয়ে দেন। এই প্যারাডক্সটা কেন তঁরা মেনে নেন তা আমি আমার এযাবৎ জীবনকালের চিন্তাধারায় বুঝতে পারি নাই। কর্মফল যদি জীবনের চলমানতাতেই দিয়ে দেয়া হয় তা হলে বিচার এর প্রয়োজন থাকবে কেন? পরীক্ষার ফলাফল তা পুরষ্কারই হোক আর তিরস্কারই হোক তা ত খাতা দেখার পর যাচাই বাছাই হবে, আগে হওয়ার তো কথা নয়। ধর্মে এ সব প্রশ্ন করা বারণ, করলে বদ্ধমূল বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতে পারে তাই মুখ বন্ধ রাখাই শ্রেয়।

কিছু কিছু মহা সাহসী লোক আছেন যাদের একজন ইমরান নজর হোসেন, বিখ্যাত ইসলামী বক্তা, লেখক ও শেষ জমানার বিষয়ে ইসলামের দিক নির্দেশনার উপর গবেষক ও একাধিক বই এর লেখক, উনার পুর বিস্তারিত পরিচয় দেয়া আমার সাধ্যের বাইরে, উনাকে সামনা সামনি দেখেছি, একটা কি দুটো কথাও বলেছি। তার পর উনার বই গুল পড়েছি ও উনার ব্যাখ্যা গুল অনেক ভাল লেগেছে। শেষ জমানায় ইয়াজুস-মাজুস (গগ-মাগগ) নিয়ে উনার জানার আগ্রহ তাঁর সমসাময়িক সকল আলেমগণ বিরত থাকতে বললেও উনি তা না শুনে একাই এ নিয়ে গবেষণা করেছেন ও প্রতিবেদন আকারে সচেতন মুসলমানদের কাছে পৌছে দিয়েছেন। শেষ জমানার বিশ্লেষণ ছাড়াও, উনার লেখা ‘জেরুজালেম ইন কোরআন’ বইটা না পড়লে ইসলাম সম্পর্কে অনেক কিছুই বুঝার বাকি থেকে যেতসুদের উপর লেখা তার বই পুরটা পড়া না হলেও, ‘গোল্ড দিনার ও সিলভার দেরহাম-ফিউচার অব মানি’ বইটা আমার চোখ খুলে দেয় এখনকার মুদ্রা ব্যবস্থার অসংগতি সম্পর্কেফজলুর রহমান আনসারী উনার গুরু আর তিনি যে আমাদের ফরিদপুরের সন্তান জেনেও যার পর নাই অবাক হয়েছিলাম।

এখানে উনার কথাটা আনার উদ্দেশ্যটা হল, শিরনামোক্ত বিষয়ে উনি একটা মন্তব্য করেছিলেন উনার চিন্তাধারার। উনি বলেছিলেন এক টক–শো তে যা ইউটিউবে উনার লেকচার ক্লিপে দেখি, কিংবা উনার কোন পিডিএফ ফাইলে পড়েছি, বলছিলেন সুরা ফাতেহা’র সাত আয়াত হল সাত আসমান উত্তরণের মত, প্রত্যেক আয়াত পড়ার সময় আমরা এক একটা আসমান উত্তরণ করি, আর আসমান বলে ত কিছু না বরং এটা হল সামাওয়াত যার মানে স্তর বা হতে পারে ডাইমেনশন। উনি পিডিএফ ফাইলে মনে হয় বলছিলেন আমাদের মনের ইচ্ছা গুল বা ইরাদা গুল হয়ত কোন আসমানে অবস্থান করে তার পর অনুমোদিত হলে তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়। ঠিক ওই জায়গাতেই আমার উনার ওই বইটা পড়া বন্ধ হয়ে যায়, যেমনটা হয়েছিল "ঈশ্বর GOD আল্লাহর ইতিহাস" বইটা পড়ার সময় যখন লেখক (শাহ্ সৈয়দ নুরুল কবীর উয়াইসী।) দাবি করলেন যে স্রষ্টাকে দেখা যায়, আর আমি তা জানার জন্য পরবর্তী অধ্যায় গুল লাফায়ে লাফায়ে আগায়ে গিয়ে জানার চেষ্টা করছিলাম কি ভাবে উনি তা বলছেন, হতাশ হতে হয়েছে এই দেখে যে, সব জায়গায় বিভিন্ন আয়াতের সূত্র টানা কিন্তু কোথাও সরাসরি বলা নাই, বরং বলছেন মহানবী (সাল্লেলাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) গোপন হালাকায় (শিক্ষা বৈঠক) এই শিক্ষা দিতেন যা পরবর্তীতে আলী রাদিআল্লাহু আনহু ও তদ্পরবরতীতে ওলি আকরামগণ করে আসছেন ওই সিলসিলায়। তার পর আলী রাদিআল্লাহু আনহু বিষয়ে যা লিখেছেন তাতে বুঝার বাকি রইল না যে এটা শিয়াদের ঘরানার বই, তবে বইটির প্রথম কয়েকটা অধ্যায় মানব সভ্যতার অতীতের সকল মানব সৃষ্ট স্রষ্টা-ধারণা সম্পর্কে যে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন তা আমার একদমই জানা ছিল না। যা হোক বইটা শখ করে 2019 এর একুশে বই  মেলা থেকে কেনা হলেও বাকি অংশটা আজও পড়ে আগাতে পারি নাই, ওই জায়গাতেই থমকে গেছি।

