রবীন্দ্রনাথের বিদায় অভিশাপ কয়জন পড়েছিস জনি না, তবে আমি পড়েছি, যা বুঝি তা হলো বিদায় অভিশাপ তাকেই দেয়া যায় যাকে বা যাদের গভীর ভাবে ভালবেসে তার পর বিদায় দিতে হয়। আমি তোদের বিদায় অভিশাপ দিচ্ছি।
আমার তিনটা অধিকার তোরা হরণ করেছিস, যার কারণে আমি চলে যাচ্ছি। সবাই জানে গণতন্ত্রে মানুষের ৪টা মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা হয় যা মানবতার জন্য অপরিহার্য বলে এই তন্ত্রে বিবেচনা করা হয়। ১) ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ২) বিশ্বাসের স্বাধীনতা ৩) মত প্রকাশের স্বাধীনতা ৪) মালিকানার স্বাধীনতা। আমাকে তোরা ১, ২, ৩, নং অধিকারে চরম ভাবে আঘাত করেছিস। দেশে গণতন্ত্র থাকলে তোদের স্পেসিফিক কয়েকজনের নামে মৌলিক অধিকার হরণের মানহানির মামলা করতাম। এ দেশে মানুষ এই চারটি মৌলিক অধিকার সম্পর্কে অস্বচ্ছ ধারণা রাখে, তাই এদেশে ততদিন গণতন্ত্র সম্ভব না যতদিন না তারা তা বুঝতে পারে।
বিপু (বাবু) ২০১৫ বা ১৬ তে আমি যখন কাজিপাড়ায় সোনালী ব্যাংকের বেগম রোকেয়া সরণী শাখায় কর্মরত ছিলাম তখন ও বললো আমাদের স্কুল গ্রুপ আছে ভাইবারে। তখন জয়েন করে বলেছিলাম কেউ মনে হয় আমাকে চিনতে পারবে না, তখন বিজু আমাকে চিনতে পারে কোন ছবি না দেখেই, আমি যার পর নাই অবাক হয়েছি, তারেক, বাবু, বিপু, ইউসুফ, আজিজ এর পর বিজু, জাফর আর তমাল আমার ঘনিষ্ঠ ছিল মনে পড়ে যায়। যা হোক বিগত ৯ বছর তোদের অনেকে কাছে পেয়ে আমার আনন্দের অন্ত ছিল না। গ্রুপে সব সময় সক্রিয় ছিলাম। বিজু গ্রুপ থেকে আলগোছে সড়ে গেছে, গ্রুপে ধর্মান্ধতা পছন্দ করে না দেখে। অবাক বিষয় হলো গ্রুপে ৪৭ জন মেম্বার হলেও মাত্র ১৩ থেকে ১৬ জন সক্রিয়, তার সাথে দেখি ৫ কি ৬ জন নীরব দর্শক, বাকিরা পুরাই নীরব। শুধু এই গ্রুপে না অন্যান্য গ্রুপেও এমন অবস্থা থেকে বুঝা যায় যে এ দেশের মানুষগুলোর মেরুদন্ড নাই, নুনুও ছোট। সব দুই ঠাপে মাল আউট কইরা জনসংখ্যা এত বৃদ্ধি করছে। ভালো মত সেক্স করতেও জানে না কিন্তু করে প্রচুর পরিমাণে বাচ্চা পয়দা করার জন্য।
আমার প্রতি তোদের অবিচার তোরা বুঝতে পারলে ভালো, না বুঝলে আরো ভালো, কিছুই যায় আসে না। তবে এক বন্ধুর বক্তব্য অনুযায়ী হিমেল ও আহমেদুল ডাক্তারিতে চান্স পেয়েছে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পত্র পেয়ে, তা যদি সত্য হয় তবে দেশের এই অবস্থায় ওদের উচিত ডাক্তারি সার্টিফিকেট গুলো ফেরত দিয়ে যেই মেধাবী ছাত্রদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে তা না পারুক, প্রকৃত মেধায় যার ডাক্তারি পড়েছে তাদের সুযোগ করে দেয়।। হিমেল ও আহমেদুলের এটিচুড সব সময় তারা এরিস্ট্রক্রেট, না জানি তারা কি, এই রকম ভাব করে থাকে সব সময়। মানে ওরা জন্ম নিয়েছেই এরিট্রক্রেট হিসেবে আর বাকিরা সব ওদের মত কুলীন না । তারেক যে ক্রিকেট স্টেডিয়াম ডিজাইন করেছে তা নৌকার আদলে (কাজের মধ্যমে তেল মারছে আরকি), এখন সরকার বদল হলে ও হয়তো নৌকাতে