ইমরান নজর হোসেন এর অনুমান মত যদি তাই হয়, মানুষের ইচ্ছা গুল কোন এক সামাওয়াতে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে ধরায় আর বাস্তবতাকে ওলট পালট করে দেয় তবে ভাবতে অসুবিধা কোথায় বাস্তবতার একটা স্বয়ংক্রিয় ইচ্ছা পূরণ প্রক্রিয়া আছে। আইনেষ্টাইনের একটা অদ্ভুত রকম উক্তি হল “বিশ্বজগত সম্পর্কে সব চেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল এটা বুঝা যায়”। বাহ্য জগতের শক্তি গুল থুরি ফোর্স গুল কেন আছে তা জানার উপায় নাই কিন্তু তারা তো স্বেচ্ছাচারী না, নিয়মাবদ্ধ, যা গাণিতিক সমীকরণ দিয়ে বুঝা যায়। মহা বিজ্ঞ নিউটন এর মনে আপেল পড়তে দেখে প্রশ্ন জেগেছিল চাঁদ কেন আপেলের মত একই ভাবে নিচে পড়ে না? তাই চাঁদ এর গতি বিধি পরখ করতে যেয়েই গ্র্যাভিটেশন সূত্র। চাঁদ ত পড়ছে অনবরত পৃথিবীর দিকেই কিন্তু অন্য কিছু তাকে আবার টানছে পেছন থেকে তাই পুরপুরি পড়তে পারছে না হয়ত। মহা-বিজ্ঞানী আইনেষ্টাইন এসে বললেন, না, এটা স্থান কাল বেকে গেছে বলে পৃথিবীর চার দিকে ঘুরছে। হকিং, আইনেষ্টাইন ও কাকা মহোদয় গন আর বলছেন যে, সূত্রবদ্ধ, নিয়মবদ্ধ, গনিতে আবদ্ধ এই মহাবিশ্ব শুরুর সময় থেকে আজ পর্যন্ত একই নিয়মে চলছে আর তাতে স্রষ্টার ইচ্ছা অনিচ্ছাটা গুরুত্ব বহ কোন ব্যাপার নয়। তবে তাঁরা স্বীকার করেন যে, বিগ-ব্যাং এর সময় কিছু প্যারামিটার সামান্য হেরফের হলে মহাবিশ্বর বর্তমান অবস্থা হত না আর এতসব প্রশ্ন করার মত মানব সদৃশ প্রাণীর অস্তিত্বই থাকত না।