মাস্তুল লাগায়ে জাহাজ বানায়ে দিবে। আমাদের সেই বন্ধু গ্রুপে বলতে বলেছিল মারুফ তার মেয়েকে কো-এডুকেশনে পড়াবে না বলে অন্যত্র ভর্তি করছে অথচ তারেক এমন দেশে তার মেয়ে দুটাকে পাঠাইছে যে দেশে কু-কালচার ভরা। তারেক কখনই কোনকিছু সময় মত প্রতিবাদ করে না, সব সময় পরে বাও বুঝে দাও মারে। আজিজ, সোহেল আর আমার আলাদা গ্রুপ ছিল মেসেঞ্জারে আর হোয়াটস এ্যাপে, ওটাতে আমরা পর্ণ শেয়ার করতাম, বেশি কালেকশন ছিল আজিজের, সোহেল তাল দিতো, তবে আমার কাছে ওর রুচি খারাপ বলে মনে হয়েছে। ওর রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনা আমার সাথে মিলে না। আজিজ আপাদমস্তক একটা ভালো ছেলে, সুন্দর মনের মানুষ। মুক্ত আমার গাছা বোর্ড বাজারের জমি বিক্রির বিষয়ে এক বাটপারকে ক্রেতা হিসেবে নিয়ে এসেছিল, আমি না বুঝে কম দামে জমিটা ছেড়ে দিতে চাওয়ায় তার আগ্রহের অন্ত ছিল না। পূর্বানীতে এ নিয়ে দুই বার বৈঠকও হয়েছিল। আমি পরে জেনেছি সে ওই এলাকার দালালদের সাথে চুক্তি করে ফোকটে ৩ কোটি টাকা মেরে দেওয়ার সুযোগ খুঁজছিল। মুক্ত আমাকে বাধ্য করেছিল ওই বদ লোকটাকে ২২ হাজার টাকা দিতে। মুক্তর সাথে আমার স্কুল জীবনে তেমন কোন সম্পর্ক ছিলনা। এই বয়েসে এসে জানলাম ও ফটকা বাজ একটা ছেলে। সানা’র আচরণ ও ছদ্ম ক্ষমতা প্রবণতা আমার কাছে হাস্যকর লেগেছে, এটা যদি ফৌজি আচরণ হয় তবে আমাদের আর্মিদের কি অবস্থা তা বুঝা যায়। ও সামনা সামনি কোন কথা বলে না, একে, ওকে তাকে দিয়ে বলানর চেষ্টা করে। নুরুল মাসুদকে আমার ভালো লেগেছে। ফিরোজ অসম্ভব ইমোশনাল একটা ছেলে, একবার না দুবার ও গ্রুপ ছেড়ে বের হয়ে যায়, একবার আমার সাথে ঝগড়া করে। তবে আমি হাসপাতালে শুনে ও চলে এসেছিল আমাকে দেখতে। ফিরোজের ইদানীং কথাবার্তা গুলো খুব ভালো লেগেছে। মারুফ হেফাজত বুঝতে দেরি হলেও এখন জানি, ইসলামী দলগুলো তো কোন কালেই এক হতে পারবে না, যদিওবা কোন একটা দল সরকার গঠন করে তবে অন্যরা তাকে টেনে নামায়ে ফেলবে, এটা আমার জন্য একটি সুসংবাদ। আমি গত বছর থেকে একটু আওয়ামে লিগ ঘেঁষা হয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু এই আন্দোলনে গণহারে হত্যা দেখে ও গুপ্ত খবর গুলো জানতে পেরে এই দলকে আর সমর্থন করি না, কিন্তু এর প্রতিস্থাপক আরেকটি দল কি হতে পারে তাও বুঝতে পারি না। তবে দেশে ইসলাম রাষ্ট্রক্ষমতায় না আসুক তাই চাই। লিটন প্রথম যখন রি-ইউনিয়ন করে তখন দাড়ি রাখে নাই, এখন দাড়ি রেখে মহা মুসুল্লি হয়ে গেছে, তবে ওর মধ্যে সহনশীলতা আছে দেখে ভালো লাগলো।
তারেক, বাবু, ইউসুফ, বিপু, বিজু, তমাল, আজিম, জাকু, লিটন, রাসেল, রনি, দিদার এরা আমার বন্ধু থাকবে যতদিন বাচি। আরিফ আমার অফিসে আসছে বেশ কয়েকবার, ওর সাথেও বন্ধুত্ব রাখবো। কিন্তু বাকিরা আমার নাগালে আসলে অক্ষত হোগা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবি না। আমি আমার পরিবার নিয়ে ও আমার কাজ কর্ম নিয়ে খুব ভালো আছি, তোদের দোয়া চাই না। যে বইটা আমাকে নাস্তিক