এক সময় স্ট্রিং থিউরিকে আমি বিগ-ব্যাং থিওরির বিকল্প কোন থিওরি মনে করতাম, কিন্তু ইদানীং আর বিস্তারিত পড়াশুনার ফলে বুঝেছি, কোয়ান্টাম বলবিদ্যার প্রসার ও অগুনিত কণিকা আবিষ্কারের পরবর্তী পদার্থবিদ্যার দার্শনিক  সমাধানে স্ট্রিং থিউরি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই তত্ত্ব পরীক্ষা করার জন্য হয়ত একদিন সুইজারল্যান্ডে (সার্নে) সি.ই.আর.এন-এর  কণিকা কোয়ালিশনের এক বিশাল যন্ত্র ‍”লার্জ হেড্রন কোলইডার” (LHD) ব্যবহার করা হবে। স্ট্রিং থিউরি যদি সত্যি প্রমাণিত হয় তবে এই বিশ্ব চরাচর স্রষ্টার এক মহা সঙ্গীত মূর্ছনা আর আমরা এই হাঁদা গঙ্গারামেরা মূলত তার কম্পনের ফলে সৃষ্ট ঝঙ্কারের মধ্যে বাস্তবতার সূত্র উদ্ঘাটনে ব্যস্ত। ভাগ্য ভাল হলে দেখে যেত হবে না হয়ত যে পদার্থ বিদ্যার বিজ্ঞানীরা সঙ্গীত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছে পদার্থ-প্রতিপদার্থর আদি কণার উপাদান অনুসন্ধানে। আসমান – সামাওয়াত – ডাইমেনশন এর মত ধারণা গুল গিটঠু দিতে দিতে যদি কোন এক সময় বর্জ্য আঁটুনি ফসকে যায় তখন হয়ত সকল সত্য থলের বিড়ালের মত বের হয়ে যাওয়ারও ভয় আছে। আচ্ছা বলেন তো স্রষ্টা নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন কেন? কেন আমাদের সব বলে দেন না সহজ করে? বুঝলাম যুগে যুগে নবী-রাসুলগন এসেছেন মনবকে সাবধান করতে, প্রশ্ন হল সাবধান করতে কেন, কেন নয় সব বলে দিতে? বলেছেন বটে কি থেকে কি হল, কেন হল আর এর পর কি হবে কিন্তু অন্য ধর্ম গুল তা হলে ভিন্ন ভিন্ন সমাধান দেয় কেন? সবাই একই সমাধান বলে না কেন? এ যেন মন কি যে চায় বলো, যা কিছু শুনি তার সবই ভাল, অবস্থা। বলছেনা বুঝলাম পরীক্ষা করছে, কিসের জন্য? তাঁর আনুগত্যের জন্য তো? তা ফেরেশতাই তো আছে, আমাদের লাগবে কেন? আদম সন্তানেরা সতপ্রণদিত হয়ে তাঁর অনুগত হবে ফেরেশতাদের মত নয় তাই তো? যারা তা করবে না তাদের কে ধ্বংস করার কথা বলা হয় নাই বরং তাদের অনন্তকাল আগুনে পুড়তে হবে, প্রশ্ন হল ধ্বংস করা হবে না কেন? না কি করা যাবে না? বা করার প্রসঙ্গই আসে না কেননা আত্মা’র প্রকৃতি কাউকেই বুঝতে দেয়া হয় নাই?

বিদ্যুৎ যদি ভর ভর করে ব্যবহার করেন তো ফ্যান ঘুরবে আর রোধ দিয়ে সার্কিটের মাধ্যমে ব্যবহার করলে তা দিয়ে বেতার তরঙ্গ প্রেরণ বা গ্রহণও করতে পারবেন, এই নিয়ন্ত্রণ এর বিষয়টি তাই গুরুত্ববহ। প্রকৃতির সব কিছুই নিয়মাবদ্ধ, এই নিয়ম গুল কোথা থেকে আসল? এটা কি একা একা হওয়া সম্ভব? কেউ আরোপ না করলে কি এই শৃঙ্খলা আসতে পারত? এমাইন এসিড আর প্রোটিন গঠনে যে বুদ্ধিবৃত্তিক পরযায় ক্রমিক প্রক্রিয়া তা কিভাবে সংঘটিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত অসংখ্য বার একই ভাবে, তা বিস্ময়কর বটে। ঝট পট বলা যাচ্ছে না এগুল আরোপিত নাকি সংয়ংক্রিয় সংঘটন। যদি বলে দেয়া যেত তা হলে কি এমন হতো? মানবের জন্য তা কি শুখকর হতো?

ধর্মে বলে স্রষ্টার ইচ্ছা ছাড়া একটা গাছের পাতাও নড়ে না। যে সত্তার কাছে অতীত-বর্তমান আর ভবিষ্যৎ একই তার কাছে সবই জানা আর এই বিশ্ব চরাচর স্থবির হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর যে মানব সত্তা অতীত থেকে ভবিষ্যতে ধাবমান, তার কাছে এনট্রপি সর্বদা বাড়ছে, ঘটনার পরিবর্তন হচ্ছে, মহাবিশ্বও ত্বরণে সম্প্রসারিত হচ্ছে, তার কাছে সময় ভবিষ্যতে ধাবমান আর কোন কিছুই স্থির নিশ্চিত নয়। তার জন্য যে কোন ঘটনার বিশ্লেষণ দ্বান্দিক দৃষ্টিকোণ থেকেই বিচার করতে হবে। এটা সেই আদি দার্শনিক দ্বন্দ্ব, বিশ্বচরাচর স্থবির না কি চলমান, ডায়ালেকটিক না কি মেটা ফিজিক্যাল ? এর চিরায়ত দ্বন্দ্ব। স্রষ্টা’র ইচ্ছা ছাড়া কিছুই হবার নয় বুঝলাম কিন্তু আমাদের বিচার বিশ্লেষণ দ্বান্দিক অর্থাৎ পরিবর্তনকে মেনে নিয়েই চিন্তা করতে হবে। তা না হলে কোন হিসাবই মিলার কথা না।