হতে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে সেটা বারট্রান্ড রাসেলের “কেন আমি ধর্ম বিশ্বাসী নই” বারট্রান্ড রাসেলের লেখা আমি ছাত্র জীবন থেকে পড়ে অভ্যস্ত তাই তার কথাগুলো আমার কাছে গ্রহণযোগ্য লেগেছে। অমিত যখন হঠাৎ করে গ্রুপ ছেড়ে বের হয়ে যায় তখন আমার খারাপ লেগেছিল, তাই আমি ওভাবে চলে গেলাম না, সব বলে দিয়ে গেলাম। আরিফের কাছ থেকে জেনেছি, ও, আহমেদুল, হিমেল, অমিত, পাপ্পু ওরা সব কাছাকাছি বাসায় থাকতো, তাই ওদের মধ্যে সম্পর্ক অন্য রকম। আমি থাকতাম শ্যাওড়াপাড়ায় তাই তোদের সবার সাথেই আমার স্থানগত দূরত্ব ছিল। দৈনিক সঙ্গী হিসেবে বন্ধু হিসেবে তোদের পেয়েছিলাম, এ ছাড়া আমার কোন উপকারে তোরা আসিস নাই। দু এক জনকে পারলে সহযোগিতা করেছি ব্যাংকিং বিষয়ে। যে ফান্ডটা গঠন হয়েছে, অবাক লাগতো যাদের অনেক টাকা আছে তারা মাত্র ৫০০ টাকা করে দেয়, যারা ফান্ডটা নিয়ে প্রচুর কথা বলে তারা কিছুই দেয় না। দুর দেশ থেকে আজিম নিয়মিত টাকা পাঠাতো যৌক্তিক পরিমাণে। লিপুকে যা বলার বলে দিছি আগেই, ওকে ক্লাস ৫ থেকে পাইছি কিন্তু কখনই ঘনিষ্ঠতা হয় নাই, তখন থেকেই দেখতাম ওর মুখে কিছু আটকায় না, মানে মুখ দিয়ে দুর্গন্ধের মত খুব খারাপ শব্দ বের হয়, আজও হয়, যতই দাড়ি রাখুক না কেন, ও যেমন ছিল তেমনই আছে। জাকু একটা অসাধারণ মানুষ, ফেইসবুকে ওর মিষ্টি মেয়েটাকে দেখি, আজীবন আদর থাকবে ওর জন্য। পাপ্পুর ছেলেটার পড়াশুনাটা যাতে হয় এখন এটা তোদের দায়িত্ব টাকা পাঠানোর।
আমার মহৌষধের রহস্যটা ফাঁস করে দেই, ২০১৭ সালে আমি তিনটা ভিন্ন ভিন্ন ঔষধ খুঁজে পাই তিনটাই কাজ করে, তার মধ্যে একটা আমি নিয়মিত ব্যবহার করছি, এটা আর কিছুই না চিন দেশে পাওয়া যায় জিনসিং নামে আদার মত একটা শিকরের গুড়া। হামদার্দ ইউনানি আর স্কয়ারও এটার টেবলেট বের করেছে কিন্তু ওগুলোতে কাজ হয় কম, বরং অন্যান্য ইউনানি থেকে যা পাওয়া যায় ওগুলো ভালো কাজ করে। এটা পেট খালি কারার জন্য খুব ভালো, খাওয়ার আধাঘণ্টার মধ্যে পেট খালি করার চাপ আসে। অনেকে বল বৃদ্ধিকারক হিসেবে সকালে একটা ও রাতে একটা খায়। এটা খেলে এটার সাইড এফেক্ট হিসেবে ধন শক্ত থাকে যখন তা কাজে প্রয়োগ করা হয় তখন ও অনেকক্ষণ। দুপুরে ১টায় একটা টেবলেট খেলে দুপুর ৫টার মধ্যে পেট ক্লিয়ার হয়ে যাবে, তখন বুঝবি ঔষধটা কাজ করছে। এর পর রাতে যখন খুশি যৌনাচারে যদি তোর ধন খাড়ায় তবে তা অনেক ক্ষণ ধরে, মানে তুই যতক্ষণ চাস ততক্ষণ শক্ত থাকবে। এটাই এতদিন তোগ বলি নাই। আমি ২০১৮ থেকে ব্যবহার করে এর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাই নাই।
আমার লেখায় প্রচুর বানান ভুল আছে, অফিসের কাজের ফাকে লেখাটা শেষ করলাম, গত রাত থেকে চিন্তা করছিলাম কি কি বলা যায় শেষ বিদায়ে। তোদের কাছে আমার ক্ষমা চাওয়ারও কিছু নাই দোয়া চাওয়ারও কিছু নাই। পাঁচ, ছয়টা বন্ধু মারা গেছে আর আমারে তোরা জেন্ত কবর দিয়া দিলি। বিদায় বন্ধুগণ।
সম্পাদনা ও উন্নয়ন ইতিহাসঃ ১৯আগস্ট২০২৪
